একটি অসমাপ্ত গল্প

একটি অসমাপ্ত গল্প

ডাক্তার..ডাক্তার..ডাক্তার..
হাসপাতালের বাইরে থেকে কে যেন একটা চিতকার করতে করতে ভেতরে প্রবেশ করলো,
-স্যার [ডাক্তারকে উদ্দেশ্য করে]স্যার প্লিজ আমার পরীকে দেখেন স্যার প্লিজ,।
ডাক্তার- আচ্ছা দেখছি আপনি একটু শান্ত হন।নিজেকে শক্ত করুন।
ডক্তার আর কয়েকজন সহকারির মাধ্যমে রোগীকে O.Tতে নিয়ে গেলো,
চলুন কিছু সময় পেছনে,
-ভার্সিটির সামনে দাড়িয়ে আছি ম্যাডামের জন্য,
তিনি বলেছেন আজ যদি আগে এসে দাড়িয়ে না থাকি তাহলে তিনি আর কথা বলবেন না,।সেজন্য আজ দাড়িয়ে।তাছাড়া আরেকটা কারণ আছে একটু পরেই জানতে পারবে এতো তাড়া কিসের।
ওইতে আসছে কিন্তু একি এ কে এতো পরী না মনে হয় পরীর বড় বোন,।পরীতো বলি নি ওর বোন এত সুন্দর যদি বলতো তাহলে ওকে বাদ দিয়ে ওর বোনের সাথে প্রেম করতাম,হা হা
এসব ভাবতে ভাবতে দেখি ওর বোন না এতো ম্যাডাম নিজে, যাক কপাল ভালো দুর থেকে এমন চিনতে একটু ভুল করছি,প্রায় চলে এসেছে ঠিক সেই সময় একটা স্পীড বাইক রাস্তার উপর দিয়ে গেল কিন্তু কয়েক সেকেন্ডপর বাইকটা পরে গেলো। আর আমি মনে মনে বললাম সালা ঠিক হয়েছে আর জোরে বাইক চলাবি।বাইক থেকে চোখ সরিয়ে নিতেই দেখি পরী সেখানে নেই।
এদিক ওদিক চোখ দিতেই দেখি পরী সেই বাইক হতে কিছুটা আগে পরে আছে,ছুটে চলে গেলাম পরীর কাছে।
এসবই ঘটেছিল কিছুক্ষণ অাগে।
অামি বসে অাছি O.T সামনে।
বসে বসে পরীর সাথে কাটানো কিছু মুহুতের কথা খুব মনে পড়ছে,
-পরী-এই নীল এই নীল
নীল-কি রে সকাল সকাল কি চাই তোর।
পরী-তোকে চাই[আস্তে তবুও শোনা যায়😆]
নীল-কি কি [অাশ্চর্য হয়ে] কি বললি।
পরী- কিছু না উঠতো।
নীল-না উঠবো না ভাগ তো এখান থেকে।
পরী- হাতে রাখা পানির মগটার সব পানি ঢেলে দিলো সাথে আমার ঘুমটাও উড়ে গেলো চোখ খুলে দেখি এটা পরী না আমার প্রাণের বন্ধু নীলয়।
নীলয়-সালা দিন রাতে এতো পরী পরী করিস সাহস নেই সামনে কথা বলার উঠ সালা যা বাজার করে নিয়ে আয়।
নীল-দোস্ত এমন একটা সুন্দর স্বপ্ন তুই কেমনে ভেঙে দিতে পারিস বল।
নীলয়-সালা তুই আর তোর স্বপ্ন।রাখ তোর স্বপ্ন।
এই নে [বাজারের ব্যাগ] যা খেয়ে বাজার করে আন।
আমি নীল ঢাকার নামহীন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি[নামহীন বললাম কেননা প্রাইভেট ভার্সিটি তো তাই আমাদেরও তো একটা ইয়ে আছে]
আর নীলয় ঢাকা ভার্সিটিতে দুজন কোসিং লাইফের বন্ধু সেই থেকে দুজন এক সাথে থাকা গত আড়াই বছর থেকে।
আর যারে নিয়ে স্বপ্ন দেখছি তিনি নীলয় এর ভাসিটির ২য় বর্ষের ছাত্রী দেখতে হয়তো তোমাদের GF ·র মতো ওতে কিউট না কিন্তু অামার কাছে অামার মতো সেটা না হয় তোমাদের অজানায় থাক।একদিন নীলয়দের ক্যাম্পাসে ঘুরতে গিয়ে দেখে ভালোবাসা আর সাথে সাথে প্রোপজ আর সাথে সাথে একটা সেই মাপের থাপ্পর আর তার সাথে সেই আপপান। আর সালা কপাল খারাপ হলে যা হয় সেখানে দুইটা পুলিশ যাচ্ছিল বলে দিল তাদের ডিস্টাপ করছি সাথে সাথে পুলিশ মামা ধরে নিয়ে গাড়িতে। কপাল ভালো আমাদের এক বন্ধু বাপ এমপি, কোনোমতে সেদিন বেচে গিয়েছিলাম।একেই বলে কপালে কপাল আর,,😰😰 কিছু না।
এভাবেই নিজের ক্যাম্পাসে কম নীলয় এর ক্যাম্পাসে বেশি খুজে পাওয়া যেতে লাগে আমায়,।
কোথায় যেনো পড়েছিলাম মেয়েদের মন নরম হয় আসলেই তাই কিছু পেছন নিতেয় রোজ থাপ্পর আর আপমান তার সাথে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে চলে যাওয়া, এটাই যেন রোজকার রুটিন হয়ে দাড়িয়ে ছিল।কিন্তু হঠাৎ সব শেষ হয়ে যায়,রোজকার মতো আমি পরীর জন্য দাড়িয়ে আছি পরীর পেছনে পেছন হাটছি হঠাৎ পরী সেই থামা আর আপমান করতে যাবে ঠিক তখন ফোনটা বেজে উঠলো, পরীর আপমান কিছুই ডুকলো না কেননা ফোনের কথাটা শুনে
ফোনটা পড়ে গেলো হাত থেকে ছুটে চললাম ঢাকা মেডিকেল কলেজের দিকে,
সেখানে পৌছেই দেখি আমার সব বন্ধুরা আছে কিন্তু সবাই কান্না করছে কেউ কিছু বলছে না,।কিন্তু সবাই কেন কান্না করছে। তাহলে নীলয় এর কিছু হয়েছে না না এ হতে পারে না।
OTথেকে ডাক্তার বেরিয়ে আসলো আমি ডাক্তার কে বললাম কি হয়েছে স্যার নীলয়ের ও এখন কেমন আছে।
ডক্তার-দেখুন এখন কিছু বলতে পারছি না প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে এখনি যদি রক্তের ব্যবস্থা না করতে পারেন তাহলে রোগীকে বাচানো না যেতেও পারে।
আমি-আমার সব রক্ত নিয়ে হলে নীলয়কে বাচান ডাক্তার।
ডাক্তার-আপনার রক্তের গ্রুপ কি?
আমি-AB+
ডাক্তার-সরি রোগীর O+।
আপনাদের মধ্যে কি কারো ঐ গ্রুপে রক্ত থাকলে আমার সাথে আসতে বলেন।
আমাদের মধ্যে রাসেল এর O+ কিন্তু ও নেই দেশের বাড়িতে গিয়েছে।
কার কার আছে ভাবতে দেখি পরী আমাদের সামনে এসে তার বড় ভাইকে নিয়ে এসে বলে
পরী-আমার ভাইয়ের রক্তের গ্রুপ O+
।ডাক্তার থাকে পরীর ভাইকে নিয়ে রক্তের পরীক্ষা করে নীলয়ের আপেরশন করে।
সেখানে থেকে যায় আমি সাথে বন্ধুরা পরী চলে যায় একটা ধন্যবাদ দেওয়াদেওয়ার দদরকার ছিলো।কিন্তু দেওয়ার সময় হয় নি।
কিছু সপ্তাহ পর নিলয় সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে নিয়ে একদিন ক্যাম্পাসে যায়।ক্যাম্পসের সামনে দেখি পরী দাড়িয়ে কেন জানি মনে হলো হয়তো আমাদের জন্যই দাড়িয়ে।হু ঠিক তাই হলো দেখি আমাদের জন্য দাড়িয়ে।কাছে যেতেই নীলয় বলে উঠলো তোরা কথা বল আমি গেলাম।
আমিকিছু বলতে যাবো তার আগেই
পরী-এটা ধরুন[আমার ফোনটা এগিয়ে দিয়ে]
আমি- তুমি সরি সরি আপনি আমার ফোনটা কোথায় পেলে?
পরী- তুই আমাকে আপনি বললি কেন[রাগান্নিত কন্ঠে]
আমি- সরি সরি।
পরী- আর একবার যদি আপনি বলো তাহলে তোমার খবর আছে।
আমি-তাহলে কি বলবো??
পরী-যা খুশি কিন্তু বাবু সোনা জানপাখি বাদে।
আমি-তাহলে পরীই বলি কেমন।
পরী- hmm
এভাবেই চলতে থাকে আমাদের গল্প,,হাসি আনন্দ দুঃখ রাগারাগি রাগ ভাঙা নিয়ে ভালোই চলছিল।এভাবেই চলছিল আমার আর পরীর গল্প।হঠাৎ
কারো হাতের স্পর্শ বাস্তবে ফিরে এলাম
দেখি ডাক্তার স্যার
আমি- স্যার আমার পরী কেমন আছে?
ওর সাথে কি একটু দেখা করতে পারি।
ডাক্তার- চিন্তার কোনো কারণ নেই রোগি ঠিক আছে শুধু সামান্য জ্ঞান হারিয়ে মাথায় গেলে কিছুটা রক্ত বের হয়েছে তুমি জ্ঞান ফিরলেই দেখতে পারো।
আমি-ধন্যবাদ.
এমনটাই ভেবেছিলাম কিন্তু ডাক্তার শুধু সরি বলে চলে গেলো
আমি সেখানো পাথরের মূর্তির মতো দাড়িয়ে গেলাম।খুব কাদতে ইচ্ছা হয়েছিল কিন্তু পারি নি।কেনো জানি না চোখ দিয়ে একফোটাও পানি বার হলো না।শুধু
পরীর শেষ কথাটা আর শুনতে পায় নি আমি। শেষ বারের মতো পরীকে বলা হয়নি দেখ আমি এবার তোমার আগে এসেছি।শেষ বারের মতো তোমার রাগান্নিত চোখে আমাকে শাসনটা শুনতে পায় নি রে।
অনেক কিছুই না বলায় আর না শোনায় থেকে গেলো,,

গল্পের বিষয়:
দু:খদায়ক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত