থট রিডার

থট রিডার

বহুদিন পর আজ বাহিরের জগতে পা রাখলো সে। কত দিন পর আজ সুর্য্যের আলোর দেখতে পেল। সেই আলো কোন অন্ধকারময় জাতির নির্দশন টানে না। আজ এই আলো তাকে দেখাচ্ছে তাকে নতুন মুক্তির এক নতুন দিগন্ত।

২২২১ সালেের শেষ দিকে পৃথিবীতে শুরু ১৯শ শতাব্দীর মত ‘জোর যার মুল্লুক’ তার নিয়ম. এই নিয়মের কারনে তখন পৃথিবীতে কম শক্তিধর দেশ গুলো বিপাকে পড়ে।

বিপাকে পড়ার প্রধান কারন হচ্ছে বিশ শতাব্দীর শেষ দিকে এবং একুশ শতাব্দীর শুরু এরকম সময়ে এক আন্তঃগ্রহ যুক্তি হয়।

সেই যুক্ত অনুসারে সকল দেশে কোন মারাত্মক আগ্নেঅস্ত্র থাকবে না। নিজেদের নিরাপত্তারর জন্য যতটুকু প্রয়োজন তত টুকু থাকবে। পৃথিবীর বাহির থেকে কোন প্রকার সাহায্য নিতে পারবে না। এলিয়েন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে না। এরকমই এক নীতিমালা অনুসারে এই যুক্তি হয়। বিধাতার তখন মনে হয় একটু অসুবিধা হচ্ছে।

তাই তো কোন এক দেশের একজন সাইন্টিস্ট “থট রিডার ” বানায় যা যেকোন বোবা মানুষের মস্তিকের সিগনাল কে ভোকাল কর্ডের তরঙ্গ মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশ করে। সে তখন আমাদের মত স্বাভাবিক ভাবে কথা বলতে পারে।
থট রিডারের দুটি অংশ একটা কানের উপড়ে থাকে। অন্য টা গলায় থাকে লকেটের মত । তখন এটা সারা বিশ্বে পৌছেয় যায় বোবাত্ব দুর হয়।

কিছুদিন পর নাসার এলিয়েন গবেষনায় যুক্ত এক সাইন্টিস্ট এর স্ত্রী দুটি যমজ বাচ্চা হয়। তার স্ত্রী বোবা ছিল কোন দুর্ঘটনার সময়।

শিশু দুটি এক সাথে রাখার পর তারা নিজেদের ভিতরে এক অদ্ভুদ নিয়মে যোগাযোগ করছে। সাইন্টিস্ট কি না কি ভেবে “থট রিডার” দুটি বাচ্চার শরীরে স্থাপন করে।

হঠাৎ শুনতে পায় এক সুক্ষ্ম তরঙ্গ। যার মাধ্যমে এই দুটি বাচ্চা নিজেদের ভাব আদান প্রধান করছে। সাইন্টিস্ট এই তরঙ্গ ধরার জন্য এক শক্তিশালী রাডার বানায়।

রাডার বানানোর কিছু দিন পর স্পেস থেকে থেমে থেমে কিছু তরঙ্গ সিগনাল রিসিব করছে তারা। এই সিগনাল কে ভাষা রুপান্তর করছে নাসার বিজ্ঞানীরা।

এলিয়েন মশাইরা আমাদের বন্ধু হয়ে গেল। পৃথিবীতে আগে যারা শক্তিশালী রাস্ট্র ছিল আবার আদিম নেশায় নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লো তারা।

শুরু হলো মধ্যযুগীয় বর্রবতা।

কিছুদিন পর এলিয়েনদের সাথে মিলে কোন এক দেশেরে শান্তিপ্রিয় যুবক ‘থট রিডার’ কে এলিয়েন প্রযুক্তির সাথে মিলিয়ে। ‘ডেড থট রিডার’ তৈরি করা হয় যার কারনে যেকোন কংকালের ডেডবডি থেকে তার মারা যাওয়ার ৭২ ঘন্টার ভিতরের যাবতীয় তথ্য জানা যাবে। এছাড়াও অনেক বছরের পুরানো কংকাল থেকে কিছু তথ্য গ্রহন করা যাবে।

বাংলাদেশ নামক দেশে এক সময়ে স্বাধীনতার যুদ্ধে প্রান হারানো কিছু লোকের ডেডবডি খুজে। তা স্কান করা পর তারা যে চমকপ্রদ তথ্য পায়।

যুদ্ধের সময় তাদের মানসিক শক্তি এত তীব্র ছিল যে তারা তাদের মৃত্যুকে হাসিমুখে নিয়েছে।তাদের এত টর্চার করেছে তারপরও তাদের ভিতরে এক ধরনের পরম শান্তি বিরাজ করেছিল। তাদের এই সমস্ত তথ্য দেখে সেই যুবক এলিয়েন এবং শান্তি প্রিয় যুবকদের নিয়ে এই সৈরাচারে বিরুন্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করে।

কিছুদিন পর এলিয়েনদেরও তাদের প্রযুক্তি দিয়ে তাদের বন্ধি করে এবং সাথে সেই যুবকদের। কিন্তুু এই লড়াই থেমে থাকে নাই চলছে তিন যুগ ধরে।

আজ সেই লড়াই এর সমাপ্ত হয়েছে।

আজ রাত ১২ টার সময় মুক্তি দেওয়া হয়েছে ওই সব বন্ধিদের। আনন্দ উৎসবে দিগন্তে সুর্য্যের লাল রক্তিম আভা দেখা যাচ্ছে। সুর্য্য উঠেছে আজ পৃথিবীতে সেই সাথে ধুয়েমুচে যাচ্ছে যুগ যুগ ধরে চলা লড়াইয়ের অবসান। শান্তি প্রিয় মানুষদের সাথে যুদ্ধপ্রিয় মানুষদের লড়াই আজ হয়তো থেমে গেছে। হয়তো আবার নতুন কোন শক্তির সন্ধানে জেগে উঠবে তাদের লড়ুকু সত্তা। আমার লেখাটি তাদের জন্য উৎসর্গ করলাম যারা শান্তি প্রিয় তাদের জন্য।

পৃথিবীকে বাচানোর জন্য হলেও আপনি শক্তির অপচয় কম করুন। কারন এই শক্তি আমাদের বাচানোর থেকে ক্ষতিটাই হয়তো বেশি করবে সুদুর ভবিষ্যৎতে

গল্পের বিষয়:
সাইন্স-ফিকশন

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত