পাপ

পাপ

নীলার পেটটা দিনদিন বড় হয়ে যাচ্ছে..দিন দিন বললে ভুল হবে,ঘণ্টায় ঘণ্টায় বড় হচ্ছে! ‘বেলুনে বাতাস ঢুকালে যেভাবে ফুলতে থাকে,ঝানু খালার মতে মনোয়ারার মেয়ের পেটটাও নাকি তেমনি করে ফুলে যাচ্ছে।’

-কিগো মনু,তোমার মাইয়ার তো দেহি পেট দিনদিন বেলুনের লাহান ফুলতাছে,হারাদিন কাম করো..মাইয়ায় কোনো আকাম করছেনি,জিগাইছো?
-না খালা,কই?মাইয়ার পেট তো আগের লাহান ই..
-‘আগের লাহান’!

ঝানু বিবির চোখ কপালে উঠে..’তোমারে একখান কথা কই,আবাল সাইজ্জা বইসা না থাইক্কা মাইয়ারে জিগাও..আমার বালা ঠেকতাছেনা..আমি হইলে পেট ফুটো কইরা দেখতাম, কার পাপ পেটে বাড়াইতাছে…’ আরো কি কি সব বিড়বিড় করে বলতে থাকলেন’..চলে যাওয়ায় বুঝতে পারেনি মনোয়ারা!

ঐ দিন ঝানু খালার কথা শুনে মেয়ের দিকে ভালোভাবে তাকিয়ে দেখে সত্যিই তাই!চমকে উঠে তার কলিজা!কিন্তু বেলুন ফুটো করলে,বেলুন অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে..বেলুনের মা বাপ নাই,তাই আফসোস করারও কেউ নাই ,কিন্তু মেয়ে!!নীলা তো তার নিজের মেয়ে!!এইসব ভাবছে কি করে সে??কিন্তু এইতো সেদিনও মেয়েকে নিয়ে কাজ করতে গেলো ক্ষেতে, কই তখন তো কিছু চোখে পড়লোনা!সারাদিন কাজে ব্যস্ত থাকে মনোয়ারা,মেয়েটার দিকে তেমন করে নজর রাখতে পারেনা..কিন্তু শান্তশিষ্ট মেয়েটা কি কোনো অপরাধ করতে পারে?বয়স’ই বা কতো?মাত্র ১৩তে পা রাখলো!!তাহলে?’কিন্তু আইজকাল যা জামানা পড়ছে’..অস্থির হয়ে আছে মনোয়ারার মন,কিন্তু কে সর্বনাশটা করলো,কিছুই বুঝতে পারছেনা!!তাছাড়া আশেপাশের মানুষও চোখ টেপাটেপি করছে…’রতন থাহে কতো কামে ব্যস্ত…নিজের পোলা না হইলেও নীলারে কোনোদিন সৎ বোনের চোখে দেহে নাই,কিন্তু কাম বাইড়া যাওয়ায় বোনডার দিকে পোলাডায়ও নজর রাহার সময় পায়না..বাপমরা মাইয়া আমার..মুখটাও আইজ ফ্যাকাইস্যা দেহাইতাছে..তাইলে কি…

-মনু ভাবি বাড়ি আছো নি?পাশের বাড়ির সালেহার ডাকে চমকে উঠলো মনোয়ারা।
-ও মনু ভাবি..সাঁড়া দাওনা কিয়ের লাইগ্যা? ‘ও সালি আহো ঘরে,বহো”.. ‘ঘরে কেউ নাই তো?’ সালিহা জিগ্যেস করে।
-না,কেউ নাই..
-শুনো..সালিহা গলার আওয়াজ নিচু করে ফিসফিসিয়ে বলে “আইজ তোমার মাইয়া আংগোর বাড়ির পিছনে খেলতে গেছিল,

ওর পেটের দিকে তাকাইয়া সেফালির মায়,শামসু কাহা,হাসনা কাকি..বেবাগে হাসতাছিল।তারা জিগাইতেছিল..’কিলো,তোর পেটে কারে বাঁধাইছিস?পোংডামি কইরা বেড়াস কবে থাইক্যা?”নীলু তাগোর কথা শুইন্যা ফ্যাল ফ্যাল কইরা -শুনো..সালিহা গলার আওয়াজ নিচু করে ফিসফিসিয়ে বলে “আইজ তোমার মাইয়া আংগোর বাড়ির পিছনে খেলতে গেছিল,ওর পেটের দিকে তাকাইয়া সেফালির মায়,শামসু কাহা,হাসনা কাকি..বেবাগে হাসতাছিল।তারা জিগাইতেছিল..’কিলো,তোর পেটে কারে বাঁধাইছিস?পোংডামি কইরা বেড়াস কবে থাইক্যা?”নীলু তাগোর কথা শুইন্যা ফ্যাল ফ্যাল কইরা তাকাই ছিল আহাগো..মাইয়াডার মুখের দিকে তাকান গেছিলনা তহন এই বলে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো সালিহা..”বলি কি তোমার মাইয়ারে যেই কামডা করুক না ক্যান,তারে..মনুর চোখের দিকে তাকিয়ে চুপ করে গেল।

“আমার মাইয়ারে লইয়া সবার এমুন কান ফিসফিসানি হইবো ক্যান?মাইয়া কি আমার বেশ্যা আছিল নি?আসল বেশ্যাগরে নিয়া তো কেউ কিছু কয় না!মাইয়াডার দুদিন ধইরা পেটে ব্যথা,এর লাইগা পেটটা এট্টু ফুলছে..এর লাগি.. গরিবের দোষ সব জায়গায় খুইজ্যা বেড়ায় কেন মানু?ধনীগোর তো কতো আকাম করতে দেখলাম,কই কাউরে কোনোদিন তো দেহি নাই..তাইলে আমার মাইয়াডারে নিয়া সবাই এমনে ‘ সালিহা চুপচাপ বের হয়ে গেল। কয়েকদিন চলে গেল..”পেট ব্যথার ঔষধ,পানিপড়া সবই খাওয়াইলাম।কিন্তু কিছুই হইলোনা।মাইয়াডাও চুপসে যেতে লাগলো।চোখমুখ ফ্যাকাইস্যা দেহাইতাছে.. তাইলে কি!!” মনোয়ারা বেশি ভাবতে পারেনা,মাথা ব্যথা শুরু হয়! ওদিকে মানুষের ফিসফিসানিও বেড়ে যেতে লাগলো। হঠাৎ একদিন..

-মাগো…আমারে আর মাইরোনা..খুউব ব্যথা লাগতাছে ভাইরে -মাগো…আমারে আর মাইরোনা..খুউব ব্যথা লাগতাছে ভাইরে বুঝাও
-মারতামনা,কহ দেহি..কার লগে তুই এইসব করছস?
-ভাই..আমি হাচা কইতাছি,আমি কোনো পাপ করিনাই ..’ওর বড় ভাই নয়ন আবারো মারতে লাগলো।

‘ক কার লগে আকাম করছস তুই?বংশের মান ডুবাইছস,আবার কস কিচ্ছু করস নাই!” পরপর ৩টা লাঠি ভাংগা হলো,কিন্তু নীলা কিছুই বলতে পারলোনা..ওর ভাই ওর চুল ধইরাও টানা হেচড়া করলো কিন্তু নাহ! ২-৩দিন ধরে মাইরের পর মাইর দেয়া হচ্ছে, তারপরও কিছুই বলছেনা নীলা..বলবে কি করে?

পরেরদিন দুপুরে নয়ন এসে দেখে নীলা খেতে বসেছে।মাথায় রক্ত উঠে গেল।আচমকা ভাতের থালা দূরে ফেলে তলপেটে একটা জোরে লাথি মারলো..নীলা ‘মাগো’ বলে কুঁকড়ে উঠলো..অসহ্য ব্যথা তার শরীরকে ঘিরে ফেললো,তলপেটে মনে হলো কেউ ছুঁড়ি বসিয়েছে.. মসজিদ থেকে ফিরছিলেন মোতালেব, গোংরানোর শব্দে দৌড়ে গেলেন, গিয়ে দেখেন মেয়েটা কাঁতড়াচ্ছে,তাকে ধরার মতো কাউকেই দেখছেননা,মাটিতে রক্ত দেখে মনে মনে ‘নাউজুবিল্লাহ’বলতে লাগলেন..তারপর একটু দূরে নয়নকে দেখে বললেন..”আরে করছো কি! মাইয়াডা তো মইরা যাইতেছে..ধরো তাড়াতাড়ি নয়ন তখনো ঠাঁই দাঁড়িয়ে বলছে ‘মইরা যাকগা,এমুন বইনের দরকার নাই..’ মনোয়ারা বাড়ি ছিলনা, এসে দেখে গ্রামের মুরুব্বিরা সবাই ফিসফিসিয়ে কি যেনো বলাবলি করছে।আঁতকে উঠলো তার কলিজা..’সর্বনাশ বুঝি উপরওয়ালা তার বাড়িতেই দিলো সব!

-ও মনু,তাড়াতাড়ি আহো..দেহো নয়ন মাইয়াডারে কেমুন এখখান লাথি মারছে..মনোয়ারা তাড়াতাড়ি মেয়ের কাছে গেলেন,পাশের বাড়ির সালিহা ওর মুখে পানি দেয়ার চেষ্টা করছে..বিড়বিড় করে নীলা কিছু বলতে চাচ্ছে..কিন্তু আশেপাশে এতো মানুষের গিজগিজে কিছুই বোঝা যাচ্ছেনা..

-ঐ আমনেরা যার যার বাড়িত যান, এইহানে কি ?তামাশা সাজাইছি?তা দেহার লাইগা আইছেন? মেয়ের কাছে তাড়াতাড়ি গেলেন’কি,অহন এমুন করছ কেন?কতো কইছি,হাচা কথা বইল্যা দে,কইলিনা তোর ভাই তোরে আরো মারবো এইবলে কাঁদতে লাগলেন মেয়েকে জড়িয়ে…

-আহা কান্দা থামাও নয়নের মা,তোমার মাইয়া মনে হয় কিছু বলতেছে..তখনো মানুষ দাঁড়িয়েছিল।
-মা..
-ক মা,ক..
-মাগো, সত্যই আমি কোনো পাপ করিনাই.. ব্যথায় আবারো কুঁকড়ে উঠলো নীলা। গ্রামের স্কুলের হেডমাস্টার কান্নাকাটি শুনে গিয়ে নীলার এই অবস্থা দেখে বলতে লাগলেন..
-নীলাকে নিয়ে এখুনি হাসপাতাল যান,মেয়ে তো মারা যাবে..

এতোক্ষণ হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার কথা কারো মনে না থাকলেও “চুহচুহ,আহারে, ‘এইরকম কথা শোনা যাচ্ছিল আচমকা কি হল!নয়ন দৌড়ে এসে তার বোনকে নিয়ে হাসপাতালের পথে রওনা দিলো পিছন পিছন বাকিরাও যেতে লাগলো..ডাক্তাররা মা আর ভাইকে অনেক্ষণ বকাঝকা করে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গেলেন নীলাকে।প্রচুর রক্তপাত হওয়ায় রক্ত যোগার করার জন্য নয়ন আর হেডমাস্টারকেই পাঠালেন.. অবশেষে অপারেশন হলো,পরমুহূর্তে কবরের নিস্তব্ধতাও ঢেকে দিলো!!

-স্যার..জ্ঞান ফিরলে আস্তে আস্তে নীলা কোনোমতে ডাক্তারকে ডাক দেয়।
-কি মা?কিছু বলবে?
-আমি বাঁচমু?
-কেন নয়?অবশ্যই, তোমার মতো ফুটফুটে মেয়েকে অনেকদিন বাঁচতে হবে..
-স্যার..আমার পেটে কি হইছিল?
-কিছু হয়নি মা,এমনি ছোট্ট একটা অপারেশন লেগেছে শুধু।
-স্যার..আচমকা ডাক্তারের হাত ধরে বলে নীলা”স্যার আপনে মিছা কথা কইতাছেন।

কি হইছে?যদি কিছু না’ই হইবো,মাইনষে আমারে নিয়া খারাপ কথা কইছে ক্যান?আমারে দেহাননা স্যার মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে ডাক্তারের বড় মায়া হল।বললেন,’তোমাকে দেখাবো,তবে এখন দেখানোর নিয়ম নেই,আগে সুস্থ হও,তারপ (কারণ নীলার অবস্থা তখন খুব খারাপ ছিল)

-না,স্যার..সে মেলা দেরি..জানেন,এর লাইগ্যা আমি কতো মাইর খাইছি..যে ভাই আমারে এতো আদর করতো,হেয়ও আমারে মারছে,জানেন?তলপেটে যহন লাথ্থি দিছে,মনে হইলো আত্মা বুঝি তহনই..খুউব কষ্ট পাইছি..দেহাননা স্যার মেয়েটার আকুতি দেখে ডাক্তারের চোখে পানি চলে আসে।তিনি নার্সকে অর্ডার করলে নার্স বড় একটা বাটিতে করে কিছু একটা নিয়ে আসলেন,থকথকে আর লিকলিক করছিল বাটিটায়..

-মাগো!

নীলা দেখেই ভয়ার্ত চিৎকার…মাঝখানে একটা কিছু,তার আশে পাশে রক্ত!এতো রক্ত !তার অসুস্থ মন নিতে পারলোনা বিষয়টা ‘মাগো!!’হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা সবাই চিৎকার শুনে ভেতরে গিয়ে দেখে নীলার চোখদুটি এখনো বড় হয়ে আছে,দুচোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়া পানি আর ভয় মেশানো মুখটায় করুণ একটা কষ্টের ছাপ এখনো স্পষ্ট!কোনো সাঁড়া শব্দ নেই..একেবারে নিস্তেজ হয়ে আছে দেহখানা! সামনেই বাটির দিকে তাকিয়ে সবাই আঁতকে উঠলো!কি এটা!কুচকুচে কালো..ভয়ঙ্কর..ওমা! রক্তের দলা!!! “ছি ছি..মেয়েটা তাহলে সত্যিই.. মাইয়াডারে ভদ্র মনে হইছিল “এমন অনেক কথা বলাবলি করছিল সবাই।কিন্তু কিসের দলা ছিল,কেউ দেখলোনা!

লাশের শরীর চাদর দিয়ে ঢেকে ফেললো নার্স..লাশের চেয়ে সবার মনোযোগ যদিও এখন ঐ বাটিতে রাখা জিনিসটার দিকে “আল্লাগো…আমার মাইয়াডা কথা কয়না ক্যান?ঐ নার্স,আমনে ওরে ঢাকতাছেন কেরে? মনোয়ারা মেয়েকে এমন নিথর দেখে আচমকা স্তব্ধ হয়ে গেলেন। তখনো শোনা যাচ্ছে কয়েকজনকে বলতে,”পাপের ফল এইভাবেই হয়’।হায়রে মনুষ্যত্ব! নয়ন তখনো নিথর দাঁড়িয়ে.. বোনের মৃত্যু তাকে ছুঁতে না পারলেও বোনের পাপ কর্ম যেন তাকে পাথর বানিয়ে রেখেছে! ডাক্তার এসে সবাইকে ধমক দিয়ে থামিয়ে বললেন,’আপনাদের মধ্যে মনুষ্যত্ব বলে কিছু আছে?বাচ্চা একটা মেয়েকে নিয়ে,যে এখন মারা গেছে তাকে নিয়ে এসব বলতে আপনাদের লজ্জা হওয়ার দরকার ছিল..কে পাপ করার ফল পেয়েছে?এই মেয়েটা!যদি বলি পাপ এখন আপনারা করছেন নিষ্পাপ মেয়েটাকে কষ্ট দিয়ে!

ওর তলপেটে একটা টিউমার হয়েছিল এবং পিরিয়ডের রক্ত টিউমারটার আশেপাশে এসে জমাট বাঁধার সাথে সাথে ওর পেটের ভিতর থাকা টিউমারটাও বড় হতে থাকে.. অনেকদিন আগে থেকেই টিউমারটা ওর তলপেটে ছিল,সঠিক চিকিৎসার অভাবে…তাছাড়া মেয়েটার জরায়ুতেও প্রবলেম থাকায় পিরিয়ডের প্রবলেম ছিল..আর আপনারা যদি আমাদের কাছে কয়েকদিন আগেও নিয়ে আসা যেত,তাহলে হয়তো…”এরপর নয়নকে ডেকে বললেন,”তোমাকে কিছু বলার নেই,তবে তোমার বোন কোনো পাপ করেনি..যদি বলতে হয় বলবো,ওর মৃত্যুর জন্য তোমরাও দায়ী..” নয়ন চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে শুনে..পাথর হয়ে বসে পড়লো!অনেকটা সময়,কিন্তু সময় থমকে আছে নয়নের কাছে।ঐদিকে মনোয়ারা জানতে পেরে ঐখানেই জ্ঞান হারায়।কয়েকজন নার্স পানি দিচ্ছে।নয়ন তখনো নির্বাক।গ্রামের কয়েকজন চুপচাপ চলে যায়,যেনো ‘গেলেই বাঁচে!’

হেডমাস্টার স্যার নয়নকে ডাক দেয় লাশ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে।তখনো চুপ..হঠাৎ চিৎকার করে কেঁদে উঠে নয়ন ‘বইন…বইনরে আমি আমার বোনডারে মাইরা ফেলাইছি!বইন…আমি এইডা কি করলাম বইন..এতো বড় পাপ কেমনে করলাম বইন..বইন এরপর মাথায় থাপড়াতে লাগলো আর ঐদিকেমনোয়ারার জ্ঞান ফিরলে আবারো কাঁদতে থাকে, “আল্লাগো আমার নিষ্পাপ মাইয়াডার লগে অনেক অন্যায় করছি,তুমি নিয়া নাও আমারে..আল্লাগো,আমার মাইয়া বারবার কইতেছিল’আমি কোনো পাপ করি নাই গো মা’..তারপরও হুনছিনা,মারছি..আল্লা­গোচিৎকা র দিয়ে বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলেন আবারো হাসপাতালে উপস্থিত থাকা সবাই কাঁদছে যে পাপের বোঝা তাকে বইতে হলো,পাপ না করেও সেই পাপের প্রকৃত দৃশ্য দেখে সহ্য করতে না পেরে তার মৃত্যু হলো!!কিছু মানুষের সাথে এমন করুণ পরিণতি হয়,অনেকে সেটা না বুঝে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়!!

গল্পের বিষয়:
দু:খদায়ক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত