চিরন্তন যাত্রী

চিরন্তন যাত্রী

জুলাই ১৬, ২৪৪৫

মানবসভ্যতার ইতিহাসের একটি স্বর্ণজ্জ্বল দিন বলে ঘোষিত হতে চলেছে আজকের এই দিনটি। অবশেষে আনথ্রোপোসিন যুগের ৫০০তম বার্ষিকীতে মানবসভ্যতা তার সব থেকে বড় স্বপ্নকে সাকার করতে চলেছে। চতুর্মাত্রিক মহাবিশ্বকে তারই ভাষায় জবাব দিতে শতাব্দীর সাধনার পর ত্রিমাত্রিক জগতের অধিবাসীরা অবশেষে জন্ম দিতে সক্ষম হয়েছে স্থান ও কালের সীমারেখাকে অতিক্রম করে যাওয়া আধিভৌতিক স্বপ্ন তোরণ কৃত্রিম কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাকহোলকে।

সৌরজগতের সর্বশ্রেষ্ঠ অ্যাসট্রোফিজিসিস্ট ডক্টর এন. রিচার্ড এর নেতৃত্বে কয়েক শতাব্দী ধরে দেখা মানব সভ্যতার এই সুদূর স্বপ্ন আজ অবশেষে বাস্তবে রূপায়িত হতে চলেছে। স্পেসস্টেশন থেকে মহাবিশ্বের কালো অমানিশার গর্ভে জন্ম নেওয়া এই নব নির্মীয়মান কৃষ্ণ গহ্বরের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে থাকতে যেন ভুলে যাওয়া অতীতকে আরো একবার ফিরে দেখতে পারছিলেন এই বৃদ্ধ বিজ্ঞান সাধক।

পৃথিবীর ইতিহাস প্রকৃত পক্ষে এক নতুন মোড় নিয়েছিল আজ থেকে ঠিক ৫০০ বছর আগে এই ১৬ জুলাই দিনটিতেই। আজকের দিনটিতেই বিখ্যাত ঐতিহাসিক মানহাটান প্রজেক্টের গবেষনার সার্থক ফল হিসেবে পরীক্ষামূলক ভাবে প্রথম গোপন পারমাণবিক বিস্ফোরণ “ট্রিনিটি” ঘটানো হয়েছিল মেক্সিকোর “যোর্নাদা ডেল মুয়ের্ত” মরুভূমির বুকে। পারমাণবিক মহাশক্তি প্রথমবার ধরা দিয়েছিল মানবসন্তানদের হাতে। অবুঝ শিশুর মত প্রথম দিকে এই মহাশক্তিকে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করার সর্বনাশী খেলায় মেতেছিল মানবসভ্যতা। কিন্তু সৌভাগ্যবশত অল্প সময়ের মধ্যেই এই প্রাণঘাতী খেলার প্রকৃত রূপ ফুটে উঠেছিল তাদের জ্ঞানচক্ষুর সামনে। এরপর পৃথিবীর শান্তিকামী মানুষদের বহু প্রয়াসের পর ধ্বংসের কাজে এই মহাশক্তির ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। ফলস্বরূপ শুরু হয় বিনাশের বদলে প্রাণ প্রতিষ্ঠার কাজে এর প্রয়োগ।

মহাকাশ বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে বৃহত্তর উদ্দেশ্যে এই আশ্চর্য প্রদীপকে কাজে লাগানোর সাধ জন্মায় বিজ্ঞান তাপসদের মনে। পরমানুশক্তি চালিত মহাকাশযানের আরোহী হয়ে তারা জয় করতে থাকে সৌরমন্ডলের একের পর এক গ্রহ ও উপগ্রহকে। শুরু হয় নতুন প্রয়াস, পারমানবিক শক্তির প্রয়োগে বিভিন্ন গ্রহ উপগ্রহের টেরাফর্মিং এর অবিশ্বাস্য প্রকল্প। প্রথম প্রয়াসের জন্য বেছে নেওয়া হয় পৃথিবীর দুই প্রান্তের সবথেকে কাছের প্রতিবেশী শুকতারা “শুক্র গ্রহ” এবং চির কৌতুহলের দেশ “মঙ্গল গ্রহ” কে। এই দুই চিরপ্রতিবেশির বুকে পদার্পণ করেন পৃথিবীর গর্ভের মানব সন্তানেরা। এর পর একে একে সৌরমন্ডলের গ্রহের পর গ্রহ উপগ্রহের পর উপগ্রহে চলতে থাকে মানব সন্তানদের বিজয় অভিযান। আর আজ কয়েক শতাব্দীর প্রয়াসে অবশেষে গোটা সৌরমন্ডল ভাস্বর হয়ে উঠেছে মানবসভ্যতার আলোয়। বহুদূরের সৌরমন্ডলের অন্তিম সীমানার রক্ষক বামন গ্রহ প্লুটোর বুকেও আজ আঁকা হয়ে রয়েছে মানব সন্তানদের পদক্ষেপ। আর এরসাথেই জন্ম নিয়েছিল এই যুগের সবথেকে বড় প্রশ্ন! মানবসভ্যতা কি শুধুমাত্র এই সৌরমন্ডলের বুকেই সীমাবদ্ধ হয়ে থাকবে? এইটুকু দৌড়ই কি আনথ্রোপোসিন যুগের নিয়তিতে লেখা রয়েছে? না মানব জাতি মানতে অস্বীকৃত এই ভবিতব্যকে। আজ তারা সমস্ত সৌরমন্ডলের বিজেতা। এত সহজে হার তারা মানবেনা। কোনমতেইনা।

এরপরেই ২২৭৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে শুরু হয় কৃত্রিম কৃষ্ণ গহ্বর নির্মান করে মহাবিশ্বের অসীম দুরত্বকে আধিভৌতিক পথের”শর্ট কাটে” পার করার অবিরাম প্রয়াস। আর দুশো পঁচাত্তর বছরের নিরন্তর প্রচেষ্টার পর অবশেষে আজ সেই অসম্ভব ধরা দিতে চলেছে তাদের কাছে।

অন্যদিকে এই পাঁচশো বছরের সময়সীমায় বদলে গেছে পৃথিবীর ইতিহাসও। মানবজাতির মধ্যের পরস্পরের সঙ্গে চিরপ্রতিদ্বন্দিতা এখনো বিদ্যমান। একে অপরকে টেক্কা দেবার সেই পুরোন খেলা আজও চলছে পুরোদমে। শুধুমাত্র কৃষ্ণ গহ্বরের সাধনাতেই সমস্ত বিদ্বেষ ও প্রতিদ্বন্দিতা পরিত্যাগ করে একজোট হয়েছে অন্তর্গ্রহিক সংসদ।
অন্যদিকে জীববিজ্ঞানের ক্রম উন্নতির সাথে জীবনকে সুদীর্ঘ করে তোলার সাধও আজ আর অছোঁয়া নেই। অবশেষে হাইবারনেশনকে অনিশ্চিত কালের জন্য সম্ভব করে তলার গোপন কৌশল আবিষ্কৃত হয়েছে

জীববিজ্ঞানীদের বহু বছরের সাধনার ফলস্বরূপ। এন.রিচার্ড শুনেছেন এমন হাইবারনেশনেও আজ যাওয়া সম্ভব যাতে হাজার হাজার বছর ধরে বিশ্ব জগত থেকে নির্লিপ্ত হয়ে ঘুমের দেশে পার করে দেওয়া যায়। যদিও শুনে তিনি শুধুই মনে মনে হেসেছেন। যুগ পরিবর্তনের এই মহাসন্ধিক্ষণে কোন উন্মাদ আর ঘুমিয়ে সময় কাটাতে চাইবে!
জীববিজ্ঞানীদের সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে গিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন পদার্থ বিজ্ঞানীদের কঠিন সাধনাও। এমন অদ্ভুত তরঙ্গ স্রোত তারা আবিষ্কার করেছেন যা যেকোনো চৌম্বক, বৈদুতিক অথবা মহাকর্ষীয় তরঙ্গকে সম্পূর্ণ প্রতিহত করতে পারে। যেকোনো আকস্মিক ভয়াবহ বিকিরণের সাথে সম্মুখ সমরে নামতে এই “রক্ষক” তরঙ্গ সদা প্রস্তুত। কিন্তু অতি দুর্মূল্য এবং চরম কষ্টলব্ধ তরঙ্গের সারা সৌরমন্ডল জুড়ে ব্যবহার করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। শুধুমাত্র পৃথিবীর বুকের কিছু কিছু বিশেষ অংশেই এখনো অব্দি পরীক্ষামূলক ভাবে স্থাপন করা হয়েছে এই তরঙ্গের প্রভাব ক্ষেত্র। মানবসভ্যতার প্রথম নিদর্শনগুলির প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে সিন্ধু নদ, হোয়াং হো অববাহিকা, নীল নদের দানভূমি, তাইগ্রিস এবং ইউফ্রেটিসের যুগলভূমি ,এবং ইজিয়ান সাগরের তীরের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন ভূমিতে করা হয়েছে এই তরঙ্গের ক্ষেত্র স্থাপন।

বিজ্ঞানী রিচার্ডস এর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তার প্রিয় ভারতীয় বংশদ্ভুত শিষ্য ডক্টর আদিত্য রায়। মাত্র তিরিশ বছর বয়সেই এক সার্থক বিজ্ঞান ভিক্ষু হয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে সৌরপতির সমনামী এই নবীন বিজ্ঞানী। আর তার সাথে খুবই অল্প সময়ের মধ্যেই সে জয় করে নিতে সক্ষম হয়েছেন সৌরমন্ডলের সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান তপস্বীর স্নেহ। নম্র স্বরে ডক্টর আদিত্য বলে উঠলেন “স্যার, সময় হয়ে এসেছে, এবার কৃষ্ণগহ্বর প্রকৃত অর্থে জন্ম নিতে চলেছে, কিন্তু হঠাৎ আপনি আজকের দিনটাকেই কেন বেছে নিলেন এই যুগান্তরকারী পদক্ষেপের জন্য?”

তার সন্তানসম এই নবীন বিজ্ঞানীর দিকে ফিরে তাকিয়ে এক গভীর স্বরে বলে উঠলেন বৃদ্ধ মানুষটি,”আজ থেকে পাঁচশো বছর আগে এই দিনটিতেই আমাদের এই আনথ্রোপোসিন যুগের শুভারম্ভ হয়েছিল আদিত্য। আর তাই আজকের এই দিনটিতেই এই যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ পদক্ষেপটি নিয়ে সেই মানহাটান প্রজেক্টের মহাবিজ্ঞানীদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনই এই সিদ্ধান্তের একমেবাদ্বিতীয়ম কারণ ডিয়ার।”

সশ্রদ্ধ দৃষ্টিতে নিজের বন্ধু, দার্শনিক তথা পথপ্রদর্শনকারী এই মহান ব্যক্তিত্বের দিকে নীরবে তাকিয়ে রইলো আদিত্য। নিজের সারা জীবন বিজ্ঞান সাধনায় অতিবাহিত করা এই মানুষটি পৃথিবীর জাতিতে জাতিতে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দিতার যুগে আজও মানবিকতার জীবিত রূপ হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তার সামনে। শান্ত কন্ঠে আদিত্য এবার বলে উঠলেন “স্যার,আপনার স্পেসশিপ তৈরি হয়ে গেছে,আপনার সৃষ্ট কৃষ্ণগহ্বকে নিজের চোখে জন্ম নিতে দেখতে আপনি সৌরমন্ডলের ভেতরে এবার ফিরে যেতে পারেন। কিন্তু এর কি সত্যি প্রয়োজনীয়তা আছে? আপনি জানেন কতটা বিপদজনক এই পদক্ষেপ ,তা স্বত্তেও কেন এগিয়ে চলেছেন এই মহাশক্তির এত কাছে ?”

ডক্টর রিচার্ড হাসি মুখে বলে উঠলেন ,”নিজের সন্তানকে জন্ম নিতে নিজের চোখেই দেখতে হয় আদিত্য। যুগ যুগ ধরে বহু বিজ্ঞানীদের সাধনার ফল আজ বাস্তবায়িত হয়ে উঠতে চলেছে। তাদের প্রতিনিধিরূপে এই মহাসন্ধিক্ষনের সাক্ষী আমায় হতেই হবে ডিয়ার।”

আদিত্য ব্যাকুল স্বরে বলে ওঠে “কিন্তু এই কৃষ্ণগহ্বর সৌরমন্ডলের ভিতরেই জন্ম দেবার কি সত্যি প্রয়োজন ছিল ডক্টর? সৌরমন্ডলের বাইরের অসীম মহাকাশের বুকেও তো এর জন্ম দেওয়া যেত!”

ডক্টর রিচার্ড এবার কিছুটা গম্ভীর স্বরে বলে ওঠেন ” তুমি জান আদিত্য আমি নিজেই চাইনি সৌরমন্ডলের ভেতরে এই কৃষ্ণগহ্বরকে জন্ম দিতে, কিন্তু আমার ইচ্ছার থেকেও এখানে বড় হয়ে উঠেছিল এই প্রকল্পকে যেসমস্ত রাষ্ট্রনায়কেরা স্পন্সর করছে তাদের আদেশ। এরা আজ একে অপরকে চূড়ান্ত অবিশ্বাস করে তাই প্রত্যেকেই চেয়েছে তাদের দৃষ্টির সামনে, তাদের তত্ত্বাবধানের অধীনে এই কৃষ্ণগহ্বরকে জন্ম দিতে। অবিশ্বাসের বীজ আজ মানব সভ্যতার অন্তরে এত ভীষণ আকারে প্রবেশ করেছে যে তার সামনে যেকোনো বিপদের আশঙ্কাই অনেক ছোট হয়ে গেছে ডিয়ার। ”
আগের থেকেও বেশি ব্যাকুল স্বরে বলে ওঠে আদিত্য ” কিন্তু ডক্টর যে কোন রকমের অপ্রত্যাশিত মহাজাগতিক ঘটনা, যে এই কৃষ্ণ গহবরের প্রকৃতিকে কতটা অনিয়ন্ত্রিত করে তুলতে পারে, কত বড় মহাবিনাশকে ডেকে আনতে পারে আপনি কি জানান নি তাদের?”

ডক্টর রিচার্ড বিষণ্ণ স্বরে বলে ওঠেন “তুমি এখনো নবীন মনের আদিত্য। অবিশ্বাস এবং ঈর্ষার আগুন মানুষের দৃষ্টিকে কতটা অন্ধ করে দিতে পারে সেই ধারণা নেই তোমার। সব জেনেও এরা তা শুনতে চাননা, বুঝতে চাননা। আর যারা বুঝতে চাননা তাদের বোঝানো কয়েক কোটি আলোকবর্ষ পার করা থেকেও কয়েকশ গুণ বেশি দুরূহ মাই ডিয়ার। যাই হোক, আর দেরী করা সঠিক হবেনা, চল স্পেসশিপে উঠে আমায় এগিয়ে যেতে হবে আমাদের এত বছরের প্রতীক্ষিত স্বপ্নকে সার্থক হতে দেখতে। ”

স্পেস শিপে ওঠার ঠিক আগের মুহূর্তে হঠাৎ ডক্টর রিচার্ড তার প্রিয় ছাত্রের হাত ধরে উদ্বিগ্ন কন্ঠে বলে উঠলেন “যদি কোনো মহাবিনাশের জন্ম দেয় আমাদের এই আবিষ্কার তবে এই স্পেসস্টেশনের চিফ হিসেবে তুমি একে সৌরমন্ডলের সীমা থেকে বহুদূরে নিয়ে যাবে আদিত্য। মানবসভ্যতার চিহ্ন হয়ে তোমাদের জীবিত থাকা সমস্ত মানবজাতির দাবি তোমাদের কাছে, আর সেটাই হবে তোমার এই গুরুর প্রতি তোমার গুরু দক্ষিণা।”

আদিত্য কাতর স্বরে বলে উঠলো ,”এরকম কোনো মহাবিনাশের আভাস দেবেননা ডক্টর। এত বড় দায়িত্ব নেবার যোগ্যতা নেই আপনার এই ছাত্রের।”

ডক্টর রিচার্ড হাসি মুখে বলে উঠলেন, “কোনো মানুষের যোগ্যতা তখনই সে জানতে পারে যখন কোন গুরু দায়িত্বের ভার এসে পরে তার উপর ডিয়ার। তোমার যোগ্যতা তুমি জাননা,কিন্তু বিশ্বাস কর এই বৃদ্ধ চোখ দুটি মানুষ চিনতে ভুল করেনা। তোমার কর্মনিষ্ঠা এবং কর্তব্যবোধ বহু কাল আগেই চিনে নিতে পেরেছিল এই স্বার্থপর বৃদ্ধ মানুষটি, তাই জীবনে প্রথমবার সুপারিশ করে তোমাকে এই স্পেসস্টেশনের কর্ণধার হিসেবে নিযুক্ত করেছি। এই ভার অন্য কাউকে দিয়ে আমি নিশ্চিন্ত হতে পারবনা আদিত্য। তোমার কাছ থেকে আমি প্রতিশ্রুতি চাই যদি কোনো মহাবিনাশ হয় তবে মানব সভ্যতার অন্তিম চিহ্ন হয়ে যত কাল সম্ভব তোমরা নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখবে এই মহাবিশ্বের বুকে।”

স্তব্ধ ডক্টর আদিত্য নীরবে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন তার এই পথপ্রদর্শকের দিকে।
এক দীর্ঘ সময় পর অবশেষে কোনমতে বলে ওঠে সে,” ডক্টর যদি সেরকম কোনো মহাবিনাশ সত্যি হয়, তবে তার প্রতিকার কি?”

একটা প্রাণ খোলা হাসি হেসে বলে উঠলেন ডক্টর রিচার্ড ” আমাদের সাধ্য কি ডিয়ার , এত বৃহৎ এক মহাশক্তির কাছে মানব সভ্যতা আজ অসহায়। উপায় আমাদের হাতে নেই আদিত্য , আছে শুধুই একজনের কাছে। ”
আদিত্য ব্যাকুল স্বরে বলে উঠলো ,”কার কাছে ?”

ডক্টর রিচার্ড বলে উঠলেন, ” সৌরমন্ডলের অধীশ্বরের হাতে। ”
আদিত্য বিস্মিত স্বরে বলে ওঠেন,”কি ভাবে ডক্টর?”

ডক্টর রিচার্ড হাসি মুখে পুনরায় বলে ওঠেন,” এই কৃষ্ণ গহ্বর প্রাকৃতিক নয় আদিত্য, কৃত্রিম মানব নির্মিত। তাই এর শক্তি এবং সময়কালও সীমাবদ্ধ, সৌর কিরণ এই কৃষ্ণ গহ্বরের অস্তিত্বকে কখনই মেনে নিতে পারবেনা। কালের পর কাল সংগ্রাম চলবে এই মানবনির্মিত কৃত্রিম কৃষ্ণগহ্বর এবং দিবাকরের মধ্যে,এই কৃষ্ণগহ্বর প্রাকৃতিক হলে অনেকগুণ বেশি ক্ষমতাশালী হত,আর সেক্ষেত্রে সৌরমন্ডলের স্রষ্টার পরাজয় হত নিশ্চিত। কিন্তু এই কৃত্রিম কৃষ্ণগহ্বরের শক্তি সীমাবদ্ধ ,তাই যুগের পর যুগ ধরে ক্রম সংঘাতের পর একসময় এর অস্তিত্ব মুছে যাবে সৌরমন্ডলের বুক থেকে। কিন্তু কত কাল কত যুগ পার করে এই সংগ্রাম চলবে তা চির অমীমাংসিত মাই ডিয়ার।”

স্তব্ধ হয়ে ডক্টর রিচার্ড এর দিকে তাকিয়ে থাকে তার প্রিয় শিষ্য ডক্টর আদিত্য রয়। ধীর পদক্ষেপে স্পেস শিপে গিয়ে ওঠেন ডক্টর রিচার্ড। কিছু সময় পরে স্পেসশিপ স্পেসস্টেশন থেকে টেকঅফ করে প্রবেশ করে সৌরমন্ডলের বুকে। স্পেসস্টেশনের টেলিস্কোপের লেন্সে চোখ রেখে ডক্টর আদিত্য রায় একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সৌরমন্ডলের গর্ভে জন্ম নেওয়া এই মহাকায় কৃষ্ণ গহ্বরের দিকে।…

ডক্টর রিচার্ডের স্পেসশিপ প্রবল বেগে এগিয়ে চলেছে এই রহস্যময় কৃষ্ণকায় গোলকধাঁধার দিকে। একটু একটু করে পূর্ণ রূপ পেতে চলেছে শত বিজ্ঞানসাধকের কয়েক শতাব্দীর সাধনার ফসল। অবশেষে ডক্টর রিচার্ড এর চোখের সামনে ফুটে উঠলো তার এত বছরের স্বপ্ন! এই মহাশক্তি যা আজকের এই যুগের সর্ব শ্রেষ্ঠ কীর্তি। যা বদলে দেবে পৃথিবী তথা সৌরমন্ডলের ইতিহাসকে।

হঠাত একটা প্রচণ্ড আকর্ষণে স্পেস শিপের সিট থেকে ছিটকে পড়লেন ডক্টর রিচার্ড। গভীর বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন তিনি। কিসের এই আকর্ষণ? মহাবিশ্ব তো মাধ্যাকর্ষণহীন এক ভর যুক্ত কিন্তু ভারহীন জগত ,তবে এই আকর্ষণ কার ?

হঠাৎ তার দৃষ্টি পড়ল মহাকাশের বুকে জন্ম নেওয়া এই কৃষ্ণ গহ্বরের দিকে। এক অপ্রত্যাশিত রূপে যেন নিজেকে মহাবিশ্বের বুকে তুলে ধরেছে কয়েক শতাব্দীর বিজ্ঞান সাধনার এই ফসল। এক অদ্ভুত অজানা অচেনা তরঙ্গের স্রোত যেন ক্রম প্রবাহিত হয়ে চলেছে এর কেন্দ্রবিন্দু থেকে, আর সেই অদ্ভুত স্রোত যেন একটু একটু করে গ্রাস করে নিচ্ছে সমস্ত সৌরজগতটাকে।

ডক্টর রিচার্ড যেন এক অদ্ভুত টান অনুভব করতে লাগলেন নিজের মধ্যে, একইসাথে শারীরিক ও মানসিক ভাবে!
তার মন যেন এক অচেনা গতিতে ক্রমশ এগিয়ে চলেছে ফেলে আসা অতীতের দিকে, আর তার শরীরে ঘটে চলেছে এক অদ্ভুত ক্রম পরিবর্তন। বৃদ্ধ ডক্টর রিচার্ড সময়ের বিপরীত উজানে হারিয়ে গিয়ে ফিরে যাচ্ছেন তার প্রৌঢ় বয়সে ,আরো অতীতের পথে ক্রমশ এগিয়ে চলেছেন তিনি প্রৌঢ়ত্ব থেকে যৌবনে, এগিয়ে চলেছে তার ক্লান্ত মন এবং জরাগ্রস্ত শরীর। কিন্তু এখানেই থেমে থাকছেনা সময়ের অদ্ভুত খামখেয়ালিপনা ,আরো পিছিয়ে যাচ্ছেন তিনি যৌবন থেকে কৈশোরে,কৈশোর থেকে শৈশবে,উল্টো করে চালানো একটা সিনেমার রীলের মত তার ফেলে আসা

জীবনের বহু মানুষ যেন একে একে তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে আর তারই সাথে একে একে আবার এক গভীর অসীমতায় হারিয়ে যাচ্ছে ,শৈশব থেকে আরো অতীতে হারিয়ে যাচ্ছেন তিনি, একটা সময় তার সমস্ত শরীর সংকুচিত হতে হতে শুধুমাত্র একটি ভ্রুনে পরিণত হলো ,আর তাথেকে শেষ অব্দি শুধুমাত্র একটি কোষে,আর তারপর ডক্টর রিচার্ডের আর কোনো অস্তিত্বই থেকে গেলনা। সময়ের অদ্ভুত খামখেয়ালীপণায় মহাবিশ্বের এই যাত্রাপট থেকে চিরদিনের জন্য মুছে গেলেন এই বৃদ্ধ বিজ্ঞানতাপস। কিন্তু সেখানেই থেমে থাকলোনা তার নিজের হাতে জন্ম দেওয়া সন্তানের অদ্ভুত পাগলামি। একটু একটু করে কৃষ্ণগহ্বরের অদ্ভুত প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে লাগল সমস্ত সৌরমন্ডলে জুড়ে। তার আজব খেয়ালে সমগ্র সৌরমন্ডল ক্রমশ হারিয়ে যেতে লাগল সময়ের এক অদ্ভুত গোলকধাঁধায়। আর সৌরমন্ডলের বাইরের একটি বিশেষ স্পেসস্টেশন থেকে টেলিস্কোপের লেন্সে চোখ রেখে এই অদ্ভুত পাগলামি দেখে বিস্ময়,আতঙ্ক এবং এক অসহায় ক্ষোভে এক তীব্র আর্তনাদ বেরিয়ে এলো তিরিশ বছর বয়সী এক নবীন বিজ্ঞানীর কন্ঠ চিরে…।

 

আমার নাম আদিত্য, আদিত্য রায়। কাজ কি করি ? কাজ হিসেবে বলতে পারেন সৌরমন্ডলের বাইরের এই স্পেস স্টেশনের কর্ণধারের দায়িত্ব পালন করা ,যদিও আমার প্রকৃত দায়িত্ব এখন কি তা আমি নিজেও ভালোভাবে আর জানিনা।

বয়স কত আমার ?
এত ভারী সমস্যার প্রশ্ন করলেন মশাই এক হিসেবে তা চৌত্রিশ আর অন্য হিসেবে ৪০০৩৪ বছর। কি আঁতকে উঠলেন নাকি? কি করব বলুন আমি নিজেও আগে মাঝে মাঝে সবটা ভাবলে ভয়ে আঁতকে উঠতাম। এখন আর কোনো ভয় নেই, আসলে ভয়ের অনুভূতিটা এতবার এত কাছ থেকে দেখেছি , যে সেই অনুভূতিটাই আজ ভেতর থেকে মরে গেছে,শুধু পরে রয়েছে এক প্রতিশ্রুতি এবং অপরিসীম দায়িত্ববোধ। প্রতিশ্রুতি নিজের গুরুর প্রতি আর দায়িত্ব সমস্ত মানবজাতির জন্য।

সেইদিন, আজ থেকে চল্লিশ হাজার বছর আগে সৌরমন্ডলের মধ্যে নব নির্মিত কৃষ্ণ গহ্বরের যে অদ্ভুত পাগলামি ঘটেছিল তার প্রভাব পরে সমস্ত সৌরমন্ডলের উপর। অভিশপ্ত হয়েছিল সমস্ত মানব সভ্যতা। কিন্তু সবথেকে বড় অভিশাপ বোধহয় পরেছিল আমার উপর। কি কিছু বুঝতে পারছেননা তাই তো ?

চিন্তা করবেননা সবটা খুলে বললেই বুঝতে পারবেন। সেই দিন আমার শিক্ষক মহান বিজ্ঞান সাধক ডক্টর রিচার্ড যে আশংকা করেছিলেন তা বর্ণে বর্ণে সত্য প্রমানিত হয়েছিল। সৌরমন্ডলের সীমার মধ্যেই কৃষ্ণ গহ্বর নির্মানের যে অবুঝ স্বার্থপর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তথাকথিত রাষ্ট্রনায়কেরা ,তার মাশুল দিতে হয়েছিল সমস্ত মানব সভ্যতাকে। তথাকথিত রাষ্ট্রনায়কদের প্রতিদ্বন্দিতার ফলস্বরূপ ঘটে যাওয়া এক আকস্মিক পারমানবিক বিস্ফোরণ বদলে দিয়েছিল সৌরমন্ডলের মহাকর্ষীয় শক্তির ভারসাম্যকে। আর তার ফলেই এক অদ্ভুত পরিবর্তন ঘটে গেছিল ওই

নবনির্মিত কৃষ্ণ গহ্বরের অন্তরে ,সমস্ত সৌরজগতকে গ্রাস করে এক অচেনা সময়ে পাঠিয়ে দিয়েছিল এই মহাশক্তি। দশ হাজার বছর পেছনে চলে গেছিল সমস্ত সৌরজগত ,সমস্ত মানব সভ্যতা নিজেদের সমস্ত স্বত্তা হারিয়ে বন্দী হয়েছিল দশ হাজার বছর আগের এক সুদূর অতীতে , আর শুধু এক নিরব দর্শক হয়ে এই মহাবিনাশের সাক্ষী হয়ে রয়েছিলাম আমি। না শুধু আমি একা নই, বসুন্ধরার বুকের ওই কয়েকটি স্থান যা পদার্থবিদদের সাধনার ফসল “রক্ষক” তরঙ্গ দিয়ে সুরক্ষিত ছিল তারাও কোনক্রমে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে পেরেছিল। কিন্তু বাস্তবে তাদের জীবন হয়ে উঠেছিল আরো অভিশপ্ত, তাদের স্মৃতিতে বেঁচে রয়েছে আধুনিক বিজ্ঞানের যুগ কিন্তু তারা পৌছে গেছে দশ হাজার বছর আগের প্রাচীন অতীতে। তবুও হার মানেনি এই মানব সন্তানেরা, নিজেদের জাতির কিছু স্বার্থপর

অবুঝ মানুষের ভুলের মাসুল দিতে ওই কয়েকটি কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আবার তারা বিজ্ঞানের আলো পৌছে দেওয়ার সংকল্প করে ছিল বসুন্ধরার প্রতিটি প্রান্তে। গ্রীস,সিন্ধুদেশ,চীন, মিশর এবং মেসোপটেমিয়া নতুন করে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ভুলে যাওয়া সভ্যতার কিরণ ছড়িয়ে দেওয়ার গুরু দায়িত্ব তুলে নেয় নিজেদের কাঁধে।

এরপর ধীরে ধীরে কেটে যায় দশ হাজার বছর ,এই সময় নিজের প্রতিশ্রুতিকে বাঁচিয়ে রাখতে স্পেস স্টেশনের সমস্ত স্টাফদের নিয়ে দশহাজার বছরের হাইবারনেসন চলে যেতে হয় আমাকে। আশা করেছিলাম এই দীর্ঘ সময় পর আবার নিজের চেনা পৃথিবীকেই ফিরে দেখতে পাব, কিন্তু এই মূর্খ বিজ্ঞান ভিক্ষুর কাছে সেই আশা দুরাশা হিসেবেই অধরা রয়ে গেছিল। দশ হাজার বছরের গভীর নিদ্রা থেকে উঠে যখন দেখেছিলাম পৃথিবীসহ সমস্ত সৌরজগতকে আবার সভ্যতার চূড়ান্ত শিখরে উঠে যেতে ,যখন ভেবেছিলাম অবশেষে কৃষ্ণ গহ্বরের অভিশাপ কেটে বেরিয়ে আসতে পেরেছে সমস্ত সৌরজগত। তখনই আমার মূর্খামিতে হেসে উঠে আবার নিজের অভিশপ্ত স্বত্তার প্রকাশ ঘটিয়ে ছিল লুকিয়ে থাকা ওই কৃষ্ণগহ্বর ,না এবার কেউ তা নির্মান করেনি কিন্তু দশ হাজার বছর ধরে মানব সভ্যতার উন্মেষের সাথে সাথে মানুষের হাতে নির্মিত ওই কালো অভিশাপ আবার নিজের পুরনো স্বত্তায় ফিরে আসে একটু একটু করে। আর অবশেষে দশ হাজার বছর পর ১৬ জুলাই এর সেই অভিশপ্ত দিনটিতেই আবার নতুন করে আত্মপ্রকাশ করে সে।

এইভাবে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে চলেছে গত চল্লিশ হাজার বছর ধরে,প্রতি দশ হাজার বছর পর আমি ঘুম থেকে জেগে উঠি প্রবল উত্কন্ঠিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি আমার চির পরিচিত অথচ অচেনা সৌরজগতের দিকে। অসহায়ের মত দেখি আবার তাকে অভিশপ্ত হতে। তারপর যতটা সম্ভব সৌরমন্ডলের সীমারেখার থেকে দুরত্ব বজায় রেখে এই অদৃশ্য তরঙ্গের গবেষণা চালাই, বোঝার চেষ্টা করি এই অভিশাপের মূল রহস্য, খোঁজার চেষ্টা করি কোনো প্রতিকার , তবে সৌরমন্ডল এর সীমারেখা থেকে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে। কারণ একবার ওই সীমায় প্রবেশ করলে আমরাও চিরকালের মতন হারিয়ে যাব সময়ের ওই অদ্ভুত চক্রব্যূহে! তাই শত ইচ্ছা স্বত্তেও আমরা ফিরে যেতে পারিনা নিজেদের এত সাধের বসুন্ধরার বুকে।

এক বছরের সাধনার পর নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ও সময়ের আক্রমন থেকে বাঁচতে আবার চিরনিদ্রার গর্ভে আশ্রয় নিতে হয় আমাকে।

বারংবার এক ঘটনা ,একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। আমার এই ছোট্ট স্পেস স্টেশন এর স্টাফরা ধীরে ধীরে অধৈর্য হয়ে ওঠে, আমাকেই তাদের শান্ত করতে হয় ,বোঝাতে হয় আমাদের দায়িত্ব,কর্তব্য, অপেক্ষার মূল্য।

তারপর আবার একদিন ঘুম থেকে উঠে গভীর উত্কন্ঠায় তাকিয়ে থাকতে হয় নতুন করে আশায় বুক বেঁধে। তবে এই নিরাশার সমুদ্রের মাঝেও অবশেষে সত্যি সত্যি জেগে উঠেছে এক নব আশার কিরণ। সত্যে প্রমানিত হতে চলেছে আমার পথ প্রদর্শনকারী সেই মহান বিজ্ঞানীর ভবিষ্যতবাণী। একটু একটু করে কৃষ্ণ গহ্বরের প্রভাব কমছে সৌরমন্ডলের গর্ভ থেকে তার নিয়ন্ত্রকের পবিত্র কিরণের স্পর্শে। দিবাকর অবশেষে তার সংগ্রাম শুরু করেছে ওই কালো অভিশাপের বিরুদ্ধে , প্রবল যুদ্ধে নিজের রাজ্যকে শাপমুক্ত করার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছে সে ,আর তার সাথে অতুল উত্কন্ঠা নিয়ে আমরাও অপেক্ষা করছি সেই আগামী বিজয় দিনটির স্বপ্ন নিয়ে, যে দিন অবশেষে এই কালো অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে মানব সভ্যতা। আর আমরা ফিরে যেতে পারব আমাদের নিজেদের গৃহে, আজকের মানব জাতিকে জানাতে পারব তাদের প্রকৃত ইতিহাস। তুলে ধরতে পারব আমাদের সহস্রাব্দীর বিজ্ঞান সাধনার ফসল তাদের সামনে।

ডক্টর রিচার্ড পৃথিবীর প্রাচীন ভাষাগুলিকে ভালবাসতেন, তাদের কাহিনী পড়ে শোনাতেন আমাকে। একবার তিনি আমাকে শুনিয়েছিলেন হিন্দু মহাকাব্য রামায়নের এক রাক্ষসের কথা যে নাকি ছয় মাস ঘুমিয়ে এক দিন জেগে থাকত ,আজ আমিও বোধ করি সেই একই জীবনযাপন করে চলেছি!
দশ হাজার বছরের নিদ্রা তারপর এক বছরের জীবন।

তবু আজও আশার আলোয় বুক বেঁধে তাকিয়ে রয়েছি সৌরমন্ডলের অধীশ্বরের দিকে। প্রতিদিনের মত আজও স্পেস স্টেশনের কাঁচের জানালা দিয়ে তার দিকে এক দৃষ্টি্তে তাকিয়ে তার সমনামী এই ক্ষুদ্র মানব সন্তান তাকে জানায় এক ভুলে যাওয়া কালজয়ী ভাষায় প্রণাম।

ওঁ জবাকুসুমসঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম্।

ধ্বান্তারিং সর্বপাপঘ্নং প্রণতোহষ্মি দিবাকরম্॥..

গল্পের বিষয়:
সাইন্স-ফিকশন

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত