অবহেলা

অবহেলা

অনুর তিন বছরের সম্পর্ক আজ বিচ্ছেদ ঘটলো। চোখের সামনে ভালোবাসার মানুষকে অন্য একজনের সাথে দেখে বুকটা ফেটে যাচ্ছে অনুর। সাফিন ইরা নামের একটা মেয়ের হাত ধরে হাঁটছে। ইরা আবার অনুর বেস্টফ্রেন্ড। আজ সকালেই সাফিন অনুর কাছ থেকে মুক্তি চেয়ে নেয়। অনুও জোর করে নি কারণ জোর করে কারো মন জয় করা যায় না। তিনঘন্টাও হয় নি ওদের বিচ্ছেদের আর এখনই সাফিন অন্য কাউকে খুঁজে নিলো। ইরা ওদের থেকে চোখ ফিরিয়ে সামনে এগোতে যায়। তখন ইরা আর সাফিন ইরার কাছে আসে

“কি রে অনু কেমন আছিস? টিটকারি মেরে বলে ইরা। অনু একবার সাফিনের দিকে তাকায় তারপর একটু হেসে বলে

“ভালো

” শোন ইরা আমরা না সামনে মাসে বিয়ে করছি

“দামী একটা গিফট দিয়ে পেটপুরে খেয়ে আসবো। তোমরা সুখে থাকো দোয়া করি অনু যেতে নেয় সাফিন পথ আটকে বলে

” নতুন পেয়ে গেছো নিশ্চয়। একটা এডভাইস দেই নতুন যাকে পাবে না তার সামনে একটু সেজেগুজে থাকবে।

আসলে এখনকার ছেলেরা একটু মর্ডান মেয়ে পছন্দ করে। আর তুমি তো গাইয়া। আমি বলে তোমার সাথে এতোদিন রিলেশন করেছি অন্য কোনো ছেলে হলে কবেই ভাগতো। তুমি কি জানো তুমি একটা বোরিং গার্ল। অনুর সাফিনের কথাগুলো ভীষণ আঘাত করে। অনুর চোখে পানি চলে আসে। দাঁতে দাঁত চেপে কান্না আটকায় অনু।

“এবার নিশ্চয় মনের মতো গার্লফ্রেন্ড পেয়েছো। মর্ডান

” হুম। ইরা আমার মনের মতো

“বেশ তো ভালো থেকো। কখনো ডিস্টার্ব করবো না

” তোকে কখনো ডিস্টার্ব করার সুযোগও দেবো না।

যেখানে যাচ্ছিলি যা। আর আমাদের চোখের সামনে আসবি না অনু চলে যেতে নেয়। সাফিন আর ইরা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলো। একটা গাড়ি এলোমেলো ভাবে চলছিলো অনু দেখতে পায়। দৌড়ে গিয়ে সায়ানকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার বাইরে ফেলে দেয়। অনু হাতে ব্যাথা পায়। অনু রাস্তার পাশে বসে পড়ে। হাতে অসম্ভব ব্যাথা করছে। ব্যাথায় অনুর চোখ দিয়ে পানি পরছে। সাফিন আর ইরা পুরো ঘটনা জানার পরেও চলে যায়। সাফিন একবার পেছন ঘুরে তাকায়। অনু কি হয়েছে? অনুর চাচাতো ভাই সাদাত এই রাস্তা দিয়েই যাচ্ছিলো৷ অনুকে দেখে দৌড়ে অনুর কাছে আসে।।অনু সাফিনকে দেখে কান্নার গতি বাড়িয়ে দেয়

“বল না আমাকে কি হয়েছে??

” হাতে ব্যাথা

সাফিন অনুর হাতটা ধরে গাড়িতে করে হসপিটালে নিয়ে যায়। কান্না করে অনুর চোখ ফুলে গেছে। হাতটা ভেঙে গেছে। ডাক্তার ব্যান্ডেস করে দিয়েছে। অনু হাসপাতালের বেডে বসে আছে। অনুর সামনে অনুর বাবা মা আর সাদাত বসে আছে।

“বল মা কি করে এমন হলো

” বাবা জাস্ট এক্সিডেন্ট। আমি বাড়ি যাবো প্লিজ

“কিন্তু অনু

” প্লিজ ভাইয়া ভালো লাগছে না।

অনুকে নিয়ে বাড়ি চলে আসে ওরা। নিজের রুমে বসে কান্না করছে অনু। কাল ওবদি সব ঠিক ছিলো আজ হঠাৎ করেই সাফিন চেঞ্জ হয়ে গেলো। হঠাৎ বললে ভুল হবে অনেকদিন যাবতই সাফিন কেমন বদলে গেছে। ইরার সাথে সাফিনের পরিচয় হওয়ার পর থেকে। অনু কান্না থামিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ায় “সাফিন আজ আমায় অনেক বড় কথা বলেছে। আমিও প্রমান করে দেবো সাফিন আমাকে কষ্ট দিয়ে ভুল করেছে। আমি গায়য়া। আমি ঘুরে দাঁড়াবো। মুভ অন করবো। দরজায় টোকা পরে। অনু দরজা খুলে দেখে সাদাত।

” তুমি

“ভেতরে আসবো

” হুম এসো সাদাত অনুর বেডে বসে।

“সাফিন তোকে ছেড়ে দিয়েছে

” বাদ দাও

“কেনো? আমি আগেই বলেছিলাম ও তোকে ভালোবাসে না।

“কেনো ভালোবাসবে আমায় আমি তো গাইয়া। মর্ডান না। পরিপাটি না।

” যে তোকে সত্যি ভালোবাসবে তার কাছে এসব কোনো বিষয়ই না। যে তোকে ভালোবাসবে সে তোর মনটা দেখবে। তোর রুপ না। বদলানোটা ভালোবাসা না মানিয়ে নেওটাই ভালোবাসা

“বিয়ে করবে আমায় সাদাত চুপ হয়ে যায়

” চুপ হয়ে গেলে কেনো? অনস্মার্ট মেয়েকে বিয়ে করতে দিধাবোধ করছেন সাদাত কিছু না বলে চলে যায়। অনু কান্না করে। পরেরদিন মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙে অনুর

“মা কি হয়েছে?

” আজ তোর বিয়ে বিয়ে কথাটা শুনে অনু লাফ দিয়ে উঠে বসে

“বিয়ে মানে

” সাদাত তোকে বিয়ে করবে তাও আবার আজই সেদিন অনু আর সাদাতের বিয়ে হয়। ছয় বছর পরে। সাদাতের অফিসে বসে আছে সাফিন। একটা চাকরির জন্য। চাকরির বিষয় নিয়ে কথা বলছে তখন চার বছরের একটা বাচ্চা মেয়ে দরজায় দাঁড়ায়

“বাপি সাদাত খুশি হয়ে বাচ্চাটাকে কোলে তুলে নেয়।

” মামনি তুমি এখানে কার সাথে এসেছো

“মামনির সাথে

” সাদাত পরি এসেছে

অনু সাদাতের কেবিনে ঢুকতে ঢুকতে কথাটা বলে। সাদাতের সাথে সাফিনকে দেখে একবার সাফিনের দিকে তাকায় অনু। মুখটা শুকিয়ে গেছে। চুল গুলো এলোমেলো। সাফিন অনুকে দেখে তাকিয়ে আছে। কতো মর্ডান হয়ে গেছে অনু। আগের চেয়ে বেশি সুন্দর হয়েছে।

“মা মেয়ে মিলে হঠাৎ অফিসে আসলে যে

” বাপি আজ আমাদের শপিং এ যাওয়ার কথা ভুলে গেছো সাদাত এক কানে হাত দিয়ে বলে

“সরি মামনি

” সরি বললে হবে না পরি বাপিকে বলো আজ সারাদিন আমাদের নিয়ে ঘুরতে হবে

সাফিন ওদের দেখছে। কতো সুন্দর পরিবার ওদের। সাফিন মর্ডান ইরাকে বিয়ে করেছিলো। তিনমাস পরেই ডিভোর্স নিয়ে চলে যায়। সাফিনের চোখ ভিজে ওঠে।

“মিস্টার সাফিন আজ আর হবে না। আজ আমার মেয়ের বায়না পূরণ করতে হবে। আপনি বরং কাল আসেন

” ঠিক আছে সাফিন বেরিয়ে যায়।

“তোমরা বসো আমি গাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসি অনু বেরিয়ে দেখে সাফিন দাঁড়িয়ে আছে। অনু পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নেয়

” অনু

“কিছু বলবে

” কেমন আছো

“খুব ভালো। আপনি

” ভালো

“হুম ভালো তো থাকারই কথা। মর্ডান স্মার্ট বউ পেয়েছেন যে

” হুমম

“আসি হ্যাঁ আমার স্বামী সন্তান আমার জন্য অপেক্ষা করছে। অনু চলে যায়।

” আমি সোনা চিনতে ভুল করেছি অনু। আমি আমার জীবনের বেস্ট জিনিস হারিয়ে ফেলেছি সাফিন দুফোঁটা চোখের পানি ফেলে “জানি তুমি ভালো নেই। তোমার কষ্টটা আজও আমি সয্য করতে পারি না।

আজও আমার মনের কোনো একপাশে তুমি রয়েছো। তবে তোমাকে ধন্যবাদ দেই কারণ তোমার জন্য আমি আমার জীবনের বেস্ট মানুষটাকে খুঁজে পেয়েছি। অনুর চোখ থেকেও দুফোঁটা পানি গড়িয়ে পরে।

গল্পের বিষয়:
দু:খদায়ক
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত