মাহিরা থার্টি ওয়ান

মাহিরা থার্টি ওয়ান

ডঃ ফ্রাঙ্ক আমার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বললো,

-যদি আপনি আমাকে রোবট “মাহিরা থার্টি ওয়ান” তৈরীর অর্ধেক ক্রেডিট দেন, তবেই আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারি।
আমি ডঃ ফ্রাঙ্কের মুখের কাছে মুখ এনে বললাম,

-ডঃ, আপনি তো জানেন যে আমি প্রায় দশ বছর নষ্ট করেছি এই রোবটটি তৈরীর প্রচেষ্টায়। অনেক ভালো ভালো চাকুরীর প্রস্তাব ছিলো আমার কাছে। আমি সবকিছু ছেড়ে কেবল এই রোবটটি তৈরীতে মনোনিবেশ করেছি বিখ্যাত হওয়ার আশায়। “মানুষ মানুষের জন্য” এই কথাটি তো জানেনই আপনি। আমি সুদূর বাংলাদেশ থেকে এই ইতালিতে এসেছি আপনার কাছে একটু সাহায্যের আশায়। এখন আপনি যদি মুখ ঘুরিয়ে নেন, তাহলে আপনার দেশের বদনাম হবে। সেই সাথে আপনার মত একজন বিখ্যাত বিজ্ঞানীর বদনাম হবে।

-কেন বদনাম হবে আমার?
– এই যে আপনি একজন বিখ্যাত বিজ্ঞানী হয়েও একজন ক্ষুদে উদীয়মান বিজ্ঞানীকে সাহায্য করেননি সেজন্য।
-আপনি যে অন্য একজন বিজ্ঞানীর সাহায্য নিয়ে আপনার প্রজেক্ট সফল করবেন আর সব ক্রেডিট নিজে নিয়ে নিবেন, তার জন্য আপনার বদনাম হবে না?
-ছোট একটা সমীকরণ মিলানোর জন্য নিশ্চয়ই আমি আপনাকে অর্ধেক ক্রেডিট দিতে পারি না।
-সমীকরণটা যদি ছোটই হবে, তাহলে সেটা সমাধানে সাহায্যের আশায় আপনি সুদূর বাংলাদেশ থেকে কেন ছুটে এসেছেন আমার কাছে?
এবার আমি কি বলবো ভেবে না পেয়ে কিছুক্ষণ নীচের দিকে তাকিয়ে আমার চুল টানলাম। এই বুড়ো ফ্রাঙ্কের উপর প্রচুর রাগ হচ্ছে। কিন্তু উনার দেশে এসে উনার অফিসে বসে উনার সাথেই রাগ দেখানোটা নিতান্ত বোকামি ছাড়া আর কিছু হবে না।

আমি মেজাজ ঠান্ডা করে ডঃ ফ্রাঙ্ককে বললাম
-দয়া করে এই সমীকরণটির সমাধানে আপনি আমাকে সাহায্য করেন। আমার এত বছরের পরিশ্রম বিফলে যেতে দিবেন না। মাহিরা থার্টি ওয়ানের হার্ড ডিস্ক তৈরী হয়ে গেলে এর অতি উন্নতমানের মাদারবোর্ডের মাধ্যমে আমি এর বাকী কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা অসম্পূর্ন মাহিরা থার্টি ওয়ানের মেমরি থেকেই পাব।

-সেটা আমি জানি বলেই তো এই ছোট কিন্তু কঠিন সমীকরণটি মিলানোর জন্য আপনার থেকে কিছু বিনিময় চাইছি।
-আপনি দয়া করে এই প্রজেক্টের অর্ধেক ক্রেডিট না চেয়ে অন্যকিছু চান। আপনি যা চান আমি তাই দিব।
-ভেবেচিন্তে বলছেন তো?
যা চাই, তাই দিবেন?
-হ্যাঁ। অবশ্যই।
-আপনি নিশ্চয়ই শুনে থাকবেন যে, কিছুদিন আগে আমাদের সরকার বিশেষ একটি উদ্দেশ্যে তিনজন অল্পবয়স্ক বিজ্ঞানীকে চাঁদে পাঠিয়েছিলো। আর তারা সেখানে গিয়ে আটকে গেছে।
-এই ঘটনা কে না জানে? সম্প্রতি এটা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বেশ তুলকালাম চলছে। আমি যতদূর জানি, তারা নাম না জানা একদল প্রাণীর কাছে আটকা পড়েছে।

-হ্যাঁ। ঠিক বলেছেন আপনি। আমাদের দেশের সব বিজ্ঞানীকে ডেকে সরকার একটি মিটিং করেছে দুই সপ্তাহ আগে। আমরা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ঐ প্রাণীগুলোর অবস্থান কিছুটা নিশ্চিত করতে পেরেছি। আমাদের তিনজন লোক সেখানে খুবই মানবেতর জীবন যাপন করছে। প্রাণীগুলো ওদের খুবই কষ্ট দিচ্ছে। আমরা কেউ চাঁদে গিয়ে এই তিনজনকে উদ্ধারের দুঃসাহস করতে পারছি না। প্রাণীগুলো খুবই শক্তিশালী ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন। আমরা কেউ যদি এই তিনজনকে বাঁচাতে যাই, তাহলে ওদের হাতে ধরা পড়ার সম্ভাবনা আছে। এই প্রাণীরা সংখ্যায় অসংখ্য। আগে কখনও কেউ চাঁদে এ ধরণের প্রাণীর উপস্থিতি শণাক্ত করতে পারেনি। হঠাৎ করেই কোথা থেকে যে এদের উদ্ভব হলো!
আমরা বিজ্ঞান সংস্থার সবাই মিলেও কোন সঠিক সমাধান বের করতে পারছি না এই তিনজনকে বাঁচানোর জন্য। আপনি একজন ইয়াং বিজ্ঞানী।আপনি যদি আমাদের দেশের হয়ে আমার পক্ষ থেকে ওদের বাঁচানোর চেষ্টা করেন অথবা ওদের বাঁচানোর কোন উপায় আমাকে বলতে পারেন, তাহলে আপনার কাজটি আমি অনায়সেই করতে পারি।

-আপনি আমাকে ঐ প্রাণীগুলো সম্পর্কে এ পর্যন্ত আপনাদের আরোহিত তথ্যগুলো বলুন। দেখি আমি কোন উপায় বের করতে পারি কি না।
ডঃ ফ্রাঙ্কের মুখে আমার কথা শুনে হাসি ফুঁটে উঠলো। উনি আনন্দচিত্তে বলতে থাকলেন,

-আমাদের জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা এই প্রাণীগুলোর নাম দিয়েছে “নিফগ”। ধারণা করা হচ্ছে ওদের আশেপাশে অন্য কোন প্রজাতি গেলে ওরা ভাবে তাদের ক্ষতি বা ধ্বংস করতে গিয়েছে সেই প্রজাতি। সেই সন্দেহের বশে তারা সেই প্রজাতিকে আটকে রেখে মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য করে মৃত্যুর পথে ঠেলে দেয়। আমরা তাদের ভয় দেখানোর জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে পারমানবিক লেজার ও প্রোটন ব্লাস্টার নিক্ষেপ করেছিলাম। তাদের শরীরে আণবিক এবং পারমানবিক ব্লাস্টারের ন্যায় এক ধরণের শুঁড় আছে। যার মাধ্যমে তারা ইচ্ছা করলে আমাদের দিকে আগুনির ফুল্কির ন্যায় কিছু একটা নিক্ষেপ করতে পারতো। যদিও সেটা মোকাবেলা করার মতো ক্ষমতা আমাদের আছে। কিন্তু তারা সেটা করেনি। উল্টো আমাদেরকে তারা বার্তা পাঠায় যে, শান্তি, শান্তি, শান্তি। সর্বত্র শান্তির জয় হোক। তার মানে তারা তাদের কাছাকাছি না গেলে কারোর সাথে সংঘর্ষে যেতে ইচ্ছুক নয়। এরা স্থায়ীভাবে চাঁদে আস্তানা নিয়েছে এবং মহাশূন্যে ঘুরে বেড়ায়। তাদের শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া এবং জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া চন্দ্রালোকের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এদের বলয় আলফা ও গামা রশ্মি বিকিরণ করে। এই বিকিরণের মাধ্যমে তারা অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। সাধারণত মানুষ কিন্তু গামা রশ্মি কিংবা এক্স রে রশ্মির মাধ্যমেও নিজেদের অবস্থানের কোন পরিবর্তন ঘটাতে পারে না।
-আপনি যেমন বললেন, তাতে করে তো বুঝা যায় যে, যদি কোনভাবে এদের মধ্যে টেলিপ্যাথি ক্ষমতা ঢুকিয়ে দেয়া যায়, তাহলে ওরা বুঝতে পারবে যে, ওরা যে তিনজনকে আটকে রেখেছে, সেই তিনজন ওদের কোন ক্ষতি করতে চায় না। এমনকি ওরা যখন চাঁদে গিয়েছিলো, তখনও নিফগদের সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা ছিলো না।

-তোমার ধারণা সঠিক। তবে চন্দ্রপৃষ্ঠে বসবাস করা প্রাণীর ভিতর এই ক্ষমতা যান্ত্রিকভাবে ঢুকানো বেশ কঠিন ব্যাপার।
আমরা এদের কাছে গোপনে পৌঁছাবার জন্য “ড্রোন এফ ওয়ান” নামে একটি সসার বানিয়েছি। এর বহন ও ইঞ্জিন ক্ষমতা খুবই শক্তিশালী। এর ইঞ্জিন ইলেকট্রন কনভার্টর ইঞ্জিন। এর ইঞ্জিন বেশ হালকা তবে সেকেন্ডে প্রায় ষোলো কিলোমিটার যাবার ক্ষমতা রাখে। এটি ঝড়ের মধ্য দিয়েও 4v(vবেগ)গতিতে চলতে পারে। প্রয়োজনে এর গতিবেগ বাড়িয়ে 8V করা যায়। এই সসারটির ত্রুটি একটিই। আর সেটি হচ্ছে, এটি আপনা আপনি চলতে পারেনা। কম্পিউটারের সাহায্যে এটিকে পুরুপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। একজন চালক প্রয়োজন এটির। এর চালক যে হবে, সে যদি সঠিকভাবে সসারটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তবে নিফগদের চোখ ফাঁকি দিয়ে আমাদের তিনজন লোককে দ্রুতগতিসম্পন্ন সসারে করে ফিরিয়ে নিয়ে আসা সম্ভব। আর ব্যর্থ হলে সসারের চালকেরও ঐ তিনজনের সাথে বন্দি হতে হবে।

আমি সাহস নিয়ে উঠে দাঁড়ালাম। যদি “মাহিরা থার্টি ওয়ান” আমি তৈরী করতে না পারি, তাহলে এমনিতেও আমার জীবন বেঁচে থেকেও মৃতের মত হয়ে যাব। এটি আমার অনেক বছরের সাধনা। একটা ঝুঁকি আমি নিয়ে দেখবই। আমি রাজি হয়ে গেলাম ডঃ ফ্রাঙ্কের প্রস্তাবে।

আমাকে উপযুক্ত ট্রেনিং দেয়া হলো। এক শুক্রবার সকালে আমি এক মাস ক্ষুধা না লাগার একটি ট্যাবলেট খেয়ে চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম “ড্রোন এফ ওয়ান” এ করে। আমি আমার সবটুকু চেষ্টা করলাম। আটকে রাখা তিন ব্যক্তিকে নিয়ে সসারে করে পৃথিবীর উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। কিন্তু ইতালির বিজ্ঞান সংস্থা নিফগদের সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন তথ্যটি বের করতেই ব্যর্থ হয়েছিলো। এই নিফগদের গতিবেগ সেকেন্ডে ষোলো কিলোমিটারেরও বেশী আর এরা নিজের প্রয়োজনে 10V+ গতিতে চলতে পারে। স্বভাবতই নিফগদের গতির কাছে আটকা পড়ে গেলাম। ওদের হাতে বন্দীর মোট সংখ্যা চারজন হলো। তিনজন ইতালিবাসীর অবস্থা মৃত প্রায়। ঢুলুঢুলু চোখে তারা আমাকে তাদের ভাষায় কৃতজ্ঞতা জানালো। আমি যে একজন ভিনদেশী হয়ে তাদের বাঁচাতে গিয়েছি, সেজন্য তারা জানালো যে, এখন মরে গেলেও তাদের আফসোস নেই। তারা জানতে পারলো যে তাদের দেশ তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছে। আমার মনে তখনও “মাহিরা থার্টি ওয়ান” সফল করার নেশা প্রবল। স্বপ্নের মতো চোখে ভাসছে আমার গলায় বাংলাদেশ সরকার মালা পড়িয়ে দিচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রোবট তৈরীর খেতাব পাচ্ছি আমি। আমার চোখে নিফগেরা কি যেন একটা স্প্রে করেছে। আমি ঠিক করে তাকাতে পারছি না। চোখে ভীষণ যন্ত্রণা হচ্ছে। তবুও আমার দু চোখ ভর্তি স্বপ্ন। আমার জ্ঞান কতদিন পর ফিরলো সেটা আমি জানি না। আমি জীবিত আছি নাকি মৃত সেটাও ঠিক বুঝতে পারছি না। নাকে তীব্র পঁচা একটা গন্ধ আসছে। গন্ধটা অসহ্য। কোনরকমে দুর্বল হাত দুটো নাকের কাছে নিয়ে দুর্গন্ধ ঠেকানোর চেষ্টা করলাম। ঢুলুঢুলু চোখে তাকিয়ে দেখলাম,ইতালিয়ান তিনজন মারা গেছে। বুঝতে পারলাম, দুর্গন্ধটা তাদের মৃত শরীর থেকে আসছে। সসারটি ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে নিফগেরা। হঠাৎই আমার কানে অদ্ভুত একটা সো সো শব্দ ভেসে আসলো। চোখ তুলে শব্দের উৎসের দিকে তাকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে আবার অজ্ঞান হয়ে গেলাম আমি। এরপর যখন জ্ঞান ফিরলো তখন আমি চোখে কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না। সব অন্ধকার। অন্ধকারে চিৎকার করে উঠলাম আমি। কাঁধে কিছু একটার অস্তিত্ব অনুভব করলাম। তারপর কানে একটা পরিচিত কণ্ঠস্বর। কণ্ঠস্বরটি ডঃ ফ্রাঙ্কের। ডঃ ফ্রাঙ্ক বেশ অনুতাপের গলায় বললেন,

-ডঃ ফ্রাঙ্ক আপনার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী সাদিফ কাদেরী। একটি ভুলের জন্য আপনার চোখ দুটো হারাতে হলো। ওরা আপনার চোখে ওদের বিষাক্ত লালা স্প্রে করে দিয়েছে, যেটি মনুষ্য কর্ণিয়ার জন্য খুবই ক্ষতিকর। কিন্তু আপনার জন্য দুটি খুশির খবরও আছে। ইতালির তিনজন লোক বাঁচাতে আপনার দুঃসাহসিক অভিযান এবং নিফগদের থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রয়োজনীয় উপায় তাদের মধ্যে দূর থেকে টেলিপ্যাথিক মেশিন বসিয়ে মানুষের মনের কথা বুঝানোর ধারণার জন্য আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সংস্থা আপনাকে সংবর্ধনা দিবে। যদিও সেই তিনজন ব্যক্তি বাঁচতে পারেনি তবুও ইতালির জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা ও ইতালি সরকার আপনাকে পুরস্কৃত করবে। আমার অধর বেয়ে একটানা পানি পড়ছে। আমার কাছে এসব প্রাপ্তি ক্ষুদ্র মনে হচ্ছে। আমি ডঃ ফ্রাঙ্কের কাছে আমার প্রজেক্ট “মাহিরা থার্টি ওয়ান” সম্পর্কে জানতে চাইলাম। কণ্ঠস্বরটি তখন উত্তর দিলো,
-আমিই তো “মাহিরা থার্টি ওয়ান”
আমি পিলে চমকে উঠলাম। উত্তেজিত গলায় বললাম,
-কী?
-হ্যাঁ। আপনার অসমাপ্ত কাজ ডঃ ফ্রাঙ্ক সম্পন্ন করেছেন। তিনি আমাকে তৈরী করে আমাকে নিয়ে আপনাকে উদ্ধার করতে চাঁদে গিয়েছিলেন। ডঃ ফ্রাঙ্ক নিজের কণ্ঠস্বর আমার মধ্যে এক্সচেঞ্জ করে দিয়ে গেছেন। আমি পুরোপুরি আপনাদের মানুষের মতো করে কথা বলতে পারি। আমি এই পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী রোবট ঠিকই কিন্তু চাঁদে আমার ক্ষমতা সীমিত। আমি কেবল একজনকে নিয়েই পালাতে পারতাম। ডঃ ফ্রাঙ্ক চাইছিলেন আমি আপনাকে নিয়েই পৃথিবীতে ফিরি। ডঃ ফ্রাঙ্ককে নিশ্চয়ই ওরা মেরে ফেলেছে।

আমার বুকের ভিতর কেমন যেন করে উঠলো। আমি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি। “মাহিরা থার্টি ওয়ান” তৈরীর পুরো ক্রেডিট আমি প্রয়াত ডঃ ফ্রাঙ্ককে দিয়ে দিব।

গল্পের বিষয়:
সাইন্স-ফিকশন

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত