হাতির পিঠে চড়া

হাতির পিঠে চড়া

নীলা কথাগুলো আরেকবার সাজিয়ে নিল। কারন কথা গুলো সরাসরি মেঘকে বলা যাবে না। মেঘ কষ্ট পাবে, তাই খুব সাবধানে ইশারায় তাকে বলতে হবে।

সেদিন দেখলাম ঐশি ফেসবুকে একটা ভিডিও পোষ্ট করেছে। ও ওর বরের সাথে হানিমুনে সিঙ্গাপুর গেছে। সে কোনো একটা থিম পার্কের রাইডে উঠেছিল হারিকেন না চেরাগ কি জানি নাম। এত্ত ভয়ের রাইড! বাবা রে বাবা! আমি তো পহেলা বৈশাখে নাগোরদোলা ছাড়া কোন রাইডেই চড়িনি……… আমার খুব শখ এমন একটা রাইডে আমি চড়ে এমন চীৎকার দিব যে নিজের কানেই তালা লেগে যাবে। (মনে মনে বলতে থাকে নীলা)

ঐশির কথা শুনলেই মেঘ কেমনজানি মনমরা হয়ে যায় মেঘ। কেন এমন করে মেঘ নীলা অনেক চেষ্টা করেও জানতে পারেনি। আর মেঘ নিজে থেকে কিছু বলেওনি । অথচ ওদের বিইয়েতে মেয়েটা একাই একটা মাইক্রোওয়েভ ওভেন উপহার দিয়েছিল। সেই ওভেনটা মেঘ আজও কার্টন থেকে বের করে নি। কে জানে তার মাথায় কি খেলে। আর মেঘের এই রকম করার একটা কারন আছে যা নিলার অজানা। আর সেই কারণটা একটা অতীত, মেঘ আর ঐশির অতিত। আর এই অতিতের কারনে মেঘ আজও নীলাকে মেনে নিতে পারে নি ভালভাবে।

সজোরে ব্রেক কষলো হানিফ পরিবহন। নীলা প্রায় ছিটকে পড়ছিল, কিন্তু শেষ মুহুর্তে মেঘ এর হাত চেপে ধরায় এই যাত্রাই রক্ষা পেল।
অহ আপনাদের সাথে পরিচয় করানোই হয়নি তাদের সাথে। মেঘ পড়াশোনা শেষ করে একটা কম্পানি না বেশিপানিতে ভাল স্যালারিতে চাকরি করছে আর নীলা হল গ্রামের মেয়ে। আর বিয়ের পর মেঘ এর সাথে প্রথমবারের মত ঢাকাই এসেছে। সে আসতে চায়নি তার শশুর শাশুড়ি ভাল পড়াশোনা করার জন্য আর মেঘের দেখভাল করার জন্য জোর করে পাঠিয়েছে। আর মেঘ ও নীলা হল স্বামি স্ত্রী ওদের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়েছে। তবে মেঘের এই বিয়েতে কোন মতই ছিল না শুধু বাবা মা আর তার ভালবাসার মানুষকে দেওয়া কথা রাখতেই এই বিয়ে করা। কারন মেঘ তার ক্লাসমেট ঐশিকে ভালবাসত আর ঐশিও বাসত কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস আর বাস্তবতার কাছে হার মেনে আজ তারা দুইজন দুই প্রান্তে। যায়হোক সে অনেক বড় কাহিনী আমরা সেদিকে যাব না।

কয়েক মাস পর ,
বাস থেকে নেমে মেঘ বলল, এখানে দাড়িয়ে থাক আমি পানির বোতল কিনে আনি। ভেতরে আবার ২০ টাকার পানির বোতলের দাম নিবে ৫০ টাকা…..
নীলা মনে মনে আবার প্র্যাকটিস করতে থাকল,…..সে আজই বলবে যে সে সিঙ্গাপুর যেতে চায়। বিয়ের পর তো তেমন কিছুই চায়নি ও।
মেঘ দ্রুতই ফিরে আসে আধা লিটার পানির বোতল নিয়ে। টিকেট কেটে এই দম্পতি ডুকে পড়ে চিড়িয়াখানায়। ঈদে আত্মীয়দের খেদমত করতে করতই দিন কেটে গেছে, তাই আজ দুদিন পর ওরা ঘুরতে এসেছে এখানে।

অহ আপনাদের তো বলাই হয়নি যে মেঘ নীলাকে আস্তে আস্তে ভালবাসতে লেগেছে । আর আলবেই না কেন যে চলে গেছে সে তো আর ফিরে আসবেনা। যে ফিরে আসবেনা তার জন্য অন্য একটা নিরুপরাধ মেয়েকে কষ্ট দিয়ে কি লাভ??? কিন্তু মেঘ এখনও নীলাকে বলেনি ভালবাসার কথা। কারন সে নীলার অজান্তেই ভালবাসতে চায়। আর বলে দিলে যদি ভালবাসাটা কমে যায় আর আবার যদি নীলাকে হারিয়ে দেয় এই ভয়ে আরও বলে না। অন্যদিকে নীলাও কম না নীলাও বুঝতে পেরেছে যে মেঘ তাকে ভালবাসতে শুরু করেছে তাই তো সে চুপচাপ আছে।

বানর, বাঘ, জিরাফ, ভুটানি সিংহ, হায়েনা, ম্যকাও—খাঁচার পর খাঁচা দেখে নীলার বিস্ময় বাড়তেই থাকে। কারন সে এগুলো এর আগে কখনো দেখেনি তবে শুনেছে বান্ধবীদের মুখে কিন্তু আজ সে সেগুলো নিজ চোখে দেখছে সেটা ভাবতেই পারে না। আর দেখবে কেমন করে নীলা তো গ্রামের মেয়ে বিয়ের পর পড়াশোনা আর সংসারের জন্য মেঘ এর সাথে ঢাকাই আসা। আর এই প্রথম মেঘ তাকে ঘুরতে নিয়ে এসছে।
একটা সারপ্রাইজ আছে, মেঘের কথাই অবাক হয় নিলা।
নীলার হাত ধরে মেঘ নিয়ে যায় চিড়িয়াখানার পশ্চিম পাশে। ওমা! এখানে যে হাতি ছেড়ে রাখা! (অবাক কন্ঠে নীলা বলে ওঠে।)

হাতির পিঠে চড়বা???
নীলা উত্তর দেওয়ার সুজোগইই পায়না। মেঘ অদিকে দরদাম শুরু করে দেয়। হাতি যেই না নীলাকে পিঠে নিয়ে উঠতে যাবে, অমনি নীলার সে কি চিৎকার নামিয়ে দাও……. নামিয়ে দাও ………আমি নামব…………আমি হাতিতে চড়ব না………আমি এক্ষুণি নামব! আর এটা দেখে মেঘ তো হেসেই খুন,,,

নীলার চিৎকারে শেষমেশ নামিয়ে দিল। আর হাতির পিঠ থেকে নেমেই নীলা লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে মেঘকে জড়িয়ে ধরল, আর বলতে থাকল আমি সিঙ্গাপুর যাব না,,, কক্ষনো যাব না ।
মেঘও নীলাকে জড়িয়ে ধরে বলল আচ্ছা ঠিক আছে আমিও যাব না।

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত