ছোট ভাইয়ের প্রেম

ছোট ভাইয়ের প্রেম

ছোট ভাই বাথরুমে যাওয়ার পর থেকেই ওর ফোনে রিং বেজেই চলেছে।

পিসিতে কাজ করছিলাম কিন্তু কলের জন্য কিছুই করতে পারছিনা।

মাথা গরম করে যেই মোবাইলটা হাতে নিলাম দেখি – Dear Maliha নামে সেভ করা নাম্বার থেকে কল!

চোখ দুইটা নিজস্ব জায়গা ছেড়ে যেন কপালে ওঠে গেছে ; আমি জীবনে একটা মেয়ে পটাতে পারলাম না।

আর আমার থেকে পাঁচ বছরের ছোট হয়ে ভাইটা প্রেম সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে!
আমার একটা মেয়ে ক্লাসমেট আছে আব্বু আম্মুর ভয়ে ওর নাম্বার সেভ করেছি Robi offer দিয়ে!

আর ছোট ভাই সেভ করলো কি দিয়ে… আহা! মানবতা আজ কোথায়?

ইচ্ছে করছে কেকাপ্পার সরিষার তেল দিয়ে গরুর মাংসের শরবতের আইটেমটা অর্ডার করি আর খেয়ে মাটিতে গড়াগড়ি খাই।

শুনেছি খুব টেস্টি ওটা।
এদিকে কল বাজতেই লাগল তবে এবাবের কলটাও ধরলাম না। কল শেষ হওয়ার সাথে সাথে মেসেজ আসলো টিং ;

মেসেজ এ ঢুকে দেখি সতেরোটা মেসেজ ; কয়েকটা নাম্বার থেকে!

মনে মনে ভাবছি আজ পর্যন্ত একটা মেয়েকে আমি মেসেজ দিয়ে ;

গান শুনিয়ে ; কবিরাজি তাবিজেও কাবু করতে পারলাম না! আর সেই আমার ছোট ভাইয়ের প্রেম লিস্টে সিরিয়াল!

এই দৃশ্য দেখার চেয়ে নুসরাত ফারিহার ‘পটাকা’ গানটা শুনলেই হয়তো ভাল হতো।
প্রথম কয়েকটা মেসেজ দেখেই মাথা ঘুরিয়ে পরে যাওয়ার উপক্রম হয়ে গেছে ;

তবে কিছুক্ষন আগে দুইটা নাপা আর গেস্টিকের ঔষধ খাওয়াতে এখনো ঠিক আছি।
এবার আবার কল বাজতে দেখে মাথায় চারশ বিশ ভোল্টেজ বিদ্যুত প্রবাহিত হলো ; মেয়েদের এত ধর্য্য কি করে হয়?

একটার পর একটা দিয়েই চলে..
বিরক্ত হয়ে কল রিসিভ করে চুপ করে শুনে আছি! ‘ওপাশ থেকে বলেই যাচ্ছে
– এতক্ষণ কোথায় ছিলে সোনা?
– আমাদের রিলেশনশীপ স্ট্যাটাসে কত লাইক এসেছে জানো ; তিনশ! কত কিউট কিউট কমেন্ট করছে সবাই!
– কাল তুমি দুই ঘন্টা পর হঠাৎ কোথায় চলে গেছিলে ; সারা পার্কে তোমাকে খুঁজেছি।

আমাকে একা রেখে এভাবে চলে আসতে পারলে তুমি! ( মনে মনে ভাবছি ; হারামজাদী ভাই’রে তো তুই চিনস না।

তোরে ছাড়া আরো যেগুলো আছে ওদের কে টাইম দিবে )
– বাবু কথা বলছোনা কেনো? বাবু..
টিট টিট টিট… কল কেটে দিয়েছি।

দাঁতে দাঁত খিঁচে ভাবছি- রাখ আজ তোর বাবুর এমন হাল করবো যেনো আর কোনদিন কারো বাবুর বাবা হতে না পারে।

রাগে নিজের মোবাইলটা চিবিয়ে অর্ধেক খেয়ে ফেলেছি যদিও হালকা টক ছিল ; ডায়েড কন্ট্রোল না করলে পুরোটা খেয়ে নিতাম!

যে মোবাইলে প্রেমিকা নেই ওই মোবাইল বেঁচে থাকারও কোন অধিকার নেই।
এখন ওর মোবাইলে ফেসবুক থেকে লাইভে এসে বাথরুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছি –

আজ হারামজাদা বাহির হোক একবার ; এমন মার মারবো যেন ব্যাথায় আক্কেল দাঁত উঠে যায়।

হারামজাদার প্রেমিকা গুলো আজ দেখুক কামার কিভাবে লোহা পিটায়!

**সিক্রেট- ছোট ভাই এতক্ষন বাথরুমে কি করছিলো?

— ‘আসলে ওর ডায়রিয়া হয়ে গেছে সকাল থেকে!

এত প্রেমিকা থাকলে কেও সুস্থ থাকে?’

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প · হাস্যরস

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত