দ্য জার্নি টু চিটাগাং

দ্য জার্নি টু চিটাগাং

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাবে বিজয়।বাবার একটা ব্যাবসায়িক কাজে। সকালের বাসে যাবে অার রাতের বাসে চলে অাসবে। ট্রেন জার্নি থেকে বাস জার্নিই বেশি ভালো লাগে বিজয়ের।ট্রেনের শব্দ নাকি তার কাছে বিরক্তিকর।
বিজয় কাউন্টারে এসে টিকিট কাটলো।যেহেতু ভীঁড় নেই তাই সামনের দিকে একটা সিট পেলো সে।একবারে জানালার পাশে।

তবে সামনে পিছনে বা জানালার ধারের সিট নিয়ে বিজয়ের কোন কালেই কোন মাথা ব্যথা ছিলো না।
গাড়ি ছাড়ার সময় ৮টা।তবে মনে হচ্ছে সাড়ে অাটটার অাগে ছাড়বে না।বিজয় গাড়িতে উঠে নিজের সিটে বসেছে।
একটু পরই একটা মেয়ে এসে ঘুরতে ঘুরতে অনেক হিসাব নিকাশ মিলিয়ে তার পাশের সিটে বসলো।
বসেই তার দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিলো। সেও প্রতিউত্তরে জোর করে একটা হাসি দিলো।

মেয়েটা ফোন করে কার সাথে যেনো কথা বলছে। কথা বলছে চিটাগাং বা চাটগাঁইয়া ভাষায়। বিজয় মনে মনে ভাবছে এই একটা ভাষা জীবনে কোনদিন বুঝতে পারলাম না। বিজয়ের কাছে বরাবরই মনে হয়েছে এই ভাষার সাথে বাংলা ভাষার অাদৌ মনে হয় মিল নেই।

কিছুক্ষণ পর মেয়েটা ফোন রেখে বিজয়কে কী একটা জিজ্ঞেস করলো চিটাগাংয়ের ভাষায়।
বিজয় বুঝলো না….

>>দয়া করে সাধারণ বাংলায় বলুন প্লিজ,অামি ঢাকার ছেলে এই চিটাগাংয়ের ভাষা অামার পক্ষে বুঝা অসাধ্য ব্যাপার।(বিজয়)
>>কোথায় যাবেন??(মেয়ে)
>>অাজব চিটাগাংয়ের বাসে চড়ে তো চিটাগাংই যাবো।
উত্তরবঙ্গে নিশ্চই যাবো না।(বিজয়)
>>অামার নাম অারিশা।(মেয়ে)
>>নাম তো জিজ্ঞেস করি নি।তবুও বললেন।যাই হোক সুন্দর নাম।অামার নাম বিজয়।
>>অাসলে অামাকে যদি জানালার পাশের সিটে বসতে দিতেন ভালো হতো।
>> জ্বী বসেন যান।
>>এত সহজে রাজি হয়ে গেলেন যে।অামি তো ভেবেছিলাম রাজি হবেন না।
>>থাক বসার দরকার নেই অাপনার।অামিই বসছি অার টিকিট কাটার সময় জানালার পাশের সিট দেখে কাটতে পারলেন না। যত্তসব।
>>না না প্লিজ। জানালার পাশে না বসে অামি যেতে পারি না।
>>যান বসেন।

পুরো জার্নিতে অার তেমন কথা হয় নি মেয়েটার সাথে।
বিজয় সারাক্ষণ নিজের মোবাইল অার কানে হেডফোন গুঁজে বসে থেকেছে।
যাত্রাপথে একটি হোটেলে গাড়ি থামলো।২৫ মিনিটের বিরতি।
বিজয়ের ক্ষুধা লেগেছে খুব।হোটেলে ঢুকে খাবার অর্ডার করলো।তারপর হুট করেই মেয়েটা চলে অাসলো।
>>বসতে পারি??(অারিশা)

>>জ্বী বসেন।এখানে কিন্তু কোন জানালা নেই।তাই অাবার বলে বসবেন না যেনো জ্বানালার পাশে বসা ছাড়া কিছু খেতেও পারেন না।(বিজয়)

>>খাওয়ার সময় জানালা দেখার দরকার হয় না।খাবার প্লেট সামনে থাকলেই হয়।(একটা হাসি দিয়ে)
>>অামি কিন্তু অর্ডার দিয়ে দিছি।অাপনি কিছু খেলে অর্ডার দিন।

মেয়েটা অাগে অাগে খাওয়া শেষ করে উঠে চলে গেলো।বিজয় বিল দিতে গিয়ে দেখে মেয়েটা দিয়ে দিয়েছে।
>>অাপনি বিল কেনো দিয়েছেন?(বিজয়)
>>খেয়েছি তাই বিল দিয়েছি।(অারিশা)
>>কী মনে করেন নিজেকে??অামারটা তো অার অাপনি খান নি।তাহলে অামার বিল দিলেন কেনো?(বিজয়)
>>টাকা দিয়ে দেন অামাকে।(অারিশা)
>>অাগে বললেই হতো।ধরুন নিন।(বিজয়)
>>অারে রাখেন রাখেন কী করছেন।অামি মজা করলাম।(অারিশা)

কিছুক্ষণ পর
>>এই যে কান থেকে হেডফোন সরান।কথা বলি অামি শুনেন।(অারিশা)
>>উফ! কী বলবেন বলেন।অামার ফোন অাসবে এখনই।(বিজয়)
>>দেখুন অামরা এক বাসে যাচ্ছি পাশাপাশি বসে।তাই না?(অারিশা)
>>অাপনার অসুবিধা হলে পিছনে সিট খালি অাছে চলে যান।(বিজয়)
>>ধ্যাৎ!! কীসের মধ্যে কী!শুনেন অাপনি অার অামি পাশাপাশি বসে যাচ্ছি সুতরাং অামাদের মধ্যে প্রেম হবে এটা অামি মোটামুটি নিশ্চিত।সবসময় এরকমটাই হয়।(অারিশা)

>>সবসময় হলেও এবার হবে না।অার অাপনি তো দেখছি ভারী বেহায়া।(বিজয়)

>>এখানে বেহায়ার কী দেখলেন।অার অাপনার খাবারের বিল কেনো দিলাম জানেন।অাপনার সাথে প্রেম হবার পর এগুলো শোধ করে নিবো চিন্তা করবেন না।(অারিশা)

অাচমকা এসব কথা-বার্তা শোনার পর বিজয়ের রাগে পিছনের দিকে গিয়ে বসে।
কিন্তু মেয়েটা চিল্লাচিল্লি শুরু করে সামনে থেকে।
>>কী হলো,এখানে অাসুন,পেছনে গেলেন কেনো?
অাসুন।অাসুন তাড়াতাড়ি।

বাসের লোকগুলো এমনভাবে তাকাচ্ছে যে বাধ্য হয়ে বিজয় অাবার সামনে এসে বসলো মেয়েটার সাথে।
>>দেখুন অামার গার্লফ্রেন্ড অাছে।(বিজয়)
>>এসব কাহিনী বানাচ্ছেন কেনো?অার অাপনার মোবাইলটা দিন তো।(অারিশা)
>>অাপনাকে কেনো দিবো??(বিজয়)
>>দিতে বলেছি দেন।(মোবাইলটা হাত থেকে কেড়ে নিয়ে)
>>অাপনি তো দেখছি ডাকাত।
>>হুম সেটা বলতে হবে না।
>>অারেহ্! অামার ফেসবুক অাইডিতে কেনো ঢুকলেন??ভালো হবে না বলে দিচ্ছি।
>>মানুষকে ব্লক করে রাখেন কেনো??অার এতো মেয়ে কেনো অাপনার ফ্রেন্ডলিস্টে।দাঁড়ান কিছু অানফ্রেন্ড করি।
>>অাপনি কিন্তু বাড়াবাড়ি করছেন।
>>ওহ্।অাপনার না গার্লফ্রেন্ড অাছে??

ছবিটা দেখান তো।

>>অাপনাকে দেখানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি না।

বিজয় রাগে মোবাইল রেখেই অাবার পেছনে গিয়ে বসলো।কিছুক্ষণ পর……

>>নিন অাপনার মোবাইল।নাম্বারটা সেভ করে দিয়েছি।

এতো রাগ কেনো অাপনার?? নাম্বার তো ডিলিট করে ফেলেছেন।অামি নেমে যাচ্ছি এবার।(অারিশা)

>>যান যান।উদ্ধান করুন অামাকে নেমে।(বিজয়)

>>তা ব্যবসায়ী সাহেব কাজ শেষ করে পারলে একবার দেখা করে যাবেন।অামি কিন্তু সাতদিন থাকছি এবার বাড়িতে।(অারিশা)

>>সাত দিন থাকবা মানে??অামারে তো বলোই নাই। (বিজয়)

>>বলার সুযোগ দিলেন কই?? ব্লক করে রাখলে কীভাবে বলবো।ভাগ্যিস অাপনার বন্ধু বলেছিলো অাপনি চট্টগ্রাম যাচ্ছেন।অার একটু পর এলে তো অাপনার সাথে যাওয়ার সৌভাগ্য হতো না।(অারিশা)

গাড়ি থেকে নেমে একটা হাসি দিয়ে চাঁটগাইয়া ভাষায় কি যেনো একটা বলে চলে গেলো অারিশা। এই ভাষাটা অাজও বুঝতে পারলো না বিজয়।

মনে মনে ভাবছে,”থাক বুঝে কাজ নেই,যাওয়ার সময় বরং অারিশার সাথে দেখা করেই যাবো”

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত