আমার সংসার

আমার সংসার

আখিঁর ফোন পেয়ে যেন আমার পুরো পৃথিবী থেমে গেল ,
যে বোন কে মা কখনো একটা চড় পর্যন্ত দেয় নাই কোন দিন সে আজ স্বামীর হাতে মার খেল? কেন কি অপরাধ আমরা তো জোর করে তাদের ঘাড়ে উঠিয়ে দেই নাই।
এক রকম পুরা পরিবার পাগল হয়ে মিষ্ট কথায় বুলিয়ে ওকে নিয়েছে তাদের ঘরের বউ করে।
তার তিন মাস পরে আমাদের বাড়িতে এবং কি আমাদের ঘরের পাশের ঘরে আখিঁ ননদ বিয়ে দিয়েছে ।
এই বিয়ের পর থেকে আখিঁ জীবনে নেমে এলো অসহ্য অত্যাচার।
*
একটা বড় মাছ বাসায় আনলে ও কথা শুনতে হতো তোর বাবা কি এরকম মাছ কখনো খাওয়াইছে।
আরে কাঙ্গাল এর দল ও এমন পরিবার থেকে গেছে যে পরিবারে একটানা চব্বিশ বছর বাড়ির বড় পুকুর টা তাদের কাছে ছিল। আর ওকে বকে বকে খাবার খাওয়াতে হতো।
বাবার তিন মেয়ে কখনো মুখ কালো করে বলে নাই আহ রে,
আমার ভবিষ্যৎ কি? কোন দিন কোন আবদার অপূর্ণ রাখে নাই আর সে বাবা তুলে কথা বলে,
আমার বোনটা একটু বেশিই আল্লাহ ভিরু ছিল তার জায়গায় যদি আমি থাকতাম দু- চার কথা শুনিয়ে দিতাম।
*
বিয়ের তিন মাস পরে তার পেটে বাচ্ছা আসে ,কিন্তু তার শাশুড়ির কথা শুনে আমি অবাক ওনি বলে এতো তাড়াতাড়ি বাচ্ছারর কি দরকার। এ ছেলেটা কোন দিন ও মানুষ হবে না।
অথচ তার মেয়ের বিয়ে হইছে এক সাপ্তাহ তাবিজ তুমার কবিরাজ নিয়ে কি দৌড়া দৌড়ি।
কিন্তু বড় ছেলের সন্তান হোক তিনি তা চায় না কেনো ??
তার পিছনে কি তা হলে বিরাট কোন রহস্য।
এর মাঝে বাচ্ছা পেটে আসার পর থেকে আখিঁ প্রচুর জ্বর সাথে একটু পানিও মুখে নেওয়ার সাধ্য নাই।
এর মাঝে ও শাশুড়ি ছেলের কানে দেয়ে তোর বউ কোন কাজ করে না আমারে কি কাজের লোক মনে হয় তোদের।
এই জ্বরে দিয়েও আখিঁ কাজের ত্রুটি নেই তাও উনি এ রকম কথা বলে ।
যাক সে সব স্বামী কিন্তু স্ত্রী কে ভালোবাসে এমনিতে মর্যাদা দিতে জানেনা।
একদিন বাসায় কেউ নাই আখিঁ বলে আমি কিচ্ছু মুখে নিতে পারছি না সব গন্ধ লাগে।
আদর্শ স্বামী তাকে বলে ভাতের মাড় লবন দিয়ে খেতে।
এই স্বামী যদি স্ত্রী কে এক সেকেন্ড এর জন্য ভালোবাসতো তা হলে এ কথাটা বলতে পারতো না।
বলতো তোমার কি খেতে মন চায় বলো, আজ তো কেউ বাসায় নাই তোমাকে এনে দিতে পারবো।
*
১৫ রমজান চলে গেছে এখনো তাদের কে রমজান এর জিনিস দেওয়া হয় নাই।
বাবা প্রবাসী মা কে সব দিক দেখা লাগে।
রোজা রেখে ঢাকা রওনা দিল মা,
আখিঁ স্বামী কে অনেক
পছন্দ করতো মা ।
কিন্তু মা তো জানতো না অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ।
থাক সে সব কথা,
কি কি লাগবে সব গুলার হিসেব দিয়ে মা ত্রিশ হাজার টাকা হাতে দিয়ে বললো বাবা কালকের ভিতরে নিয়ে এসো তোমার আপুকে অসুস্থ বাড়িতে রেখে আসেছি ।
ছেলে আর মা অনেক্ষণ কথা বলার পর ছেলে বাহির হয়ে গেলো।
তার পর ফিরে আমাদের জন্য জামা কাপড় নিয়ে।
আমাদের সদস্য সংখ্যা চার জন।
মা বললো এগুলা কি বাবা তোমারে কি বলছি
আর তুমি কি করছো।
ও বললো মা আপনি তো তাড়াতাড়ি বাড়ি যেতে হবে তাই আপনাদেরটা সেরে ফেলেছি।
আজ সন্ধ্যায় মা বাবার কি যেন কথা আছে আপনার সাথে সবাই মিলে বসলে আমাকে ফোন দিয়েন।
*
আপনার মেয়ের নামে বিচার আছে।( আখিঁ শশুর)
এই লোক আরেক খাটাস,বউ এর কথায় উঠে আর বসে কোন ব্যক্তিত্ব নেই। উনি বউ এর শিখানো বুলি আউড়ায় সব সময়।
মা বললেন বলেন ভাই আমার মেয়ে দোষ থাকলে আমি নিজ হাতে শাসন করে যাব।
আপনার মেয়ে কোন কাজ করেনা,সারাদিন ঘুমায়,আর নামাজ কালাম তো পড়তেই দেখি না কোরআন পড়া তো দূরের কথা।
মা হেসে উঠে জিজ্ঞাস করলো কি রে আখিঁ এগুলা কি সত্য কথা।( মা জানে এ কথা গুলা সব মিথ্যা একজন মা’ই তার মেয়ে কে সব থেকে বেশি বুঝে)
আখিঁ বলতে শুরু করতেই উনি বললেন এই বেয়াদবের বাচ্ছা আবার মুখে মুখে মুখে তর্ক করে।
তখন মা বললো ভাই সংযত হয়ে কথা বলেন ।
আপনার মেয়ে কিন্তু আমার ঘরের সাথে তার ন্যায় অন্যায় গুলা ও আমি দেখি।
কি সংযত হয়ে কথা বলব?? আমি এমন শিক্ষা দেই নাই মেয়ে কে যে বড়দের মুখে মুখে কথা বলবে।
মা তাচ্ছিল্যের সুরে বললেন তা হলে এই শিক্ষা দিলেন বুঝি,
ননদের ছোট মেয়েকে ঘাড়ে লাথি উঠানোর, তেমন ভুলের জন্য না মেয়েটা ঘরের দরজায় প্রসাব করছে এ জন্য।
তারপর উনি মা কে যা তা ভাবে অপমান করলেন।
আখিঁ এ অপমান সহ্য করতে না পেরে পরের দিন সকালে মায়ের সাথে চলে যাবে ।
মা রুম থেকে বাহির হয়ে গেছে আখিঁ কে তার শাশুড়ি বাহির হতে দেয় না।আখিঁ হাত টা ঠেলে বাহির যেতে চাওয়াতে ঐ মহিলা এক ধাক্কা দেয় যার ফলে আখিঁ ছিটকে পড়ে টিভির কোনায় কপালে আঘাত খায় এটা আমার মায়ের সামনে।
আখিঁ স্বামী শুয়ে শুয়ে সব দেখছে।কিন্তু কিছু বলছেনা এবং কাল রাতেও কিচ্ছু বলে নাই।
*
রাগে দুঃখে ঘৃণা অপমানে ছাদে চলে গেল জীবন শেষ করে দিতে।
আর এক পা দিলেই আখিঁ নাম চিরদিনের জন্য মুছে যেত ,
ঐ ছেলেটা এসে আখিঁ চুলের মুঠি ধরে টানতে টানতে নিচ তালায় নিয়ে গেল এবং বগলের নিচে আখিঁ মাথা নিয়ে বললো তোর যে এতো সখ মরার জন্য তোকে আজই মেরে ফেলবো,
বিশ্বাস কর আপু তখন মনে হলো পুরা পৃথিবী অন্ধকার ,
গলায় এমন ভাবে চাপ দিছে মনে হয় এখনই মারা যাব।
তার পর হাত থেকে ছেড়ে কানে আর গালে দুইটা চড় মারছে ডান গালে।
তার পর তিন দিন ছিল ঐ বাসায় এটা ঔষধ এনে দেয় নাই ডঃ তো দূরের কথা।
তারপর অনেক কাকুতি মিনতির পর আমার এক কাজিন এর কাছে আখিঁকে তুলে দিছে।
ডঃ দেখানোর পর জানতে পারলাম ডান কানের পর্দা পেটে গেছে।
ডান চোখে ও সমস্যা হয়ে গেছে চশমা ছাড়া পড়তে পারে না।
*
আজ এক বছর হয়ে গেলো কেউ নিতে আসে নাই,
ঐ ছেলে ফোন দেয় এসএমএস করে আরে শালা তোর বউ কি ফোনে যাবে না কি?
আখিঁ ডিভোর্স পাঠিয়ে দিছে ।
ডিভোর্স পাঠানোর পর উনার আবার নতুন করে ভালোবাসা জাগলো উনি সাক্ষর করে নাই আখিঁ কে নিবে কিন্তু আখিঁ শর্ত মানতে রাজি না।
আখিঁ ভর্তি হয় অনার্স,
আখিঁর এখন উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার,
*
এখনো অনেক বিয়ের প্রস্তাব আসে মা যদি বলে আখিঁ একটু খোঁজ খবর নিয়ে দেখি মা।
তখন আখিঁ টলমল চোখে বলে মা সংসার যে কি …….
আমার পক্ষে আর সংসার কারা হবে না।
আমার ভবিষ্যৎ শুধু আমার পরিবার নিয়ে আর কিছু না।
মা আমি এ সংসার নামক কারাগার থেকে মুক্তি চাই।

………………………………………( সমাপ্ত)………………………………..

গল্পের বিষয়:
দু:খদায়ক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত