বিয়ের সিদ্ধান্ত

বিয়ের সিদ্ধান্ত

সকালে ঘুম থেকে উঠেই গাড়ির শব্দ আর রিক্সার বেলের টুং টাং আওয়াজ শুনতে পেল তামান্না চৌধুরী। সে এবার ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেছে।

তামান্নার বাবা বার বছর হলো কানাডায় থাকেন। মায়ের সাথে ও ঢাকার ধানমণ্ডিতে থাকে। এ পর্যন্ত কয়েকবার তারা কানাডা গিয়েছিল। তামান্না বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। ওর বাবার ইচ্ছা ওরাও কানাডায় স্থায়ীভাবে চলে যাক। কিন্তু দেশে থাকাই তাদের ইচ্ছা। এতদিন এই নিয়েই তাদের মধ্যে তর্ক হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ওর বাবার কথা ওরা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।

ওর বাবার পছন্দের বুয়েট থেকে পাশ করা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এক ছেলে আজ ওদের ফ্ল্যাটে আসবে। ওর বাবার ইচ্ছা, তামান্নার পছন্দ হলে তার সাথেই তামান্নার বিয়ে হবে। তারপর সবাই কানাডায় চলে যাবে।

কিন্তু যে ছেলে কানাডায় যেতে চায় একজনকে বিয়ে করার মধ্য দিয়ে তাকে বিয়ে করতে মন সায় দিচ্ছে না তামান্নার। কিন্তু বাবার ইচ্ছা, কি আর করা।

বেলা এগারটার সময় ছেলেটা এলো। তার নাম মনসুর।

তামান্না বেশ লম্বা। দীর্ঘ চুল। খুব ফর্শা। স্লীম ফিগার।

সে ফুল প্যান্ট আর গেঞ্জী পরে ছেলেটার সামনে একাকী গিয়ে বসলো। তামান্নাকে ঐ রকম পোশাকে দেখে মনসুরের সংকোচ দৃষ্টি তামান্নার চোখ এড়ালো না।

মনসুর কোন কথা বললো না।

কিছু মুহূর্ত চুপচাপ কেটে যাওয়ার পর তামান্নাই জিজ্ঞেস করলো, আপনি সৈয়দ মুজতবা আলীর শবনম বইটা পড়েছেন?
ছেলেটা আমতা আমতা করতে লাগলো, শবনম, শবনম —– ।

তামান্না আবার বললো, আপনি তো আমাকে বিয়ে করে কানাডায় যেতে চান। কিন্তু আমার বাবা তো তার সব সম্পদ দান করে দেবেন।
এ কথা শুনে মনসুরের চোখে ফুটে উঠলো হতাশা আর ভয়। আপনা আপনি তার মুখ দিয়ে বের হয়ে গেল, কেন?

এমন সময় কলিং বেল বেজে উঠলো। তামান্না দরজা খুলে এগিয়ে গিয়ে দেখলো একজন বৃদ্ধা ভিক্ষুক। মনসুরও তামান্নার পিছনে পিছনে গিয়ে বৃদ্ধাকে দেখলো।

তামান্না বৃদ্ধাকে বললো, ওখানে একটু দাঁড়ান, আমি আসছি।
মনসুর বললো, এই এক যন্ত্রণা। যখন তখন এসে বিরক্ত করে।

তামান্না বুঝতে না পেরে বললো, কোন যন্ত্রণার কথা বলছেন?
মনসুর অবাক হয়ে বললো, কেন, ঐ বৃদ্ধা ভিক্ষুক!

বিরক্তিতে তামান্নার ভ্রু কুঁচকে গেল। সে ভিতর থেকে টাকা নিয়ে এসে বাইরে গিয়ে বৃদ্ধাকে তা দিল।
বাসার কাজের মেয়ে নাস্তা নিয়ে এলো। মনসুর নাস্তা খেয়ে বিদায় নিল।

তামান্নার মা তামান্নার কাছে মনসুরের বিষয়ে মতামত জানতে চাইলেন। তামান্না বৃদ্ধার ব্যাপারে মনসুরের মন্তব্যের কথা জানানোর পর বললো, একজন অসহায় মানুষের প্রতি যার মায়া-দয়া হয় না সে আবার আমাকে কিভাবে ভালোবাসবে?

মেয়ের কথার পরিপ্রেক্ষিতে মা কোন কথা খুঁজে পেলেন না।

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত