ভালোবাসার হিংস্রতা

ভালোবাসার হিংস্রতা

নদী আর রাহাত একজন আরেকজনকে পাগলের মতো ভালোবাসে।তাদের ভালোবাসায় ছিলোনা কোনো খাদ।একদম খাদহীন নিরেট ভালোবাসা।একজন আরেকজনকে ছাড়া এক মুহূর্ত ও থাকতে পারেনা।ভালোবাসে একে অপরকে, একটু বেশিই।নদীর থেকে রাহাত বলতে গেলে বেশি ভালোবাসে।ওর কাছে নদী ই সব।সারাদিন নদীর সাথে কথা বলত।নদীর সাথে ঘুরে বেড়াতো।সবকিছু যেন স্বপ্নের মতো চলছিলো।

-“আচ্ছা নদী তুমি আমাকে কতটুকু ভালোবাসো? (রাহাত)

-“অসীম।যার কোনো হিসেব নেই।আমি তোমাকে হিসেব ছাড়া ভালোবাসি,যা পরিমাপ করে বলা সম্ভন না।

-“তাই বুঝি?

-“হুম।তুমি আমাকে কতটুকু ভালোবাসো?

-“আহ,,,,তোমার থেকে একটু বেশি।

_”মোটাই না। আমি তোমাকে বেশি ভালোবাসি।

-“ওহু আমি বেশি ভালোবাসি।

-“বললাম না আমি বেশি ভালোবাসি?

-“আরে আমি বেশি ভালোবাসি।

-“যাও তোমার সাথে আমি কথা বলবনা।

-“ওরে আমার সোনাপাখিটা রাগ করেছে? আচ্ছা যাও আমরা দুজনেই দুজনকে সমান সমান ভালোবাসি।কেউ বেশি না, কেউ কম ও না।

-“হুম😊

এভাবেই চলতে থাকে তাদের দুষ্টু মিষ্টি ভালোবাসা।কিন্তু এই ভালোবাসা বোধ হয় ওদের কপালে বেশিদিন সয় নি।তাদের সামনে নেমে আসে ঘোর বিপদ।নদীর পরিবারের লোকজন ওর বিয়ে ঠিক করে ফেলে।নদী রাহাতের কথা ওর পরিবারকে জানালে ওরা কিছুতেই রাজি হয়না রাহাতের সাথে নদীরর বিয়ে দেয়ার জন্য।কারন রাহাত ছিল বেকার।আর ফেমিলির অবস্থাও তেমন ভালো ছিলনা। চাকরি বাকরি না থাকলে কোন বাপ তার মেয়ে বিয়ে দেবে এমন বেকার ছেলের কাছে?

আর নদীর ও ওর পরিবারের বিরুদ্ধে যাওয়ার সাহস বা ইচ্ছা কোনোটাই ছিলোনা।রাহাত ওকে অনেক বার বলেছে পালিয়ে যাওয়ার কথা,কিন্তু নদী কোনো মতেই রাজি হয় নি।রাহাত এইদিকে পাগল হয়ে যাওয়ার উপক্রম।নদীকে ও পাগলের মত ভালোবাসে,যাকে বলে সাইকো লাভ।নদীকে ছাড়া একটা মুহূর্ত ও সে কল্পনা করতে পারেনা। তাহলে কিভাবে নদী ও থাকতে অন্য কারো হয়ে যাবে এটা সহ্য করবে?রাহাত নিজেও গিয়ে নদীর বাবা মায়ের পায়ে গিয়ে পড়ে যেন ওরা নদীকে অন্য কোথাও বিয়ে না দেয়।কিন্তু ওরা রাহাত কে অনেক অপমান করে।সব কিছুর পরেও যখন কোনো আশার আলো পায়নি রাহাত তখন রাহাত ভাবে,

-নদী আমার না হলে ওকে আমি অন্য কারো হতে দেবনা।শেষ বারের মত ওকে আমি বোঝাবো।আর যদি না বুঝে তাহলে আমি যা ভেবেছি তাই করব।

রাহাত নদীকে বলে যে ওর সাথে শেষ বারের মত রাহাত কথা বলতে চায়।তাই নদীও চলে আসে।

-জান তুমি আমাকে ভালোবাসোনা??

-ভালোবাসলেও আমি ক করতে পারি রাহাত?

-কেনো আমরা পালিয়ে যাবো।তুমি বুঝার চেষ্টা করো আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবনা।মরে যাব আমি।

-আমার কিছু করার নেই রাহাত।আমি কিছুতেই আমার মা বাবার কথার অবাধ্য হতে পারবনা।

-তাহলে কি আমাদের করা সব প্রমিজ,সব ভালোবাসা মিথ্যে?

-কিছুই মিথ্যে না।কিন্তু আমি তোমার সাথে পালাতে পারবনা।আমার বাবা মাকে আমি কষ্ট দিতে পারবনা।

-তুমি আমাকে ছাড়া থাকতে পারবে?

-থাকতে হবে। না পারলেও থাকতে হবে।

-তারমানে তুমি আমার কথা ভাবলেনা একবারো।শুধু নিজের আর নিজের ফেমিলির কথাই ভাবলে।

-তুমি যদি সেটা ভাবো তাহলে তাই।

-ঠকাছে।এখন আমি ও শুধু নিজের কথাই ভাবব।

-আমিও তাই চাই।

রাহাত তখন নদীকে জড়িয়ে ধরে।নদী ওকে ছাড়াতে চাচ্ছে।রাহাত আরো জোড়ে চেপে ধরে ওকে।

-রাহাত কি করতে চাচ্ছ তুমি?প্লিজ যা তোমার মাথায় এসেছে সেই চিন্তা বাদ দাও।আমার সাথে এটা করোনা প্লিজ।

-হাহাহাহা জান তুমি যেটা ভাবছ আমি তো তা করবনা?

-তাহলে আমাকে এভাবে কেন জড়িয়ে ধরেছো?

-শেষ বারের মত তোমাকে একটু জড়িয়ে ধরলাম। এরপরে ত আর ধরতে পারবনা তাই।

-ম,,মানে?কি বলছ কি তুমি?শেষ বার মানে?

-হ্যা,আমরা তো এখন মরে যাবো দুজনেই।

-তুমি পাগল হয়ে গেছো?কি বলছ তুমি?

-হ্যা আমি পাগল হয়ে গিয়েছি।তোমার জন্য।

-পাগলামি বন্ধ করো।ছাড়ো,আমাকে যেতে দাও, আমি বাসায় যাবো।বাসায় বলে আসিনি,লুকিয়ে এসেছি।বাসায় টেনশন করবে সবাই।

-তোমার ত আর বাসায় ফেরা হচ্ছেনা।তুমি আমার সাথে থাকবে।আমি যেখানে যাবো তুমিও সেখানে যাবে।

-আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা রাহাত।

-আমি বুঝিয়ে বলছি।এখন তুমি আর আমি একসাথে মরে যাবো।ভেবেছিলাম আমি একাই মরব।কিন্তু তোমাকে ছাড়া আমি বেচেও থাকতে পারবনা।আর তুমি অন্য কারো হবে সেটাও আমি হতে দিতে পারবনা।তাই ডিসিশন নিয়েছি আমরা দুজনেই একসাথে মরব।

-কখনো না ছাড়ো আমাকে।

-আমি যা বলেছি তাই হবে।

তারপর রাহাত নদীর হাত দড়ি দিয়ে শক্ত করে বেধে দেয়।সব ব্যবস্থা আগেই করে রেখেছিলো রাহাত।একটা ধাড়ালো ব্লেট কিনে এনেছিলো রাহাত।সেটি বের করে নদীর ২ হাতের রগ কেটে দেয়।ওকে এখন একদম হিংস্র পশুর মত দেখাচ্ছে।নদীকে পাগলের মত ভালোবাসা সত্বেও আজকে নদীর কাছে হিংস্রতার পরিচয় দিতে হচ্ছে তার।

ভালোবাসা মানুষকে এতটাই উন্মাদ করে তোলে।ভালোবাসা না পাওয়ার যন্ত্রণা মানুষলে এতটাই হিংস্র করে তুলে যে নিজের ভালোবাসার মানুষকে কষ্ট দিতেও হাত কাপেনা।

নদী অনেক জোড়ে জোড়ে চিৎকার করতে থাকে। তখন রাহাত নদীর উড়না টা দিয়ে ওর মুখ বেধে দেয়।নদীর দেহ আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে পড়ে।রাহাতের চোখ দিয়ে অনবরত জল গড়িয়ে পড়ছে। নদীর কষ্ট ও সহ্য করতে পারছেনা। রাহাত গিয়ে নদীর হাতের বাধন খুলে দেয়।নদীকে আস্তে করে মেঝেতে শুয়ায়।তারপর ব্লেট দিয়ে রাহাত নিজের হাতের রগ গুলোও কেটে ফেলে।মেঝে ভেসে যাচ্ছে নদী আর রাহাতের রক্তের বন্যায়।রাহাত আস্তে আস্তে গিয়ে নদীকে জড়িয়ে ধরে।নদীর প্রাণ এখনো আছে শরীরে।আস্তে করে চোখ খুলে রাহাতের দিকে তাকায়।দুজনের দৃষ্টিই অসহায়।নদীর চোখ বেয়ে পানি বেরোচ্ছে।একটা সময় দুজনের শরীরই নিথর হয়ে যায়।শেষ হয়ে যায় দুটি ভালোবাসার মানুষ।শেষ হয়ে যায় একটি ভালোবাসার গল্প।

ভালোবাসা এমনই।ভালোবাসার পরীক্ষায় সফল হতে হলে অনেক বাধা আসে।সেগুলো অতিক্রম করেই ভালোবাসাকে জয় করতে হয়।নাহলে এভাবেই শেষ হয়ে যায় ভালোবাসা,ভালোবাসার মানুষগুলো। রাহাত নদীকে ভালোবেসেছিলো।নদীও ভালোবেসেছে।কিন্তু নদী ওর পরিবারের কাছে শিকলবদ্ধ ছিলো। আর রাহাত ছিলো নদীর ভালোবাসায় বদ্ধ উন্মাদ। এভাবে ওদের ভালোবাসা নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার কি খুব প্রয়োজন ছিলো?

নদীর পরিবার নদীর ভালোর জন্য রাহাতের থেকে নদীকে দূরে সরিয়ে দিয়ে আরেকটি ছেলের সাথে নদীর বিয়ে দিতে চেয়েছিলো। নদীর পরিবার কি পারতনা রাহাত কে মেনে নিতে?কিংবা কিছুদিন রাহাতকে কিছু সময় দিতে যেন রাহাত কোনো একটা চাকরির জোগাড় করতে পারে?আর রাহাত কি পারত না এভাবে পাগলামি করে বোকামির পরিচয় না দিয়ে ধৈর্যের সহিত পরিস্থিতি সামাল দিতে?

কিন্তু যখন এরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় মানুষ তখন এরকম কোনো কিছুর মাথায় আসেনা।যদি আসত তাহলে এভাবে রাহাত আর নদীর মত ভালোবাসার কপোত কপোতিদের ভালোবাসা বিসর্জন দিতে হতনা।ভালোবাসায় উন্মাদ হয়ে রাহাতের মত প্রেমিক বা প্রেমিকাদের তার ভালোবাসার মানুষটির কাছে এভাবে হিংস্রতার পরিচয় দিতে হতনা।ভালোবাসার জন্য নিজেদের পরিবার পরিজনদের ছেড়ে,এই সুন্দর দুনিয়া ছেড়ে দিয়ে প্রাণ ত্যাগ করতে হতনা।এরকম ভালোবাসার কি লাভ যা জীবন ত্যাগ করতে বাধ্য করে।এটা নিতান্তই হিংস্র ভালোবাসা।ভালোবাসার থেকে বেশি পাগলামিই বলে এটাকে।আর এরকম ভালো চাওয়ার ই বা কি লাভ যা ভালোর থেকে ক্ষতির কারণ ই বেশি হয়ে দাঁড়ায়।

…………………………………………………….সমাপ্ত………………………………………….

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত