নূপুর

নূপুর

রিনিঝিনি নূপুরের শব্দে ঘুম ভেঙে যায় আমার! অথচ এই বাড়িতে আমি ছাড়া কেউ নূপুর পরে বলেতো জানা ছিলোনা! ধড়াক করে উঠতে যেয়ে কোথায় যেন বাড়ি খেলাম! আমি দোলনায়ই ঘুমিয়ে গিয়েছি, বাতাসে দোলনা হালকা দুলছে! বুঝতে পারলাম মৃদু ঝাঁকুনিতে নিজের পায়ের আওয়াজেই ঘুম ভেঙেছে!
কানের খুন কাছে থেকে কে যেন আস্তে করে ডাক দিলো শ্রেয়া! তখনই মনে পরলো আমিতো নূপুর পরি না!

কলেজে আমি তার এক বছরের জুনিয়র! আমলা কামলা মামলায় পরিচয়! সে ছবি আঁকতে ভালোবাসে, মাতাল করা রাধার আলতা জড়ানো পায়ে নূপুরের ছবি! সেই থেকে নূপুর পরাটা নেশা হয়ে দাড়িয়েছে! আজ আমার কলেজের লাস্ট দিন! আজ না বলতে পারলে আর কোনদিন বলাই হবে না! দূর থেকে দেখছি সৈকত ছবি আঁকছে! দূর থেকেই বোঝা যাচ্ছে পায়ের ছবি! আচ্ছা ছবির পায়ের নূপুরটা চেনা চেনা লাগছেনা! বুকের ভিতর ধড়াক করে উঠলো! হ্যা ভীষণ পরিচিত এক জোড়া নূপুর!

ফোনের ওপাসে চিৎকার করেই যাচ্ছে সৈকত! যেন একবারে সব বলে ফেলে হাফ ছেড়ে বাচে! আমি চুপচাপ শুনে যাচ্ছি কোন কথা বলার সুযোগই নেই! বলা শেষ হলে দেখা করতে বলে! আমি হু নামক শব্দ করে ফোন কেটে দেই! ফোনের স্ক্রিনে ফোটা ফোটা লবনজলে ভেষে যাচ্ছে! আমি দৌড়ে বারান্দায় চলে যাই, নিজের পায়ের নুপুরের শব্দটা এতো কানে লাগছে!

আজ সৈকতের বিয়ে আমি খুব সুন্দর একজোড়া নূপুর কিনেছি সৈকতের বউকে দেবো বলে! গেটটা কি সুন্দর করে সাজানো অথচ বিয়ে বাড়িতে আজ কেউ নেই কেন? ওইতো স্টেজে কে যেন ঘোমটা দিয়ে বসা! সৈকত কোথায়? এদিক ওদিন খুঁজতে থাকি আমি! হঠাৎ মেয়েটার পায়ের দিকে চোখ যায়! আলতা রাঙা পা, ভীষণ পরিচিত নূপুর! আমি আতকে উঠি! কে যেন কানের পেছন থেকে ডাকছে শ্রেয়া!

ছবিটা আমি যত্ন করে রেখে দিয়েছি! এতো সুন্দর করে কেউ কারো পা আকতে পারে জানা ছিলো না! সৈকত সব সময় বলতো আমার সাথে নাকি রাধাদেবীর মিল আছে! আজ কথাটা অসম্ভব বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হচ্ছে! সৈকতের দেয়া গিফট বক্সটা এখনো খোলা হয় নি! দোলনায় বসে দোল খাচ্ছি আর ছবিটা দেখছি! বক্সটা খুলে দেখি এক জোড়া নূপুর! ভীষণ পরিচিত এক জোড়া নূপুর! কোথায় যেন দেখেছি মনে করতে পারছি না! কেউ একজন আস্তে করে ডাকছে শ্রেয়া!

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত