তাহাদের ভালোবাসা

তাহাদের ভালোবাসা

‘ও ভাইস্তা শুইনিছো,রাসু পাগলার লগে এক মাইয়া পলায় আইসা বিয়া বইছে। রাসুর কপাল বটে,মাইয়া তো না য্যান ময়না পাখি!চোখে মুখে কথা কয়।’
ফাঁকা রাস্তায় ভ্যান চালাতে চালাতে বছর চল্লিশের রশিদ চাচা আমাকে এই কথা বললেন। আমি প্রায় ছয় মাস পর ঢাকা থেকে বাড়ি আসছি। সারারাত বাসে করে এসে সকালে উনার ভ্যানে করে বাড়ি যাচ্ছি। চার কিলোমিটার যেতে হবে, তবেই বাড়ি পৌঁছাতে পারব। রশিদ চাচার বাড়ি আমাদের গ্রামেই। উনি কথা একটু বেশি বলেন। আমি বাড়ি আসলেই আমার কাছ থেকে ঢাকার খোঁজ খবর নেন। রাজনীতি উনার প্রিয় বিষয়।কিন্তু আজকে উনার কথা শুরু হলো রাসু পাগলাকে নিয়ে।
আমি একটু অবাক হয়ে বললাম,’ কোন রাসুর কথা কন চাচা? মটমুড়ার রাসু? যে চাকা লাগানো গাড়িতে করে ভিক্ষা করে?’
রশিদ চাচা সবেগে মাথা দুলিয়ে বলেন,’ হয় রে ব্যাটা,উয়ার কথায় বলি….।’
আবার পুরোদমে কথা বলা শুরু করলেন। সারারাতের ক্লান্তিতে একটু বিরক্তই লাগছিল। বয়স্ক মানুষ কিছু বলতেও পারি না। চোখমুখ শক্ত করে উনার বকবক শুনি। ভাগ্য ভালো উনি আমার মুখ দেখতে পারছিলেন না। দেখলে গ্রামে রটে যেত ‘ঢাকায় পড়তে গিয়ে ছেলের আর মাটিতে পা পড়ে না।’

বাড়ি এসে দেখি রাসু পাগলার বউ এখানেও ভর করেছে। কেবল এসে বসেছি, আমার ছোট বোন শিরিন দৌড়ে এসে বলল,’ ভাইয়া শুইনিছো,রাসু মামা পরীর মতন এক মাইয়া বিয়া কইরিছে। গানের গলাও মাশাআল্লাহ।’
সে আরও কী কী যেন বলতে যাচ্ছিল কিন্তু মা ধমক দিয়ে বললেন,’ ছেলেটা কেবল আইলো আর শুরু কইরিছে বকবক। যা এইখিন থেকে। সারাদিন ঐ এক গল্প পাইছে…।’
মায়ের ধমক খেয়ে বেচারী মুখ গোঁজ করে চলে গেল। খেতে বসে মাকে বললাম, রাসু পাগলার ঘটনা কী মা?’
মা মাছি তাড়ানোর ভঙ্গিতে হাত নাড়িয়ে বিরক্ত গলায় বললেন,গিরামের মাইনষের যদি এটু কাজ কাম থাকত তাইলে আর রাসুর বউকে নি পড়ত না। যত সব !’
বুঝলাম মা খুব বিরক্ত ব্যাপারটা নিয়ে। তাই উনাকে আর ঘাঁটালাম না।
বিকেলে গিয়েছি বাজারে। দেখা হলো স্কুলের বন্ধুদের সাথে। তাদের মুখেও রাসুর বউকে নিয়ে কথা। আমাকে বলে ‘ওরে চপল, রাসু পাগলার কথা শুইনিছিস? শালার পাগলা তো হুরপরি বিয়া কইরিছে! মুখের হাসিতে যেন মুক্তো ঝরে। আহ্..!’

আমি এবার সত্যিই অবাক হয়ে গেলাম। ঘটনা কী? রাসু পাগলাকে আমি ছোট বেলা থেকেই চিনি। বর্তমানে তার বয়স ত্রিশ কিংবা এর আশেপাশে হবে। তার শরীরের নিম্নাংশ কাজ করে না। পা দুটো শুকনো কাঠির মতো শরীরের সাথে ঝুলে থাকে। একটা চাকা লাগানো কাঠের গাড়ি নিজে দুই হাত দিয়ে ঠেলে ঠেলে চালায়। আশপাশের গ্রামে গিয়ে ভিক্ষা করে। মুখটাও একটু বাঁকা। কথা তেমন স্পষ্ট না। তবে মানুষটা কথা বলে খুব বুদ্ধিদীপ্ত। গ্রামের মানুষ বুদ্ধিটা ঠিক ধরতে পারে না, মজাটা বুঝতে পারে। কথা একটু তোতলানো বলে সেটা বেশ রসের জন্ম দেয়। সব মিলিয়ে রাসু পাগলা ব্যাপক পরিচিত আশপাশের দু-চার গ্রামে।
এখন দেখছি রাসু পাগলের চেয়ে তার বউ সব থেকে আলোচিত বিষয়। সত্যি বলতে আমারও অবাক লাগছে বিষয়টা। রাসুকে সবাই পাগলা বললেও মানসিকভাবে সে একজন পরিপূর্ণ সুস্থ মানুষ। তার অসুস্থতা শরীরে। তবে তার যে অবস্থা তাতে কোনো মেয়ের ওকে বিয়ে করার কথা না। মেয়েদের এখনো এত দুর্দশা হয়নি যে সেধে এমন মানুষের ভার কাঁধে নেবে। তাও যদি সম্পদশালী হত, তবুও একটা কথা ছিল। কিন্তু সবাই যেরকম মেয়ের বর্ণনা দিচ্ছে তাতে আসলেই অবাক করা ঘটনায় মনে হচ্ছে। মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম,’ তবে তো দেখতে হবে বউটাকে!’

কিন্তু দেখব বললেই তো আর দেখা হয় না। ওরা একেক দিন একেক গ্রামে ঘোরে। আগে রাসু ছিল একা। এখন তার বউ হয়েছে ড্রাইভার। অনেকটা পরীর পাখায় ভর করে ঘুরে বেড়ানোর মতো অবস্থা তার। তাছাড়া আমি এসেছি দশদিনের ছুটিতে। রাসু ছাড়াও অনেক দিকে মনোযোগ দিতে হয়। বাবাকে তার জমি-জায়গার কাজে সাহায্য করতে হল। ফলে দেখা আর হয় না।

তবে যেদিন আমি ঢাকা ফেরার টিকিট করতে গেছি সেদিন হঠাৎ করেই রাসুর সাথে দেখা হয়ে গেল। টিকেট নিয়ে ফিরছি দেখি বাওট গ্রামের বাজারে তার সেই বিখ্যাত চাকার গাড়িতে বসে আছে। আমি দেখে প্রথমে চিনতেই পারিনি। তার বিখ্যাত ‘টানা গাড়ি’ ছিল বলে রক্ষা। চেহারা ছবি তার একদম বদলে গেছে। আগে যতই মজা করে কথা বলুক না কেন ওকে দেখলেই বোঝা যেত জীবন নিয়ে বেচারা খুব বিপদে আছে। যার মানুষের সাহায্য ছাড়া নড়ার উপায় নেই, তার নেই কোনো আপনার মানুষ। যতদিন তার মা ছিল,ছেলের সবকিছু হাসি মুখে করেছে। কিন্তু মা মারা যাবার পর বেচারা যেন অথৈ সাগরে পড়েছিল। দিনের পর দিন চলে যায়, সে গোসল করতে পারে না। প্রাত্যহিক কাজ সারতে তাকে যে কষ্ট করতে হয় তা অবর্ণনীয়। জামাকাপড় থাকত ময়লা। ফলে তাকে সবসময় অপরিচ্ছন্ন দেখা যেত। হাতে, মুখে নানান ধরনের ঘা- পাচড়া লেগে থাকত।
আজকে পরনে তার পরিষ্কার জামা, লুঙ্গি। শরীরেও মাংস লেগেছে। সব থেকে আশ্চর্য হলো তার মুখের পরিতৃপ্ত ভাব। যেন পৃথিবীর মায়ার সন্ধান পেয়েছে। বেঁচে থাকার আনন্দ উপভোগ করছে।
আমাকে দেখেই বলল,’ আরে ভাইগ্না যে,ঢাকা থেইকি কবে আইলা? আমি তো গিছিনু তুমাদের গিরামে। তুমাকে তো দেখতে পাইনি।’

আমি হেসে বললাম,’ আমারে আর তুমি কী দেখবা মামা! আমিইতো তোমাকে দেখার জন্য খুঁজছি। বিয়ে করেছ শুনলাম। তা মামী কোথায়?’
রাসুকে আমি তার সামনে মামা বলেই ডাকি। সে খুশি হয়। বউয়ের প্রসঙ্গ উঠতেই তার মুখটা খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল। কেমন মায়া এসে ভর করল তার চোখে-মুখে। একটু বেঁকে যাওয়া মুখটা হঠাৎ সুন্দর হয়ে উঠল। হেসে বলল,’তুমার মামী গ্যাছে ঐ রহমতের দুকানে। পান খাইতে খুব পছন্দ করে। ঐ দুকানে মিষ্টি পান ব্যাচে। আমিই বলনু এত যখন পান খাওয়ার শখ, তখন ঐ দুখানের পান খায়ি দেখো কেমুন মজা। তাই গিছে পান কিনতে।’
আমি মজা করে বললাম,’ শুনলাম মামী পালিয়ে এসেছে তোমার সাথে? কী যাদু করেছ কওতো শুনি,শিখে রাখি।’
রাসু লজ্জা পায়, হাসে। তারপর বলে,’ আমি আর কী যাদু করব ভাগ্নে….’
কথা শেষ হবার আগেই তার বউ চলে আসে। আমাকে তেমন খেয়াল করে না। কারণ তাদের আশপাশে এমন লোক দেখে সে অভ্যস্ত। একটা পান খুব যত্ন করে রাসুর মুখে তুলে দেয়। মুখটা যত্ন করে শাড়ির আঁচল দিয়ে মুছিয়ে দেয়। রাসু এবার আহ্লাদি মুখ করে বউকে আমার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।

বউয়ের নাম মাজেদা। ছাতিয়ানের মেয়ে। বাপ-মা কেউ বেঁচে নেই। এর আগে একবার বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু সেখানে সংসার টেকেনি। ভাইয়েরা তেমন দেখা না। না খেয়ে মরার অবস্থা। ঠিক তখন রাসুর সাথে পরিচয়। ঐ গ্রামে গেলেই সে রাসুর সাথে গল্প করত। শরীরের খোঁজ খবর নিত। কথায় কথায় মাজেদাই তাকে বলেছিল,’ রাসু যদি চায় তবে সে তার সাথে সংসার করবে।’
রাসুর না চাওয়ার কী আছে? মাজেদার মত একটা মেয়েকে পাশে পেলে সে আকাশের চাঁদ হাতে পাবে। এককথায় রাজি হয়েছিল। কিন্তু ঝামেলা বাঁধিয়ে বসল মাজেদার ভাইয়েরা। রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা করে বেড়ানো পঙ্গু, অচল,পাগল মানুষের সাথে তারা কিছুতেই বোনের বিয়ে দেবে না। বোনকে দুটো খেতে দেয়া তো দূরের কথা সে যে একটা মানুষ থাকে সেই খোঁজ পর্যন্ত নেয় না। কিন্তু রাসুর ব্যাপারে তারা একেবারে ক্ষেপে গেল। কোনোভাবেই বিয়ে দেবে না।মাজেদা তখন মরিয়া। তাই একদিন পালিয়ে চলে আসে রাসুর বাড়ি। রাসুর ভাইয়েরা খুব খুশি মনে তাদের বিয়ে দিয়ে দেয়। এই হলো ঘটনা।

তবে মেয়েটা আসলেই দেখতে সুন্দরী। গ্রামের মেয়েদের মত অনাবশ্যক জড়তা নাই। ভিক্ষা করে বলে একেবারে ছেঁড়া ময়লা কাপড় পরেনি। আমাকে দেখে হেসে বলল,’ ও ভাইগ্না, পরিচয় যখুন হইল তখুন চলো আমাদের বাড়ি। ঘর-সংসার দেইখি আসবা।’
আমি না না বলতেই রাসু বলল, চলো ভাইগ্না। তুমার মামী খুব ভালো গান পারে। শুনাবে,চলো।’
আমার তেমন কিছু করারও ছিল না তখন। রাজি হয়ে গেলাম। আসলে এদের সম্পর্কে একটু জানার জন্যই রাজি হলাম।
ওদের বাড়ি বাওট বাজার থেকে মাইল খানেক দূরে। এটুকু রাস্তা ওদের সাথে হাঁটতে হলো। বউটা বেশ সাবলীলভাবে গল্প করতে লাগল আমার সাথে। কথা বলে খুব গুছিয়ে। রশিদ চাচার মতে ময়না পাখির মত। রাসুর গাড়ি ঠেলতে ঠেলতে বলল,’আমরা ভিক্ষি আর কইরব না ভাইগ্না। এই কাজে সুম্মান নাই। আল্লাই দিলে তুমার মামার হিসাবের বুদ্ধি খুব পাকা। ট্যাকা জমাইছি। একটা দুকান দি বসায়ে দিব।মোটে দুটো মানুষ আমরা, ঠিক চইলে যাবে। পাঁচ হাজার ট্যাকা হইছে। হবে না দুকান? কাউকে বলিনি , তুমি শিক্ষিত ছেইলি তাই বলনু। একটা মতামত দ্যাও দেখি।’
বলে উৎসুক হয়ে আমার দিকে তাকালো। রাসু বউয়ের কথায় মুগ্ধ হয়ে বলল,’ ও মাজু এত ট্যাকা কখুন জমাইলা। আমারে তো কিছু কওনি। এত বুদ্ধি ক্যান তুমার। হবে, হবে, এই ট্যাকাই দুকান হবে। কী বলো ভাইগ্না,হবে না?’
এখনকার দিনে পাঁচ হাজার টাকায় কিছুই শুরু করা যায় না। কিন্তু এই দুটো অসহায় মানুষ যে স্বপ্ন দেখে খুশি হয়ে উঠেছে তাতে আর জল ঢেলে দিতে ইচ্ছা করল না। জানালাম হবে, বেশ ভালোই হবে।
দুজনই খুশি হয়ে ওঠে।

ওদের বাড়িটা নতুন। রাসু জানালো বিয়ের পর তার বড় দুই ভাই এই জায়গায় ঘর তুলে দিয়েছে। তারপর থেকে মাজেদা সারাক্ষণ লেপেমুছে একেবারে ঝকঝকে করে রাখে। খুব খুঁতখুঁতে মেয়ে। ময়লা তার সহ্য হয় না। স্ত্রী গর্বে রাসুর মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
তবে তার গর্ব করার আরও কারণ ছিল যেটা আমাকে বলেনি, কিন্তু আমি নিজ চোখে দেখলাম।

আমাকে একটা কাঠের টুলে বসতে দিয়ে বউটা রাসুর সেবায় লেগে গেল। বদনা ভর্তি পানি এনে খুব যত্ন করে তার হাতমুখ ধুয়ে দিল। তারপর বারান্দায় পাটি বিছিয়ে তার উপর কাঁথা পেতে খুব সুন্দর একটা বিছানা পাতল। ঘর থেকে বালিশ এনে দেয়ালে ঠেকিয়ে রেখে রাসুকে এক ঝটকায় কোলে তুলে নিয়ে সেখানে শুইয়ে দিল।
ঘর থেকে মুড়ি এনে তাকে খেতে দিল। এবং একটা বাটিতে করে আমার সামনেও রাখল।
মুড়ি খেতে খেতে রাসু বলল,’ও মাজু ভাইগ্নারে গান শুনাও। সোনার ময়না পাখি ….., ঐ গানটা শুনাও।

এখানে একটা কথা বলে রাখি,রাসুর কথা কিন্তু স্পষ্ট না। আমার বুঝতে বেশ সমস্যা হচ্ছিল। কিন্তু ওর বউ দেখলাম প্রত্যেকটা কথা একবার শুনেই বুঝতে পারছে। স্বামীর কথা শুনে আমার উত্তরের অপেক্ষা করে না। শুরু করে গান।
মেয়েটার গলায় আসলেই যাদু আছে মনে হলো। ময়না পাখি হারানোর কষ্ট তার কন্ঠে এতটাই হাহাকার তৈরি করল যে আমার চোখও ভিজে উঠলো।

এমন গুনবতী মেয়ে রাসুর মত একজনকে কেন বিয়ে করেছে আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারি না। জানার প্রচণ্ড ইচ্ছা কিন্তু জিজ্ঞাসা করতে কেমন যেন লজ্জা লাগে। না জানি কী ভাবে নেয়।
তবে আশ্চর্য হয়ে গেলাম মেয়েটার বুদ্ধি দেখে। আমার মুখ দেখেই যেন মনের কথা বুঝতে পারল। নিজে থেকেই বলতে লাগল,’বুঝলা ভাইগ্না, আমার বাপ-মরছে সেই ছোট বেলায়। ভাই-ভাবীদের কিল চড় খায়ি বড় হইছি। বড় হইলে বিয়া হইল একজনের সাথে। ভাইয়েরা কোনো রকম মেকুর(বিড়াল) পার করার মতন পার কইরি দিল। একবার খোঁজও নেয়নি লোকটা কেমুন।
সংসার করতে যায়ি আমি বুঝতে পাইরিছি কেমুন সে। কোনো কাম কাজ করে না। গাঁজা খায়ি পইড়ি থাকে। আর প্যাটে টান ধরলে আমার কাছে ভাত চায়। আমি কুনঠে পাব ভাত? না দিতে পারলেই শুরু হত মাইর। তবুও মাটি কামড়ি পইড়ি ছিনু। যাওয়ার জায়গা নাই। এই দুনিয়া যে মেয়ি মাইনষের জন্য জলন্ত আখা।

তারপর একটু থেমে আকাশের দিকে মুখ তুলে কী যেন দেখল। তারপর বলতে লাগল,’তবুও শ্যাষ রক্ষা হইল না। ঐ লোক একদিন গাঁজার ট্যাকার জন্যি আমার ঘরে লোক তুইলে দিল। মানুষের উপর কেমন যেন ঘেন্না ধইরে গেল। ঘরের খিল দেয়া বাঁশটা দিয়ে দুজনের মাথায় বাড়ি দি পালি আসি। আর যায়নি।
চারদিকে হাত-পাওয়ালা হাজার হাজার মানুষ। কিন্তু তাদের মুনডা যে ঘা হয়ি পইচি দুর্গন্ধ বেরোয় তা কেউ টের পায় না।
আর এই যে মানুষটা অচল। লোকে কয় পাগল। কিন্তু এই জীবনে ভালোবাসা যা, তা এই মানুষটার কাছেই পাইছি। শরীল তো অনেক দ্যাখলাম। জীবনের বাকি কয়দিন মনের সওদা করি। সুস্থ শরীল শুয়োরেরও থাকে, কিন্তুক সুস্থ মন শুধু মানুষেরই থাকেগো ভাইগ্না। যে আমাকে ভালোবাসে, তার সেবা কইরি মনেও শান্তি পায়। এমুন ভাগ্য সব মেয়ির হয় না। আমার হইছে।’

মাজেদা বেগম শেষের কথা গুলো বলছিল একদম আনমনে। কিন্তু রাসুর প্রতি ভালোবাসায় তার মুখটা টলমল করছিল। পড়ন্ত বিকেলের নরম আলোয় দুটো দুঃখী মানুষের ভালবাসার সংসার আমার কাছে যেন ঝলমল করে উঠল। ওদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসার পথে আমি মনে মনে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করলাম,’দয়াময় এদের উপর তোমার দয়ার জানালা খুলে দিও। ভালবাসার যেন পরাজয় না হয়। তাহলে কিন্তু তোমার সৃষ্টির পরাজয় অবশ্যম্ভাবী।’

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত