গল্পটা আত্মার

গল্পটা আত্মার

মানুষ মারা যায়, তা তো সত্যিই। “কুল্লো
নাফছুন যা ইকাতুল মাউত”। মানুষ তো দুটি রুপের সমষ্টি আত্মা এবং দেহ। আচ্ছা যদি প্রশ্ন রাখি মানুষের দেহ মরে নাকি আত্মা মরে..?.. আধ্যাত্নিকতার কবিদের
মতো করে উত্তরটা হলো,,
দেহ তো এক ছলনাময়ী মায়া
ঘুমেই হয়ে যায় নিস্তেজ কায়া।
হুম, মানুষের দেহ মরে রুহ মারা যায় না। আজকের গল্পটা একান্ত একটি রুহ তথা আত্মার।
,
এ কি আসে পাশে এত মানুষ কেন.?
প্রতিদিনই তো ঘুম থেকে উঠি, এমন
মানুষ তো দেখি না। আম্মা আব্বা আপা সবাই এতো কাঁদছেন কেন.? দূর বাবা, এতো বার জিজ্ঞেস করা পরও কেউ উত্তর দেয় না। আব্বার বিছানায় চেনা মানুষরা কি দেখছে.! যাক, আম্মারা কথা না শুনলেও সুমিকে পেয়েছি। সুমিকে জিজ্ঞেস করে দেখি আমাদের বাড়িতে কি হয়েছে। আচ্ছা সুমি কি বলবে, কি হয়েছে এখানে.? দূর এমন
চিন্তা কেন করছি.! সুমি আমার বেষ্ট
ফ্রেন্ড সুমি তো বলবেই। এই সুমি,
সুমি, এই সুমি, এত ধাক্কা দেওয়ার পরও কথা শুনে না। এই তুই না আমার বেষ্ট
ফ্রেন্ড বল না রে এখানে কি
হয়েছে, এতো মানুষ কিসের, সবাই
কাঁদছে কেন? বলবি না তাই তো, যা
তোর সাথে আর কোন দিন
কোনো কথাই বলবো না। এদের
কাউকে বলে আর লাভ নেই নিজেই
গিয়ে দেখি বিছানায় কি এমন আছে। সবাই আমাকে একটু সুযোগ দিবা, দেখার জন্য। দূর,, যারা বলছেই না কি হয়েছে তারা নাকি আমায় সুযোগ দিবে। নিজেকেই কষ্ট করতে হবে। ও মা..! এ কি,, এ কে.? ঠিক আমার মতন
দেখতে, আমি তো এখানে
তাহলে….
না, কি হয়েছে জানতেই হবে। এই
ফাহিম তুই কাঁদছিস কেন.? আরে এতো
কাঁদছিস কার জন্য বল না রে।এই ফাহিম.! তুই বলবি না, তাহলে যা দাঁ নিয়ে এসে আমার গলা কেটে মেরে ফেল। কেউ আমাকে বলে না কি হয়েছে। তাহলে আর বেচে থেকে কি লাভ আমার, আমি যখন সবার পর হয়ে গেলাম। আচ্ছা কী আমাকে এতো তাড়াতাড়ি সবার পর
করলো.?
কিসে আমাকে এতো দূরে সরিয়ে
দিলো.! কালকেই তো আমি সবার
কাছের ছিলাম। চাচা ভাই ফাহিম সে তো আমার সেই ছেলে বেলা কার বন্ধু,
বাড়িতে কোনো কিছু হলে এমনকি
তার প্রার্সোনাল সবকিছুই তো আমি
জিজ্ঞেস না করা সত্ত্বেও আমাকে
বলতো। কিন্তু আজ জিজ্ঞেস
করেও ওর থেকে জানতে পারছি না কি
হয়েছে আমাদের বাড়ি।
ভাবতেই অবাক লাগছে আমাদের
বাড়িতে কি হচ্ছে আমি জানি না।আচ্ছা আমার মত দেখতে বিছানায় শুয়ে থাকা মেয়ে কে..? আর ও যদি আমিই হয় তাহলে আমি কে.? ভালো লাগছে না কিছু।সবাই এতো করুণ সুরে কাঁদছে কেন.? যাই আবার আপাকে গিয়ে
জিজ্ঞেস করে দেখি, কি হয়েছে
জানতে পারি কি।
ওমা, এই মৃত মানুষের মত
এ কাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে.! আমাদের
উঠোনে কিছু জায়গায় এমন পর্দা
মুড়ানো কেন.! এই লাশটা কে পর্দার
ভিতর নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কেন.? না
আগে দেখে আসি এখানে কি হয়,
তারপর না হয় আপার কাছে যাবো। এ কি.! আম্মা, আপা, খাদিজা আপা তোমরা এখানে.! তাহলে তো পেয়েই
গেলাম আপাকে, কি হয়েছে
জিজ্ঞেসও করে নিলাম আর কি হচ্ছে
দেখেও নিলাম।আম্মা, ও আম্মা,, তুমি
কাঁদছো কেন.? দেখ দেখি, আপাও
কাঁদছেন, খাদিজা আপাও কাঁদছেন। কেউ বলো না গো,, তোমরা সবাই কেন
কাঁদছো.? আমায় বললে তো আমিও
তোমাদের সাথে কাঁদতাম। এ কি মৃত
মানুষকে গোছল করানোর মত করে
এখানে সেই মেয়েকে গোছল
করানো হচ্ছে যে।আচ্ছা,, কে
সেই মেয়ে.? মেয়েটি কি আমি.?
তাহলে আমি কি মরে গেছি.? তাই
হলে এই আমি কে.?,,
মাসজিদের মাইক এখন বাঁজছে কেন.? সবে তো মাত্র সকাল হলো। মুয়াজ্জিন সাহেব আবার ৮টায়
আজান দিবেন নাকি। না না, হয় তো
কেউ মারা গেছে, তার মৃত্যু সংবাদ
দিবেন.! ও মা, এ যে আমার নাম নেওয়া হচ্ছে তবে কি আমি মরে গেলাম। তাহলে কি এই গোছল হতে যাওয়া
মেয়েটিই আমি, আর এই আমি..
হুম, এখন বুঝতে পারছি। আসলেই
হয়তো আমি মরে গেছি, বিছানা কিংবা
গোছলরত মেয়েটি আমার দেহ আর
এই আমি আমার আত্মা। তাইতো আমার ডাক কেউ শুনছেন না।তাহলে তো মৃত্যুই আমাকে সবার থেকে পর করে দিলো। এই আমাকে (আত্মাকে) কি কেউ দেখে না, কাছে ডাকে
না।
::- গল্পটা একটি মেয়ের – যে কি না ১৮ বছর বয়সে রোড এক্সডেন্টে ২০১৬-এর ডিসেম্বরে হঠাৎ মারা যায়। দোআ করবেন ওর জন্য।।

গল্পের বিষয়:
দু:খদায়ক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত