পরীক্ষা এবং ঘুম

পরীক্ষা এবং ঘুম

পরীক্ষা এলেই শরীরের রক্ত চলাচলের গতি কয়েকশগুন বেড়ে যায়। বাইরে গেলে সময় রকেটের মত ১সেকেন্ডে বারো কিলোমিটার গতিতে ছুটে যায়।

বই নিয়ে পাতা উল্টাতে উল্টাতে যখন দেখি বইয়ের পাতার অযুত-নিজুত, লক্ষ লক্ষ শব্দ আমি এই প্রথম দেখছি তখন ইচ্ছা হয় বইয়ের পাতার সাথে মাথার চুলগুলোও সব টেনে ছিড়ে ফেলি।

পরীক্ষার টেনশনে খাবার খেতে বসেও শান্তি নাই, ভুনা খিচুড়ি অথবা বিরিয়ানী নতুবা ইলিশমাছ ভাজা কিছু খেতেই ভাল লাগে না। তরকারির মেন্যুতে ডিম থাকলে ডিমের সাথে আমার বেশ চোখাচোখি হয়। ডিমগুলো আমাকে দেখে হাসতে হাসতে বলে- “খেয়ে নে আর মাত্র কয়দিন খেয়ে নে, আবার দেখা হবে পরীক্ষার খাতায়”। আমি বসে বসে কল্পণা করি স্যারেরা আমার খাতায় প্রশ্নের উত্তরে একের পর এক ডিম এঁকে দিচ্ছে।
ফাইনাল পরীক্ষার রুটিন দেয়ার পর বন্ধুদের প্রেডিকশন- “তুই ফেল করবি”।

আব্বাকে আমাকে নিয়ে প্রেডিকশন করতে শুনছি। বাসা থেকে একটু বাইরে গেলে, বাসায় ফিরে এসে নিজের ঘরে ঢুকতেই আব্বাকে বলতে শুনি তিনি আম্মাকে বলছেন- “ডাব্বা মারবে। তোমার গুণধর ছেলে ডাব্বা মারবে”।
সবাই আমাকে পেয়েছে টা কি? এইভাবে অপমান! রেজাল্ট দেখিয়ে দিব, হুহ! আমাকে নিয়ে প্রেডিকশন করে! সব জ্যোতিষ হয়ে গেছে!

পরীক্ষার এখনও চার দিন বাকি আছে, অনেক সময়। বই নিয়ে পড়তে বসলাম। বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে মনে হল, অনেক পড়ে ফেলেছি এবার বাইরে গিয়ে এক কাপ চা খেয়ে আসা যাক। চা খেয়ে বাসায় ফিরে পড়তে বসতেই মনে হল, ধুর এই কয়টা মাত্র প্রশ্ন এগুলা কাল পড়ে নিবো, আজ একটু ফেসবুকিং করি।

সারারাত ফেসবুকিং করে সকালে সূর্য উঠার পর ঘুমাতে গেলাম। ঘুম ভাঙ্গল ভয়ংকর এক দুঃস্বপ্নে। একি স্বপ্ন দেখলাম আমি? ডিপার্টমেন্টের সবাই পাশ করেছে একমাত্র ফেল করেছি আমি!

বন্ধুদের প্রেডিকশন সত্য হয়ে যাবে? আব্বার প্রেডিকশনও সত্য হয়ে যাবে? নাহ এ কিছুতেই হতে দেয়া যাবে না। আজই সব পড়ে ফেলব।

বিছানা থেকে উঠে দেখলাম, বিকেল পাঁচটা বেজে গেছে। দেরি না করে গোসল করতে ঢুকলাম। গোসল করে বের হতে হতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে।

বাসা থেকে বের হয়ে কিছুক্ষণ হাটাহাটি করলাম।বাসায় ফিরতে গিয়ে পাড়ার বন্ধুদের সাথে দেখা হয়ে গেল।
বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বাড়ি ফিরতে রাত সাড়ে দশটা বেজে গেল।

বাসায় এসে বই নিয়ে পড়তে বসলাম। কিছুক্ষণ পড়ার পরই লাবনী ম্যাসেঞ্জারে ম্যাসেজ দিয়েছে।
লাবনীর সাথে কথা বলতে বলতে রাত তিনটা বেজে গেল, আজকেও আর পড়া হবে না, বিছানায় এসে ঘুমিয়ে পড়লাম।

ঘুম ভাঙ্গল বিকেল চারটায়। গোসল করে খেয়ে নিলাম। ঠিক করেছি আজ থেকে ফেসবুকিং একদম বন্ধ, বাইরেও একদম যাব না, শুধু পড়ব। পরীক্ষায় সব বিষয়ে পাশ আমাকে করতেই হবে।

সন্ধ্যার পর পড়তে বসলাম, কিন্তু একি ব্যাপার পড়তে বসার পর থেকে শুধু ঘুম পাচ্ছে। এতদিন মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থেকে থেকে শত শত রাত পার করে দিলাম, একবিন্দু ঘুম এলোনা, কিন্তু এখন পড়তে বসলেই ঘুম আসছে কেন। ব্যাপারটা কি? এত্ত ঘুম এলো কোত্থেকে?

ঘুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আরও কিছুক্ষণ পর পড়ার টেবিলে মাথা রেখেই ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম ভেঙ্গেছে রাত আড়াইটায়, এইসময় কি আর পড়া যায়? সারাদিন তো পরেই আছে, দিনে সব পড়ে ফেলব ভেবে ঘুমিয়ে পড়লাম, সেই ঘুম ভাঙ্গল দুপুর দেড়টায়।

পড়ার প্রস্তুতি নিতে নিতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। এক কাপ চা খেয়ে পড়তে বসলাম। রাত আটটার দিকে একটু একটু ঘুম পেতে শুরু করেছে তাই আরেক কাপ কড়া লিকারের চা খেলাম, কিন্তু ঘুম পিছু ছাড়ছে না। সকালে পরীক্ষা অথচ পড়া হয়নি কিছুই। কি হবে আমার?

আব্বা আর বন্ধুদের প্রেডিকশন কি সত্য হতে চলল?

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত