নিয়তি

নিয়তি

সকালে রতনের বাবার ক্ষেতে যাবার সময় হলো। তাই সে হাক ডাক শুরু করে রতনের মা কে ডাকতে লাগলো।
_ও বউ ভাত দে।ক্ষ্যাতে যামু।বেইল তো ব্যামালা(অনেক) হইছে।(রতনের বাবা)
_একটু খাড়ান ভাত হইছে।শালুন(তরকারি) চুলায়।(রতনের মা)
_আইচ্ছা।রতন কি এহনো ঘুমায়।স্কুলে যাইবো না।রতন ওঠ বাজান। বেইল ব্যামালা হইছে।
_বাপজান আইজ স্কুলে যামু না।নন্দন মাষ্টার কইছে আইজ স্কুলের বেতন আর পরীক্ষার ফিস না দেলে ১০ খান বেতের বাড়ি দেবে।(রতন)
_আইচ্ছা আমি হেড মাষ্টারের লগে(সাথে) কথা কমুয়ানে।এহন হকালে(তাড়াতাড়ি) ওঠ বাজান।
.
তারপর রতন ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে।বাবার সাথে সকালের খাওয়া শেষে।বাবার সাথে স্কুলে গেলো।
..
..
_স্যার রতনের টাহা(টাকা) কয়দিন পর নেলে(নিলে) আমার ভালা হইতো।(রতনের বাবা)
_না।রতনের আব্বা তুমি বুঝো না কেন।সব ক্ষেত্রেই একটা রুলস আছে।যদি টাকা দিতে না পারো তবে ছেলেকে লেখাপড়া করাও কেনো।

ওরেও চাষাবাদে লাগিয়ে দাও।তাতে তোমারি সুবিধা হবে। (স্যার)
_না স্যার।আমার রতন পড়বার চায়।ও পড়াল্যাহা কইরা অনেক বড় হইবার চায়।আমি দেহি টাহা জোগাড় করতে পারি কি না।
.
তারপর মাথা নিচু করে রতনের বাবা রতনকে রেখে চলে আসলো।ক্লাস শুরু হলো নন্দন স্যার বেশ রাগি আর ঘাউড়া ছিলেন।

তিনি রতনকে টাকা দিতে না পারায় অনেক পিটালেন।
..
..
রতন বাড়ি ফিরে অনেক কাদলোঁ।তাছাড়া রতনের বাবার পক্ষে পরিবারের খরচ বহন করার পর।

রতনের লেখাপড়ার খরচ চালানো সম্ভব ছিলো না।কেননা রতন এবার পঞ্চম শ্রেনীতে পড়ে।আর রতনের বাবা একজন বর্গা চাষি।

যা ধান পায় তার অর্ধেকের বেশি মহাজন নিয়ে যায়।ফলে রতনের বাবাকে সব খরচ বহন করতে হিমশিম খেতে হয়।

সকালে রতনের বাবা রতনকে ডাকলো….
_বাজান তোর আর পড়োন লাগবো না।তুই আমার লগে ক্ষ্যাতে যাবি আইজকা হইতে।

আমাগো লইগা পড়াল্যাহা না।কারন আমরা যে গরীব রে বাজান।
_আইচ্ছা বাপজান আর যামু না স্কুলে।তোমার লগেই কাম করমু এহন হইতে।
.
.
এভাবেই অনেক স্বপ্ন মাটি দিতে রতনদের মতো হতদরিদ্রদের।
এটাই হয়তো ওদের নিয়তি… 

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত