ভুলিনি তোমায়

ভুলিনি তোমায়
”ভাইজান একটা ফুুল নেন না ভাবি খুশি হইব” নামাজ পড়ে রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম।হঠাৎ পেছন থেকে ডাক শুনে ফিরে তাকিয়ে দেখি একটা জীর্ণশীর্ণ পোশাক পরিহিত ছেলে। বয়স কত হবে, এই বারো কি তেরো।
নাম কি তোর? স্যার মেহেদি।ফুলটা নেন না স্যার! আচ্ছা দে!কত টাকা দিব? স্যার ২০ টাকা। এই নে। স্যার আমার কাছে তো একশ টাকার ভাংতি নাই। লাগবে না রাখ। স্যার আপনে না অনেক ভাল। হাসি দিয়ে সেখান থেকে চলে আসলাম। ফুলটি বাসায় এনে দেওয়ালে টাঙানো আলোর ফটোর নিচে রেখে মেঝেতে বসে পড়লাম,জলে ঝাপসা হয়ে আসে দু’চোখ। তুমি কি সব কিছু দেখতে পাও আলো?দেখো তুমি যে রকম বলেছিলে আমি এখন ঠিক সে রকম জীবনযাপন করি। কাওকে চোখ রাঙিয়ে কথা বলিনা,কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করিনা,মারামারি-দৌড়াদৌড়ি সব বাদ দিয়েছি।কিন্তু তুমি নেই!তুমি নেই তাও ও নয় আমার সবখানে তুমি আছো।
আমার চিন্তায় চেতনায়,আমার প্রতিদিনের আচারণ ব্যবহারে,জীবনযাপনে সবকিছুই এখন তুমি।তোমার দেওয়া জীবন আমি যাপন করে নিলাম। আলো আমি তোমাকে ভালোবাসি। এখনো ভালোবাসি তুমি শুনতে পাচ্ছো আলো? আমি জানি যে তুমি আমাকে আমার চেয়েও অনেক বেশি ভালোবাসো সেটা তুমি প্রমাণ করে দিয়ে গেছো। আমি কিচ্ছু প্রমাণ করতে পারিনি। আমাকে ক্ষমা করে দিও আলো,আমাকে ক্ষমা করে দিও। সেইদিন যদি আমি তোমার কথাটা একটু শুনতাম তুমি যেইভাবে বল সেইভাবে একটু চলতাম তাহলে আমি হয়তো তোমাকে হারাতাম নাহ। যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে হৃদয়ে অমর হয়ে রয়, সেই প্রেম তুমি আমাকে দিও। জেনে নিও তুমি আমার প্রানের চেয়ে প্রিয়। তুমি আমার প্রানের চেয়ে প্রিয়। গানটি শুনে পাগলির মত হাসতে থাকে আলো।
আরে আশ্চর্য হাসির কি আছে!আমি গান গাইব না নাকি?ঠিক আছে আমার হেড়ে গলা কিন্তু আমি তো সবার সামনে স্টেজে গান গাইছি না। আমি গান গাচ্ছি আমার মনের মানুষের সামনে, তার সামনে আমি যেকোন গলায় গান গাইতে পারি। ধরো আমি এখন তোমার সামনে কবি জীবনান্দ দাসের একটা কবিতা চিৎকার করে বলতে থাকি তোমার কি ভালো লাগবে না?অবশ্যই ভাল লাগতে হবে কারণ আমি তোমার সামনে গাচ্ছি।আর….আমি? (মেঘ) এই থামেন থামেন হয়েছে এত্ত কথা বলতে পারেন আর কাজের কাজটা করতে পারেন না তাই না? মানুষ তোমাকে নিয়ে কি বলে জানো?কেও সামনে বলে কেও পিছনে বলে। কেও বলে বেয়াদব,কেও বলে মাস্তান,কেও আবার বলে ভাইই।
আরে তোমার বাপের বয়সী মানুষ তোমাকে ভাই বলে তোমার লজ্জা লাগে না?(আলো) আরে বাবা ইলেকশনে যখন দাঁড়ায় কোন নেতা তখন কি হয় তার খালা-খালু,ফুপা-ফুপু,চাচা-চাচী সবাই এক ডাকে তাকে ভাই বলে ডাকে তাই না?সেইদিন কোন প্রব্লেম হয় বলো?(আমি) পাগল!নাহ কোন সমস্যা হয় না।তোমার এত ভাল রেজাল্ট ছিল,লেখাপড়ায় এত ভাল ছিলে একটা জব ট্রাই কর। এটলিষ্ট আমাদের ভবিষ্যতের চিন্তা তো করতে হবে নাকি?(আলো) আমি কি কারো কোন দিন ক্ষতি করেছি?আমি সবাইকে সবসময় হেল্প করি। ইভেন তোমার সাথে আমার প্রথম যেইদিন দেখা হয় সেদিন কয়েকটা ছেলে তোমাকে ডিস্টার্ব করছিল। আমি গিয়ে তাদের কান ধরে তোমার পা ধরিয়েছি তারা কাঁদতে কাঁদতে বাসায় গেছে। আবার তারপরেও আমি সাহস নিয়ে তোমাকে মনের কথা বলেছি।তুমি…?(মেঘ)
আরে আমি জানি তুমি খুব ভাল ছেলে কিন্তু শুধু আমি জানলে তো হবে না।সবাইকে সেটা জানতে তো হবে তাই না?
আর তুমি যে এই রকম মাস্তানি করে বেড়াও আমার বাবা জীবনেও তোমার আমার সম্পর্ককে মেনে নিবে না।(আলো) তোমার বাবা যদি না মানে তোমাকে জাষ্ট উঠায় নিয়ে চলে আসব। নাহ উঠায় নিয়ে আসব না তোমার বাবাকে দাঁড় করিয়ে রেখে তোমাকে তুলে নিয়ে চলে আসব।(মেঘ) জী না সরি!আমার,আমার ফ্যামিলির সাথে এই সব মাস্তানি চলবে না।নিজে ঠিক হও। আমার বাবা তোমাকে মেনে না নেওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে হ্যা। আর আমি আমার বাবাকে কষ্ট দিয়ে কোনদিন তোমার সাথে কিচ্ছু করব না সরি(আলো) শোন,যেখানে প্রেম থাকবে সেখানে কষ্ট থাকবে,কষ্ট পেতে হবে কষ্ট দিতে হবে। ক্রিং ক্রিং ক্রিং ফোন বাজছে ধরো(আলো) হ্যালো,হ্যা বল(মেঘ) ভাই নীলের বোনকে আবির টিজ করছে আমরা তাকে আটকায় রাখছি। মেয়েটাকে ছেলেটা নাকি প্রতিদিনই বিরক্ত করত (আকাশ) কি হইছে!ধরছোস আবিররে?ওরে আটকাইয়া রাখ আমি এক্ষুনী আসতেছি।ওই যাতে পালাই যেতে না পারে আসতিছি আমি।
ওই মামা রিকশা টা সাইট করেন তো।তুমি এক কাজ কর তুমি সোনালীর বাসায় যাও।গিয়ে একটু চা-নাস্তা কর আমি ঘন্টাখানেকের মাঝে আসতিছি ঠিক আছে(মেঘ) এটা কোন কথা তুমি আমাকে রাস্তায় রেখে চলে যাচ্ছো আবার বল সোনালীর বাসায় যেতে! মানে তুমি কি একজন তার প্রব্লেমের কথা বল্লো আর দৌড়ে তোমাকে হেল্প করতে যেতে হবে।এই মাস্তানি তোমার বাদ দিলে হয় না?(মেঘ) আরে ওই তো আমার ফ্রেন্ডেরই ছোট বোন,ছেলেটারে আটকায় রাখছে আমি এখন যদি না যাই আবির পালায় যেতে পারে এক্ষুনী যেতে হবে। (মেঘ) প্লিজ এই গুলা বাদ দাও(আলো) প্লিজ প্লিজ প্লিজ আমি আসতাছি মামা একে সাবধানে নিয়ে যাবেন(মেঘ) আরে দুর মামা পিছনে ঘুরান তো।আজ আর ঘুরবো না তুমি যাও তোমার কাজে আমি বাসায় গেলাম(আলো) আরে আরে আরে রাগ কর কেন আসতিছি তো আমি একটু পড়েই(মেঘ) মামা আপনি চলেন। কি খুব মজা লাগে তাই না পাড়ার মেয়েরে ডিস্টার্ব করতে?(মেঘ) ভাই এতক্ষণ আমি বুঝাইলাম খুব ভাল করে এখন কি আপনি বোঝাবেন?(আকাশ) বোঝায় একটু আমিও।
(চোয়াল ধরে)ওই তোরে যে ফোন দিলাম কতবার উঠাইলিনা ক্যান?(মেঘ) ভাই আমারে মাফ কইরা দেন ভাই,আমার ভুল হইয়া গেছে ভাই আমার এমন হবে না ভাই(আবির) আচ্ছা ভুল হয়েছে!ভাল দুই চার বার জীবনে ভুল হওয়াটা ভাল কিন্তু তোরে এই ভাবে বাধছি কেন? এই ভাবে মারতেছি কেন বলতো। তুই নিজের মুখেই বল কেন তোরে এই রকম করলাম কি করছিস তুই।(মেঘ) ভাই আর করমু না ভাই এই বারের মত মাফ কইরা দেন ভাই।আর কখনো তারে বিরক্ত করমু না ভাই(মেঘ) ওই চুপ।আবুল মিয়ার মাইয়া তোরে কি ডাকে?ভাই ডাকে না?আর তারে তুই প্রতিদিন ইভটিজিং করস।(আকাশ) ওরে ঠিক ভাবে সাইজ কর।যে তোরে ভাই বলে তারে তুই প্রতিদিন ইভটিজিং করিস তোর জন্য মেয়েটা চার দিন ধরে কলেজে যেতে পারে না। আবুল মিয়া ওনি খুবই ভদ্র মানুষ।মান সম্মানের ভয়ে কিছু বলতে পারে না।কিন্তু আমার কাছে তো খবর ঠিকই আসে।
শোন কাল সকালে গিয়ে মেয়ের কাছে পা ধইরা মাফ চাইবি আর ওরে আপা বলে ডাকবি বুঝতে পারছিস?কি বলে ডাকবি? হ ভাই আপা বলে ডাকব ভাই।এবারের মত ছাইড়া দেন।(আবির) ওই ওকে ছেড়ে দে।আর কোন দিন যদি দেখছি রাস্তায় কোন মেয়েরে ডিস্টার্ব করছিস সেই আর কোন কথা কমুনা ডাইরেক্ট ভাঙা ফালামু।মনে থাকে যেন(মেঘ) আলো মা এই দিকে শোন তো (আলোর বাবা) জী বাবা বল কিছু বলবা?(আলো) তোর নামে কিছু শুনছি তা কি সত্যি?(বাবা) কি বাবা?(আলো) মেঘ ছেলেটা তো ভাল না।কানে কত কথা ভেসে আসে আর এলাকার লোক কতকিছু বলাবলি করে। আচ্ছা ওর সাথে তোর কি?তুই আমার মেয়ে হয়ে এসব করতে পারলি?কত কষ্ট করে তোকে আমি বড় করেছি কত বিশ্বাস ছিল তোর উপরে।
আচ্ছা ও যদি গরীব হতো তাও চলত।লেখাপড়া করত,চাকরি করত তাও মেনে নিতাম।আমার কথা তো একবারো ভাবলি না(বাবা) বাবা মেঘ ভালো ছেলে বাবা।মেঘ সত্যিই খুব ভাল ছেলে(আলো) তুই তাকে পছন্দ করিস(বাবা) জী আমি ওকে পছন্দ করি(আলো) তোকে তো শুধু আল্লাদ দিয়ে বড় করিনি।তোকে লেখাপড়া শিখিয়েছি,বুঝিয়েছি,বাস্তবতা চিনিয়েছি।তোকে সবকিছু দিয়ে বড় করেছি। আজকে লোকে যা বল্লো সব সত্যি হয়ে গেল?আমার মেয়ে আমার সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে আমি তো এটা কোন দিনও ভাবিনি।(বাবা) না বাবা প্লিজ আমি তোমাকে কখনো অসম্মান করব না।কিন্তু বাবা মেঘ সত্যিই খুব ভালো ছেলে বাবা।(আলো) ভাল ছেলে যার নামে প্রতিদিন মারামারির রিপোর্ট আসে সে নাকি ভাল ছেলে।বাবার বয়সী মানুষের গায়ে হাত তোলে সে যে কতটুকু ভাল সে আমি বুঝি।
তোর যদি পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করে যেতে পারিস।মানুষের সামনে যদি আমাকে ছোট করতে ইচ্ছে করে করতে পারিস।আমি তোকে কোন বাধা দিবনা।কিন্তু আমি বেচে থাকতে ওই ছেলের সাথে তোর বিয়ে দিব না।(বাবা)
কিন্তু বাবা…(আলো) আমি আর কোন কিন্তু শুনতে চাইনা।এটাই আমার শেষ কথা তুই ঘরে যা।(বাবা) জী বাবা(আলো) ভাই আবির রে তো মাইরা মাথা টাতা সব ফাটাইয়া দিছি।হাত পা ভেঙে হাসপাতালে পাঠায়ছি।শুনলাম আবির নাকি পুলিশ কেস করছে।এখন উপায়! এলাকার মানুষ সব জাইনা গেছে।(আকাশ) টেনশনের কিছু নাই।বড় ভাইয়ের সাথে কথা কইছি।বক্কর ভাই। ভাইয়ের তো এখন রাজনীতিতে পজিশন ভাল।সে বলছে যে কিছুদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকতে হবে।তারপরে সব ঠিক হয়ে যাবে। আবিরের অবস্থা তো এখন খুব খারাপ।কয়েকদিন চুপচাপ বসে থাকতে হবে।কয়েকদিন পর আবার ঠিকই বের হবো।
মানে কয়েকদিনের জন্য সবকিছু ভুলে যা,রাজনীতিতে তো এখন সিষ্টেমই এটা তাইনা?(মেঘ) মেঘ তোমার সাথে কিছু কথা আছে এই দিকে আসো(আলো) ভাই আপনারা কথা বলেন আমি আছি(আকাশ) কি ব্যাপার তুমি হঠাৎ এখানে কোন প্রব্লেম?(মেঘ) বাবা জেনে গেছে তোমার আমার কথা এবং বাবা তোমাকে মেনেই নিতে পারছে না সহ্যই করতে পারছেনা।আমি জানিনা এখন কি হবে(আলো) শোন তোমার বাবা যদি আমাকে সহ্য করতে না পারে তাহলে নাই ব্যাস নাই।(মেঘ) মানে(আলো) হ্যা নাই যেটা করার আমি সেটা করব।তোমার বাবা যদি বেশি বাড়াবাড়ি করেনা তাহলে কিন্তু আমি ছাড়ব না আমি জবাব দিব কিন্তু(মেঘ) শোন আমি তোমাকে ভালোবাসি।এবং আমার ভালোবাসার জন্য আমার যেটা করার দরকার আমি সেটাই করব ঠিক আছে এর জন্য আমি কাওকে ভয় পাই না। প্রয়োজন হলে যে কোন কিছু করতে পারি আমি(মেঘ) এই ভাবে তো বাবা তোমাকে মেনে নিবে না আর আমিও এইভাবে বিয়ে করতে পারব না ব্যাস।
তুমি প্লিজ এই গুলা ছেড়ে দাও আর একটা চাকরি ম্যানেজ কর যাতে আমি বাবাকে অন্তত বলতে পারি মেঘ আর আগেই সেই মেঘ নাই।(আলো) ওই পারব না মানে কি?এটা কি নাটক নাকি?নাটক পাইছো।আমার মানুষ আমি বাইচা থাকতে অন্য কেও নিয়ে যাবে না ফাইজলামি পাইছো তুমি?(মেঘ) আশ্চর্য তুমি রাস্তার মাঝে এই ভাবে চিল্লাইতেছো কেন আর আমি খারাপ কি বলছি। তুমি কি নিজেকে চেঞ্জ করবা না। সারাজীবন এই রকম গুন্ডা,মাস্তান থেকে যাবা?(আলো) আমি থাকতে তোমাকে অন্য কেও নিয়ে যেতে পারবে না আমি প্রয়োজনে তোমাকে গলা টিপে মেরে ফেলব।কিন্তু অন্য কেও তোমাকে নিতে পারবে না।(মেঘ)
কি অদ্ভুত কথা বল এইগুলা,আমাকে তুমি মেরে ফেলবা?তুমি নিজে তৈরি হবানা,চাকরি-ব্যবসা কিছুই করবানা,নিজেকে পাল্টাবেও না অথচ তোমাকে বাবা মেনে না নিলে তুমি আমাকেই মেরে ফেলবা?(আলো)
ওই চুপ,তোর বাবা তোর মাথাটা গুলায় দিছে,তোরে বুঝায়ছে কনভেন্স করছে এখন তুই তোর বাবার সুরে কথা বলছিস।(মেঘ) ছিহ!রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে তুমি আমাকে এই গুলা কি বলতিছো। মানুষ তোমার নামে যা বলে সব ঠিকই বলে। শোন তুমি যদি নিজেকে পরিবর্তন করে আমার বাবার কাছে যাও তাহলেই আমি তোমাকে বিয়ে করব নয়তবা আমি বাবার বিরুদ্ধে যেতে পারব না।(আলো) বাবার বিরুদ্ধে যেতে পারব না মানে কি হ্যা?প্রেম করার সময় সেটা মনে ছিল না এখন আসছিস বাবার মেয়ে হয়ে কথা বলতে।(মেঘ)
প্রেম যার তার সাথেই করা যায় কিন্তু বিয়ে সবাইকে না।তুমি যদি নিজেকে পরিবর্তন করতে পারো তাহলে আমাকে পাবে না হলে আমার আশা ছেড়ে দাও।আমি গেলাম।(আলো) ওই কই যাস থাম আমার সব কথার জবাব দিয়ে যা(মেঘ) তুমি এখন বাসায় যাও তোমার এখন বিশ্রামের প্রয়োজন।আমি যাই(আলো) আলো শোন(আলোর বাবা) জী বাবা বলো(আলো) ছেলেটা অনেক ভাল জব করে আর ব্যবহার,আচার-আচারণ সব কিছুই সুন্দর।আমি চাইনা এই সুন্দর আলাপটা ভেঙে যাক। আমি যেনে শুনে এই মাস্তান ছেলের হাতে তোকে তুলে দিবনা।(বাবা) বাবা তুমি এই গুলা কি বল?(আলো) দেখ কোন বাবায় এমন ছেলেকে মেনে নিবে না।আমি তোকে কিচ্ছু বলব না।তুই অবুঝ না তোর ইচ্ছে হলে তুই পালিয়ে যেতে পারিস কিন্তু আমি জানব আমার আর কোন মেয়ে নেই। কিন্তু ওই মাস্তান ছেলেকে আমি কখনো মেনে নিবনা।কখনোই না(বাবা)
ক্রিং ক্রিং ক্রিং আলো আলো আলো আমাকে প্লিজ আর কয়েকটা দিন সময় দাও আমি সব ছেড়ে দিব আর কোন পাগলামি করব না বিশ্বাস কর।আমি সব ঠিক করে ফেলব জাষ্ট কয়েকটা দিন সময় দাও(মেঘ) তোমার যা করার তুমি করো আমি আর তোমাকে বুঝাতে পারিনি। আমার এখন বিয়ে ঠিক হয়ে যাচ্ছে।বিয়ে হবে যাবে আমার তুমি তোমার মতই থাকো।আর কিছু করতে হবে নাহ আমার জন্য। আমাকে ফোন করারো আর দরকার নেই,যোগাযোগ করারো আমার সাথে আর কোন দরকার নেই।(আলো) আলো শোন আমি এক্ষুনী তোমার বাসায় আসতেছি।(মেঘ) খবরদার তুমি আমাদের বাসায় আসবানা তোমাকে পুলিশ খুজছে। তুমি এখানে আসো আর কোন ঝামেলা হোক সেটা আমি চাইনা। আমার বাবার নিজের একটা সম্মান আছে আর আমি চাইনা সেটা কোনভাবে আমার কারণে নষ্ট হোক।(আলো) আলো নষ্ট হোক সব নষ্ট হোক,আমি তোমাকে ভালোবাসি বলছিনা? আমি তোমাকে ভালোবাসি আমি এখন তোমার বাসায় আসতেছি।
তোমার বাবার সাথে আমি কথা বলব এখন।ফোন রাখো(মেঘ) ভাই কই যাবেন(আকাশ) তোরা সাবধানে থাক আমি আসতিছি।(মেঘ) ভাই পুলিশ খোঁজতেছে এখন বের হওয়া যাবে না(আকাশ) কিছুই করার নাইরে আমাকে যেতেই হবে ঠিক আছে।তোরা সাবধানে থাকিস।(মেঘ) আংকেল,আমি আলোকে ভালোবাসি।আলোও আমাকে ভালোবাসে। আংকেল আমাকে কয়েকটা দিন সময় দিন আমি নিজেকে একদম পরিবর্তন করব।অলরেডি চাকরির চেষ্টা করতিছি আংকেল(মেঘ) তোমার কথা শেষ হয়েছে?তোমার কথা শেষ হলে আমি কিছু বলব।(আলোর বাবা) জী আংকেল বলেন(মেঘ) তোমাকে আমার একটুও পছন্দ না।শুধু আমি কেন আমার এলাকার কোন মানুষ তোমাকে পছন্দ করেনা।
শুনলাম তোমাকে নাকি পুলিশ খুঁজতেছে কয়েকদিন আগে নাকি মারামারি করছো? যাকে পুলিশ খোঁজে সে ভাল হয় কি করে?(বাবা) বাবা বিশ্বাস কর ও ভালো ছেলে তুমি প্লিজ মেনে নাও।আমি বলছি ও নিজেকে একদম চেঞ্জ করে ফেলবে।(আলো) আলো তুই ভিতরে যা(বাবা) শোন আমি আলোর বিয়ে ঠিক করেছি।ভালো একটা ছেলে, ভালো চাকরি করে, ভালো একটা ফ্যামিলি। আমি একতরফা তোমাকে দোষ দিব না,আমার মেয়েরও সায় ছিল কিন্তু এখন সে বুঝতে পেরেছে। যে তোমাকে পছন্দ করা তার ছিল সবচাইতে বড় ভুল।এখন সে বিয়েতে মত দিয়েছে।(বাবা) আংকেল,আপনার মেয়ে আলো আমাকে ভালোবাসে হয়তো আমার চাইতেও অনেক বেশি ভালোবাসে। আপনি আলোকে ডাকুন। ও এসে আমার বলুক সে আমাকে ভালোবাসে না।
ডাকেন আলোকে।আলো শোন এই দিকে শোন আলো….(মেঘ) তুমি কিন্তু বেশি বাড়াবাড়ি করছো।আলো আসবে না যা বলার আমাকে বল।(বাবা) নাহ আমি কোন বাড়াবাড়ি করছি না।আমি যদি এখানে বাড়াবাড়ি করতাম তাহলে অনেক কিছু হয়ে যেত। আপনি যে আলোর বাবা সেটাও আমি ভুলে যেতাম।আপনাকে এখনো সম্মান দিচ্ছি কারণ আপনি আলোর বাবা। আপনি ওকে ইমোশনালী ব্লাকমেইল করছেন।আমি আলোকে ভালোবাসি,ওর জন্য সব কিছু করতে পারি।এবং আপনি যদি বেশি কিছু করার চেষ্টা করেন তাহলে আমি ভুলে যেতে এক সেকেন্ডও সময় লাগবে না যে আপনি আলোর বাবা। তুমি আমার বাবাকে আমার সামনে অপমান করছো?(আলো) তোমার বাবা কি বলছে এইসব।তোমার বাবা মিথ্যা বলছে আমাদের ভালোবাসা নাকি মিথ্যে। তুমি নাকি আমাকে ভালোবাসো না?(মেঘ) তোমার সম্পর্কে মানুষ যা বলে সেই গুলাই ঠিক।তুমি বাজে তুমি ভালো না,তোমার সম্পর্কে যেসব খারাপ কথা বলে সব ঠিক।
আমার বাবা তোমাকে যা বলেছে তুমি তাই।তুমি এখান থেকে চলে যাও চলে যাও এখান থেকে।(আলো) তুমি মিথ্যা কথা বলছো বল জানি এটা তোমার মনের কথা না। তুমি মিথ্যা কথা বলছো বল?(মেঘ) আরে আশ্চর্য তুমি এমন বিহেব করছো কেন ছাড়ো আমার হাত ছাড়ো।(আলো) আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বল তুমি আমাকে ভালোবাসো না বল।(মেঘ) তুমি আমার বাবা সামনে যা তা ব্যবহার করতে পারো না,ছাড়ো তুমি আমাকে ছাড়ো। তুমি বের হয়ে যাও আমার বাসা থেকে।(আলো) আলো প্লিজ(মেঘ) আর কখনো তুমি আমার সামনে আসবানা। চলে যাও আমার বাসা থেকে প্লিজ।না হলে আমি পুলিশ ডাকতে বাধ্য হবো।(আলো) আমি জানি তুমি মিথ্যে বলছো।ও মিথ্যে বলছে, আপনি ওকে মিথ্যে বলছে বাধ্য করছেন তাই না? ওকে ফুসলিয়েছেন ওর মাথাটা ঘুলিয়েছেন তাই না? আলো আমি জানি তুমি মিথ্যে বলছো।তুমি কেন মিথ্যে বলিছো সেটাও আমি জানি। আপনি ওকে মিথ্যে বলাচ্ছেন।আমি আসব আবার।
আলো আমি জানি তুমি যা বলছো সব তোমার বাবা তোমাকে দিয়ে বলাচ্ছে।আমি কিচ্ছু মনে করিনি।।শোন আলো আমাদের মাঝখানে যদি কেও আসতে চায় আমি কিন্তু তাকে ছাড়বো না তাকে জাষ্ট শেষ করে দিব। কেও তোমাকে আমার কাছে থেকে কেড়ে নিতে পারবেনা।আলো শোন আমি এখন যাচ্ছি কিন্তু আমি আবার আসব তোমাকে নিতে।(মেঘ) মেঘ যাওয়ার পর হ্যালো ওসি সাহবে আমি রায়হান চৌধুরী বলছি। ওই যে মেঘ নামে একটা ছেলের কথা বলেছিলাম না আমার মেয়েকে রোজ বিরক্ত করে আচ্ছা আপনি যেকোন একটা মামলায় তাকে কয়েকদিনের জন্য জেলে ঢুকিয়ে দিন। তিন চার দিনের মধ্যেই আমার মেয়ের বিয়ে হবে। হ্যা ঠিক আছে ধন্যবাদ ওসি সাহেব।আমি যেভাবে বললাম সেভাবে করেন।আচ্ছা আমি তাহলে ফোন রাখলাম।
(আলোর বাবা) বাবা আমি তোমাকে বলেছি আমি তোমার সব কথা মেনে নিব বাবা।তুমি এই সব জেল-হাজত এসব করো না বাবা। ওকে জেলে ভরোনা বাবা প্লিজ।(আলো) তিন চার দিন পরে তোমার বিয়ে হয়ে যাবে।আমি জানি ছেলেটা অনেক ভাক একটা ছেলে,ভালো ফ্যামিলি অনেক ভাল চাকরি করে। মেঘ ছেলেটা যদি এখন বাইরে থাকে তাহলে সে রোজ তোকে ডিস্টার্ব করবে।আর আমার সামনে হয়তো অনেক কিছু বলছিস হয়তো নাটকও করছিস। কিন্তু ঠিকই তুই ওর সাথে বেড়িয়ে যাবি।আমি এখন তোকে আর বিশ্বাস করিনা।আজকে থেকে তোর বাইরে যাওয়া একদম বন্ধ।(বাবা) বাবা তুমি এটা আমার সাথে করতে পারো না কারণ আমি তোমার মেয়ে।এটা অন্যায় বাবা।আমি বারবার তোমাকে বলছি আমি মেঘ কে ভালোবাসি তারপরেও আমি তোমার কথা মেনে নিয়েছি।
মেঘের সাথে এটা করো না বাবা।আমি তোমার মেয়ে তুমি আমার সাথে এমনটা করোনা।(আলো) চুপ থাক আর একটা কথাও বলবি না।(বাবা) কি হয়েছে বাবা।(আলোর ছোট বোন নীলা) আজকে থেকে আলো এই বাড়ির বাইরে যেতে পারবে না।আমি যেন আর না দেখি মেঘ ছেলেটা আর তোকে ফোন দিয়েছে।ওকে আমি তালা দিয়ে বন্ধ রাখবো। আর তুইও এখন থেকে আর বাইরে যাবি না।(বাবা)  আপু শুনতে পাচ্ছিস,মেঘ ভাইকে নাকি পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে আপু। আপু শুনতে পাচ্ছিস। আপু বাবা দরজা লক করে দিয়েছে।আমি বাইরেও যেতে পারছি না এখন কি করব বল? (দরজায় ধাক্কা দিয়ে) আপু কিছু তো বল আপু?(নীলা) তুই এখন যা।(আলো)
প্রিয় বাবা_মা
তোমাদের অসংখ্য ধন্যবাদ আমাকে আদর_স্নেহ _মায়া_মমতা দিয়ে এতো বড় করার জন্য। ছোট বেলা থেকেই আমাকে অনেক কষ্টে বড় করেছো,,,তোমাদের এই ঋন আমি কখনো দিতে পারবো না। জানি তোমরা আমাকে অনেক ভালোবাসো। ঠিক তেমনি আমিও কাউকে অনেক ভালোবাসি,,, তোমরা যেমন আমাকে হারাতে চাওনা_ ঠিক তেমনি আমিও তাকে হারাতে চাই না। কেননা তাকে ছাড়া বেচে থাকা নিতান্তই কঠিন আমার কাছে।
আসলে তাকে নিজের চাইতে বেশি ভালোবাসি,,, কিন্তু তোমরা সেটা বুঝবে না। তাই তাকে ছাড়া আমি অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারবো না। জানি তোমরা এই সম্পর্ক কখনোই মেনে নিবে না। তাইতো আমাকে অন্য কারো জীবনের সাথে জড়িয়ে দিতে চাইছো। কিন্তু আমি এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না,,,যাকে নিয়ে এতো স্বপ্ন দেখলাম তাকা ছাড়া থাকাটা এখন আমার পক্ষে সম্ভব না। কারন বেচে থাকলে তো এখন নিজেকে অপরাধী মনে হবে,,,তাই তাকে ছাড়া বাচাঁর চাইতে_তাকে ভালোবেসেই চলে গেলাম। আর বাবা প্লিজ মেঘের উপর দেওয়া তোমার কেসটা তুলিয়ে নাও।আমি চাইনা আমার জন্য সে মিথ্যে সাজা পাক। আমাকে ক্ষমা করে দিও তোমরা। দোয়া করি সবসময় ভালো থেকো। সুখে থাকো।
ইতি,,
তোমাদের মেয়ে আলো বাড়ির মধ্যে আবারও একটা কান্নার আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে কারণ একটু আগে মেঘ বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করেছে । যেই আলোকে লাল শাড়ী পরিয়ে নিজের বউ বানাতে চেয়েছে । সেই ভালবাসার মানুষটা তার সামনে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়ে গেছে । কষ্টের একটা সীমানা থাকে কিন্তু কিছু কিছু সময় সেই সীমানা প্রাচীর অতিক্রম করে চলে যায় । মেঘ আলোর মুখের ওপর থেকে চাদরটা সরিয়ে মুখের দিকে তাকিয়ে আছে । তার চোখের দুফোঁটা নোনাপানি গড়িয়ে পরলো আলোর গালের উপর ।
কান্না করছে মেঘ, কান্না করছে আলোর বাবা ও ছোট বোন নীলা । কিন্তু সকলের কান্নাকে উপেক্ষা করে আলো ঘুমিয়ে আছে নিশ্চুপ । সে অভিমান করেছে, অভিমান নিয়ে পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে । আমি জানি আলো,তোমার চলে যাওয়ার জন্য যে মানুষটা তোমাকে বাধ্য করেছে সেটা আমি।আমি সেটা। আমি বলেছিলাম যে তুমি আমার ছাড়া আর কারো হবে না তুমি কোনদিন বলনি কিন্তু তুমি প্রমাণ করে দেখিয়েছো যে আমাকে ছাড়া তুমি আর কারো কাছেই যেতে চাও না। যেখানেই থেকো ভালো থেকো আলো।আমি তোমার সাথেই আছি,তোমাকে নিয়েই আছি তোমাকে নিয়েই থাকবো।
গল্পের বিষয়:
দু:খদায়ক
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত