ত্যাগ-তিতিক্ষা

ত্যাগ-তিতিক্ষা

বাসরঘরে ঢোকা মাত্রই নিঝুম বলে ওঠল, ‘আপনাকে একটা কথা বলব!’
আমি খাটের উপর বসতে বসতে বললাম, ‘একটা কেন? হাজারটা বলবে।’

সে খুব জোরেশোরে নিশ্বাস ছাড়ছে। মানুষ হঠাৎ আঁৎকে ওঠলে যেমন কপাল ঘেমে যায়, তার বেলায়ও তেমন হচ্ছে। তাকে কেন জানি এলোমেলো দেখাচ্ছে। কনেরা যেরকম সেজেগোজে বাসরঘরে বসে থাকে, সেও তেমন বসে আছে। তবুও কেন জানি এলোমেলো দেখাচ্ছে। চোখেমুখে ফ্যাকাসে ভাব, দেখে মনে হচ্ছে কয়েক রাতের অঘুমা। মেয়েদের বেলায় এমনটাই হওয়া খুব স্বাভাবিক। অনেক মেয়ে আছে, নতুন সংসারের চিন্তায় নাওয়াখাওয়া ছেড়ে দেয়। স্বামী কেমন হবে? ননদ-শাশুড়ি কেমন হবে? সেই পরিবেশে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে কি না? এই রকম হাজারো দুশ্চিন্তা এসে চড়ে বসে তাদের মাথায়। কিছুদিন আগে আমার ছোট বোনের বিয়ে হলো। সেও এই রকম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিল। সে বিয়ের আগের রাতে ভয়ংকর একটা স্বপ্ন দেখেছিল, তার স্বামী তাকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে শিক কাবাব বানিয়ে খুব মজা করে খাচ্ছে। ভোররাতে চিৎকারে করে তার ঘুম ভাঙল। সে সিদ্ধান্ত নিলো আর বিয়ে করবে না। শেষপর্যন্ত অনেক কাকুতিমিনতি করে বিয়েতে রাজি করালাম। নিঝুমও হয়তো এমন দুশ্চিন্তার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছিল, তাই তার চেহারাসুরত এমন হয়েছে।

নিঝুম একটু নড়েচড়ে বসল। আমার দিকে তাকিয়ে অনেকটা কাঁদু কাঁদু স্বরে বলল,
‘খুব সিরিয়াস একটা কথা বলব।’

এরপর আরো কিছু সময় নিলো। তার দীর্ঘশ্বাসের গতিবিধি দেখে বোঝাই যাচ্ছে যে কথাটা সত্যিই সিরিয়াস। আমি কোনও কথা বললাম না, চুপ করে বসে রইলাম। সে ভয়ে ভয়ে দুইবার একটা অর্ধবাক্য বলল, ‘কথাটা হলো, আমার এর আগে’ এই এতটুকু বলেই অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইল। হঠাৎ তড়িৎ গতিতে বলেই ফেলল, ‘একটা বিয়ে হয়েছিল।’

এই কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়ল। আমি কী শুনছি বা কী শুনলাম জানি না! তবে অন্যমনষ্ক হয়ে ভাবলাম, কোনও সিনেমা দেখছি কি না। ঘোর কাটতেই দেখি সে আমার পা জড়িয়ে ধরে বলছে,
‘প্লিজ আমাকে মাত্র ১৪টা দিন আপনার ঘরে আশ্রয় দিন।’
আমি তার দুহাত ধরে দাঁড় করিয়ে বললাম,
‘১৪ দিন কেন? আমিতো তোমাকে পুরো জীবন আশ্রয় দিতে চেয়েছিলাম।’
‘ও দেশে আসবে, ১৪ দিন পর আমাকে নিয়ে যাবে।’

– কে সে?

‘রিফাত, তার কথা আপনাকে কতবার বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আপনি আমার কথা একবারও শুনতে চাননি।’
– বিয়েটা তোমাদের কীভাবে হয়েছিল?

‘কোর্ট ম্যারেজ, বাবা- মা রাজি ছিলেন না। যখন খবর পেলেন সে আমাকে নিতে দেশে আসছে, তখনই তাড়াহুড়ো করে আপনার সঙ্গে আমার বিয়ে দিয়ে দিলেন। বিশ্বাস করুন, আমি এ বিয়েতে রাজি ছিলাম না।’
আমি জিজ্ঞেস করতে পারতাম, আমার আপরাধ কী ছিল? তা আর জিজ্ঞেস করলাম না। শুধু বললাম, ‘আমি কীভাবে উপকারে আসতে পারি?’
সে লাগেজ থেকে একটা ফোনবুক বের করে বলল,

‘এই নিন নাম্বার, এখন লন্ডনে একটা ফোন দিন প্লিজ। আমার বিয়ে হয়ে যাওয়াতে রিফাত অনেকটা ভেঙে পড়েছে। আপনি তাকে একটু আশ্বস্ত করুন। বলুন, আমি তার তখনো ছিলাম, এখনো আছি।’

নিঝুম তার লাগেজ থেকে আরো কিছু কাগজপত্র বের করে দেখালো। সেখানে তার লন্ডনে যাওয়ার সব ডকুমেন্ট। তাদের একান্ত কিছু মুহূর্তের ছবিও দেখালো। রিফাতের পাসপোর্টের ফটোকপিতে স্পাউস এর নামের জায়গায় তার নামটা লাল কলমের কালি দিয়ে ঘেরাও করা। যেন নিঝুম নামক গ্রহটি কেবলই তার।

নিঝুমকে এখন বেশ ফুরফুরে দেখাচ্ছে। মনে হচ্ছে তার মাথার সকল দুশ্চিন্তা লাশকাটা ঘরে খুব যত্ন সহকারে রাখা হয়েছে। সে এখন চিন্তামুক্ত। একের পর এক গল্প বলেই যাচ্ছে। কিভাবে তাদের দেখা হলো, প্রেম হলো, বিয়ে হলো ইত্যাদি। আমি না শুনেও শোনার মতো বসে আছি। কিছুতেই বুঝতে দিচ্ছি না যে আমি বিরক্ত হচ্ছি। ভোর হতে চলল, নিঝুম ঘুমিয়ে পড়েছে। তার দুশ্চিন্তা আমার ঘাড়ে চাপিয়ে বেচারি কী আরামে ঘুমাচ্ছে। ঘুমাক না, ঘুমানো তো অপরাধ না। অপরাধ হতো সে যদি ১৪ দিনের দিন রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যেত। সে আমাকেও ঠকাতো, সঙ্গে রিফাত নামক ছেলেটাকেও। আর চুনকালি যা লাগার আমার কপালেই লাগতো। সেদিক থেকে আমি অতি ভাগ্যবান। আসলে মেয়েটা অনেক বুদ্ধিমতী। যা বলার, সরাসরি বলেই দিয়েছে। এরমকম সৎ সাহসী মেয়ে আজকাল পাওয়াই যায় না।

অনেক সকালে নিঝুমের বাবার সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। তিনি আমাকে দেখেই ঘটনা আন্দাজ করতে পেরেছিলেন,

‘বাবাজি, নিঝুম কী কিছু বলেছে? যদি বলে থাকে এসব বিশ্বাস করো না। সে আসলে বিয়েতে রাজি ছিল না, আরো নাকি লেখাপড়া করতে চায়! তাই হয়তো কাহিনী রটাচ্ছে। সে বানিয়ে বানিয়ে উল্টাপাল্টা গল্প বলতে পারে, অতি দুষ্টু মেয়ে।’

আমি মাথা নিচু করে চুপচাপ বসে রইলাম। নিঝুমের বাবার কথা শুনে রাগে মাথা বিড়বিড় করছে। ডান হাত মুষ্টিবদ্ধ করে রেখেছি। নিঝুমের বাবা একটু ভয় পেয়ে গেলেন। কাঁপা- কাঁপা গলায় বললেন,
‘কিছু কী বলবে বাবাজি?’

আমি চেয়ার থেকে দাঁড়িয়ে গেলাম, খুব উচ্চবাচ্য স্বরে বললাম,
‘রিফাত দেশে আসা মাত্রই তার হাতে নিঝুমকে ভালোয় ভালোয় তুলে দেবেন। যদি বাঁধা হয়ে দাঁড়ান, তাহলে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবো। আমি চাই না এই বয়সে আপনি জেলের ভাত খান, তাও আবার প্রতারণার মামলায়। কথাটা মনে থাকে যেন?’

এই বলে চলে আসছিলাম। পিছন থেকে তিনি ডাক দিলেন, নিচের দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করে বললেন,
‘কিন্তু! তোমার কী হবে বাবা?’
আমি উনার হাত চেপে ধরে বললাম,

‘আমার জন্য চিন্তা করবেন না। শুধু দোয়া করবেন, আসি।’
দেখলাম নিঝুমের বাবার চোখে পানি। পুরুষের চোখে পানি বড্ড বেশি বেমানান। তবুও উনার চোখের পানি যেন বেশ মানানসই ছিল। যে পানির মধ্যে ছিল কিছুটা দরদ আর কিছুটা অপরাধবোধ। বাড়ি ফিরে নিঝুমকে বললাম রেডি হতে। নিঝুম কান্নাকাটি শুরু করে দিলো। কেঁদেকেঁদে সে বলল,
‘আপনাকে না বললাম আমাকে ১৪ দিন আশ্রয় দিতে। তবে কেন এমন করছেন?’
আমি অট্টহাসিতে ফেটে পড়লাম। হাসি থামিয়ে তাকে বললাম,

‘আমি সব ম্যানেজ করে এসেছি। তোমাদের মিলনে আর কোনও বাঁধা থাকবে না। তোমার বাবা তোমাদের সম্পর্ক মেনে নিয়েছেন।’

নিঝুম সঙ্গে সঙ্গে আমার পায়ে কদমবুছি করতে লাগল। মাথা নিচু করে বলতে লাগলো,
‘আপনি আমার বড় ভাইয়ের বয়সী। আপনার এই উপকারের কথা আমরা কোনোদিনও ভুলবো না। আপনি খুব ভালো মনের মানুষ, সত্যি খুব ভালো মনের মানুষ আপনি।’

নিঝুম সত্যিই বলেছে, আমি তার বড় ভাইয়ের বয়সী। বয়সতো আর কম হলো না। চল্লিশ ছুঁই ছুঁই করছে। অথচ তার মতো যুবতি মেয়ের সঙ্গে বিয়ে! তাতো ছিল কল্পনাতীত। সংসারের টানাপোড়নের জন্য সঠিক সময়ে বিয়ে করতে পারিনি। বাবার ভূমিকা পালন করে আসছি সেই কলেজ লাইফ থেকে। তিন বোনের পড়াশোনা আর বিয়ে দিতে দিতে কখন যে নিজের বিয়ের বয়স পার করে এসেছি টের পাইনি। আমার অন্ধ মায়ের কান্নাকাটির অবসান ঘটাতে

শেষপর্যন্ত বিয়ে করতে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু মা হয়তো জানেন না, কপাল পোড়ার কপাল কেবলই ভাঙে, জোড়া লাগে না।

সপ্তাহ দুইয়েক যেতে না যেতেই শুরু হলো লোকমুখে না না কু কথা। আমি নাকি পুরুষত্বহীন, তাই বউ বাসররাতের পরেরদিনই চলে গেছে। আমি আগেভাগে তৈরি ছিলাম এসব কু কথা শোনার জন্য। একদিন মা’ও আমাকে ডেকে বললেন,

‘বাজান, মাইনষের মুখে এসব কী শুনতাছি।’
আমি অনেকটা বিমর্ষ মুখে বললাম,
‘যা শুনছ তা ঠিকই শুনছ, মানুষ কি খামাখা এসব কথা বলে বেড়াচ্ছে?’
আমার অন্ধ মা সারাদিন কাঁদলেন। প্রায় প্রতিদিনই কাঁদতেন আমার জন্য। মাস দুয়েক পরে তিনি চলে গেলেন মাটির গহ্বরে। তারপর আমি একাকী জীবন বেছে নিলাম। আমার পরিপাটি বাগান বাড়ির নাম একসময় হয়ে গেলো ভূতুড়ে বাড়ি। ভয়ে কেউ আসতো না আমার বাড়িতে।

আজ ২৫ বছর পর দুই জোড়া পায়ের আওয়াজ শুনতে পেলাম। যেই বাড়িতে কাকপক্ষীও ঠুকর দেয় না, সেখানে দুইজোড়া পায়ের আওয়াজ! সত্যিই, অবাক হওয়ারই কথা। আজকাল চোখে কম দেখিতো, তাই আন্দাজ করতে পারলাম না কে আসলো। চেঁচিয়ে বলে ওঠলাম, ‘কে, কে?’

মধ্যবয়স্কা একজন মহিলার কন্ঠ কানে বাঁধলো,
‘আমি নিঝুম।’
– কোন নিঝুম?
তখন একটা পুরুষের কন্ঠ শুনতে পেলাম। সে বলছে,

‘নিঝুম, তুমি দাঁড়াও, আমি বলছি। দাদাভাই, এই হলো সেই নিঝুম, যাকে আপনি আমার হাতে ২৫ বছর আগে তুলে দিয়েছিলেন।’

সঙ্গে সঙ্গে ইজি চেয়ার থেকে লাফ মেরে দাঁড়িয়ে গেলাম। তাকে জড়িয়ে ধরে বললাম,
‘তুমি রিফাত না?’
রিফাতও আমায় খুব করে জড়িয়ে ধরে বলল,
‘দাদাভাই, আপনি আমার নামটা মনে রেখেছেন! সত্যি অবাক হয়েছি!’

– আরে বোকা, ভাগ্যবানের নাম কেউ কী কোনোদিন ভুলে যায়?’
‘দাদাভাই, আমরা দেশ ছাড়ার আগে আপনার আশীর্বাদ নিতে আসতে চেয়েছিলাম। জানি না, কী এক অজানা অপরাধবোধ তখন কাজ করছিল, তাই আর আসা হয়নি। আমাদের ক্ষমা করে দিন প্লিজ।’

– আরে ধুর, ক্ষমার মতো কিছু হলে তো ক্ষমা করবো। আমি আরো তোমাদের মনেমনে অনেক খুঁজেছি। এই দেখো, আমি শুধু শুধু বকবক করে যাচ্ছি কিন্তু তোমাদের বসার ব্যবস্থা করছি না। আর বসাবো কোথায় বলো? ঘরে যে বসার মতো জায়গা নেই। একলা এক মানুষ আমি। একলা এক বাড়িতে থাকি। জঙ্গলে ঘেরা একলা বাড়িতে ভয়ে কেউ আসতে চায় না। তাই আর আসবাবপত্র কেনা হয়নি। ঘরের মধ্যে বলতে গেলে এই একটা খাট আর এই একটা ইজিচেয়ার ছাড়া বাড়তি আর কিছু নেই। আমাকে দেখাশোনা করার জন্য জীবন সরকার নামের একটা লোক বাড়িতে থাকে। তাও সবসময় তাকে পাওয়া যায় না। বুঝলে রিফাত, এখন জীবন থেকে চিরতরে অবসরের পালা। অনেক বছরই তো জীবন থেকে পালিয়ে বেড়ালাম। এখন মরে গেলে বেঁচে যাই।’
রিফাত মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে বলল,

‘ছি ছি দাদাভাই, এমন কথা বলতে নেই। দোয়া করি, আপনি আরো অনেক অনেকদিন বাঁচুন।’
নিঝুম সারাবাড়ি টোটো করে হেঁটে বেড়াচ্ছে। তার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল পুকুর ঘাট। অনেক ইচ্ছে ছিল সেই পুকুরে সাঁতার কাটার কিন্তু সময় স্বল্পতার জন্য তার এই আশা পূরণ হয়নি। অনেকদিন পর বাপের বাড়ি থেকে আসলে মেয়েরা যেমন খবরদারি করে স্বামীর সঙ্গে অনেকটা সেইরকম করে নিঝুম বলল,

‘বাড়ির একী অবস্থা হয়েছে। আমি যেদিন প্রথম এ বাড়িতে এসেছিলাম কী সুন্দর সাজানো গুছানো একটা বাগান বাড়ি ছিল। এখন দেখে মনে হচ্ছে বাড়িতে কেউ থাকে না। যেন বাড়ির মালিক মরে ভূত হয়ে গেছে।’
আমি অট্টহাসিতে ফেটে পড়লাম। হেসে হেসে বললাম,

‘ঠিকই বলেছ নিঝুম, বাড়ির মালিক অনেক আগেই মরে গেছে। এখন ভূতের মতো বেঁচে আছে, হা হা হা।’
রিফাত খুব কাছে এসে বিড়বিড় করে বলল,
‘দাদাভাই কিছু মনে করবেন না। একটা কথা জিজ্ঞেস করি?’

– হ্যাঁ, করো।
‘আপনি আর বিয়ে করেন নি?’
– রিফাত, পৃথিবীতে বেশিরভাগ মানুষ একটাই বিয়ে করে। আমিও যে সেই দলের আওতাভুক্ত।
রিফাত এ কথা শোনার পরে সজোরে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। নিঝুম সঙ্গে সঙ্গে ঘর থেকে আঁচল দিয়ে মুখ চেপে ধরে বেরিয়ে গেলো। হয়তো বাইরে গিয়ে অনেকক্ষণ কাঁদবে। মেয়েরা স্মৃতিকাতর হয়ে গেলে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে। বাইরে থেকে একটু পর পর সেরকম একটা কান্নার আওয়াজ আসতে লাগল। রিফাত আমার হাতে একটা শাড়ি দিয়ে বলল,

‘এটা আমার মেয়ের বিয়ের শাড়ি। দাদাভাই, শাড়িটা ছুঁয়ে একটু আশীর্বাদ করে দিন। যেন মেয়েটা চিরদিন সুখে থাকে। ওর বিয়ে আগামী সপ্তাহে। আমরা দেশে এসেছি ওর বিয়ের কেনাকাটা করতে। মেয়ের জামাই ব্যাংকার। বার্মিংহাম থাকে। আমরা থাকি লন্ডনে।’

আমি শাড়িটা হাতে নিয়ে আলতো ছোঁয়ায় নেড়েচেড়ে দেখতে লাগলাম। চোখেতো ঠিক মতো দেখি না। অনুভবের চোখ দিয়ে শাড়িটাকে মনভরে দেখলাম। দেখলাম, লাল শাড়িতে মেয়েটাকে দারুণ মানিয়েছে। সে আমার পা ছুঁয়ে সালাম করে বলছে,

‘বড় আব্বু, মাথায় ভালো করে ফুঁ দিন। আপনার ফুঁ যে আমার জন্য এক পৃথিবী দোয়া।’

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত