একটি দুঃস্বপ্ন

একটি দুঃস্বপ্ন

প্রিয় বিবাহিত ভাইয়েরা,
আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন। সম্প্রতিকালে আমিও দলে নাম লিখিয়েছি।
এইটুকু বলার পর সকলে একসাথে বলে উঠলঃ
“বউয়ের জ্বালা প্রতিরোধ কমিটি’তে” আপনাকে স্বাগতম এবং হাজার গোলাপের শুভেচ্ছা।
সবার উদ্দেশ্যে হাত তুললাম। সকলে চুপ হয়ে গেল। অধির আগ্রহে বক্তৃতা শুনার অপেক্ষা করছে। বিষয়টা এমন আমি নির্বাচনী প্রার্থী আর এরা সবাই আমজনতা।
পুনরায় বক্তৃতা দিতে শুরু করলাম।

প্রিয় ভাইয়েরা,
রিলেশন থাকা অবস্থায় প্রতিদিনই বলতো বিয়ের পর আমার জীবন সে অতিষ্ঠ করে তুলবে। কিন্তু আমলে নিতাম না। বাসরঘরে যখন আবার এইকথা বলল। তখন আর আমলে না নিয়ে পাড়লাম না।
আমাকে থামিয়ে দিয়ে একজন বলে উঠল,

— যেহেতু আগেই সর্তকবার্তা দিয়েছিলো। সেহেতু বুদ্ধিমানের মতো আগেই কেটে পড়া উচিত ছিল। তোর দুর্দশার কথা ভেবে কষ্ট হচ্ছে। একবুক সমবেদনা!

দ্বিতীয়জনঃ সহমত পোষণ করছি। সমবেদনা নিস, ভাই!
তৃতীয়জনঃ মূর্খের মতো কাজ করলি, ভাই। আমার বউ যদি আগেই সর্তকবার্তা দিতো তাহলে সারাজীবন ব্যাচেলর থাকতাম। তবুও ওরে বিয়ে করতাম না।

চতুর্থজনঃ ভাইসব, আপনার সকলে শান্ত হন। এই ভাইটি আমাদের মতোই ভুক্তভোগী, আমাদের দলেরি একজন। এটি ভুলে গেলে চলবে না। আমাদের নৈতিক কর্তব্য ভাইটিকে সু-পরামর্শ প্রদান করা। ভাই, তুই বল!
যাক অন্তত একজন আমার দিকে মুখ তুলে চাইলো। আবার বলতে শুরু করলাম।
প্রিয় ভাইয়েরা,

“বউয়ের জ্বালা প্রতিরোধ কমিটি’র” সদস্য হিসেবে আমার নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য আমার প্রতিরোধ মূলক কর্মকাণ্ড আপনাদের নিকট তুলে ধরা। এবং আপনাদের কাছ থেকে সু-পরামর্শ গ্রহণ করা।

আবারো একজন থামিয়ে দিল। এরা কি আমাকে বলতে দিবে না নাকি? এরা কোন পরামর্শ দিবে না? কিছুই বুঝতে পারছি না!

পিছনের দিকের ভাইটি বললঃ
— ভাই, তুই বিয়ে করছিস কতদিন হলো?
ইমোশনাল মুডে জবাব দিলামঃ দুইদিন!
— সংসার জীবনে শান্তি চাস? বউয়ের জ্বালা থেকে মুক্তি পেতে চাস, তাই না?
— জ্বি ভাই!
— একটা পরামর্শ দেই?
— তারজন্যই ত এখানে আসা!
— তাহলে শুন! এখুনি তোর বউকে গিয়ে বল, আমি পরাজয় স্বীকার করছি। আমি তোমার আজ্ঞাবহ দাস। তুমি যা বলবে তাই হবে। এই সংসারে তোমার ইচ্ছেই আমার ইচ্ছে। তোমার মতামতই আমার মতামত। এর থেকে ভাল প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা আর কিছু হতেই পারে না নাকি পারে?

এতক্ষণ সবাই ভাইটির দিকে তাকিয়ে চুপচাপ কথা শুনছিল। সকলে একত্রে চিৎকার করে বলে উঠলঃ
— না পারে না!

বলে সকলে আমার দিকে তাকাল। আমার মূল্যবান সিদ্ধান্ত শুনার জন্য আগ্রহ সহকারে চেয়ে আছে।

— পরাজয় স্বীকার করা কি খুব জরুরি, ভাই?
— অবশ্যই। যেদিন এই সত্য উপলব্ধি করতে পারবি। সেদিন দেখবি শান্তি আর শান্তি। অবিজ্ঞতা থেকে বলছি রে ভাই!

মাঝখান থেকে একজন বললঃ
— সহমত পোষণ করছি। পরাজয় স্বীকার করার আগ পর্যন্ত শান্তি নাই।
তার দেখাদেখি আরেকজন বলে উঠলঃ
— আমিও একমত!
পাশ থেকে আরেকজন বলে উঠলঃ
— আমিও একমত পোষণ করছি।

তাদের দেখাদেখি সকলে একে একে বলতে লাগলো। ‘আমিও একমত’, ‘সহমত পোষণ করছি’ কানে ভেসে আসছে। সকলের সমস্বরে কান ভনভন করছে। মাথা ঘুরতে শুরু করলো। এইভাবে আর কিছুক্ষণ থাকলে নিশ্চিত মাথা ঘুরে পড়ে যাবো।

— না! আমি পরাজয় স্বীকার করবো না, করতে পারি না। ‘পরাজয়’ বলে কোন শব্দ আমার ডিকশনারিতে নাই।, বলে চিৎকার দিলাম। সেই সাথে ঘুমটাও ভেঙ্গে গেল।

পাশ থেকে মৃণ্ময়ী উঠে বসতে বসতে বললঃ
— কি গো, এইভাবে চিৎকার দিলে কেনো? দুঃস্বপ্ন দেখলে নাকি?
তোমার থেকে বড় দুঃস্বপ্ন আর কি হতে পারে, মনে মনে বললাম।

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত