প্রেমপূর্ণ

প্রেমপূর্ণ

এ পর্যন্ত আমি একটাও প্রেম করিনি। কিন্তু প্রপোজ করতে আমার খুব ভাল্লাগে।‌প্রপোজ করলে ছেলেরা কিরকম লজ্জা পায় সেটা দেখতেও ভালো লাগে। এই কারণে আমি প্রায়ই প্রপোজ করি। সেরকম একটা ছেলেকে একবার প্রপোজ করলাম,সে বললো ভেবেচিন্তে জানাবে। তিনদিন পর সে যখন আমাকে হ্যাঁ বললো আমি বললাম, প্রেম করবো না। সে দিল এক রাম ধমক,প্রেম করবিনা তো প্রপোজ করলি কেন বদ মাইয়া? আমি বললাম, এই খুশীর ঠেলায়, ভাল্লাগে।

সে বললো, প্রেম করবি, তুই করবি তোর বাপে করবে, তোর জন্য আগে যে মেয়েটার পেছনে লাইন মারতাম তাকে ভাব মেরে বলে আসলাম, তোমার চেয়ে ভালো মেয়ে পেয়েছি।
আমি বললাম, আমাকে ভালো মেয়ে মনে হয় কেন? আমি সুন্দর?

-হু
:মেক‌আপ ছাড়া দেখেননি তাই এমন লাগে। একবোতল পানি আনেন দেখাই, ফোনে ফেসলক করা আছে সেটাও খুলবে না।

সে একটু দ্বন্দ্বে পড়ে গেল। বললো, গায়ের রং দেখে তো ফর্সাই মনে হয়!

-সব নাইট ক্রিমের কামাল। নাইট ক্রিমটা সাড়ে পাঁচশ টাকা নিয়েছে,ফর্সা লাগবে না মানে!
সে আরো দ্বিধায় পড়ে গেল। তারপর কি ভেবে আবার জোরের সাথে বললো, যাইহোক, আমার আগের গফকে ভাব নিয়ে বলেছি যে তুমি ওর চেয়ে সুন্দরী,আর সাজলে তো তোমাকে ভালোই দেখায়। ওর সামনে যেতেই হবে আমার গফ সেজে।

আমি বললাম,গেলে নিস্তার পাবো? একদিন গফ সেজে যাবো তারপর আপনার সাথে আমার আর কোন যোগাযোগ থাকবে না। রাজি?

-ওকে

তো যাইহোক একদিন গেলাম। ওনার সাথে ওনার গফের কলেজের সামনে। গফ বেরিয়ে এলো। আমাকে আড়চোখে দেখে বিষদৃষ্টি দিয়ে আবার ওর দিকে তাকালো। বললো, তুই যে একটা অমানুষ, লোফার,লুইচ্চা সেটা এই মেয়ে জানে??

দুজন‌ই আমার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আমি জানি কি না সেটাই মনে হয় জানতে চায়।
আমার হঠাৎ খেয়াল হলো, আরে আমিতো এখন ওর গফ। সুতরাং আমি ঝাঁঝের সাথে মেয়েটাকে বললাম,দেখো, আমার জানুকে নিয়ে ফালতু কথা বলো কেন??

মেয়েটা হাহাকার করে চিৎকার করে উঠলো,ও বাবা! জানু! জানু হয়ে গেছে..
আমি বললাম, অবশ্যই জানু। ওকে লোফার টোফার বলবা না খবরদার।
মেয়েটা বললো, ও তোমার জীবন শেষ করে দিবে।

আমি বললাম,আমি কি তোমার মতো বোকা নাকি? ও আমার জীবন শেষ করার আগেই আমি ওর বারোটা বাজিয়ে দেব। আমার আপন মামাতো ভাইয়ের শালার বন্ধুর ছেলে পুলিশ কমিশনার।‌ আমি নিজেও পলিটিক্সের ছাত্রী। ছেড়ে কথা বলব নাকি?

ছেলেটা হতভম্ব হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি বললাম, এই বদমাইশ চল। আমি যা বলবো চুপচাপ তাই করবি। কয়টা মুরগী কিনে আইজ থেকে পালবি। তাছাড়া যদি অন্য মেয়েদের সাথে লাইন মারতে গেছিস বাপের নাম ভুলে যাবি! আচ্ছা বাই দা ওয়ে, তোর বাপের নাম কি?

মেয়েটা অবাক হয়ে বললো, বাপের নাম জানো না?
আমি বললাম,কাল প্রেম হলো বাপের নাম কি করে জানবো? তুমি জানো?

– হু,আকবর আলী
আমি চিন্তিত গলায় বললাম, এই ছেলেটার নাম‌ও তো আমি জানি না! ভাইয়া! আপনার নামটা….
তার এক্স গফের চোখ অক্ষিকোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো।

আমি বললাম দেখুন, আপনাদের সম্পর্ক কি এখনো আছে নাকি নাই? এই ভাইয়াটা আমাকে গফ সাজিয়ে নিয়ে এসে কি প্যাঁচালে ফেলেছে! আপনাদের সমস্যা আপনারা মিটান ভাই।

তার গফের যেন দেহে প্রান ফিরে এলো। ছেলেটার দিকে প্রেমপূর্ণ নয়নে তাকাল। অথচ ছেলেটা তাকিয়ে আছে আমার দিকে। কঠিন বিষনজরে।

নাহ, একদিনের অভিনয়টাও ঠিকমতো করতে পারলাম না।

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত