সব মা, মা হয় না

সব মা, মা হয় না

(কলা গাছের বান্দর)এলাকার খেলার মাঠে সব বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিচ্ছি।

তখন তুহিন বলল..

— কিরে রাজ আগামী কাল অন্য এলাকার সাথে খেলা রাখছি। তুই কি খেলতে পারবি?

— কয়টায় খেলা?

— বিকাল ৪ টায় মাঠে থাকতে হবে।

— নারে দোস্ত আমার সাড়ে চারটা থেকে টিউশনি আছে।

— আর কত টিউশনি করবি। একটু সময় তো আমাদের দে।একদিন বন্ধ করলেতো আর কিছু হবে হবে।

— আচ্ছা আমি খেলবো।কিন্তু আমি যে খেলবো এটা যেন আমার বাসায় না জানে।

— রাজ আমরা কেউ তোর বাসায় কিছু বলতে যাবো না। তুই নিজেই সব বলে দিবি।

— তাও ঠিক। আচ্ছা যাই হোক, কাল মাঠে দেখা হচ্ছে এখন বায়।

— এখন কোথায় যাবি? একটু তো বসে যা।

— না রে একটু পরে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। তাই এখন আমার ছাদের গাছ গুলোতে জল দিতে হবে।

— হায়রে গাছ প্রেমী যা।

— টা টা।সবাইকে বিদায় দিয়ে চলে আসলাম। আসলে আমি আমার গাছ গুলোকে খুব যত্ন করি।

আর গাছ গুলোতে জল দিয়েই টিউশনি করতে বার হতে হবে। যদি টিউশনিতে না যাই তাহলে মা আমার কপালে শনি লাগাবে।

আমি মাকে ভয় পাই না কিন্তু আমার জন্য যে আমার বাবাকে কথা শুনাবে এটা সহ্য হবে না।

আমার মা আমার ৬ বছর বয়সে মারা যায় আর তারপর সবার কথায় বাবা আরেকটা বিয়ে করে।

নতুন মাকে আনা হয় আমার দেখাশুনা করার জন্য কিন্তু উল্টা আমাকেই ওনার দেখা শুনা করতে হয়।

এমন কি সকালের থালা বাসনও আমাকেই মাঁজতে হতো আর ঘর মুছতে হতো। এইসব কাজ করে আমি স্কুলে যেতাম।

এভাবেই সময় চলছিলকিন্তু আমার কাজের কোন পরিবর্তন হচ্ছিল না। বাসায় ঠিক মত পড়ার সময় টুকু পাইনি।

স্কুল জীবন শেষ করে কলেজে উঠি তারপর ভার্সিটি জীবনে পা রাখি। হয়ত পড়ার সুযোগ পেলে পাবলিক কোন ভার্সিটিতে টিকে যেতাম।

কিন্তু পড়ার কোন সুযোগ ছিল না। তাই এলাকার কলেজ থেকেই পদার্থ বিষয়ের উপর অনার্স করতে থাকি।

অনার্সের ১ম বর্ষ থেকে টিউশনি করতে শুরু করি। এখন আপাতত লেখাপড়া শেষ করে বেকার আছি।

কারন অনার্স করে হাজার হাজার ছাত্র বসে আছে আর আমার থেকে হাজার গুন মাথা ওদের। তাই চাকরীর আশা ছেড়ে দিয়ে শুধু টিউশনি করি।

আমার সৎ মায়ের ২টা ছেলে আর একটা মেয়ে আছে। ওদের আমি ভাই বোন ভাবলেও ছেলে দুইটা আমায় দেখতেই পারে না।

তবে বোনটা আমায় অনেক কেয়ার করে। কিন্তু গতবছর ওর বিয়ে হয়ে গেছে। ও থাকাকালীন আমার কাজের কষ্ট একটু কম হতো।

আমার সাথে হাতে হাতে কিছু কাজ করে দিতো। এখন তো ও নেই। আর ওর নাম রিনি। আর ভাই দুইটার নাম নির্জয় আর দূর্জয়।

বোনের নামটা রিনি হলেও সত্যি ওর কাছে আমি ঋণী। আজও ওরে একটা ভাল দামী কিছু দিতে পারি নি।.সন্ধ্যায় ছাদের গাছ গুলোতে জল দিচ্ছি।

তখনই পাশের ছাদ থেকে একজন ডাক দিলো আমার নাম ধরে। তাকিয়ে দেখি নিত্তিয়া ডাকছে।

আসলে নিত্তিয়া আমায় ভালবাসে এটা আমি জানি কিন্তু যা হওয়ার নয়সেই মোহে জড়িয়ে কি লাভ? তবে আমি যে নিত্তিয়াকে ভালবাসি না তা নয়।

আমিও নিত্তিয়াক ভালবাসি কিন্তু আমার অবস্থা তো আর আহামরি না, যে নিত্তিয়ার পরিবার আমায় মেনে নিবে।

— হুমম নিত্তিয়া বলো।

— আজও চলে এসেছো গাছে জল দিতে।

— কেন? এমনটা কি নতুন দেখছো। গত পাচঁ বছর ধরেই তো এটা দেখে আসছো।

— হুমম তাই তো কেউ ঠিক এই সময় ছাদে আসে তোমায় দেখতে।

— তা সেই মানুষটা কে?

— তুমি বুঝে লাভ নাই গো। আচ্ছা রাজ, তুমি কাউকে ভালবাসো না কেন?

— আমার জীবনটা তো হেডফোনের মত। শুধু প্রেমের শুরু হওয়ার আগে গিট্টু লাগে তাই আর প্রেম করা হয় না।

— তুমিও না। প্রেম করতে হলে সাহস লাগে, আর আমার মনে হয় তোমার সেই সাহসটা নেই।

— ও তাই, তাহলে আমায় কিছু সাহস ধার দিবে। তোমার সাহস দিয়ে কোনমেয়েকে পটিয়ে পরে তোমার সাহস তোমায় ফেরত দিয়ে দিবো।

— সাহস না হয় দিবো কিন্তু মেয়ে কি আগের থেকেই পছন্দ করা নাকি।

— না তবে যদি পছন্দ হয় তাহলে তোমার থেকে সাহস নিয়ে বলে দিবো।

— তুমি তো আজব। ঘরের সামনে স্যান্ডেল থাকতে বাইরে থেকে কেন মডেল খুঁজবে?

— হা হা হা এটা একটা মুভির ডায়লগ। তোমার মুখে তো খুব মানায়।

— তাই না। আমি না খুব ভাল পিটাতেও পারি। যদি কোন মেয়ের দিকে তাকাও তাহলে তোমায় না…

— আমায় না কি শুনি?

— না থাক যে বুঝে না তাকে বুঝিয়ে লাভ নেই।

— আচ্ছা বায়, রুমে কিছু কাজ আছে।

— যাও যাও।নিত্তিয়া মুখে একটা ভেংচি কেটে চলে গেল আর আমিও গাছে জল দিয়ে চলে আসলাম। মেয়েটা খুব পাগলী তবে খুব বুঝে।

নিত্তিয়া আমার মনের মত একটা মানুষ কিন্তু আমার যে কোন ভবিষ্যৎ নেই।

..আমাদের বাসায় তিনটা ঘুমানের ঘর,আর একটা রান্না ঘর। একটায় মা বাবা থাকে আর একটায় আমরা তিন ভাই থাকি।

আরেকটা রুম ভাড়া দেওয়া আছে। তবে ওইটা আমার রুম ছিল। তাই আমি মাটিতে ঘুমাই।

আসলে ওদের নাকি খুব গরম লাগে তাই আমি মাটিতেই থাকি। তাই আমি রাতের বিছানা করছিলাম হঠাৎ মা রুমে আসলো….

— তো নবাব সাহেব কি ঘুমের কাজ করছেন?

— জ্বী মা।

— আজ তো তোর টিউশনি শেষ হইছে। বেতন কি দিছে নাকি মেরে দিছস?

— বেতন দেয় নি তবে দিবে। আসলে ওদের একটু সমস্যা আছে।

— ওদের সমস্যা বুঝি না। কাল আমার হাতে বেতন এনে দিবি ব্যাস।

— আচ্ছা।আর কোন কথা না বলে মা চলে গেল। আর আমার ভাই দুইটা মোবাইলে ফেসবুকে পরে আছে।

ওদের আমি মাঝে মাঝে বলি মন দিয়ে পড়ার জন্য কারন ভাল মার্ক দিয়েও এখন চাকরী মিলে না।

কিন্তু ওদের কিছু বললে ওরা বলে ওদের সামনে বড় দাদার অধিকার না ফলাতে। শুধু আমার একটা সৎ বোনই ছিল যে আমার আপনের চেয়েও বেশি।

দুই ভাই এখন ফেসবুক চালাচ্ছে তাই আমি লাইন অফ না করেই ঘুমিয়ে পড়লাম। যদি লাইট নিভিয়ে দেই তাহলে মোবাইলের আলোয় ওদের চোখের সমস্যা হবে।

কিন্তু আমি কখনো আলোর মাঝে ঘুমাতে পারি না তবে সহ্য করে নিয়েছি।

.সকালে ঘুম থেকে উঠে বাসার কিছু কাজ করে বেড়েই পড়লাম চাকরীর খুঁজে। সকালের খাওয়াটা এখনো হয় নি কিন্তু সূর্য মাথার উপর দিয়ে পার হতে চলল।

আসলে আমার বাবা হলো কাঠের পুতুল। মা যাই বলে ওনি তাই শুনে। একদিকে ওনার এই ছেলে বাঁচলো কি মরলো তার খেয়াল নেই।

পকেটে ১০ টাকা ছিল তাই দিয়ে ৫টাকা দামী ২টা শুকনা রুটি আর জল খেয়ে নিলাম।.প্রতিদিনের মত ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরলাম।

একটু স্নান করে ঘুমানো দরকার। তাই শার্ট টা খুলে খাটে রাখলাম তখনই মা আসলো…

— আরে রাজ সাহেব সারা সকাল কামাই করে চলে আসছে যে। এই দিকে যে বাসার বাজার করতে যেতে হবে তার খেয়াল নেই।

— মা দূর্জয় বা নির্জয় গেলেই তো হয়।

— ওরা তোর ছোট। যদি বাসার বাইরে বেশি যায় তাহলে খারাপ হয়ে যাবে। তুই যা..

— আচ্ছা।কিছু করার নেই তাই শার্ট টা আবার পড়ে নিলাম। আর বাজারের ব্যাগ, লিস্ট আর টাকা নিয়ে রওনা হলাম।

বাজার গিয়ে লিস্ট অনুযায়ী বাজার করতে লাগলাম। তখন খেয়াল করলাম নির্জয় কয়েকটা বাজে ছেলেরা সাথে বাইকে বসে আড্ডা দিচ্ছে।

ওরে দেখেও না দেখার ভান করে চলে আসলাম।

.বাজার শেষ করেই বাসায় এসে মাকে প্রতিটা জিনিসের দাম বুঝিয়ে দিলাম। বাজার শেষে ২ টাকা বেচেঁ ছিল কিন্তু সেই টাকা টাও মা নিয়ে গেল।

আমার মুখের দিকে তাকালোও না। হায়রে মা, তুমি কি সত্যি মা। বাবা মা শখ করে আমার নাম রাখছিল রাজ কিন্তু আজ আমার নামটা সার্থক।

শুধু রাজের পরে একটা চাকর বসাতে হবে। তাহলে হবে “রাজ চাকর”।

.স্নান শেষ হতেই মনে পরলো আরে আজ তো খেলতে যেতে হবে। কখন যে সাড়ে তিনটা বেঁজে গেল খেয়ালই ছিল না।

আমি তো মোবাইল চালাই না তাই তুহিন আমারে ফোন দিতে পারছে না। কিন্তু তুহিন ঠিকই আমার অপেক্ষায় থাকবে।

কিন্তু একটু পর তো আমার টিউশনিও।যাই হোক, মাকে বুঝিয়ে বলবো নে। আজ টিউশনিতে যাবো না।

আজ বরং খেলতেই যাই, সেই গত মাসে যে খেলছিলাম এরপর থেকে তো খেলার কোন নামই নেই।

.রেডি হয়ে বেড়িয়ে পরলাম মাঠের উদ্দেশ্যে। রাস্তায় দেখা হয়ে গেল নিত্তিয়ার সাথে। কাধেঁ ব্যাগ নিয়ে আমার দিকেই হাঁটছে।

— আরে রাজ কই যাচ্ছো এত্তো তাড়াহুড়া করে।

— মাঠে খেলা আছে আজ।

— তুমি খেলবে নাকি।

— তাই তো মনে হয়।

— চলো তাহলে আমি দেখবো।

— কেন?

— আরে বাবা আমার জানু খেলবে আর ছয় মারবে তাই দেখতে যাবো। আর আমি না গেলে তোমায় উৎসাহ দিবে বলো তো কে?

— বাহ্ কত চিন্তা আমার জন্য।

— হি হি হি যাক বুঝলে তো আমার এইটুকু মনের কথা।

— হইছে এবার তারাতারি চলো। খেলা প্রায় শুরু হবার পথে।

— চলো।আমি আর নিত্তিয়া একটু জোরে জোরেই হাটছি। হঠাৎ নিত্তিয়া এমন এক কথা বলল আর আমি না হেসে পারলাম না…

— আচ্ছা রাজ জানো আমার না একটা ফিলিংস হচ্ছে।

— কি ফিলিংস?

— মনে হচ্ছে তুমি আর আমি পালিয়ে যাচ্ছি কোথাও? যেমন আমার বিয়ে ঠিক হইছে আর তুমি আমায় নিয়ে পালালে?

— তোমার মাথা।

— হি হি হি আমার মাথাটা কত্তো গোল তাই না।

— হুমম ফুটবলের মত।

— হুহহআর কোন কথা না বাড়িয়ে কোন মতে মাঠে এসে পৌঁছালাম। এখন বিপরীত টিমের কাছে শুধু লিস্ট পাঠাবে কে কে খেলবে?

আমি যাওয়ায় তুহিনযেন বাঁচলো। ও তারাতারি লিস্টে আমার নাম লিখে পাঠিয়ে দিলো। আর আমায় বলল…

— রাজ কেন জানি মনে হচ্ছে তুই আসবি।

— হুমম।সবই ঠিক ছিল তবে আমার পাশে নিত্তিয়াকে দেখে তুহিন আমায় একটা খুচাঁ দিলো..

— আজ রাজ তো ভালই খেলবে।

— তুহিন তুই না একটা যা তা। নিত্তিয়া এমনি আসছে।আমার কথা বাদ দিয়ে নিত্তিয়া বলল…

— ওই রাজ আমি তো তোমার খেলা দেখতে আসছি। সবাইকে বলো তো..আমি আর কিছু বললাম না।

তবে সবাই আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসঁতে লাগলো।খেলা শুরু হলো হয়ে গেল আর আমরা টসে জিতে ব্যাটিং করতে লাগলাম।

প্রথমে আমি আর তুহিনই নামলাম। ভালই খেলছিলাম অনেক দিন পরে। ১০ ওভাবে ৮৪ টার্গেট দিলাম। ব্যাটিং শেষে আমরা ফিল্ডিংয়ে নামলাম।

বারবার চোখ গুলো নিত্তিয়ার দিকে যাচ্ছিল। মেয়েটা সেই কখন থেকেই খেলা দেখছে । অনেক দিন পর মনটা খুব ভাল লাগে।

ইচ্ছা করছে আজীবন নিত্তিয়ার পাশে থাকতে পারতাম।খেলাটা আমরাই জিতে গেলাম। আমরা যতটা না খুশি হলাম, তার চেয়ে বেশি নিত্তিয়া খুশি হইছে।

তারপর নিত্তিয়াকে নিয়ে বাসায় চলে আসলাম।.বাসায় আসতে মায়ের সামনে পরলাম। ওনি বাসার বারান্দায় দাড়িয়ে ছিল।

নিত্তিয়াকে বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে আমি বাসায় গেলাম।

— কই থেকে আসা হইছে নবাবের?

— খেলতে গেছিলাম মা।

— খেলতে গেছিলি নাকি মেয়ে নিয়ে ফষ্টি নষ্টি করতে গেছিলি।

— আমি সত্যি বলছি মা।

— মুখের উপর কথা বলা বন্ধ কর।কথাটা বলেই আমার গালে চড় বসিয়ে দিলো। আর সবাই আমার দিকে তাকিয়ে রইলো।

আমি মাথা নিচু করে চলে গেলাম। মা জোরে জোরে বলতে লাগলো ” আজ রাতে খাওয়া বন্ধ “।

.রাতে ছাদের এক কোণে বসে কাদছিঁ। খুব কষ্ট হচ্ছে আজ। এই বাসার একটা লোক আমায় ভালবাসে না। কেন থাকবো আমি এখানে?

পাশের ছাদ থেকে নিত্তিয়ার আওয়াজ শোনা গেল..

— রাজ এদিকে আসো।

— বলো।

— এই গুলো নাও। (একটা খাবারের প্লেট এগিয়ে দিয়ে)

— না নিত্তিয়া আমি নিতে পারবো না।

— ও আচ্ছা।

— হুমম।

— তুমি নিতে পারবে না।। কিন্তু খাওয়াই দিলে তো খেতে ঠিকই পারবে।

— মানে? আর কোন কথা না বলে নিত্তিয়া আমার দিকে ওর হাতে করে ভাত এগিয়ে দিলো। আমিও বাধ্য ছেলের মত খেতে লাগলাম।

আমার থেকে মনে হচ্ছে বেশি কষ্ট নিত্তিয়া পাচ্ছে। ও টানা কেদেঁই যাচ্ছে।

— তুমি কেন কাদছোঁ নিত্তিয়া?– জানি না তবে আমার সব সময় মনে থাকবে এই দিনটার কথা।

— নিত্তিয়া আমায় ভালবেসো না। খুব কষ্ট পাবে।

— সেই কষ্টে কতটা সুখ তুমি বুঝবে না।

— থাক বেশি বুঝলেই সমস্যা।তারপর নিত্তিয়ার হাতে খেয়ে রুমে এসে ঘুমিয়ে পরলাম।

.সকালে মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙ্গলো। আর ওনার হাতে মোবাইল।

— এই যে নবাব ফোনটা ধরো। কোন নিলয় নামে তোমায় খুজছেঁ? আমি মায়ের হাত থেকে মোবাইলটা নিলাম।

কানে দিয়ে বলল..

— হুমম নিলয় ভাই বলেন।

— রাজ তুমি যে সুপারভাইজার কাজের জন্য এপ্লাই করছিলে এটায় তুমি সিলেক্টেড। তবে সব সময় কোম্পানীতে থেকে কাজ করতে হবে।

তুমি কি রাজি?

— ভাই ডিসিশনটা রাতে জানাই।

— আচ্ছা।এখন আমার সামনে দুইটা রাস্তা দাড়িয়ে আছে। একটা হলো স্বপ্ন আর আরেকটা অন্ধকার। এতদিন তো অন্ধকারেই ছিলাম।

এবার দেখি কি হয়?

.সকালের প্রয়োজনীয় বাসার কাজ গুলো শেষ করে কোম্পানিতে চলে গেলাম একটু দেখা করতে।তারপর ওইখানে সব কথা বলে চলে আসলাম।

আর চাকরীটাও আমি নিলাম। এখন আমার শুধু একটাই স্বপ্ন আর সেটা হলোনিত্তিয়াকে আপন করে পাওয়া।

কাল থেকে কোম্পানির ট্রেনিং শুরু হবে। আমিও রেডি,শুধু নিজের জন্য কিছু জিনিস কিনতে হবে।

.বিকালে গেলাম টিউশনিতে। আজ টিউশনিতে গিয়ে টিউশনি গুলো ছেড়ে দিলাম। আর দুইটা টিউশন থেকে মোট ৬ হাজার টাকা নিয়ে বাসায় আসলাম।

রুমে আসতে না আসতেই মা এসে হাজির।

— দে-নবাব টাকা গুলো দে।

— কেন? আমার টাকা তোমায় কেন দিবো?

— আরে খারাপ মায়ের খারাপ ছেলের মুখে দেখি কথা ফুটছেঁ। তোর মাও নাকি এমন ছিল।

— চুপ। আমি আমার মায়ের নামে কিছু শুনতে চাই না।

— আচ্ছা টাকা গুলো দিয়ে ছাদে গিয়ে গাছে জল দে।

— নিজের ছেলেদের পাঠাও আমাকে এইসবে ডাকবে না।

— তুই যাবি নাকি মার খাবি।

— যে হাত দিয়ে মারতে আসবে সেই হাতই ভেঙ্গে দিবো।

— কি বললি তুই?

— হুমম আমি এই মুহূর্তে এই বাসা ছেড়ে চলে যাচ্ছি। আমার কাজ গুলো নিজেরা ভাগ করে করো।

আমার ভাগ্য যে আমার দিকে এতদিনে সহায় হয়েছে এটাই অনেক।আর যাওয়ার আগে একটা কথা বলে যাই শুনো। সব মা, মা হয় না

তবে কিছু সৎ মা আছে যারা অন্য সন্তানকে আপন করে নেয়। আর তুমি তো মা না বরং রাক্ষসী।

শুধু আমার থেকে নিয়েছো আর কিছু দাও নি। ভাল থেকো তোমরা সবাই।টাকা পকেটে নিয়ে বেরিয়ে পরলাম রাস্তায়।

উদ্দেশ্য এখন স্বপ্বপূরন।টাকা গুলো দিয়ে নতুন পথ শুরু করবো আর কাল থেকে ট্রেনিং।

আর কাজের প্রথম সেলারি পেয়েই আমি দেখা করবো নিত্তিয়ার সাথে। এতদিন সবাই যেন খুব ভাল থাকে ।

গল্পের বিষয়:
দু:খদায়ক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত