একটি বখাটে গল্প

একটি বখাটে গল্প

পৃথিবীতে যতগুলো মধুর সম্পর্ক আছে তার মাঝে ভাই বোনের সম্পর্কটি সবচেয়ে মধুর। যদি পিঠাপিঠি হয় তবেতো কথাই
নেই! সারাদিন খুঁনসুটিতে কেটে যায়। তুচ্ছ কারণে ঝগড়া, মারামারি, চুলোচুলি। কিন্তু এ ঝগড়ার পিছনেই মিশে আছে গভীর ভালোবাসা। যদি বড় ভাই হয় তার কাছে ছোট বোনের আবদারের শেষ নেই! আর বড় ভাইও ছোট বোনকে দিয়ে কাপড়
কাঁচা থেকে শুরু করে বাসার সব ছোটখাটো কাজগুলা সেড়ে ফেলতে খুব পছন্দ করে।
..
আবীর আর শুভ্রা দুজনের সম্পর্ক, মিষ্টি সম্পর্ক। যে সম্পর্কে কোনদিন ফাটল ধরবার মত নয়। আবীরের পরিবারে বাবা-মা আর মিষ্টি বোনটি। শুভ্রা আবিরের বোন। অনেক সুখের সংসার তাদের। বাবা স্কুল মাস্টার আর মা গৃহিণী। শুভ্রা এসএসসি পরীক্ষার্থী। কিন্তু আবীর এইচএসসি পাশ করার পর আর পড়াশুনা করেনি। এর জন্যে অনেক কথা শুনতে হয়েছে আবীরকে। আবীর পাড়ার বখাটে ছেলেদের সাথে মিশে সেও বখাটে হয়ে গেছে। পুরো পাড়া জুড়ে আবীরের দুর্নামের শেষ নেই। আবীর মেয়েদের টিজ করতে বেশি ভালোবাসে।
..
আবীরের বন্ধুরা এসে আবীরকে বললো ,,,
..
— হৃদয়ঃ মামা আজকে সেইরকম একটা মাল দেখছি, তুই বিশ্বাস করতে পারবিনা। সেই ফিগার মামা উফ! রাস্তায় অনেকবার দাড় করাতে চাইলাম।
— আবীরঃ বলিস কি? নাম কি, কোথায় থাকে? প্লীজ বল, বল, বলনা…
— কবিরঃ এতকিছু খুঁজ নিতে পারিনি মামা।
— আবীরঃ এই তোরা কি আসলে সবসময় আমার গর্ধব বন্ধু হয়েই থাকবি?
— সুমনঃ কেনো দোস্ত কি হইছে আবার?
— আবীরঃ একটা মেয়ের ফিগার নিয়ে রচনা বানাচ্ছিস আর সেই মেয়ের উৎপত্তি কোথায় সেটা খুঁজে আনতে পারলিনা!
— হৃদয়ঃ ভাবিসনাতো, সব খুঁজে বের করবো।
..
আবীর বাসায় যেয়ে দেখলো তার মিষ্টি বোনটি ঘরের এক কোণঘেঁষা চেয়ারে বসে আছে। মাকে বললো ,,,
..
— আবীরঃ কি হয়েছে আম্মু?
..
মা সব খুলে বললো আবীরকে। এরপর আবীর তার বোনের কাছে যেয়ে বসলো আর বোনকে আবারও জিজ্ঞেস করলো ,,,
..
— আবীরঃ কি হইছে শুভ্রা? প্লীজ লক্ষি বোনটি আমার সব খুলে বল আমায়!
— শুভ্রাঃ তেমন কিছুনা ভাইয়া। কয়েকটা ছেলে বিরক্ত করছিলো আমাকে রাস্তায়।
— আবীরঃ আমাদের এলাকার?
— শুভ্রাঃ আমি চিনিনা ভাইয়া। বাদ দে প্লীজ। মেয়ে যখন হয়েছি ছেলেরা বিরক্ত করবেই।
— আবীরঃ সে জন্যেইতো বড় ভাইদের একটু বেশি চিন্তা। আচ্ছা ঠিক আছে। একটু সাবধানে চলাফেরা করবি রাস্তায়। আজকাল বখাটে ছেলের অভাব নেই।
— শুভ্রাঃ তুই টেনশন নিসনা ভাইয়া। আমার কিছু হবেনা। তুই আছিস না। তোর মতো ভাই থাকতে আমার আবার কি হবে!
..
শুভ্রা ছেলেগুলাকে চিনতে পেরেছে। ওরা আবীরের বন্ধু। কিন্তু শুভ্রা আবীরকে জানায়নি। কারণ সে তার ভাইকে অনেক ভালোবাসে। সত্যি কথা বলে দিলে, এতে সমস্যা আরো বেড়ে যাবে।
..
পরেরদিন ,,,
..
— হৃদয়ঃ কিরে আবীর তুই এভাবে মনমরা হয়ে বসে আছিস কেনো?
— আবীরঃ না তেমন কিছুনা। আসিরে…
— হৃদয়ঃ কেনো মামা আজ আসলে তোর কি হলো খুলে বল।
— আবীরঃ ধুর ভালো লাগেনা।
..
আবীর চলে যাচ্ছিলো এমন সময় তার বন্ধু হৃদয় ডেকে বললো ,,,
..
— সুমনঃ শুন মামা আজ সেই মালটার খুঁজ পেয়েছি।
..
আবীর এটা শুনার পর আবার বন্ধুদের আড্ডার আসরে বসলো ,,,
..
— আবীরঃ সত্যি বলছিস?
— সুমনঃ কোথায় থাকে জানা হয়নি কিন্তু কোথায় পড়ে তা জেনে ফেলেছি।
— আবীরঃ কোথায় পড়ে?
— হৃদয়ঃ “কু….র” হাই স্কুলে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী।
..
আবীর শুনার পর অনেক্ষণ স্তব্ধ হয়ে রইলো। আবীরের বোনও একই স্কুলে পড়ে আর পরীক্ষার্থীও।
..
— কবিরঃ কিরে চুপ কেনো আবীর?
— আবীরঃ কই কিছুনা। আচ্ছা মেয়েটার নাম কিরে দোস্ত?
— হৃদয়ঃ স্যরিরে। নামটা জানা হয়নি। চিন্তা করিস না। আস্তে আস্তে জেনে যাবো। ভাবছি মেয়েটাকে ১৪ই ফেব্রুয়ারিতে একবার প্রপোজ করবো।
— আবীরঃ ওকে করিস। আমার ভালো লাগছেনা আসি।
— সুমনঃ কিছুই বুঝলাম না বেটা। এরকম কেইস হলে তুই পুরা পাগল হয়ে যেতি আর এখন একদম স্তব্ধ।
— আবীরঃ ও কিছুনা। আসিরে।
..
সকাল ৯টা। সোফায় বসে আবীর ,,,
..
— আবীরঃ ঐ পিচ্চি, এক কাপ চা বানাই আনতো!
— শুভ্রাঃ হুহ… (ভেঙ্গচি মেরে)
— আবীরঃ ঐ পুচকি, শার্টটা ইস্ত্রি করে দে না, আর আজকে প্যান্টটাও ধুয়ে দিসতো!
— শুভ্রাঃ ভাইয়া আমাকে কি তোর কাজের বুয়া মনে হয়? (রাগ করে)
— আবীরঃ ঐ গাধী, দুদিন পরতো শ্বশুর বাড়ি চলে যাবি! তখন চাইলেওতো আর এসব করতে পারবি না!
— শুভ্রাঃ পারবোনা করতে, শুনেছিস? আমি আর পারবোনা। এবার একটা ভাবি নিয়ে আয় ঘরে আমার জন্যে।
— আবীরঃ তুই পারবিনাতো? (পার্ট নিয়ে)
— শুভ্রাঃ না পারবোনা।
..
আবীর শুভ্রার কান মলে দিয়ে বললো ,,,
..
— আবীরঃ এবার বল পারবি!
— শুভ্রাঃ আম্মু…ওওওও…
— আবীরঃ আম্মুকে কেনো আবার ডাকলি? আম্মু একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলো তোর সহ্য হয়নি?
— আম্মুঃ আবীর ওর কান ছাড়। তোদের এই পাগলামি কবে যে শেষ হবে আল্লাহ জানে।
..
মা চলে গেলো। আর শুভ্রাও ছাড়া পেয়ে আবীরের কাপড় ইস্ত্রী করতে নিয়ে যাচ্ছিলো। আবীর ধরে বসলো।
..
— শুভ্রাঃ কিরে ভাইয়া ছাড় কাপড়টা।
— আবীরঃ না লাগবেনা যা।
— শুভ্রাঃ রাগ করেছিস ভাইয়া। লক্ষি ভাইয়া আমিতো মজা করছিলাম।
..
আবীর হাসি দিয়ে কাপড়টা দিয়ে দিলো। ভাইয়ের সবকিছুতেই বোনদেরর হ্যাঁ! হয়ত গভীরভাবে ভালোবাসে বলেই! আর ভাইগুলোও কম যায় না। প্রিয় বোনটার মুখে একটুখানি হাসি ফোটাতে যেকোন কষ্ট স্বীকার করতে তারা রাজি! বাইরে এমনিতে তারা পার্ট নেয়, “তোকে আমি একটুও দেখতে পারিনা, তুই না থাকলেই আমি বাঁচি! বিয়ে দিয়ে শ্বশুর বাড়িতে তোকে পাঠিয়ে দেয়ার পরেই আমার শান্তি! তখন আমিই রাজা!” কিন্তু মনে মনে তারা বোনটাকে কতটা ভালোবাসে সেটা নিজেরাও জানেনা। বোন শ্বশুর বাড়িতে চলে গেলে তাদের যে কি দুর্দশা হবে সেটা তারা দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করতে চায় না! ভাই বোনের এ সম্পর্ক সত্যিই অনেক মধুর।
..
— হৃদয়ঃ দাঁড়ান।
— শুভ্রাঃ কেন কি বলবেন?
— হৃদয়ঃ আজ কি দিন?
— শুভ্রাঃ কেনো আজ আবার কি দিন হবে?
— হৃদয়ঃ ভালোবাসা দিবস, ভালোলাগে, ভালোবাসি।
— শুভ্রাঃ কি, বুঝিনি।
— হৃদয়ঃ তোমাকে ভালোবাসি।
— শুভ্রাঃ শুনুন রাস্তাঘাটে এসব বখাটেপনা ছাড়ুন যত্তসব বেয়াদব ছেলেপেলে।
— হৃদয়ঃ আজ ভালোবাসার দিনে তোমাকে প্রপোজ করলাম আর তুমি আমাকে অপমান করছো!!!
— শুভ্রাঃ (কথা না বলে)
..
শুভ্রা চলে গেলো আর হৃদয় রাগে ক্ষিপ্ত হয়ে বন্ধুদের আড্ডার আসরে গেলো।
..
— সুমনঃ কিরে তুই এভাবে ক্ষেপে আছিস কেনো?
— হৃদয়ঃ আরে মামা আর বলিস না। শালিরে আজকে প্রপোজ করছিলাম। আমাকে বখাটে বলে অপমান করেছে।
— আবীরঃ ,,,হা,,,হা,,, বলিস কি? এসব কাজ আমাকে ছাড়া কোনদিন হয়েছে?
— হৃদয়ঃ প্লীজ মজা নিসনা। শালিরে কিডনাপ করবো আজ বিকেলে। শুনেছি ওর কোচিং আছে বিকেলে।
— কবিরঃ সত্যি নাকি দোস্ত?
— হৃদয়ঃ হ্যা। চারজনে মিলে ভোগ করবো পুড়া বাড়িতে।
— আবীরঃ আমি যেতে পারবোনা ভাই। ওই সাইটে আমার বোন পড়ে। একবার দেখে ফেললে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।
— হৃদয়ঃ ঠিক আছে তোর যেতে হবেনা। তুই পুড়া বাড়ির দিকটা ম্যানেজ করে রাখিস ঠিকঠাকভাবে।
— আবীরঃ আচ্ছা ঠিক আছে ও নিয়ে ভাবিস না।
..
দুপুর থেকে হৃদয়, সুমন আর কবির রাস্তায় গাড়ির মধ্যে বসে আছে শুভ্রার আসার অপেক্ষায়। শুভ্রা হয়তো জানেনা শুভ্রার জীবনে এ কোন বিপদ গ্রাস করতে যাচ্ছে!
..
— সুমনঃ ওইতো মামা, শুভ্রা আসছে।
— হৃদয়ঃ চুপ করে বসে থাক, চুপিসারে ধরতে হবে ওকে।
— কবিরঃ ওকে মামা তুই টেনশন নিসনা।
— হৃদয়ঃ আর সুমন তুই সাথে সাথে ওর পুরো মুখটা বেধে ফেলবি। যাতে ও কিছু দেখতে না পায়, আর চিৎকার করতে না পারে। আমি হাত বেধে ফেলে সাথে সাথে গাড়িতে উঠাবো। আর কবির তুই সাথে সাথে স্টার্ট দিয়ে সুজা পুড়া বাড়িতে নিয়ে যাবি।
..
যেই বলা সেই কাজ করলো তিনজন। শুভ্রার চিৎকার করে, কাউকে বাঁচাও বলবার উপায় রইলোনা আর। গাড়িতে শুভ্রার সাথে অনেক নির্যাতন করতে থাকে দুজন।
..
গাড়িটি পুড়া বাড়িতেই নিয়ে যাওয়া হলো কথামতো। শুভ্রাকে নামালো।
..
— আবীরঃ কিরে বেটা তোদের এতক্ষণ লাগে কাজ সারতে?
..
শুভ্রা এই কন্ঠ শুনে অবাক হয়ে যায়। কিন্তু কিছু বলতে পারছেনা। মুখটা বাধা…
..
— আবীরঃ উফ সেই মাল এনেছিসতো তোরা। অনেক মজা হবে…
— হৃদয়ঃ তোকেতো আগেই বললাম আমাদের সাথে ওখানে যেতে।
— আবীরঃ কেন তোরা জানিসনা ওখানে আমার বোন পড়ে?
— কবিরঃ উফ বেশি কথা বলিসনাতো। ওকে নিয়ে কি গল্প করতে এনেছিস?
— সুমনঃ উফ মামা আমার যে আর তড় সইছেনা।
— হৃদয়ঃ হুম, শালিকে আজ উচিৎ শিক্ষা দেবো। আমাকে বখাটে বলা তাইনা? বখাটেপনা আজ তাকে শিখাবো।
— আবীরঃ আজ ভালোবাসা দিবসের দিনে আমরা নোংরা খেলাটা খেলা কি ঠিক হবে?
..
আবীর জানেনা, কেনো জানি আবীরের মন স্বায় দিচ্ছেনা এই খারাপ কাজটা করতে! আর ওদিকে শুভ্রা মুখশের আড়ালে কাঁদছে, খুব খুব কাঁদছে। আজকে এই দিনটাও দেখতে হলো তার। অনেক ভালোবাসার ভাইটি এতটা নিচ সেটাও শুনতে হচ্ছে নিজের কানে! শুধু প্রতিবাদ করতে পারছেনা মুখ বাধা থাকায়। শুভ্রা আজ সকালে ভাইয়ের জন্যে ফুল নিয়ে রেখেছিলো বাসায়। ভালোবাসা দিবসে ভাইকে অনেক ভালোবাসি বলে ফুলটা দিবে আর ভাই অনেক খুশি হবে এটা ভেবে অনেক আনন্দ পাচ্ছিলো মনে মনে। কিন্তু আজ সব উল্টাপাল্টা হয়ে গেলো নিমিষে। এসব ভাবছে আর কাঁদছে শুভ্রা।
..
— হৃদয়ঃ শুরু কর মামারা।
..
যেই বলা সেই কাজ। শুভ্রার হাতের বাঁধন খুলে দিলো। মুখের বাঁধন খুলেনি। চারজন মিলে শুভ্রার জামা টানাহেঁচড়া করে ছিঁড়ে ফেলে। শুভ্রা এদিক থেকে ওদিক দৌড়ে যাচ্ছে। যতবারই দৌড়ে যাচ্ছিলো ততবারই চড়-থাপ্পড় খেয়েছে। এভাবে একের পর এক শুভ্রাকে ভোগ করলো।
..
শুভ্রার ইজ্জত শুভ্রার ভাইনামক রাক্ষসদের হাতে লুণ্ঠিত হয়ে গেলো। শুভ্রা পরে আছে মাঠিতে। একেকজন অনেক খুশি। ভোগ করা শেষ হলে, সবাই সবারমতো চলে যায় বাসায়। আর শুভ্রা এই কলঙ্কিত দেহ নিয়ে মাটিতে পরে থাকে।
..
ওদিকে শুভ্রা এখনো বাসায় এলোনা। রাত ১০টা। বাসায় বাবা-মা অনেক চিন্তা করছে। আবীর বাসায় এলো।
..
— বাবাঃ কিরে সারাদিন কই থাকিস? বোনটা যে বাসায় আসেনি সেই খেয়াল আছে?
— আবীরঃ দেখো, হয়তো কোন বান্ধবীর বাসায় গিয়েছে।
— মাঃ তুই একটু খুঁজ নিয়ে দেখনা বাবা।
— আবীরঃ আহা মা চিন্তা করনা শুধুশুধু। ও চলে আসবে।
..
আবীর রুমে গেলো। ফ্রেশ হয়ে শুভ্রার রুমে গেলো। টেবিলে রাখা গোলাপ ফুলটি দেখলো আর তার পাশে একটি চিরকুট দেখতে পেলো। সেটা খুলে পড়লো, “ভাইয়া আমি তোকে অনেক ভালোবাসি”।
..
সবাই ঘুমিয়ে রইলো। আবীরের কেনো জানি ঘুম আসছেনা। অশান্ত মন নানানভাবে ভাবাচ্ছে আবীরকে আজ।
..
আর এদিকে শুভ্রা তার জীবন দিয়ে দিলো পুড়া বাড়িতে। সে তার ভাইকে খুব ভালোবাসে। সে কার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে! শুধু অন্য ছেলে যদি হতো তাইলে একবার রুখে দাঁড়াতো কিন্তু সে তার ভাইকে যে অনেক ভালোবাসে। সে জন্যে নিজের জীবন দিয়ে তার ভাইকে বাঁচিয়ে দিলো।
..
সকালবেলা একলোক পুড়া বাড়ির দিকে যেতে শুভ্রার লাশ দেখতে পেলো। লোকটি তার গায়ের জামা খুলে শুভ্রাকে ঢেকে দিলো। এলাকাজুড়ে চিৎকার, “মাস্টার সাহেবের মেয়েকে কে যেনো নষ্ট করে মেরে ফেলে রেখে গেছে।
..
বাবা-মা সবাই গেলো। আর আবীরও শুনতে পেয়ে গেলো। আবীরতো স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরা। এ কি দেখলো আর এ কি করলো ভেবে ভিতরে ভিতরে পাগল হয়ে যাচ্ছে। এদিকে বাবা-মায়ের আর্তনাদ। নিজের বোনটিকে স্পর্শ করেও কাঁদতে পারছেনা। এই নোংরা, পাপী হাতে কিভাবে তার বোনকে ধরবে! একপাশে যেয়ে অনেক কাঁদতেছে। আর ওদিকে বন্ধু, কবির, সুমন, হৃদয় এসে শান্তনা দিচ্ছে ,,,
..
— হৃদয়ঃ দোস্ত ভুল হয়ে গেছে। আমরা জানতাম না শুভ্রা তোর বোন।
..
শার্টের কলার ধরে আবীর ,,,
..
— আবীরঃ এখন জানলি কি করে (*বকা দিয়ে*) আমি তোকে নাম জিজ্ঞেস করেছিলাম কিনা?
— হৃদয়ঃ দেখ দোস্ত আমি সত্যি তখন ওর নাম জানতাম না। নামটা আজকেই জানলাম এখানে এসে।
— কবিরঃ আমাদের ভুল হয়ে গেছে দোস্ত মাফ করে দে।
..
আবীর কথা বলার শক্তি পাচ্ছেনা। বাবা মাকে কি বলবে! কিভাবে বলবে, শুভ্রার মৃত্যুর জন্যে ও নিজেই দায়ী!
..
কবর দেয়া শেষ, কাঁদছে বাবা-মা, কাঁদছে আবীর। আবীর কবরের পাশে গেলো ,,,
..
— আবীরঃ বোন আমি তোকে অনেক ভালোবাসি। এই বোন তুই ফিরে আয় প্লীজ। আমাকে ক্ষমা করে দে বোন। আরেকবার ফিরে আয়, আমার লক্ষি বোনটি। প্লীজ আয়না বোন… আমি তোকে সত্যি অনেক ভালোবাসি।
..
আবীর কেঁদেই যাচ্ছে। আর কাঁদবেও সারাজীবন। কাউকে বলতে না পারার কষ্ট, আবীরকে কখনো ভালো থাকতে দিবেনা।
..
আবীরদের মতো বখাটে ছেলেদের বলছি, এভাবে রাস্তাঘাটে বোনদেরকে এভাবে টিজ করিওনা। একবার ভেবে দেখো, এই গল্পের মতো যদি তোমার জীবনেও ঘটে তাহলে তোমার অবস্থাটা কোথায় দাঁড়াবে! হয়তো এখন অনেকেই বলবা, “ধুর এরকম আবার হয় নাকি!”
কিন্তু ভাই এরকম ঘটনা কারো না কারোর জীবনে সত্যিয়ে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। হয়তো তোমার আশেপাশে ঘটছেনা বলে নিজেকে বিশ্বাস করাতে কষ্ট হয় গল্প বলে। একবার ভেবে দেখো, অন্যের মেয়ে, বোনকে তুমি রাস্তায় দাঁড় করিয়ে বিরক্ত করো, আজ তোমার বোনকে যে অন্য রাস্তার মোড়ে এভাবে তোমার চেয়ে আরো নির্মমভাবে বিরক্ত করতেছে সেটা কি ভেবে দেখেছো? প্রশ্ন করেছো কখনো, নিজের বোনকে? যে, ” বোন তুই আজ ঠিকভাবে রাস্তা দিয়ে এসেছিসতো!” তুমি সেই প্রশ্নটি করার সাহস পাবে না, কারণ তুমি যে নিজেই সমান অপরাধী।
..
আসুন নিজে ভালো হই এবং অন্যকে ভালো হবার জন্যে উৎসাহিত করি আর সুন্দর সমাজ গড়ি। আল্লাহ আমাদের সেই শক্তি দিক, যেনো আমরা খারাপদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারি।→ একটি বখাটে গল্প
..
[গল্পটি বড় বলে অবহেলা করবেন না। পড়ুন আর নিজের বিবেককে ধুয়ে ফেলুন।]
..
পৃথিবীতে যতগুলো মধুর সম্পর্ক আছে তার মাঝে ভাই বোনের সম্পর্কটি সবচেয়ে মধুর। যদি পিঠাপিঠি হয় তবেতো কথাই
নেই! সারাদিন খুঁনসুটিতে কেটে যায়। তুচ্ছ কারণে ঝগড়া, মারামারি, চুলোচুলি। কিন্তু এ ঝগড়ার পিছনেই মিশে আছে গভীর ভালোবাসা। যদি বড় ভাই হয় তার কাছে ছোট বোনের আবদারের শেষ নেই! আর বড় ভাইও ছোট বোনকে দিয়ে কাপড়
কাঁচা থেকে শুরু করে বাসার সব ছোটখাটো কাজগুলা সেড়ে ফেলতে খুব পছন্দ করে।
..
আবীর আর শুভ্রা দুজনের সম্পর্ক, মিষ্টি সম্পর্ক। যে সম্পর্কে কোনদিন ফাটল ধরবার মত নয়। আবীরের পরিবারে বাবা-মা আর মিষ্টি বোনটি। শুভ্রা আবিরের বোন। অনেক সুখের সংসার তাদের। বাবা স্কুল মাস্টার আর মা গৃহিণী। শুভ্রা এসএসসি পরীক্ষার্থী। কিন্তু আবীর এইচএসসি পাশ করার পর আর পড়াশুনা করেনি। এর জন্যে অনেক কথা শুনতে হয়েছে আবীরকে। আবীর পাড়ার বখাটে ছেলেদের সাথে মিশে সেও বখাটে হয়ে গেছে। পুরো পাড়া জুড়ে আবীরের দুর্নামের শেষ নেই। আবীর মেয়েদের টিজ করতে বেশি ভালোবাসে।
..
আবীরের বন্ধুরা এসে আবীরকে বললো ,,,
..
— হৃদয়ঃ মামা আজকে সেইরকম একটা মাল দেখছি, তুই বিশ্বাস করতে পারবিনা। সেই ফিগার মামা উফ! রাস্তায় অনেকবার দাড় করাতে চাইলাম।
— আবীরঃ বলিস কি? নাম কি, কোথায় থাকে? প্লীজ বল, বল, বলনা…
— কবিরঃ এতকিছু খুঁজ নিতে পারিনি মামা।
— আবীরঃ এই তোরা কি আসলে সবসময় আমার গর্ধব বন্ধু হয়েই থাকবি?
— সুমনঃ কেনো দোস্ত কি হইছে আবার?
— আবীরঃ একটা মেয়ের ফিগার নিয়ে রচনা বানাচ্ছিস আর সেই মেয়ের উৎপত্তি কোথায় সেটা খুঁজে আনতে পারলিনা!
— হৃদয়ঃ ভাবিসনাতো, সব খুঁজে বের করবো।
..
আবীর বাসায় যেয়ে দেখলো তার মিষ্টি বোনটি ঘরের এক কোণঘেঁষা চেয়ারে বসে আছে। মাকে বললো ,,,
..
— আবীরঃ কি হয়েছে আম্মু?
..
মা সব খুলে বললো আবীরকে। এরপর আবীর তার বোনের কাছে যেয়ে বসলো আর বোনকে আবারও জিজ্ঞেস করলো ,,,
..
— আবীরঃ কি হইছে শুভ্রা? প্লীজ লক্ষি বোনটি আমার সব খুলে বল আমায়!
— শুভ্রাঃ তেমন কিছুনা ভাইয়া। কয়েকটা ছেলে বিরক্ত করছিলো আমাকে রাস্তায়।
— আবীরঃ আমাদের এলাকার?
— শুভ্রাঃ আমি চিনিনা ভাইয়া। বাদ দে প্লীজ। মেয়ে যখন হয়েছি ছেলেরা বিরক্ত করবেই।
— আবীরঃ সে জন্যেইতো বড় ভাইদের একটু বেশি চিন্তা। আচ্ছা ঠিক আছে। একটু সাবধানে চলাফেরা করবি রাস্তায়। আজকাল বখাটে ছেলের অভাব নেই।
— শুভ্রাঃ তুই টেনশন নিসনা ভাইয়া। আমার কিছু হবেনা। তুই আছিস না। তোর মতো ভাই থাকতে আমার আবার কি হবে!
..
শুভ্রা ছেলেগুলাকে চিনতে পেরেছে। ওরা আবীরের বন্ধু। কিন্তু শুভ্রা আবীরকে জানায়নি। কারণ সে তার ভাইকে অনেক ভালোবাসে। সত্যি কথা বলে দিলে, এতে সমস্যা আরো বেড়ে যাবে।
..
পরেরদিন ,,,
..
— হৃদয়ঃ কিরে আবীর তুই এভাবে মনমরা হয়ে বসে আছিস কেনো?
— আবীরঃ না তেমন কিছুনা। আসিরে…
— হৃদয়ঃ কেনো মামা আজ আসলে তোর কি হলো খুলে বল।
— আবীরঃ ধুর ভালো লাগেনা।
..
আবীর চলে যাচ্ছিলো এমন সময় তার বন্ধু হৃদয় ডেকে বললো ,,,
..
— সুমনঃ শুন মামা আজ সেই মালটার খুঁজ পেয়েছি।
..
আবীর এটা শুনার পর আবার বন্ধুদের আড্ডার আসরে বসলো ,,,
..
— আবীরঃ সত্যি বলছিস?
— সুমনঃ কোথায় থাকে জানা হয়নি কিন্তু কোথায় পড়ে তা জেনে ফেলেছি।
— আবীরঃ কোথায় পড়ে?
— হৃদয়ঃ “কু….র” হাই স্কুলে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী।
..
আবীর শুনার পর অনেক্ষণ স্তব্ধ হয়ে রইলো। আবীরের বোনও একই স্কুলে পড়ে আর পরীক্ষার্থীও।
..
— কবিরঃ কিরে চুপ কেনো আবীর?
— আবীরঃ কই কিছুনা। আচ্ছা মেয়েটার নাম কিরে দোস্ত?
— হৃদয়ঃ স্যরিরে। নামটা জানা হয়নি। চিন্তা করিস না। আস্তে আস্তে জেনে যাবো। ভাবছি মেয়েটাকে ১৪ই ফেব্রুয়ারিতে একবার প্রপোজ করবো।
— আবীরঃ ওকে করিস। আমার ভালো লাগছেনা আসি।
— সুমনঃ কিছুই বুঝলাম না বেটা। এরকম কেইস হলে তুই পুরা পাগল হয়ে যেতি আর এখন একদম স্তব্ধ।
— আবীরঃ ও কিছুনা। আসিরে।
..
সকাল ৯টা। সোফায় বসে আবীর ,,,
..
— আবীরঃ ঐ পিচ্চি, এক কাপ চা বানাই আনতো!
— শুভ্রাঃ হুহ… (ভেঙ্গচি মেরে)
— আবীরঃ ঐ পুচকি, শার্টটা ইস্ত্রি করে দে না, আর আজকে প্যান্টটাও ধুয়ে দিসতো!
— শুভ্রাঃ ভাইয়া আমাকে কি তোর কাজের বুয়া মনে হয়? (রাগ করে)
— আবীরঃ ঐ গাধী, দুদিন পরতো শ্বশুর বাড়ি চলে যাবি! তখন চাইলেওতো আর এসব করতে পারবি না!
— শুভ্রাঃ পারবোনা করতে, শুনেছিস? আমি আর পারবোনা। এবার একটা ভাবি নিয়ে আয় ঘরে আমার জন্যে।
— আবীরঃ তুই পারবিনাতো? (পার্ট নিয়ে)
— শুভ্রাঃ না পারবোনা।
..
আবীর শুভ্রার কান মলে দিয়ে বললো ,,,
..
— আবীরঃ এবার বল পারবি!
— শুভ্রাঃ আম্মু…ওওওও…
— আবীরঃ আম্মুকে কেনো আবার ডাকলি? আম্মু একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলো তোর সহ্য হয়নি?
— আম্মুঃ আবীর ওর কান ছাড়। তোদের এই পাগলামি কবে যে শেষ হবে আল্লাহ জানে।
..
মা চলে গেলো। আর শুভ্রাও ছাড়া পেয়ে আবীরের কাপড় ইস্ত্রী করতে নিয়ে যাচ্ছিলো। আবীর ধরে বসলো।
..
— শুভ্রাঃ কিরে ভাইয়া ছাড় কাপড়টা।
— আবীরঃ না লাগবেনা যা।
— শুভ্রাঃ রাগ করেছিস ভাইয়া। লক্ষি ভাইয়া আমিতো মজা করছিলাম।
..
আবীর হাসি দিয়ে কাপড়টা দিয়ে দিলো। ভাইয়ের সবকিছুতেই বোনদেরর হ্যাঁ! হয়ত গভীরভাবে ভালোবাসে বলেই! আর ভাইগুলোও কম যায় না। প্রিয় বোনটার মুখে একটুখানি হাসি ফোটাতে যেকোন কষ্ট স্বীকার করতে তারা রাজি! বাইরে এমনিতে তারা পার্ট নেয়, “তোকে আমি একটুও দেখতে পারিনা, তুই না থাকলেই আমি বাঁচি! বিয়ে দিয়ে শ্বশুর বাড়িতে তোকে পাঠিয়ে দেয়ার পরেই আমার শান্তি! তখন আমিই রাজা!” কিন্তু মনে মনে তারা বোনটাকে কতটা ভালোবাসে সেটা নিজেরাও জানেনা। বোন শ্বশুর বাড়িতে চলে গেলে তাদের যে কি দুর্দশা হবে সেটা তারা দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করতে চায় না! ভাই বোনের এ সম্পর্ক সত্যিই অনেক মধুর।
..
— হৃদয়ঃ দাঁড়ান।
— শুভ্রাঃ কেন কি বলবেন?
— হৃদয়ঃ আজ কি দিন?
— শুভ্রাঃ কেনো আজ আবার কি দিন হবে?
— হৃদয়ঃ ভালোবাসা দিবস, ভালোলাগে, ভালোবাসি।
— শুভ্রাঃ কি, বুঝিনি।
— হৃদয়ঃ তোমাকে ভালোবাসি।
— শুভ্রাঃ শুনুন রাস্তাঘাটে এসব বখাটেপনা ছাড়ুন যত্তসব বেয়াদব ছেলেপেলে।
— হৃদয়ঃ আজ ভালোবাসার দিনে তোমাকে প্রপোজ করলাম আর তুমি আমাকে অপমান করছো!!!
— শুভ্রাঃ (কথা না বলে)
..
শুভ্রা চলে গেলো আর হৃদয় রাগে ক্ষিপ্ত হয়ে বন্ধুদের আড্ডার আসরে গেলো।
..
— সুমনঃ কিরে তুই এভাবে ক্ষেপে আছিস কেনো?
— হৃদয়ঃ আরে মামা আর বলিস না। শালিরে আজকে প্রপোজ করছিলাম। আমাকে বখাটে বলে অপমান করেছে।
— আবীরঃ ,,,হা,,,হা,,, বলিস কি? এসব কাজ আমাকে ছাড়া কোনদিন হয়েছে?
— হৃদয়ঃ প্লীজ মজা নিসনা। শালিরে কিডনাপ করবো আজ বিকেলে। শুনেছি ওর কোচিং আছে বিকেলে।
— কবিরঃ সত্যি নাকি দোস্ত?
— হৃদয়ঃ হ্যা। চারজনে মিলে ভোগ করবো পুড়া বাড়িতে।
— আবীরঃ আমি যেতে পারবোনা ভাই। ওই সাইটে আমার বোন পড়ে। একবার দেখে ফেললে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।
— হৃদয়ঃ ঠিক আছে তোর যেতে হবেনা। তুই পুড়া বাড়ির দিকটা ম্যানেজ করে রাখিস ঠিকঠাকভাবে।
— আবীরঃ আচ্ছা ঠিক আছে ও নিয়ে ভাবিস না।
..
দুপুর থেকে হৃদয়, সুমন আর কবির রাস্তায় গাড়ির মধ্যে বসে আছে শুভ্রার আসার অপেক্ষায়। শুভ্রা হয়তো জানেনা শুভ্রার জীবনে এ কোন বিপদ গ্রাস করতে যাচ্ছে!
..
— সুমনঃ ওইতো মামা, শুভ্রা আসছে।
— হৃদয়ঃ চুপ করে বসে থাক, চুপিসারে ধরতে হবে ওকে।
— কবিরঃ ওকে মামা তুই টেনশন নিসনা।
— হৃদয়ঃ আর সুমন তুই সাথে সাথে ওর পুরো মুখটা বেধে ফেলবি। যাতে ও কিছু দেখতে না পায়, আর চিৎকার করতে না পারে। আমি হাত বেধে ফেলে সাথে সাথে গাড়িতে উঠাবো। আর কবির তুই সাথে সাথে স্টার্ট দিয়ে সুজা পুড়া বাড়িতে নিয়ে যাবি।
..
যেই বলা সেই কাজ করলো তিনজন। শুভ্রার চিৎকার করে, কাউকে বাঁচাও বলবার উপায় রইলোনা আর। গাড়িতে শুভ্রার সাথে অনেক নির্যাতন করতে থাকে দুজন।
..
গাড়িটি পুড়া বাড়িতেই নিয়ে যাওয়া হলো কথামতো। শুভ্রাকে নামালো।
..
— আবীরঃ কিরে বেটা তোদের এতক্ষণ লাগে কাজ সারতে?
..
শুভ্রা এই কন্ঠ শুনে অবাক হয়ে যায়। কিন্তু কিছু বলতে পারছেনা। মুখটা বাধা…
..
— আবীরঃ উফ সেই মাল এনেছিসতো তোরা। অনেক মজা হবে…
— হৃদয়ঃ তোকেতো আগেই বললাম আমাদের সাথে ওখানে যেতে।
— আবীরঃ কেন তোরা জানিসনা ওখানে আমার বোন পড়ে?
— কবিরঃ উফ বেশি কথা বলিসনাতো। ওকে নিয়ে কি গল্প করতে এনেছিস?
— সুমনঃ উফ মামা আমার যে আর তড় সইছেনা।
— হৃদয়ঃ হুম, শালিকে আজ উচিৎ শিক্ষা দেবো। আমাকে বখাটে বলা তাইনা? বখাটেপনা আজ তাকে শিখাবো।
— আবীরঃ আজ ভালোবাসা দিবসের দিনে আমরা নোংরা খেলাটা খেলা কি ঠিক হবে?
..
আবীর জানেনা, কেনো জানি আবীরের মন স্বায় দিচ্ছেনা এই খারাপ কাজটা করতে! আর ওদিকে শুভ্রা মুখশের আড়ালে কাঁদছে, খুব খুব কাঁদছে। আজকে এই দিনটাও দেখতে হলো তার। অনেক ভালোবাসার ভাইটি এতটা নিচ সেটাও শুনতে হচ্ছে নিজের কানে! শুধু প্রতিবাদ করতে পারছেনা মুখ বাধা থাকায়। শুভ্রা আজ সকালে ভাইয়ের জন্যে ফুল নিয়ে রেখেছিলো বাসায়। ভালোবাসা দিবসে ভাইকে অনেক ভালোবাসি বলে ফুলটা দিবে আর ভাই অনেক খুশি হবে এটা ভেবে অনেক আনন্দ পাচ্ছিলো মনে মনে। কিন্তু আজ সব উল্টাপাল্টা হয়ে গেলো নিমিষে। এসব ভাবছে আর কাঁদছে শুভ্রা।
..
— হৃদয়ঃ শুরু কর মামারা।
..
যেই বলা সেই কাজ। শুভ্রার হাতের বাঁধন খুলে দিলো। মুখের বাঁধন খুলেনি। চারজন মিলে শুভ্রার জামা টানাহেঁচড়া করে ছিঁড়ে ফেলে। শুভ্রা এদিক থেকে ওদিক দৌড়ে যাচ্ছে। যতবারই দৌড়ে যাচ্ছিলো ততবারই চড়-থাপ্পড় খেয়েছে। এভাবে একের পর এক শুভ্রাকে ভোগ করলো।
..
শুভ্রার ইজ্জত শুভ্রার ভাইনামক রাক্ষসদের হাতে লুণ্ঠিত হয়ে গেলো। শুভ্রা পরে আছে মাঠিতে। একেকজন অনেক খুশি। ভোগ করা শেষ হলে, সবাই সবারমতো চলে যায় বাসায়। আর শুভ্রা এই কলঙ্কিত দেহ নিয়ে মাটিতে পরে থাকে।
..
ওদিকে শুভ্রা এখনো বাসায় এলোনা। রাত ১০টা। বাসায় বাবা-মা অনেক চিন্তা করছে। আবীর বাসায় এলো।
..
— বাবাঃ কিরে সারাদিন কই থাকিস? বোনটা যে বাসায় আসেনি সেই খেয়াল আছে?
— আবীরঃ দেখো, হয়তো কোন বান্ধবীর বাসায় গিয়েছে।
— মাঃ তুই একটু খুঁজ নিয়ে দেখনা বাবা।
— আবীরঃ আহা মা চিন্তা করনা শুধুশুধু। ও চলে আসবে।
..
আবীর রুমে গেলো। ফ্রেশ হয়ে শুভ্রার রুমে গেলো। টেবিলে রাখা গোলাপ ফুলটি দেখলো আর তার পাশে একটি চিরকুট দেখতে পেলো। সেটা খুলে পড়লো, “ভাইয়া আমি তোকে অনেক ভালোবাসি”।
..
সবাই ঘুমিয়ে রইলো। আবীরের কেনো জানি ঘুম আসছেনা। অশান্ত মন নানানভাবে ভাবাচ্ছে আবীরকে আজ।
..
আর এদিকে শুভ্রা তার জীবন দিয়ে দিলো পুড়া বাড়িতে। সে তার ভাইকে খুব ভালোবাসে। সে কার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে! শুধু অন্য ছেলে যদি হতো তাইলে একবার রুখে দাঁড়াতো কিন্তু সে তার ভাইকে যে অনেক ভালোবাসে। সে জন্যে নিজের জীবন দিয়ে তার ভাইকে বাঁচিয়ে দিলো।
..
সকালবেলা একলোক পুড়া বাড়ির দিকে যেতে শুভ্রার লাশ দেখতে পেলো। লোকটি তার গায়ের জামা খুলে শুভ্রাকে ঢেকে দিলো। এলাকাজুড়ে চিৎকার, “মাস্টার সাহেবের মেয়েকে কে যেনো নষ্ট করে মেরে ফেলে রেখে গেছে।
..
বাবা-মা সবাই গেলো। আর আবীরও শুনতে পেয়ে গেলো। আবীরতো স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরা। এ কি দেখলো আর এ কি করলো ভেবে ভিতরে ভিতরে পাগল হয়ে যাচ্ছে। এদিকে বাবা-মায়ের আর্তনাদ। নিজের বোনটিকে স্পর্শ করেও কাঁদতে পারছেনা। এই নোংরা, পাপী হাতে কিভাবে তার বোনকে ধরবে! একপাশে যেয়ে অনেক কাঁদতেছে। আর ওদিকে বন্ধু, কবির, সুমন, হৃদয় এসে শান্তনা দিচ্ছে ,,,
..
— হৃদয়ঃ দোস্ত ভুল হয়ে গেছে। আমরা জানতাম না শুভ্রা তোর বোন।
..
শার্টের কলার ধরে আবীর ,,,
..
— আবীরঃ এখন জানলি কি করে (*বকা দিয়ে*) আমি তোকে নাম জিজ্ঞেস করেছিলাম কিনা?
— হৃদয়ঃ দেখ দোস্ত আমি সত্যি তখন ওর নাম জানতাম না। নামটা আজকেই জানলাম এখানে এসে।
— কবিরঃ আমাদের ভুল হয়ে গেছে দোস্ত মাফ করে দে।
..
আবীর কথা বলার শক্তি পাচ্ছেনা। বাবা মাকে কি বলবে! কিভাবে বলবে, শুভ্রার মৃত্যুর জন্যে ও নিজেই দায়ী!
..
কবর দেয়া শেষ, কাঁদছে বাবা-মা, কাঁদছে আবীর। আবীর কবরের পাশে গেলো ,,,
..
— আবীরঃ বোন আমি তোকে অনেক ভালোবাসি। এই বোন তুই ফিরে আয় প্লীজ। আমাকে ক্ষমা করে দে বোন। আরেকবার ফিরে আয়, আমার লক্ষি বোনটি। প্লীজ আয়না বোন… আমি তোকে সত্যি অনেক ভালোবাসি।
..
আবীর কেঁদেই যাচ্ছে। আর কাঁদবেও সারাজীবন। কাউকে বলতে না পারার কষ্ট, আবীরকে কখনো ভালো থাকতে দিবেনা।
..
আবীরদের মতো বখাটে ছেলেদের বলছি, এভাবে রাস্তাঘাটে বোনদেরকে এভাবে টিজ করিওনা। একবার ভেবে দেখো, এই গল্পের মতো যদি তোমার জীবনেও ঘটে তাহলে তোমার অবস্থাটা কোথায় দাঁড়াবে! হয়তো এখন অনেকেই বলবা, “ধুর এরকম আবার হয় নাকি!”
কিন্তু ভাই এরকম ঘটনা কারো না কারোর জীবনে সত্যিয়ে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। হয়তো তোমার আশেপাশে ঘটছেনা বলে নিজেকে বিশ্বাস করাতে কষ্ট হয় গল্প বলে। একবার ভেবে দেখো, অন্যের মেয়ে, বোনকে তুমি রাস্তায় দাঁড় করিয়ে বিরক্ত করো, আজ তোমার বোনকে যে অন্য রাস্তার মোড়ে এভাবে তোমার চেয়ে আরো নির্মমভাবে বিরক্ত করতেছে সেটা কি ভেবে দেখেছো? প্রশ্ন করেছো কখনো, নিজের বোনকে? যে, ” বোন তুই আজ ঠিকভাবে রাস্তা দিয়ে এসেছিসতো!” তুমি সেই প্রশ্নটি করার সাহস পাবে না, কারণ তুমি যে নিজেই সমান অপরাধী।
..
আসুন নিজে ভালো হই এবং অন্যকে ভালো হবার জন্যে উৎসাহিত করি আর সুন্দর সমাজ গড়ি। আল্লাহ আমাদের সেই শক্তি দিক, যেনো আমরা খারাপদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারি।→ একটি বখাটে গল্প
..
[গল্পটি বড় বলে অবহেলা করবেন না। পড়ুন আর নিজের বিবেককে ধুয়ে ফেলুন।]
..
পৃথিবীতে যতগুলো মধুর সম্পর্ক আছে তার মাঝে ভাই বোনের সম্পর্কটি সবচেয়ে মধুর। যদি পিঠাপিঠি হয় তবেতো কথাই
নেই! সারাদিন খুঁনসুটিতে কেটে যায়। তুচ্ছ কারণে ঝগড়া, মারামারি, চুলোচুলি। কিন্তু এ ঝগড়ার পিছনেই মিশে আছে গভীর ভালোবাসা। যদি বড় ভাই হয় তার কাছে ছোট বোনের আবদারের শেষ নেই! আর বড় ভাইও ছোট বোনকে দিয়ে কাপড়
কাঁচা থেকে শুরু করে বাসার সব ছোটখাটো কাজগুলা সেড়ে ফেলতে খুব পছন্দ করে।
..
আবীর আর শুভ্রা দুজনের সম্পর্ক, মিষ্টি সম্পর্ক। যে সম্পর্কে কোনদিন ফাটল ধরবার মত নয়। আবীরের পরিবারে বাবা-মা আর মিষ্টি বোনটি। শুভ্রা আবিরের বোন। অনেক সুখের সংসার তাদের। বাবা স্কুল মাস্টার আর মা গৃহিণী। শুভ্রা এসএসসি পরীক্ষার্থী। কিন্তু আবীর এইচএসসি পাশ করার পর আর পড়াশুনা করেনি। এর জন্যে অনেক কথা শুনতে হয়েছে আবীরকে। আবীর পাড়ার বখাটে ছেলেদের সাথে মিশে সেও বখাটে হয়ে গেছে। পুরো পাড়া জুড়ে আবীরের দুর্নামের শেষ নেই। আবীর মেয়েদের টিজ করতে বেশি ভালোবাসে।
..
আবীরের বন্ধুরা এসে আবীরকে বললো ,,,
..
— হৃদয়ঃ মামা আজকে সেইরকম একটা মাল দেখছি, তুই বিশ্বাস করতে পারবিনা। সেই ফিগার মামা উফ! রাস্তায় অনেকবার দাড় করাতে চাইলাম।
— আবীরঃ বলিস কি? নাম কি, কোথায় থাকে? প্লীজ বল, বল, বলনা…
— কবিরঃ এতকিছু খুঁজ নিতে পারিনি মামা।
— আবীরঃ এই তোরা কি আসলে সবসময় আমার গর্ধব বন্ধু হয়েই থাকবি?
— সুমনঃ কেনো দোস্ত কি হইছে আবার?
— আবীরঃ একটা মেয়ের ফিগার নিয়ে রচনা বানাচ্ছিস আর সেই মেয়ের উৎপত্তি কোথায় সেটা খুঁজে আনতে পারলিনা!
— হৃদয়ঃ ভাবিসনাতো, সব খুঁজে বের করবো।
..
আবীর বাসায় যেয়ে দেখলো তার মিষ্টি বোনটি ঘরের এক কোণঘেঁষা চেয়ারে বসে আছে। মাকে বললো ,,,
..
— আবীরঃ কি হয়েছে আম্মু?
..
মা সব খুলে বললো আবীরকে। এরপর আবীর তার বোনের কাছে যেয়ে বসলো আর বোনকে আবারও জিজ্ঞেস করলো ,,,
..
— আবীরঃ কি হইছে শুভ্রা? প্লীজ লক্ষি বোনটি আমার সব খুলে বল আমায়!
— শুভ্রাঃ তেমন কিছুনা ভাইয়া। কয়েকটা ছেলে বিরক্ত করছিলো আমাকে রাস্তায়।
— আবীরঃ আমাদের এলাকার?
— শুভ্রাঃ আমি চিনিনা ভাইয়া। বাদ দে প্লীজ। মেয়ে যখন হয়েছি ছেলেরা বিরক্ত করবেই।
— আবীরঃ সে জন্যেইতো বড় ভাইদের একটু বেশি চিন্তা। আচ্ছা ঠিক আছে। একটু সাবধানে চলাফেরা করবি রাস্তায়। আজকাল বখাটে ছেলের অভাব নেই।
— শুভ্রাঃ তুই টেনশন নিসনা ভাইয়া। আমার কিছু হবেনা। তুই আছিস না। তোর মতো ভাই থাকতে আমার আবার কি হবে!
..
শুভ্রা ছেলেগুলাকে চিনতে পেরেছে। ওরা আবীরের বন্ধু। কিন্তু শুভ্রা আবীরকে জানায়নি। কারণ সে তার ভাইকে অনেক ভালোবাসে। সত্যি কথা বলে দিলে, এতে সমস্যা আরো বেড়ে যাবে।
..
পরেরদিন ,,,
..
— হৃদয়ঃ কিরে আবীর তুই এভাবে মনমরা হয়ে বসে আছিস কেনো?
— আবীরঃ না তেমন কিছুনা। আসিরে…
— হৃদয়ঃ কেনো মামা আজ আসলে তোর কি হলো খুলে বল।
— আবীরঃ ধুর ভালো লাগেনা।
..
আবীর চলে যাচ্ছিলো এমন সময় তার বন্ধু হৃদয় ডেকে বললো ,,,
..
— সুমনঃ শুন মামা আজ সেই মালটার খুঁজ পেয়েছি।
..
আবীর এটা শুনার পর আবার বন্ধুদের আড্ডার আসরে বসলো ,,,
..
— আবীরঃ সত্যি বলছিস?
— সুমনঃ কোথায় থাকে জানা হয়নি কিন্তু কোথায় পড়ে তা জেনে ফেলেছি।
— আবীরঃ কোথায় পড়ে?
— হৃদয়ঃ “কু….র” হাই স্কুলে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী।
..
আবীর শুনার পর অনেক্ষণ স্তব্ধ হয়ে রইলো। আবীরের বোনও একই স্কুলে পড়ে আর পরীক্ষার্থীও।
..
— কবিরঃ কিরে চুপ কেনো আবীর?
— আবীরঃ কই কিছুনা। আচ্ছা মেয়েটার নাম কিরে দোস্ত?
— হৃদয়ঃ স্যরিরে। নামটা জানা হয়নি। চিন্তা করিস না। আস্তে আস্তে জেনে যাবো। ভাবছি মেয়েটাকে ১৪ই ফেব্রুয়ারিতে একবার প্রপোজ করবো।
— আবীরঃ ওকে করিস। আমার ভালো লাগছেনা আসি।
— সুমনঃ কিছুই বুঝলাম না বেটা। এরকম কেইস হলে তুই পুরা পাগল হয়ে যেতি আর এখন একদম স্তব্ধ।
— আবীরঃ ও কিছুনা। আসিরে।
..
সকাল ৯টা। সোফায় বসে আবীর ,,,
..
— আবীরঃ ঐ পিচ্চি, এক কাপ চা বানাই আনতো!
— শুভ্রাঃ হুহ… (ভেঙ্গচি মেরে)
— আবীরঃ ঐ পুচকি, শার্টটা ইস্ত্রি করে দে না, আর আজকে প্যান্টটাও ধুয়ে দিসতো!
— শুভ্রাঃ ভাইয়া আমাকে কি তোর কাজের বুয়া মনে হয়? (রাগ করে)
— আবীরঃ ঐ গাধী, দুদিন পরতো শ্বশুর বাড়ি চলে যাবি! তখন চাইলেওতো আর এসব করতে পারবি না!
— শুভ্রাঃ পারবোনা করতে, শুনেছিস? আমি আর পারবোনা। এবার একটা ভাবি নিয়ে আয় ঘরে আমার জন্যে।
— আবীরঃ তুই পারবিনাতো? (পার্ট নিয়ে)
— শুভ্রাঃ না পারবোনা।
..
আবীর শুভ্রার কান মলে দিয়ে বললো ,,,
..
— আবীরঃ এবার বল পারবি!
— শুভ্রাঃ আম্মু…ওওওও…
— আবীরঃ আম্মুকে কেনো আবার ডাকলি? আম্মু একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলো তোর সহ্য হয়নি?
— আম্মুঃ আবীর ওর কান ছাড়। তোদের এই পাগলামি কবে যে শেষ হবে আল্লাহ জানে।
..
মা চলে গেলো। আর শুভ্রাও ছাড়া পেয়ে আবীরের কাপড় ইস্ত্রী করতে নিয়ে যাচ্ছিলো। আবীর ধরে বসলো।
..
— শুভ্রাঃ কিরে ভাইয়া ছাড় কাপড়টা।
— আবীরঃ না লাগবেনা যা।
— শুভ্রাঃ রাগ করেছিস ভাইয়া। লক্ষি ভাইয়া আমিতো মজা করছিলাম।
..
আবীর হাসি দিয়ে কাপড়টা দিয়ে দিলো। ভাইয়ের সবকিছুতেই বোনদেরর হ্যাঁ! হয়ত গভীরভাবে ভালোবাসে বলেই! আর ভাইগুলোও কম যায় না। প্রিয় বোনটার মুখে একটুখানি হাসি ফোটাতে যেকোন কষ্ট স্বীকার করতে তারা রাজি! বাইরে এমনিতে তারা পার্ট নেয়, “তোকে আমি একটুও দেখতে পারিনা, তুই না থাকলেই আমি বাঁচি! বিয়ে দিয়ে শ্বশুর বাড়িতে তোকে পাঠিয়ে দেয়ার পরেই আমার শান্তি! তখন আমিই রাজা!” কিন্তু মনে মনে তারা বোনটাকে কতটা ভালোবাসে সেটা নিজেরাও জানেনা। বোন শ্বশুর বাড়িতে চলে গেলে তাদের যে কি দুর্দশা হবে সেটা তারা দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করতে চায় না! ভাই বোনের এ সম্পর্ক সত্যিই অনেক মধুর।
..
— হৃদয়ঃ দাঁড়ান।
— শুভ্রাঃ কেন কি বলবেন?
— হৃদয়ঃ আজ কি দিন?
— শুভ্রাঃ কেনো আজ আবার কি দিন হবে?
— হৃদয়ঃ ভালোবাসা দিবস, ভালোলাগে, ভালোবাসি।
— শুভ্রাঃ কি, বুঝিনি।
— হৃদয়ঃ তোমাকে ভালোবাসি।
— শুভ্রাঃ শুনুন রাস্তাঘাটে এসব বখাটেপনা ছাড়ুন যত্তসব বেয়াদব ছেলেপেলে।
— হৃদয়ঃ আজ ভালোবাসার দিনে তোমাকে প্রপোজ করলাম আর তুমি আমাকে অপমান করছো!!!
— শুভ্রাঃ (কথা না বলে)
..
শুভ্রা চলে গেলো আর হৃদয় রাগে ক্ষিপ্ত হয়ে বন্ধুদের আড্ডার আসরে গেলো।
..
— সুমনঃ কিরে তুই এভাবে ক্ষেপে আছিস কেনো?
— হৃদয়ঃ আরে মামা আর বলিস না। শালিরে আজকে প্রপোজ করছিলাম। আমাকে বখাটে বলে অপমান করেছে।
— আবীরঃ ,,,হা,,,হা,,, বলিস কি? এসব কাজ আমাকে ছাড়া কোনদিন হয়েছে?
— হৃদয়ঃ প্লীজ মজা নিসনা। শালিরে কিডনাপ করবো আজ বিকেলে। শুনেছি ওর কোচিং আছে বিকেলে।
— কবিরঃ সত্যি নাকি দোস্ত?
— হৃদয়ঃ হ্যা। চারজনে মিলে ভোগ করবো পুড়া বাড়িতে।
— আবীরঃ আমি যেতে পারবোনা ভাই। ওই সাইটে আমার বোন পড়ে। একবার দেখে ফেললে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।
— হৃদয়ঃ ঠিক আছে তোর যেতে হবেনা। তুই পুড়া বাড়ির দিকটা ম্যানেজ করে রাখিস ঠিকঠাকভাবে।
— আবীরঃ আচ্ছা ঠিক আছে ও নিয়ে ভাবিস না।
..
দুপুর থেকে হৃদয়, সুমন আর কবির রাস্তায় গাড়ির মধ্যে বসে আছে শুভ্রার আসার অপেক্ষায়। শুভ্রা হয়তো জানেনা শুভ্রার জীবনে এ কোন বিপদ গ্রাস করতে যাচ্ছে!
..
— সুমনঃ ওইতো মামা, শুভ্রা আসছে।
— হৃদয়ঃ চুপ করে বসে থাক, চুপিসারে ধরতে হবে ওকে।
— কবিরঃ ওকে মামা তুই টেনশন নিসনা।
— হৃদয়ঃ আর সুমন তুই সাথে সাথে ওর পুরো মুখটা বেধে ফেলবি। যাতে ও কিছু দেখতে না পায়, আর চিৎকার করতে না পারে। আমি হাত বেধে ফেলে সাথে সাথে গাড়িতে উঠাবো। আর কবির তুই সাথে সাথে স্টার্ট দিয়ে সুজা পুড়া বাড়িতে নিয়ে যাবি।
..
যেই বলা সেই কাজ করলো তিনজন। শুভ্রার চিৎকার করে, কাউকে বাঁচাও বলবার উপায় রইলোনা আর। গাড়িতে শুভ্রার সাথে অনেক নির্যাতন করতে থাকে দুজন।
..
গাড়িটি পুড়া বাড়িতেই নিয়ে যাওয়া হলো কথামতো। শুভ্রাকে নামালো।
..
— আবীরঃ কিরে বেটা তোদের এতক্ষণ লাগে কাজ সারতে?
..
শুভ্রা এই কন্ঠ শুনে অবাক হয়ে যায়। কিন্তু কিছু বলতে পারছেনা। মুখটা বাধা…
..
— আবীরঃ উফ সেই মাল এনেছিসতো তোরা। অনেক মজা হবে…
— হৃদয়ঃ তোকেতো আগেই বললাম আমাদের সাথে ওখানে যেতে।
— আবীরঃ কেন তোরা জানিসনা ওখানে আমার বোন পড়ে?
— কবিরঃ উফ বেশি কথা বলিসনাতো। ওকে নিয়ে কি গল্প করতে এনেছিস?
— সুমনঃ উফ মামা আমার যে আর তড় সইছেনা।
— হৃদয়ঃ হুম, শালিকে আজ উচিৎ শিক্ষা দেবো। আমাকে বখাটে বলা তাইনা? বখাটেপনা আজ তাকে শিখাবো।
— আবীরঃ আজ ভালোবাসা দিবসের দিনে আমরা নোংরা খেলাটা খেলা কি ঠিক হবে?
..
আবীর জানেনা, কেনো জানি আবীরের মন স্বায় দিচ্ছেনা এই খারাপ কাজটা করতে! আর ওদিকে শুভ্রা মুখশের আড়ালে কাঁদছে, খুব খুব কাঁদছে। আজকে এই দিনটাও দেখতে হলো তার। অনেক ভালোবাসার ভাইটি এতটা নিচ সেটাও শুনতে হচ্ছে নিজের কানে! শুধু প্রতিবাদ করতে পারছেনা মুখ বাধা থাকায়। শুভ্রা আজ সকালে ভাইয়ের জন্যে ফুল নিয়ে রেখেছিলো বাসায়। ভালোবাসা দিবসে ভাইকে অনেক ভালোবাসি বলে ফুলটা দিবে আর ভাই অনেক খুশি হবে এটা ভেবে অনেক আনন্দ পাচ্ছিলো মনে মনে। কিন্তু আজ সব উল্টাপাল্টা হয়ে গেলো নিমিষে। এসব ভাবছে আর কাঁদছে শুভ্রা।
..
— হৃদয়ঃ শুরু কর মামারা।
..
যেই বলা সেই কাজ। শুভ্রার হাতের বাঁধন খুলে দিলো। মুখের বাঁধন খুলেনি। চারজন মিলে শুভ্রার জামা টানাহেঁচড়া করে ছিঁড়ে ফেলে। শুভ্রা এদিক থেকে ওদিক দৌড়ে যাচ্ছে। যতবারই দৌড়ে যাচ্ছিলো ততবারই চড়-থাপ্পড় খেয়েছে। এভাবে একের পর এক শুভ্রাকে ভোগ করলো।
..
শুভ্রার ইজ্জত শুভ্রার ভাইনামক রাক্ষসদের হাতে লুণ্ঠিত হয়ে গেলো। শুভ্রা পরে আছে মাঠিতে। একেকজন অনেক খুশি। ভোগ করা শেষ হলে, সবাই সবারমতো চলে যায় বাসায়। আর শুভ্রা এই কলঙ্কিত দেহ নিয়ে মাটিতে পরে থাকে।
..
ওদিকে শুভ্রা এখনো বাসায় এলোনা। রাত ১০টা। বাসায় বাবা-মা অনেক চিন্তা করছে। আবীর বাসায় এলো।
..
— বাবাঃ কিরে সারাদিন কই থাকিস? বোনটা যে বাসায় আসেনি সেই খেয়াল আছে?
— আবীরঃ দেখো, হয়তো কোন বান্ধবীর বাসায় গিয়েছে।
— মাঃ তুই একটু খুঁজ নিয়ে দেখনা বাবা।
— আবীরঃ আহা মা চিন্তা করনা শুধুশুধু। ও চলে আসবে।
..
আবীর রুমে গেলো। ফ্রেশ হয়ে শুভ্রার রুমে গেলো। টেবিলে রাখা গোলাপ ফুলটি দেখলো আর তার পাশে একটি চিরকুট দেখতে পেলো। সেটা খুলে পড়লো, “ভাইয়া আমি তোকে অনেক ভালোবাসি”।
..
সবাই ঘুমিয়ে রইলো। আবীরের কেনো জানি ঘুম আসছেনা। অশান্ত মন নানানভাবে ভাবাচ্ছে আবীরকে আজ।
..
আর এদিকে শুভ্রা তার জীবন দিয়ে দিলো পুড়া বাড়িতে। সে তার ভাইকে খুব ভালোবাসে। সে কার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে! শুধু অন্য ছেলে যদি হতো তাইলে একবার রুখে দাঁড়াতো কিন্তু সে তার ভাইকে যে অনেক ভালোবাসে। সে জন্যে নিজের জীবন দিয়ে তার ভাইকে বাঁচিয়ে দিলো।
..
সকালবেলা একলোক পুড়া বাড়ির দিকে যেতে শুভ্রার লাশ দেখতে পেলো। লোকটি তার গায়ের জামা খুলে শুভ্রাকে ঢেকে দিলো। এলাকাজুড়ে চিৎকার, “মাস্টার সাহেবের মেয়েকে কে যেনো নষ্ট করে মেরে ফেলে রেখে গেছে।
..
বাবা-মা সবাই গেলো। আর আবীরও শুনতে পেয়ে গেলো। আবীরতো স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরা। এ কি দেখলো আর এ কি করলো ভেবে ভিতরে ভিতরে পাগল হয়ে যাচ্ছে। এদিকে বাবা-মায়ের আর্তনাদ। নিজের বোনটিকে স্পর্শ করেও কাঁদতে পারছেনা। এই নোংরা, পাপী হাতে কিভাবে তার বোনকে ধরবে! একপাশে যেয়ে অনেক কাঁদতেছে। আর ওদিকে বন্ধু, কবির, সুমন, হৃদয় এসে শান্তনা দিচ্ছে ,,,
..
— হৃদয়ঃ দোস্ত ভুল হয়ে গেছে। আমরা জানতাম না শুভ্রা তোর বোন।
..
শার্টের কলার ধরে আবীর ,,,
..
— আবীরঃ এখন জানলি কি করে (*বকা দিয়ে*) আমি তোকে নাম জিজ্ঞেস করেছিলাম কিনা?
— হৃদয়ঃ দেখ দোস্ত আমি সত্যি তখন ওর নাম জানতাম না। নামটা আজকেই জানলাম এখানে এসে।
— কবিরঃ আমাদের ভুল হয়ে গেছে দোস্ত মাফ করে দে।
..
আবীর কথা বলার শক্তি পাচ্ছেনা। বাবা মাকে কি বলবে! কিভাবে বলবে, শুভ্রার মৃত্যুর জন্যে ও নিজেই দায়ী!
..
কবর দেয়া শেষ, কাঁদছে বাবা-মা, কাঁদছে আবীর। আবীর কবরের পাশে গেলো ,,,
..
— আবীরঃ বোন আমি তোকে অনেক ভালোবাসি। এই বোন তুই ফিরে আয় প্লীজ। আমাকে ক্ষমা করে দে বোন। আরেকবার ফিরে আয়, আমার লক্ষি বোনটি। প্লীজ আয়না বোন… আমি তোকে সত্যি অনেক ভালোবাসি।
..
আবীর কেঁদেই যাচ্ছে। আর কাঁদবেও সারাজীবন। কাউকে বলতে না পারার কষ্ট, আবীরকে কখনো ভালো থাকতে দিবেনা।
..
আবীরদের মতো বখাটে ছেলেদের বলছি, এভাবে রাস্তাঘাটে বোনদেরকে এভাবে টিজ করিওনা। একবার ভেবে দেখো, এই গল্পের মতো যদি তোমার জীবনেও ঘটে তাহলে তোমার অবস্থাটা কোথায় দাঁড়াবে! হয়তো এখন অনেকেই বলবা, “ধুর এরকম আবার হয় নাকি!”
কিন্তু ভাই এরকম ঘটনা কারো না কারোর জীবনে সত্যিয়ে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। হয়তো তোমার আশেপাশে ঘটছেনা বলে নিজেকে বিশ্বাস করাতে কষ্ট হয় গল্প বলে। একবার ভেবে দেখো, অন্যের মেয়ে, বোনকে তুমি রাস্তায় দাঁড় করিয়ে বিরক্ত করো, আজ তোমার বোনকে যে অন্য রাস্তার মোড়ে এভাবে তোমার চেয়ে আরো নির্মমভাবে বিরক্ত করতেছে সেটা কি ভেবে দেখেছো? প্রশ্ন করেছো কখনো, নিজের বোনকে? যে, ” বোন তুই আজ ঠিকভাবে রাস্তা দিয়ে এসেছিসতো!” তুমি সেই প্রশ্নটি করার সাহস পাবে না, কারণ তুমি যে নিজেই সমান অপরাধী।
..
আসুন নিজে ভালো হই এবং অন্যকে ভালো হবার জন্যে উৎসাহিত করি আর সুন্দর সমাজ গড়ি। আল্লাহ আমাদের সেই শক্তি দিক, যেনো আমরা খারাপদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারি।

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত