শাস্তি

শাস্তি

হারিকেনের আলোতে পড়ছি।আমি, বাবু ভাইয়া আর শেলি আপা।মাঝে হারিকেন আর খাটের তিনপাশে বসে আমরা তিনজন।নিচে পাটি বিছিয়ে মা নফল নামাজ না কী যেন পড়ছে।বাইরে গুটিগুটি বৃষ্টি পড়ছে।ইলেক্ট্রিসিটির সংযোগ নেই সেই সন্ধ্যা থেকে।সন্ধার দিকটায় আকাশ খানিকটা মেঘলা ছিল তাতেই কাজ!সাথে সাথেই সংযোগ নেই।রাতে সংযোগ দিবে এই আশা করাও অযথা। আমার মনে হয় ইলেক্ট্রিসিটির কন্ট্রোল রুমে যারা বসে থাকে,সামান্য খারাপ আবাহাওয়াও তাদের কাছে মহা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়ে দেখা দেয়।তাই তারা কারো জীবনের ঝুঁকি নেয় না।হোক মানুষের না কষ্ট!

কয়েকমাস পরেই শেলি আপার এসএসসি পরীক্ষা।আপা অংক করছে।বাবু ভাইয়া সামাজিক বিজ্ঞান পড়ছে।দেখে মনে হয় তার বইয়ের লেখাগুলো খুবই ছোট।একদম ন্যানো সাইজ!সে দুহাত দিয়ে ধরে বইকে প্রায় চোখের ভেতর ঢুকিয়ে দিচ্ছে।আপা অনেকদিন এভাবে পড়তে মানা করেছিল,তাও পড়ে।এভাবে ছাড়া সে নাকি পড়তে পারে না।
আমি পড়ছি প্যারাগ্রাফ -‘A Cow’

সমস্যা হচ্ছে প্রথম লাইন–‘Cow is a domestic Animal’ এই লাইনটা ছাড়া আর কিছুই আমার মুখস্ত হচ্ছেনা।শেলি আপা মনোযোগ দিয়ে অংক করছে নইলে নির্ঘাত এতক্ষণে জিজ্ঞেস করত।আর না পেরে আমি মার খেতাম।মনে মনে আল্লাহ আল্লাহ করছি কতক্ষণে বাবা আসবে।কাল জলি আপার বিয়েতে যাব তাই বাবার আজ সবার জন্য শপিং করে বাসায় ফেরার কথা।

– কিরে অঞ্জু শেখা হইছে?
– না,আপা।এখনো শেখা হয়নি।শেষ লাইনটায় আটকে আছি।সেই কখন থেকেই শেষ লাইনটা মুখস্থ হচ্ছে না।
– কই দেখি?
শেষ লাইনটা আপা একবার পড়ে দিল।
– আওয়াজ করে পড় তাহলে মুখস্থ হবে।
মিথ্যা বলে বিপদ দ্বিগুণ করলাম।আগে শুধু আল্লাহকে ডেকেছি।বিপদ যা–এবার আল্লাহ-রসূল সবাইকে ডাকা উচিৎ।

কাউকে ডাকতে হলো না।একগাদা কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে বাবা ফিরল বাসায়।বাবু ভাইয়া তড়িঘড়ি করে খাট থেকে নেমে গেল।তারপর আমি।এবং সবশেষে শেলি আপা।মা’ও পাটি ছেড়ে উঠল।বাইরে বৃষ্টি তাই বাবা কাকভেজা হয়ে গেল।মা তোয়ালে এনে দিল বাবাকে।মাথা মুছতে মুছতে বাবা বললেন, “তোমার জন্য জব্বর একটা শাড়ি কিনছি সালেহা।বার’শ দিয়ে নিছি। বলতে বলতে বাবা শাড়িটা ব্যাগ থেকে বের করলেন।দেখে শাড়িটা অত জব্বর মনে হলোনা।লাল রঙে চিকচিক করছে।এমন শাড়ি মা পছন্দ করেন না।গত রমজানের ঈদে এমন একটা শাড়ি ছোট মামাও এনেছিল মা’র জন্যে।হাসিমুখে নিয়ে সেই শাড়ি মা আর পরেনি।লাল রঙ মা’র অপছন্দ।

ব্যাগ থেকে বাবা সবার জামা বের করল।আমি আর বাবু ভাইয়া খুশি।আমাদের সব পছন্দ হয়েছে।বাগড়া বাজল শেলি আপাকে নিয়ে।সে মুখ কালো করে বসে আছে।পরীক্ষা উপলক্ষে মেজো মামা আর খালারা কিছু টাকে দিয়েছিল তাকে।সেই টাকা থেকে একহাজার টাকা সে বাবাকে দিয়েছিল।তার জন্যে দামি দেখে একটা জামা আনতে।বাবা যখনই বলল,শেলির জামাটা পনের’শ দিয়ে নিয়েছি;তখন থেকেই তার মন খারাপ।বাবা বলল,কিরে শেলি,তোর মন খারাপ নাকি?

– না বাবা।
– খারাপ খারাপ তো লাগতেসে?
– তুমি কিভাবে বুঝলে?
– তোর চেহারার দিকে তাকিয়ে বুঝলাম।
– কারো চেহারার দিকে তাকিয়ে,তার মনের কথা বুঝার মতো পীর তুমি হওনি।

এবার বাবা দমে গেলেন।তার চোখ সরু হয়ে গেল। মা বলল,বাদ দাও তো,ওসব কিছুনা।
এটা বলাতে শেলি আপার মুখটা আরো কালো হয়ে গেল।যেন বাবাকে ছিঁড়ে খেলেই শান্তি হয়!
সবশেষে দেখা গেল বাবা নিজের জন্যে এক জোড়া জুতা ছাড়া আর কিচ্ছু কিনে নি।
মা বলল,তোমার জামাকাপড় কই?
বাবা বলল,বাদ দাও।গায়ের শার্টটা তো এখনো নতুন–এটা দিয়ে চালিয়ে নেব।
– নতুন আর কই রইল?পিঠের দিকটায় তো হলুদ ছাপ দেখা যায়?রঙ ময়লা হয়েছে।
– আরে বাদ দাও।অঞ্জু আর বাবুর প্যান্টের দাম একটু বেশি নিছে। নইলে অবশ্য একটা শার্ট কেনা যেত।

রাত হয়েছে।মা ভাত বাড়তে গেল।আমি আর শেলি আপা ভাত খেলাম না।মনে হয় আপা খায়নি কম দামি জামার দুঃখে।আর আমি খাইনি আমার বাবার কেন অনেক টাকাপয়সা নেই এই দুঃখে।আমার চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে।আমি অনেক টাকার মালিক হয়ে গেলে কী কী করতাম এইসব ভেবে।সবার প্রথম শেলি আপার জন্য দামি একটা জামা কিনতাম।যাতে আপা মুখ কালো করে না থাকে।মুখ কালো করে থাকলে শেলি আপাকে ডাইনীর মতো লাগে।ডাইনী আমি দেখিনি,শেলি আপার কালো মুখের মতোই হয়তো হবে।খুব বিশ্রী!

তারপর বাবার জন্য দু’তিনটা শার্ট কিনতাম।সাথে একটা প্যান্টও।বাবা খেয়াল করেনি,তার নতুন কেনা প্যান্টটার সামনের ডান পকেটের সাথে ছোট একটা ফুটো। তেলাপোকায় করেছে বোধহয়। সহজে দেখা যায়না। কিন্তু দেখা গেলেই খুব বিশ্রী লাগে।
কি জানি,ফুটো দেখে তার কলিগরা আড়ালে হাসাহাসি করে কী-না!

জলি আপাদের বাসায় আমরাই সবার শেষে পৌঁছলাম।রাজিব,ফারহান,নোবেল আর সৈকত ভাইয়ারা সবাই চলে এসেছে।সৈকত ভাইয়া আমার দুবছরের বড়।তার সাথে থাকতেই আমার ভালো লাগে।তার’ও হয়তো আমার সাথে থাকতেই ভালো লাগে।তাই তো বাবু ভাইয়ার সাথে না মিশে,ওনি আমার সাথে বেশি মিশে।ফারহান আর নোবেল আমার সমবয়সী তাও আমি তাদের সাথে খুব একটা মিশি না।রাতে জলি আপার হলুদে আমরা অনেক মজা করলাম।শেলি আপাও মুনা আপা,শারমিন আপা,নাজনীন আপাদের সাথে খুব মজা করেছিল।দেখে ভালোই লাগছে।বহুদিন আপাকে এত হাসিখুশি দেখি নি।বাড়িতে সবসময় গম্ভীর মুখে থাকে।কিছু উল্টাপাল্টা হলেই আমাকে আর বাবু ভাইয়াকে মারধর করে।

আপা আগে এমন ছিলনা।রশিদ চাচা একবার আপার সাথে খুব খারাপ একটা কান্ড ঘটিয়েছিল।সেদিন আমরা কেউ বাসায় ছিলাম না।নানুবাড়ি গেছিলাম।আপা বাসায় একা ছিল।সেই সুযোগ নিয়েছিল পাশের বাসার রশিদ চাচা।তারপরই আপা কেমন বদলে যায়।

গায়ে হলুদ পর্ব শেষ।বিয়ের দিন একটা কান্ড হলো।বিয়ে পড়ানো শেষ।বিয়ের আসর থেকে থেকে জলি আপাকে কোলে করে গাড়িতে তুলে দিতে নিয়ে যাচ্ছিল জিহাদ ভাইয়া।জলি আপা হাত-পা ছুড়ে খুব কাঁদছিল। তার ওপর দুদিন আগের বৃষ্টিতে পথঘাট পিছলা ছিল।টাল সামলাতে না পেরে জিহাদ ভাইয়া জলি আপাকে দিল মাটিতে ফেলে।কান্নাকাটির মধ্যেই সবাই হেসে উঠল।লজ্জা পেয়ে জিহাদ ভাইয়া তড়িঘড়ি করে করে জলি আপাকে তুলতে গিয়ে আরো একবার ফেলে দিল।এবার বড় মামা ক্ষেপে গেলেন।চারদিকে দুপক্ষীয় মেহমান গিজগিজ করছিল,তাও মামা চিৎকার করে বললেন,এখানে নাটক হচ্ছে নাকি?
জিহাদ ভাইয়ার কাছ থেকে নিয়ে মামা নিজে জলি আপাকে গাড়িতে তুলে দিলেন।

রাতে জিহাদ ভাইয়াকে নিয়ে মামা আবার কথা তুললেন।
– জিহাদ হারামজাদা জলি মাইয়াটারে নিজ ইচ্ছায় ফালাইছে।হারামজাদার নাটকের অভ্যাস আছে তো!বিয়ে শেষ হোক হারামাজাদার কান যদি আমি না ছিড়ছি, নিজের নাম বদলায়ে রাখব।শরীফ হোসেন থেইকা বদলায়ে কুত্তা শরীফ রাখব।
মা বললেন,কিসব বাজে বকছিস শরীফ?মাথা-টাথা সব গেল নাকি?
-গেছে আপা,গেছে!এই মাইয়ার বিয়ের উসিলায় আমার দশ বছরের হায়াত কমছে।পাঁচ বছর কমাইছে এই জিহাদ হারামজাদা।অকর্মার বাচ্চা!দেখছ,মুখের দিকে তাকিয়ে দাঁড়ায় থাকে কেম্নে বেইজ্জত?

পান্না খালা ভয়ে কুকড়ে গেলেন নিজের ছেলের উপর শরীফ মামার রাগ দেখে।বড় মামাকে সবাই যমের মতো ভয় পায়।খালারা যখন ছোট ছিল মামা নাকি তখন তাদের খুব মারত।পান্না খালার বাঁ হাতের কালো দাগটা নাকি মামার মার খেয়ে হয়েছে।আমারও মনে হয় শরীফ মামার মাথা গরম।একদম ব্রিকফিল্ড টাইপ।

কাল কনে পক্ষ যাবে বর পক্ষের বাড়ি।সে ব্যাপারেও মামা তাগাদা দিলেন,সকাল বারোটার মধ্যে যেন সবকিছু রেডি থাকে।সময় নিয়ে যেন কোন টানাহেঁচড়া না হয়।হলে তিনি সহ্য করবেন না।আর এগারোটার দিকে পিকাপ ভ্যান আসবে।ফার্নিচার সব সহীহ-সালামতে যেন তোলা হয়।

সকালে নাস্তা করেই সবাই জলি আপাদের গ্রামে ঘুরতে বেরুলাম।মুনা আপা,শারমিন আপা,শেলি আপা আর আমরা ছোটরা সবাই।জলি আপাদের বাড়ির সামনে একটা চা দোকান আছে।সেখানে জিহাদ ভাইয়াকে দেখলাম সিগারেট খাচ্ছে।আমাদের দেখেই সিগারেট লুকিয়ে ফেলল।হাসিমুখে বলল,”কিরে কি খাবি?”
আমি বললাম, “ভাইয়া সিগারেট দাও,সিগারেট খাই।লুকিয়ে লাভ নেই আমরা দেখে ফেলেছি।আমাদেরও দাও নইলে বড় মামাকে বলে দিব।বড় মামার নাম শুনেই বেচারার মুখ শুকিয়ে গেল।”
জিহাদ ভাইয়া উলটে কিছু বলার আগেই আমরা সেখান থেকে দৌড়ে বাড়ি চলে গেলাম।

সাড়ে দশটার দিকে সবাই গোসল করতে গেলাম পুকুরে।পাকা ঘাট।জায়গা কম।আবার জায়গায় জায়গায় পিছল।তাই আমি,সৈকত ভাইয়া,নোবেল আর রাজিব গোসল পরে করব বলে পুকুর ছেড়ে উঠে পড়লাম।চলে গেলাম বাড়িতে।একটা ফুটবল নিয়ে নেমে পড়লাম জলি আপাদের উঠোনে।যে যার মতো বলে লাথি মারছি।যার পায়ে বল বেশিক্ষণ থাকবে সে-ই জয়ী। আমার পায়েই বল বেশিক্ষণ থাকছে।কেউ নিতে পারছেনা।নিলেও খুব কম সময় রাখতে পারছে।সবাই মহা আনন্দে খেলছি।প্রচণ্ড ভালো লাগছিল তখন।মনে হচ্ছিল সমস্ত ভালো লাগা জলি আপাদের উঠোনে নেমে এসেছে।এত আনন্দ বহুদিন করিনি।উঠোনে কিছুক্ষণ পর এ-ও আসছে।তাও আমদের খেলায় কোন বাধা পড়ছেনা।উঠোনের এই মাথা থেকে ও মাথায় ছুটছি আমরা।কেউই খেয়াল করিনি,ফার্নিচার নেবার পিকাপ ভ্যানটা উঠোনে নেমে এসেছে।সেটাকে আগে-পিছে করে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।দেখে মনে হয় আনাড়ি ড্রাইভার। সময় নিচ্ছে অথচ রাখতে পারছেনা জায়াগা মতো। ড্রাইভারের চোখেমুখে বিরক্তি।

সৈকত ভাইয়া বল নিয়ে ছুটছে।পেছনে নোবেল,রাজিব আর আমি।সবাইকে ছাড়িয়ে আমি এগিয়ে গেলাম সৈকত ভাইয়ার কাছ থেকে বল নিতে।মাথা নিচু করে বল কাড়াকাড়ি করছি আমরা।কেউই খেয়াল করিনি ভ্যানটা আমাদের সামানে।ঠাশ করে একটা শব্দ করে সৈকত ভাইয়া গাড়ির সাথে বাড়ি খেল।সে মাটিতে পড়ে গেল।কিছু বুঝে উঠার আগেই পান্না খালা কোত্থেকে এসে আমার গালে পর পর দুটা থাপ্পড় মারল।

উনার ভাবটা এমন,সৈকত ভাইয়াকে মাটি থেকে তোলার চেয়ে আমাকে থাপ্পড় মারা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।খালা আমাকে থাপ্পড় মেরে সৈকত ভাইয়াকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে বলতে লাগল, মাজেদার ছেলে ফেলছে!মাজেদার ছেলে ধাক্কা দিয়ে সৈকতকে ধাক্কা দিয়ে গাড়ির নিচে ফেলছে! মাজেদার…….!

মা জলি আপাদের দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। মুখে আঁচল চাপা দিয়ে আমাদের দেখছে।আমি আদ্র চোখে মা’র দিকে একবার তাকালাম।মাজেদা খালা আবার আমার দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলল,ধুর হ মুখপোড়া! তুই আমার ভাইয়ের ছেলেকে মারতে বসেছিলি।আমার চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা করছিল।ততক্ষণে সেখানে বিশাল ভিড় জমে গেছে।বাবাও এলেন।কিছু না বলেই আমাকে সবার সামনে উপর্যুপরি চড়চাপড় মারতে লাগলেন।আমি দৌড়ে সেখানে থেকে চলে গেলাম।লুকোলাম জলি আপাদের স্টোর রুমে।

অনেকক্ষণ হলো স্টোর রুমের এক কোণে গুটি মেরে বসে আছি।খুব উদাস উদাস লাগছে।সবাই আমার পেছনেই কেন লাগল?পান্না খালা তো মিথ্যে বলেছিল?আমি তো সৈকত ভাইয়াকে ধাক্কা দিয়ে ফেলিনি?তিনি তো নিজে নিজেই পড়ে গেছিল!আচ্ছা বড় মামা আমাকে কি শাস্তি দিবেন?

বড় মামা আমাকে কঠিন শাস্তিটাই দিলেন।স্টোর রুমে তিনি একা আসলেন।কিভাবে আমাকে দেখেছেন জানিনা।আমার চোখে পানি দেখেই তিনি বললেন, “কিরে অঞ্জু কাঁদছিস কেন?জলির জামাই বাড়ি যাবি না?তিনি হাত বাড়িয়ে আমাকে স্টোর রুম থেকে বের করলেন।বের করে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।বললেন, “কিরে পাগলা ব্যাটা কাঁদছিস কেন?”

আমার বুকটা হুহু করছিল।চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করছিল,”মামা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন শাস্তিটাই তুমি আমাকে দিলে।

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত