ভুল সিদ্ধান্ত

ভুল সিদ্ধান্ত
পারিবারিক ভাবে আমার আর অভির বিয়েটা হয়েছে।বিয়ের আগে যেদিন বিয়েটা পাকা করার কথা হয় সেদিন উনার সাথে প্রথম কথা হয়।উনি তেমন কিছু জিজ্ঞেস করেন নি শুধু নাম আর কোথায় পড়ি,,,বিয়ের পর পড়াশোনা করতে চাই কিনা এসব জিজ্ঞেস করেছিলেন।
আমি এত ভয় পেয়েছিলাম যে উনাকে কোন কিছু জিজ্ঞেস করার সাহস পাই নি। বিয়েটা ঘরোয়া ভাবেই হয়। বিয়ে নিয়ে সবারই স্বপ্ন থাকে আমার ও ছিল।অনেক আশা নিয়ে বাসর ঘরে চোখের নিচ পর্যন্ত ঘোমটা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। স্বামী রুমে এসে আমার পাশে বসলে ভয়ে গুটিয়ে ফেলি পা গুলো। উনি বলে–আমার কথাগুলো প্লিজ খারাপ ভাবে নিবেন না।কিন্তু আমাদের সাংসারিক জীবন শুরু করতে আমাকে সময় দিতে হবে।আসলে আমি অন্য কাউকে ভালোবাসতাম। কথাটা শুনেই চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল।আমি খাট থেকে নেমে পড়লাম। আমি কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলি–এখন আপনি বলবেন আমাকে মেনে নিতে পারবেন না।আলাদা শুতে হবে,,,আপনি বলার আগেই আমি মাটিতে গিয়ে শুয়ে পড়ি।
আমি ২পা ফেলতেই উনি বলে বসে–আরে না না,,এমন কিছু না।আমাদের স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক তৈরি করার আগে ত নিজেদের জানা উচিত ভালোভাবে তাই না।আমার ত আপনাকে জানার ইচ্ছা আছে।আপনার ও আছে তাই না?কথাটা বলেই হাসি দিলেন। আমি বলি—প্রথমে এই কথাটা বললেই হত।কাকে ভালোবাসেন না বাসেন আমি কি এগুলো জানতে চেয়েছি নাকি!বলেই মুখ গোমড়া করে উনার পাশে বসে পড়লাম। উনি মিষ্টি হেসে বললেন –বিয়ে করে বউ করে এনেছি আপনাকে এখন বিয়েটাকে পূর্নতা দেওয়ার দ্বায়িত্ব আপনার আমার দুজনএর ই । আপনি জামা কাপড় ছেড়ে শুয়ে পড়ুন। সব ই মোটামোটি ঠিক। অচেনা মানুষের সাথে ঘর করতে সবারই প্রথম প্রথম সমস্যা হয়। খাবারের টেবিলে শাশুড়ী বলছে–আরে অভি তুই পুর্নতা কে নিয়ে কবে হানিমুনে যাচ্ছিস? হানিমুনের কথা শুনে আমি লজ্জা পেয়ে মাথা নামিয়ে ফেলি।
উনি বলে—মা তোমাকে একা ফেলে কেমন করে যাব?চল সবাই মিলে কোথাও থেকে ঘুরে আসি।কথা টা শুনে মুখ কালো হয়ে যায় আমার।এমন না যে শাশুড়ী কে দেখতে পারি না।তাই বলে কি হানিমুনে শাশুড়ী নিয়ে ঘুরবো নাকি!উনাকে ত সরাসরি কথাটা বলা যাবে না।খারাপ ভাববে। রুমে এসে ভাবতে লাগি—নিশ্চয় উনার ভালোবাসার মানুষ কে ভুলতে পারে নি।তাই ত এখনও স্ত্রীর অধিকার দেয় নি। সকালবেলা ভার্সিটি যাব।ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে গিয়েছে। তাড়াতাড়ি রেডি হচ্ছি উনি বললেন—আমি কি পৌছে দিবো আপনাকে? আমি বলি–না না,,,সরি আমি সকালে নাস্তা বানাতে পারি নি। উনি হেসে বলে–আপনি ত প্রতিদিনই বানান,,,,আজ বাইরে থেকে নাস্তা কিনে এনেছি।আপনি একটু ধীরস্থির হয়ে নাস্তাটা খেয়ে নিয়েন।আর আম্মাকে রুমে খাবার টা দিয়ে আসিয়েন।আম্মার বাতের ব্যাথা হাটতে কষ্ট হয়।আমি বলি-
-ঠিক আছে। স্বামী যাওয়ার পর পর ই ফোন বেজে উঠে।
–পুর্নতা কখন আসবি?ক্লাস কিন্তু ১০মিনিটে শুরু হবে।ইম্পর্ট্যানট ক্লাস দেরি করিস না।
–হুম হুম আমি রাস্তায়।এসেই পড়েছি।
কিন্তু এদিকে বাড়ি থেকে বের হতেই পারি নি।তাড়াতাড়ি দৌড় দিয়ে গেটের কাছে এসে চিল্লিয়ে বলি–আম্মা দেরি হয়ে গেছে।গেলাম শাশুড়ী কে খাবার দেওয়া কথা কলেজ পৌছেছি তখন মনে পড়লো।কিন্তু যাওয়ার উপায় নাই।
ভাবছি একটু উঠে খেয়ে নিবেন।
দুপুরে বাড়ি ফিরে দেখি অভি গেট খুলে দিলো।আমি হেসে বলি—-আপনি আজ বাড়িতে লাঞ্চ টাইমে?ভেতরে ঢুকে ব্যাগটা টেবিলের উপর রেখে –উনি কি খাবেন বানিয়ে দি কথাটা বলেপেছনে ঘুরতেই দেখি দেখি বিরক্তি ভরে তাকিয়ে রয়েছেন। উনি বলে—আপনার দ্বায়িত্ব জ্ঞান বলে কিছু আছে?কথাটা শুনে অবাক হয়ে যায়। উনি বলা শুরু করে—আপনি বাড়ির বউ হয়ে এসেছেন।আপনার কিছু দ্বায়িত্ব আছে।সকালে নাস্তাটাও তার মধ্যে পরে।কিন্তু আজ বানাতে পারেন নি ঠিক আছে।আমি বাইরে থেকে খাবার পর্যন্ত এনে দিলাম।কিন্তু আপনি খাবারটা প্লেটে নিয়ে আম্মার ঘরে দেওয়ার সময় টুকু পেলেন না।আপনি জানেন আম্মার ডায়বিটিসের রোগি।ঠিক সময় মতন খাওয়া কত দরকার।
আমার কারো উপর বিশ্বাস করা উচিত ই হয় নি।বিয়ের আগে যেমন করে মায়ের খেয়াল রাখতাম তেমন করেই রাখতে হবে ত আপনাকে বিয়ে করে কি লাভ হলো। উনার শেষ কথা তীরের মত বুকে বিধেছে।চোখের কোনায় যে জল আটকে ছিলো তা গড়িয়ে পড়ল। আসলে ভুল আমারই।কিন্তু তাই বলে এভাবে বলার কি দরকার ছিলো! দুপুরের খাবার ও বাইরে থেকে আনা হয়েছে।কিন্তু খাবার শুধু দুইজনের জন্য আনা হয়েছিল। বুঝতে বাকি নাই উনি নিজের আর শাশুড়ীর জন্য এনেছিলেন।আমার জন্য আনেন নি। আমি ও কিছু না খেয়ে রইলাম।অনেক ক্ষিধে পেয়েছিল কিন্তু সাহস হয়নি কিছু বানিয়ে খাওয়ার।নিজের বাড়িতে তে ত নেই যে কিছু বানিয়ে খাবো।যাদের বাড়িতে আছি তারা যখন খাবে না আমি কেমন করে খাই।বিয়ের পর নাকি শশুড় বাড়ি নিজের বাড়ি হয়।কিন্তু আমার মনে হয় এগুলো মিথ্যা কথা।
সারাদুপুর কান্না করি।উনি ঘরে আসেন নি একবার ও।দুপুর গড়িয়ে বিকেল কিন্তু আমার খেয়াল ই নাই।স্বামী শাশুড়ীর জন্য চা বানিয়ে উনাদের ঘরে দিতে যায়।দরজার কাছে যেতেই শুনতে পাই স্বামী বলছে—ওই মেয়েকে কেন বাড়ির বউ করে আনলা?কেমনমেয়ে এনেছো এখন বুঝো! দ্বায়িত্ব জ্ঞানহিন মেয়েকে বাড়ির বউ করে এনেছ আম্মা।কেমন করে এই মেয়ের সাথে সংসার করবো,,, যে মেয়ে আমার মায়ের দিকে উদাসীন সেই মেয়ের কোন দরকার নাই। শাশুড়ী বলে উঠে—তুই যাকে পছন্দ করতি তার সাথেই ত বিয়ে দিতে চেয়েছিলাম। স্বামী বলে—কিন্তু ও বিয়ের পর আলাদা থাকতে চেয়েছিলো। আলাদা হলে আমার মাকে কে দেখবে?আমার মায়ের থেকে আপন কেউ নাই।তাই ওর সাথে সম্পর্ক ভেঙে দি। এসব শুনে নিজেকে সামলাতে না পেরে মুখ চেপে ধরি।হাতে যে চা ছিল তা মাটিতে পড়ে কাপ ভেঙে যায়।পুরো গরম চা পায়ে পড়ে যায়।জ্বলে যাচ্ছে পা।তাও মাটিতে বসে ভাঙা কাপ গুলো তুলতে লাগি।
মনে হল সামনে এসে কেউ দাঁড়ালো। চোখ উঠিয়ে দেখি স্বামী। উনি বলেন—কোন কাজই কি ঠিক ভাবে করতে পারেন না। আমি কিছু না বলেই চুপ চাপ কাঁচের টুকরো গুলো তুলতে লাগি। রাতেও আমার সাথে স্বামী বা শাশুড়ী কোন কথা বললেন না। স্বামী ঘুমিয়ে গেলে আস্তে করে সাইড টেবিল থেকে উনার ফোন টা নিয়ে দেখতে চাই আসলে কে উনার ভালোবাসার মানুষ।এখনো কি যোগাযোগ রাখছেন নাকি,,মেয়েটাকে দেখার খুব শখ জেগেছে মনে,,,মেয়েটার নিশ্চয়ই কোন ছবি থাকবে।আমি উনার ফোন ঘাটাঘাটি করতে লাগি।হটাৎ কে জেনো পেছনে থেকে ফোনটা হেচকা টান দিয়ে নিয়ে নিলো।
পেছনে তাকিয়ে দেখি স্বামী। উনি বলে—আপনার এত বড় সাহস!আপনি আমার ফোনে হাত দেন,,,এসব কি ধরনের অভ্যাস!উনি অনেক চিল্লিয়ে কথা গুলো বলছিলেন।আমি ভয়ে কেঁদে দি।তারপর উনি বললেন–এখন ত দেখছি-ফোন লক করে রাখতে হবে যাতে কেউ ফোন পেলেও ভেতরে ইনফরমেশন না ঘাটতে পারে।উনি ফোনটা বালিশের তলাই নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।আমি মনে মনে ভাবছি—স্বামি স্ত্রীর মধ্যে কিসের লুকাছুপি!স্বামী যেমন সব জানার অধিকার আছে তেমনি স্ত্রীর সমান অধিকার আছে।কি লুকাচ্ছেন উনি।শত প্রশ্ন মনের ভিতর কিন্তু জিজ্ঞেস করার সাহস টুকু নাই।
৭দিন পর স্বামী অফিসের কাজে দেশের বাইরে যায়।আমি আর শাশুড়ী বাড়ি একা।গভীর রাতে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করে বসে বসে কাঁদি আর আল্লাহ কে বলি—হে আল্লাহ আমাকে স্বামী সুখ দাও।উনার মনে আমার জন্য ভালোবাসা স্থাপন করো।উনার মনে যদি কেউ বাসা বেঁধে থাকে তাকে ভুলিয়ে দাও।নিজের দ্বায়িত্ব জ্ঞান,স্বামী দ্বায়িত্ব বুঝার তৌফিক দান করো। তাহাজ্জুদের সালাতের পর ঘুমাই না আর।সকালে উঠতে যদি দেরি হয় তখন। এক নাস্তা বানানোর কান্ড নিয়ে ত রীতিমত বাড়ি ছাড়ার উপক্রম হয়েছিল। আর কোন ভুল করা যাবে না। ১মাস পর স্বামী আসে।আমি ত সেই খুশি।আমার জন্য বিদেশি চকলেট ব্যাগ ড্রেস মেকাপ অনেক জিনিস আনে।আমি মনে মনে ভাবছি তাহলে আর দুয়া কাজে লেগেছে এবার নিশ্চয়ই স্বামীর ভালোবাসা পাব।রাতে উনি আমায় আদার আদরে ভরিয়ে দিলেন। সব কিছুই ঠিক চলছে কিছুদিন পর প্রেগ্ন্যাসির কিছু লক্ষন সকালে বমি হওয়া ক্লান্ত থাকা সাইকেল বন্দ থাকা এসব দেখে ভাবলাম প্রেগ্ন্যাসির টেস্ট করা যেতেই পারে।
আমি প্রেগন্যান্ট কথাটা শুনে আমার স্বামী আর শাশুড়ী ত সেই খুশি।অনেক যত্ন করতে লাগে।স্বামী বলে–আজ রেডি থেকো।আল্ট্রাসনগ্রাফি করতে নিয়ে যাব।জানতে ত হবে নাকি সব ঠিক আছে কি না।তোমার বা বাচ্চার জীবনের কোন রিস্ক নেওয়া যাবে না। আল্ট্রাসাউন্ড করে বের হওয়ার পর থেকেই উনার মুখ কালো।যখন এসেছিলাম তখন উনি আমাকে ধরে সাবধানে এনেছিলেন।আর এখন যাওয়ার সময় আমায় পিছনে ফেলে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন।বাড়ি ফেরার সময় উনি কিছু বললেন ও না।
বাড়ি ফিয়ে উনি শক্ত করে হাত টা ধরে খাটে ফেলে দিলেন।আমি বলি—কি করছেন কি বাচ্চার যে ক্ষতি হবে।উনি বলেন–একদম চুপ।কার পাপ পেটে নিয়ে ঘুরছিস বেদ্দপ মেয়ে?আমি উনার কথা শুনে ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায়।বলি–কি বলছেন এসব।উনি বলে—নাটক তামাশা করার আর জায়গা পায় না।আমি বিদেশে কষ্ট করে টাকা কামাচ্ছি আর এদিকে উনি নোংরামু করছেন।বলেই উনি উনার মাকে ডাকতে লাগলেন।উনার মা এলে উনি সবার সামনেই আমাকে প্রশ্ন করে—আমরা ঘনিষ্ঠপূর্ন মুহুর্তে কাটিয়েছি ১মাস আগে।তাহলে বাচ্চার বয়স ত ৪মাস হওয়ার কথা।তাহলে রিপোর্টে বাচ্চার বয়স ৬মাস কেন?নিশ্চয়ই আমার আগে কারো সাথে রঙ্গ খেলা হয়েছিল। আমি নিজের কান কে বিশ্বাস করতে পারছি না।আমি কেঁদে বলে উঠি–বিশ্বাস করুন আমি সতি।আমার গায়ে কোন কালো দাগ নেই।আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে।
উনি আমার কথা না শুনেই উনার মাকে বললেন– এই মেয়েকে আমি মেনে নিবো না।ডিভোর্স দিয়ে দিব।উনার মা বলে–চুপ চুপ আস্তে বল।নিজেদের মধ্যে মিটমাট করে নে।সাত কান হলে লোকের কাছে মুখ দেখাতে পারব না।উনি বলে–আগে ওর পেটের পাপ সাফ করি তারপর ওকে মেনে নিব। আমি অভিকে বলি–স্বামি স্ত্রীর মধ্যে বিশ্বাস থাকা খুব জরুরি।দয়া করে সন্দেহের বশে নিজের সন্তান কে মেরে ফেলবেন না।আমি রেগে বলি–আগের ভালোবাসার ভুত নামে নি না?তাই এসব ভিত্তিহীন সন্দেহ করে ডিভোর্স দেওয়ার প্ল্যান করেছেন।জীবন প্রথম সাহস করে কথাটা বলি।আর উনি আর চুলের মুঠি ধরে সাথে সাথে দেওয়ালে কয়েকটা বারি মারে।আমি ব্যাথায় কেঁদে উঠি।
অভিঃ আমার বউ যে নোংরামু করতে পারে তা বিশ্বাস করতে পারছি না।তাই বলে ত রিপোর্ট ভুল দিবে না।তাই আগেই আমি ডাক্তারের কাছে যায়।সব খুলে বলি & গর্ভপাতের ব্যাবস্থাও করে দিতে বলি।উনি বলে–গর্ভপাত আইন গত অপরাধ।আর বাচ্চার বয়স ৬মাস ঠিক আছে।ডাক্তারি নিয়ম এগুলো নাকি বুঝবো না।বাচ্চার বয়স হিসাবের নিয়ম আলাদা।শেষ মার্সিকের প্রথম দিন থেকেই বাচ্চার বয়স গননা শুরু হয়।আমি উনার কথা বিশ্বাস করি নি।
আরও কয়েকজন ডাক্তারের সাথে কথা বলি সবাই একই বলে।
এখন ত নিজের উপর সেই রাগ হচ্ছে।অকারণে বউ টাকে সন্দেহ করে নিজের বাচ্চাই মেরে ফেলছিলাম। বাড়ি গিয়ে বউকে কিচ্ছু বলি না।বললে যে আত্মমর্যাদায় লাগবে।আমি কি কখনো ভুল করতে পারি! দুপুরে খাওয়ার পর গা এলিয়ে দিয়েছি খাটে।বউ পাশে এসে কেঁদে কেঁদে ফুপিয়ে ফুপিয়ে বলল—বিশ্বাস করুন আমার পেটে যে আছে তা আপনার।আমার গায়ে কোন কালো দাগ নেই।তাও যদি আপনি না মানেন তাহলে আপনি যে সিদ্ধান্ত নিবেন তাই হবে।আমি কোন অমত করবো না।দয়া করে আমাকে নিজের থেকে দুরে সরাবেন না।আপনাকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছি।
আমার মন চাইছিল বউকে সব বলে দি।আমার এ সম্পর্কে তেমন জ্ঞান না থাকায় আমি নিছক সন্দেহের বশে ওগুলো বলে গেলেছিলাম।কিন্তু আত্মসম্মানবোধের তাড়নায় বলতে পারি নি। সব ঠিক ঠাক চলছে।পুর্নতা একটু পর পর এসে বলছে–কবে ডাক্তারের কাছে ডেট পেলেন?অনেক খরচ হচ্ছে তাই না?আরেকবার ভেবে দেখেন না বিষয় টা। আমি এবার ও বলতে পারলাম না।ডাক্তারের সাথে কি কথা হয়েছে। পরের দিন সকালবেলা দেখছি পুর্নতা কি যেন খেয়ে প্লেট ধুতে যাচ্ছে।আমি বলি–সকালবেলা উঠেই খাওয়া শুরু করে দিয়েছো?কিন্তু কথাটা মজার ছলে বললেও বউ সেটা মজা ভাবে নি।সিক্ত নয়নে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষন তারপর রান্নাঘরে চলে গেলো।
সন্ধ্যার সময় খাটে শুয়ে টিভি দেখছি পুর্নতা বাথরুম থেকে বের হতে যেয়ে কেমন যেন হড়বড়িয়ে পড়ে যাচ্ছিল।আমি তাড়াতাড়ি করে ধরে ফেললাম।বউটা আমাকে শক্ত করে ধরে আস্তে আস্তে বলল—বেশি ব্লিডিং হচ্ছে ডাক্তারের কাছে যাওয়া লাগবে।প্লিজ নিয়ে চলুন না! এই কথাটা শুনার সাথে সাথেই বউ কে কোলে করে নিচে নিয়ে যায়।অটো করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বাচ্চাটা নষ্ট হয়ে যায়।বুকের ভেতরের কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।একটু বিশ্বাস করলে কি হতো!আমার বাচ্চাটা আমার কাছে থাকতো। পুর্নতা হাজারবার বলেছে বাচ্চাটা আমার।কিন্তু আমি জেদ ধরে রইলাম।বউ এর কাছে ছোট যাতে না হতে হয় তাই আসল কথা লুকিয়ে রেখেছিলাম।
বউকে বাড়ি ফিরিয়ে এনেছি।খাটে শুয়িয়ে দিয়েছি।বলেছি–কোন কাজ করতে হবে না।রেস্ট করো আমি ডিম সিদ্ধ ফল আনছি।রান্নাঘরে যেতে দেখি পিছনের বারান্দায় অনেক গুলো কাঁচা পেঁপে, আনারস,কলা পাতা,বাবলা শুটি। এগুলো দেখে বুঝাই যাচ্ছে গর্ভ পাতের ঘোরোয়া পদ্ধতির উপকরণ।বুকে পাথর রেখে নিশ্চয়ই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুর্নতা। রুমে আসতেই দেখি বউ ঘরে নেই।বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশ পানে চেয়ে চোখের জল ফেলছে।আমি পেছন থেকে বউকে জড়িয়ে ধরে বলি–মাফ করে দাও আমায় পুর্নতা।ও একটু জোরেই কেঁদে উঠল আর বলল–পাপটা ধুয়ে ফেলেছি এবার আপন করে নিবেন ত আমায়??

গল্পের বিষয়:
দু:খদায়ক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত