আর্তনাদ বোঝো!

আর্তনাদ বোঝো!

রিং…রিং…রিং…রিং……

হ্যালো,কোথায় আছিস?

“এই তো বন্ধুদের সাথে ক্যান্টিনে কিছু বলবি?”
শোন না! ফেরার পথে আমার জন্য পিৎজা নিয়ে আসিস কেমন….
পিৎজা! না হীর ওসব কিছু আমি আনছি না।

“আরে এনে দে না কতদিন পিৎজা খাইনি খুব ইচ্ছে করছে রে খেতে, সুইগি,ডোমিনজ এখানে ডেলিভারি দিলে তোকে বলতামও না।”

“হীর কেন আজে বাজে জিনিস খাচ্ছিস?তোর না কদিন আগেই খুব শরীর খারাপ করেছিল। বেডরুমের থেকে তো বাথরুমে বেশি সময় কাটিয়েছিলি।”

“একটা দিন এনেদে প্লীজ প্লীজ প্লীজ…আর খাব না প্রমিস! চিকেন গোল্ডেন ডিলাইট পিৎজা ঠিক আছে।”
“ওঃ তুই নাজেহাল করে ছাড়বি! আচ্ছা এনে দেব।”

হীর আর দ্বীপ ছয় বছর ধরে তাদের আলাপ সেই ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ফার্স্ট ইয়ার থেকে ফাইনাল ইয়ার তারপর চাকরি। শুধুই কি আলাপ! প্রথমে বন্ধু তারপর ফাইনালি প্রেম।দেখা যাক এদের প্রেম এবার কোনদিকে এগোয়।

রিং…রিং…রিং…
বল হীর।
এই শোন না আজ একটা মুভি রিলিজ করেছে,আমি অলরেডি দুটো টিকিট কেটে নিয়েছি।সন্ধ্যে সাতটাই শো তুই সাড়ে ছটা নাগাদ চলে আসিস।

“আমার হবে না রে আজ। চারটের সময় ছুটি তারপর কি করে যাব বল?”
হবেনা মানে! চাকরি কি তুই একা করিস,আমারো তো চারটের সময় ছুটি হয়,আমি আসতে পারবো তুই পারবি না। মুভি দেখব তারপর রেস্টুরেন্টে যাবো কতকিছু প্ল্যান করলাম আর তুই বলছিস হবে না! আমি কিছু শুনতে চাই না তোকে আসতেই হবে।

“তুই একটু বোঝার চেষ্টা কর আজ বন্ধুদের সঙ্গে পার্টি আছে তাই ওদের সাথে একটু বেরব।”
“ও বুঝলাম! মানে আমাকে দেওয়ার জন্য তোর কাছে কোনো সময় নেই। আচ্ছা দ্বীপ তুই আদৌও আমাকে ভালোবাসিস তো? তোর কাছে আমার importance টা কোথায় একটু বলবি?”

“আরে হীর তুই এরকম ভাবে কেন বলছিস, তুই তো জানিস কত কাজের প্রেসার থাকে অফিসে। হ্যাং আউট, বিয়ার পার্টি এসবের আর সময়ই পাইনা না, তাই আজ আর না করতে পারিনি।”

“তুই এগুলো করার সময় পাসনা কিন্তু দ্বীপ আমার জন্য তোর কাছে অঢেল সময় তাই তো! আমরা একই শহরে থাকি তাও কত অদ্ভুত দেখ তিন সপ্তাহ হয়ে গেল আমরা একবারও মিট পর্যন্ত করিনি। প্রেসার শুধু তোর একার নয় আমরা দুজনেই প্রাইভেট যব করি,আমি কোনো সরকারি যব করি না। হ্যাঁ তোর টি.সি.এস আমার উইপ্রো হতে পারে কিন্তু আমাকেও 9-10 ঘন্টা ডিউটি করতে হয় কিন্তু তারপরেও আমি নিজের ফ্যামিলির জন্য সময় দি তোর জন্য সময় দেওয়ার চেষ্টা করি। আর তুই এখনও সেই পার্টি,ক্রিকেট ম্যাচ, বন্ধুদের সাথে হ্যাং আউট নিয়ে পড়ে আছিস এবার তো একটু সিরিয়াস হ দ্বীপ।”

“আচ্ছা বাবা!নেক্সট উইক সানডে পুরোদিন তোর সাথে কাটাবো। তবে মুভি না,প্রিন্সেস ঘাট তারপর সিরাজে তোর ফেবারিট বিরিয়ানি প্রমিস।এবার তো একটু হাস! প্লিজ! দেখ তুই মন খারাপ করে থাকলে আমার হ্যাং আউটে যাওয়ার কোনো মানে থাকবে না।”

এত বছর ধরে হীর আর দ্বীপের প্রেম,দুজনে দুজনকে ভালোবাসা সত্বেও কোথাও যেন একটা ওদের মধ্যে শুন্যস্থানের সৃষ্টি হয়েছে! সময়ের সাথে কি ওরা আরো দূরে চলে যাবে? দেখাই যাক!

রিং…রিং…রিং…..
হ্যালো হীর,আমি এখন দিল্লীতে আছি। সরি রে কাল খুব তাড়াহুড়োই তোকে আর কল করতে পারিনি।
“দিল্লীতে মানে!”

“আসলে ব্যাপারটা কি হয়েছে পরশু অফিসে রাজস্থান,লাদাখ, গোয়া নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল সেখান থেকে এল সিমলার কথা আর তারপরই হঠাৎই সিমলা ট্যুরের প্ল্যান। যেই কথা সেই কাজ! চারজন মিলে ম্যানেজারকে জোরাজুরি করে এক সপ্তাহের ছুটি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম কাল রাত্রে।

হীর আমার যে কিরকম অনুভুতি হচ্ছে সেটা তোকে বলে বোঝাতে পারবো না। তোর মনে আছে কলেজে পড়ার সময় বন্ধুদের মধ্যে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান হলে রমেশের সাথে আমার যুদ্ধ বেঁধে যেত। রমেশ প্রত্যেকবার গোয়া যাওয়ার দাবি তুলত আর আমি বলতাম সিমলা। সেই সিমলা…সেই শ্নোও ফল…সেই ট্রয়ট্রেন রাইড…ট্র্যাকিং সঙ্গে পাহাড়ে তাঁবু খাটিয়ে রাত কাটানো সঙ্গে কফি। হীর তোর মনে পড়ে আমি স্বপ্ন দেখতাম ট্র্যাকিং এর, তোকে প্রায় বলতাম কাশ্মীর, শিলং,সিমলা,মানালিকে ছুঁয়ে দেখার কথা কিন্তু ভাবতাম ইচ্ছেগুলো হয়তো স্বপ্নই থেকে যাবে।তবে আজ আর স্বপ্ন নয়, হিল স্টেশনে পা রাখার শুধু কয়েকঘন্টা অপেক্ষা।”

“দ্বীপ তুই একবারো জানানোর প্রয়োজনও মনে করলি না,তোর এখন সময় হল আমাকে ফোন করার।”
বিশ্বাস কর হীর আমার রিচার্জ প্যাকটা শেষ হয়ে গিয়েছিল, এই দিল্লিতে নেমে রিচার্জ করেই তোকে ফোনটা করলাম। সরি হীর, রিয়েলি সরি।

‘দ্বীপ তুই বলেছিলি নেক্সট সানডে আমাকে নিয়ে বেরোবি কোনো অজুহাত রাখবি না আর তুই এখন আমাকে না জানিয়ে হটাৎ করে সিমলা চলে গেলে বাঃ দ্বীপ বাঃ তোর তো কোনো জবাব নেই, অসাধারণ!।”
হীর তুই এরকম ভাবে বলছিস কেন?

আমি তোকে ফোন করেছিলাম কারণ আমার থেকে বেশি খুশি তুই হবি,আমার ঠান্ডায় এলার্জি আছে তাই তুই হয়ত সাবধানে থাকার সাজেশন দিবি। আমি ভেবেছিলাম তুই হয়তো এক্সসাইটেড হয়ে বলবি দ্বীপ আমাকে সেকেন্ডে সেকেন্ডে ওখানকার জায়গাগুলোর ছবি তুলে হোয়াটস‌অ্যাপ সেন্ড করতে, আমি ভাবে- ছিলাম রোথ্যাংপাস গিয়ে তুই বলবি ভিডিও কল করতে।

“বাঃ দ্বীপ, তুই নিজের মতো করে সব কিছু ভেবে নিস আর আমি দ্বীপ! তুই আমার কথা কি একটুও ভাববি না,আমাকে দেওয়ার জন্য তোর একটুও সময় নেই। তোরা ছেলেরা কি এইরকমই! মেয়েদের কোনো দাম নেই না ছেলেদের কাছে? সত্যি বলতে কি তোর মত একটা useless ছেলের সাথে রিলেশনশিপে থেকে ভুল করেছি।যেটা আমি এখন রিয়েলাইজ করি।

i don’t belive this, you so selfish দ্বীপ।”
এবার থাম হীর! তুই অনেক বলেছিস। আমি কল্পনাও করতে পারিনি হীর তোর কাছ থেকে এরকম রিয়েক্ট পাবো! ট্র্যাকিং,ট্রাভেলিং আমি কতটা ভালোবাসি সে কথা হীর জানতো,আমি আমার হীরকে সব জানিয়েছি আর এই হীরকে আমি চিনিনা। বাই…

“আজ হীর কোনো এক গভীর ভাবনাই ডুবে।এই রিলেশনশিপের ঘেরাটোপে তার দম বন্ধ হয়ে আসছে।
সে ভাবছে ছোটবেলা থেকে ছেলেদের শেখানো হয় ছেলেদের কাঁদতে নেই কিন্ত কেন শেখানো হয় না যে মেয়েদের কাঁদাতে নেই! কেন ছেলেরা মেয়েদের চোখের জলের মর্যদা দিতে পারে না? সে ভাবছে কেন সবকিছুর দায়িত্ব মেয়েদের নিতে হয়, বিয়ের পর সবকিছু কাঁধে তোলার পরও কেন মাথা নামিয়ে থাকতে হয়?”
হীরের মনের কথা কি বুঝবে দ্বীপ,না কি ভুল বোঝা বুঝির অন্ধকারে তলিয়ে যাবে ওদের ভালোবাসা??

রিং…রিং…রিং…..
কিরে! ফোনটা রিসিভ করছিস না কেন? টেক্সট করছি কোনো রিপ্লাই দিচ্ছিস না। দুদিন হয়ে গেল আমি বাড়ী ফিরেছি তুই কি জানিস না? না করছিস ফোন, ফোন করলে ধরেছিস না, এমনকি কোনো রিপ্লাই-ও করছিস না। কি হয়েছে তোর?

“দ্বীপ আমি তোর সাথে মিট করতে চাই, তোর যদি সময় না হয় তাহলে বল তোর অফিসের বাইরে ওয়েট করি!।”
ও…বুঝলাম এত কড়া কড়া ভাবে কথা বলার কারণ! আমার হীরুর রাগ পড়েনি দেখছি এখনো। কাল হলিডে আছে, তুই যা প্ল্যান করবি তাতেই আমি রাজি।

আমি ঐ জন্যই তোকে ফোন করছিলাম তোর সাথে টাইম স্পেন্ড করব বলে কিন্ত তুই আমার ফোন রিসিভ-ই করলি না। আর শোন না তোর জন্য অনেক সাপ্রাইজ

আছে! সিমলা থেকে কিছু জিনিস স্পেশালি তোর জন্য এনেছি। এবার বল কাল কখন কোথায় আসবি?
“বিকেল 5টা লেক গার্ডেনে।”
কি বলছিস বিকেলে! আমি ভাবলাম সকালে বেরিয়ে পুরদিনটা কাটিয়ে সন্ধ্যেই ফিরব।
“আপাতত কাল বিকিলে মিট করি দ্বীপ! তোর সাথে দেখা করাটা খুব প্রয়োজন।”
“ফোনটা এমন ভাবে কাটলি কেন, ও আরো কিছু বলতে চাইছিল তোকে। কি ভাববে বল তো।

দেখ রিয়া এখন কে কি ভাবলো তা নিয়ে আমার কিছু এসে যায় না,শুধু আর কয়েক ঘন্টার অপেক্ষা তারপর ওর সাথে সবকিছু মিটমাট করে আমি এই চার বছর ধরে বয়ে নিয়ে যাওয়া বোঝাটা কে নামিয়ে মুক্ত হতে চাই।”

হীর সেটা তুই ফোন করেই মিটিয়ে নিতে পারতিস আর তুই শিওর তো মানে রাহুল কে তুই এই ওয়ান উইক হলো জানিস দুটো ডেট করে কতটুকু জানবি রাহুল কে?

“ফোন করে মিটিয়ে নিতে পারতাম রিয়া কিন্তু আমি দ্বীপের মুখমুখী দাঁড়িয়ে এই সম্পর্কের ইতি করতে চায়। আর তুই রাহুলের কথা বলছিস! হ্যাঁ আমি এই একসপ্তাহ রাহুলকে আরো বেশি করে জেনেছি ঠিকই কিন্তু আমি ওকে দেখে আসছি প্রায় চারমাস ধরে। যে ছেলেটা সপূর্ণ অন্যরকম। যে মেয়েদের ইচ্ছের মর্যদা দিতে জানে সম্মান রাখতে জানে। কেয়ার কি ভাবে করতে হয় জানে, দায়িত্ব কি ভাবে নিতে হয় জানে,টাইম ম্যানেজমেন্ট করতে শিখে। রাহুল আমাকে অনেক কেয়ার করে। সে শুধু নিজের ইচ্ছের কথা ভাবে না আমার ইচ্ছেকেও গুরত্ব দেই আমার ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা করে। যে ছেলেটা আমার জন্য কয়েকমাস ধরে পড়ে আছে আমাকে অনেক কিছু বোঝানোর চেষ্টা করেছে কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি বোঝার চেষ্টাও করিনি শুধুমাত্র দ্বীপের জন্য। আমি বুঝতে কোনো ভুল করিনি, হ্যাঁ বুঝতে ভুল করেছিলাম দ্বীপ কে! ছয়বছর ধরেও ওকে আমি বুঝতে পারিনি। দায়িত্বহীনের কথা ছেড়েই দিলাম তুই জানিস রিয়া দ্বীপ ওদের অফিসের একটি মেয়ে ঈশিকার সাথে লাঞ্চে যাই। আরো কোথাও হয়তো মেলামেশা করে,আমি সব জেনেও দ্বীপকে কিছু বলিনি চুপ থেকে গেছি।”

দ্বীপ আর হীর! ওরা সত্যি একসাথে নেই! এটাও কি সত্যি এরপর ওদের ফিউচার সবটা একে অপরকে ছাড়া! সত্যি কি ভালোবাসার পরিণতি এটা হতে পারে?? দেখাই যাক! গল্পের শেষে কি হয়।

রিং…রিং…রিং…..
হ্যাঁ হীর আসছি….. সরি সরি অনেকটা লেট হয়ে গেল রে।
“তুই আজকেও লেট দ্বীপ! আমি তোকে বলেছিলাম তোর সাথে দেখা করটা খুব জরুরি তুই যখন আসতেই পারবি না ফোনেই সব বলে দি।”

এই তো দেখতে পাচ্ছি তোকে,পিছনে তাকিয়ে দেখ।
আরে যা!! গোলাপি চুড়িদারে তোকে হেব্বি লাগছে তো!। দাঁড়া আগে তোর জন্য যে সাপ্রাইজ গিফট গুলো আছে সে গুলো আগে তোকে দেখায়…..

“দ্বীপ শোন!এগুলো ব্যাগেই রাখ। আমার কথাগুলো আগে শোন আমার কাছে বেশি সময় নেই। i want to break up with you”

কি বলছিস, আমার বাবুর রাগ কমেনি এখনো আয় তোকে একটু জড়িয়ে ধরি।
“থাম দ্বীপ!আমার দিকে এগোবি না। আমি এই সম্পর্কের বেড়াজাল থাকে বেরিয়ে আসতে চাই, প্লিজ দ্বীপ আমাকে মুক্তি দে।”

মানেটা কি!আমি কিছু বুঝতে পারছি না তোর কথা। তুই আগে শান্ত হয়ে বোস তারপর তোর সব কথা শুনছি।
“বোঝার কিছু নেই দ্বীপ, আমি অন্য রিলেশনশিপে জড়িয়ে পড়েছে। আমি তোর কাছ থেকে ব্রেক আপ চায়।”
ও… এই জন্যই আমাকে ডাকা! কে ছেলেটা আর কতদিন ধরে?

“ছেলেটার নাম রাহুল। আমার পক্ষে এই সম্পর্কে থাকা আর সম্ভব নয়।”
হীর আমি তোকে সাপ্রাইজ দিতে এসেছিলাম কিন্তু আমার জন্য এতবড় সাপ্রাইজ অপেক্ষা করে আছে সেটা আমি জানতে পারিনি!থ্যাংক্স হীর তোর থেকে বড় সাপ্রাইজ কেউ কোনোদিন দেইনি আর দেবেও না। ” প্যাক দিয়ে কথা বলার অভ্যেসটা চেঞ্জ কর এবার।

তুই ঈশিতার সাথে লাঞ্চে যাস, তোদের মেলামেশা আমি সব খবরই পেতাম, মুখ বুঝে সহ্য করে গেছে আমাদের সম্পর্কটা কে বাঁচানোর জন্য। আমি তোকে চিনতেই ভুল করেছি দ্বীপ! আসলে তোরা ছেলেরা বিছানাই শোয়া ছাড়া কিছু বুঝিস না। বিয়ের পর সব দায়িত্ব কি মেয়েদেরই?

ছেলেদের কিছু বললে তারা খুব সহজে বলে দেই ছেলেরা বাড়ীর কাজে মাথা ঘামাই না তাদের কাজ বাড়ীর বাইরে। মেয়েদের ইচ্ছের গুরুত্ব ছেড়েই দিলাম কিন্তু বেবি নেওয়ার সময় মনে থাকে না,ছেলেদের কোনো দায়িত্ব নেই? বাচ্চার সমস্ত দায়িত্ব শুধু মেয়ের…

মেয়েদের চোখের জলের মৰ্ম বোঝার ক্ষমতা তোর মতন ছেলেদের নেই কারণ তোদের ছোট থেকে শেখানো হয় are you girl? boys don’t cry”

ওয়েট ওয়েট হীর… হ্যাঁ আমি জানি ছেলেদের কাঁদতে নেই,পৃথিবীর কোথাও অলিখিত নিয়ম আছে ছেলেদের কাঁদা বারণ,ব্যথা পাওয়া বারণ। আর কি করেই কাঁদব! কষ্ট পেলে নিকোটিন, অ্যালকোহল, চোখের জল শুষে নেই।
হ্যাঁ আমি তোর মতকরে এতকিছু ভাবিনি, দায়িত্ব কি করে নিতে হয় আমি জানিনা,তবে আমি শিখে নিতাম হীর। নিজের কথাই ভেবেছি তোর ইচ্ছের কোনো গুরুত্ব দিনই কিন্তু আজ পর্যন্ত অনেক কিছু তোর জন্য প্রথমবার করেছি, ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে আমার শপিং করতে ভালো লাগেনা তাও তোর সাথে যেয়ে শপিং ব্যাগ হাতে ধরে ঘন্টার পর ঘন্টা শপিং করেছি। দায়িত্ব কি করে নিতে হয় এটাও শিখে নিতাম হীর।

“আমি কোনকিছুতে সিরিয়াস নয়, মন উড়তে চাই, ওয়ার্ল্ড ট্যুরে যেতে মন চাই কিন্তু হীর আমি ভালবাসতে জানি!যতবার কোনো ছেলে বলে ধুর শালা! ভালোবাসা বলে কিছু হয়না ততবার বোঝাতে চাই আমাদের থেকে বেশি ভালো কেউ বাসতে পারেনা।ব্যাঙ্গালোরে opportunity অনেক বেশি থাকা সত্ত্বেও আমি কলকাতায় পড়ে আছি তোকে পাশে পাবো বলে।

মেয়েরা যে সন্তানকে পেটে ধারণ করে তাকে একটা ছেলে তার সমস্ত শরীরে মস্তিষ্কে ধারণ করে। তাই ১০৩
ডিগ্রি জ্বর নিয়ে কাজে গিয়েও বাড়ীতে বলে আমি ভালো আছি,ক্যাব না গিয়ে বাসে যাই কারণ মেয়েটির হেল্থ ড্রিংক্সটা মাসের শেষে হলেও কেনা যায়।

আমি ট্যুরে যেতে ভালোবাসি,ট্র্যাকিং করতে পছন্দ করি তাই তোর এত প্রবলেম ছিল কিন্তু হীর গাড়ীর শোরুমের বাইরে দাঁড়িয়ে বাইক কেনার স্বপ্নটা মরতে দেখেছিস কখনও? মধ্যবিত্ত মেয়েটির বিয়ে হয়ে বিদেশে যাওয়া হয় কিন্ত ছেলেটির বাইক চালিয়ে লাদাখ ট্রিপ করা সবসময় হয় না।”

আর ঈশিকার কথা বলছিস? হ্যাঁ আমি ঈশিকার সাথে লাঞ্চে যেতাম আমাদের কখনও ভালোকিছু খেতে ইচ্ছে করলে ক্যান্টিন ছেড়ে রেস্টুরেন্টে যেতাম। যে আমাকে দাদা বলে ডেকে এসছে তার সাথে তুই…

আসলে হীর প্রবলেমটা কোনোদিনই ভালোবাসার আমি তোকে সময় দিতে না পারার ছিলই না। তুই আমার প্রতি বিশ্বাসটা হারিয়েছিস, ভরসা রাখতে পারিস নি, ঠিকই বলেছিস হীর তুই আমাকে বুঝতে ভুল করেছিস। তুই যদি একটু ভরসা করে দেখতি, ছেড়ে যাওয়ার হাত না হয়ে ধরে থাকার হাত হতি! লুকোনো চোখের জলের মানেটা বুঝতিস! আমার আর্তনাদটা যদি একটু বোঝার চেষ্টা করতিস তাহলে আমাদের আজ এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে হত না।
“তুই যার সাথেই থাক,যেখানে থাক ভালো থাক। আমি তোর দায়িত্ব নিতে পারিনি বরং তোর উপর অনেক বোঝা চাপিয়ে দিয়েছি অন্য কেউ এসে যেন তোর লাইফের সবকিছুর দায়িত্ব নেয় আমি এটাই চাইব সবসময়। চলি রে ভালো থাক…”

দ্বীপ চলে যাওয়ার সময় একবারও পিছন ফিরে তাকাই নি হয়তো নিজের চোখের জল লুকোছিল! আর হীর, হীরের চোখের জল বুঝিয়ে দিচ্ছে সে সত্যি দ্বীপকে বুঝতে পারেনি। আজ কেন জানিনা হীরের বার বার মন চাইছে দ্বীপকে গভীর ভাবে জানতে অনেক গভীর ভাবে! হীরের খুব ইচ্ছে করছে দ্বীপকে আরো নতুন করে ভালোবাসতে নতুন করে কাছে পেতে।

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত