দুর্বোধ্য

দুর্বোধ্য

নাক-মুখ থেকে গড়গড় করে রক্ত ছিটকে পড়ল ফ্লোরে। ভীষণভাবে কেঁপে উঠল সাবিহা। এভাবে কেউ কখনও মারেনি ওকে আগে। মেঝেতে পড়ে যায় ও। মুখ থেকে অস্ফূট গোঙানি বের হয়ে আসছে।এমনটা হবে আঁচ করতে পেরে পুলিশে ফোন দিয়েছিলো সাবিহা, কিন্তু কোন রিসপন্স আসে নি। মুখে ওড়না চেপে ধরে আবার সাবিহা কে দাঁড় করিয়ে দিল ফাহাদ। জোরে লাথি মারল, এবার পেটে। গোঁ-গোঁ করতে করতে ছিটকে বিছানাতে ফিরে গেল মেয়েটা, মুখ থেকে আরেক দফা রক্ত বেরিয়ে মেখে গেল বিছানার চাদরে।

সাবিহার মুখ থেকে দুর্বোধ্য সব শব্দ বের হয়ে আসছে। সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে চাইছে সে, এটুকু বোঝা গেল। অযথাই। আশে পাশে আর কোন বাড়ি নেই। ফাহাদ বিরক্ত হল খুব। ‘মাগীর গলা তো না, যেন হ্যামিলিয়নের বাঁশি!’ বিরক্তি মাখা একদলা থুতু ছিটিয়ে দিল সে সাবিহার শরীরে। সাবিহা র সামনের পাটির দাঁত পড়ে গেছে চারটা জিভ কেটে গেছে কয়েক জায়গাতে। কথাই বলতে পারছে না এখন ঠিকমত। বিছানাতে উঠে তাকে চেপে ধরল ফাহাদ। ‘কোন হারামজাদার সাথে মারাতে গেছিলি রে? ছেলে দেখলে আর হুঁশ থাকে না? টেনে নিয়ে সরাসরি বেডে চলে যাওয়া লাগে?’ সাবিহার গলা চেপে ধরে ওর মুখে জোরে মারল ফাহাদ, ‘সুন্দর একটা মুখ পেয়েছিস বলে যা মনে চাই তাই করবি?’

দুই চোখ দিয়ে অবিরত পানি পড়ছে। সে পানিতে ধুয়ে যাচ্ছে রক্ত। পিটপিট করে তাকাল ও, ‘বিশ্বাস কর এতটুকু বলতে গিয়েই হাঁপিয়ে গেল মেয়েটা। অনেক মেরেছে ওকে ফাহাদ। ও জানে, উন্মাদটা আরও মারবে তাকে। কোন ঘটনা না জেনেই, শুধুমাত্র ফাহাদের বন্ধুর বাসা থেকে সাবিহা কে বের হতে দেখে এমন ব্যাবহার করছে সে, এটা যেন সাবিহার বিশ্বাসই হতে চায় না! তিন বছর আগে এই ছেলেকে ই বিয়ে করছিল ও? ব্যাথার সাথে সারা শরীর জুড়ে বয়ে গেল ঘৃণার হল্কা। ‘বিশ্বাস করব?’ চিবিয়ে চিবিয়ে বলল ফাহাদ, ‘তোর মত একটা মাগীকে?’ ব্যস্ত হাতে প্যান্ট খুলতে শুরু করল ফাহাদ। যন্ত্রণার পাশাপাশি এবার সাবিহা র চোখে ফিরে এল আতংক। প্যান্ট খোলার প্রায় সাথে সাথে উঠে বসার চেষ্টা করল সাবিহা। পারল না। মেয়েটার দুই পায়ে লোহার একটা রড দিয়ে পিটিয়েছে ফাহাদ। ভেঙ্গেই গেছে মনে হয়। সাড়া পাচ্ছে না ও পায়ে।

ফাহাদ ক্ষুধার্ত বাঘের মত ওর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। টেনে ছিঁড়ে আলাদা করে ফেলছে কাপড়। মুখ দিয়ে অশ্রাব্য গালি দিয়ে যাচ্ছে সেই সাথে, ছুটতে পারল না সাবিহা। বিছানার এক কোণে টেনে এনে ওর ওপর চড়াও হল ফাহাদ। মুখে ক্রোধের পাশে নোংরা হাসি। ‘মাগীদের সাথে কেমন ব্যবহার করতে হয়, তা আমার জানা আছে, সুন্দরী।’ আরেকদফা থুতু মেয়েটার মুখে ছিটিয়ে দিয়ে বলল ফাহাদ।

কতক্ষণ ওকে ধর্ষণ করেছে ছেলেটা, জানে না সাবিহা । ফাহাদ নয় শুধু, তাকে একবার যে দেখেছে, চোখ ফেরাতে পারেনি। এলাকার ছেলে-বুড়োরা তো আছেই, শিক্ষকশ্রেণি থেকে বন্ধুরা পর্যন্ত তাকিয়ে থেকেছে। খারাপ দৃষ্টি দিয়ে , অসামান্য দেহসৌষ্ঠব তার ছিল। নিজেকে যত্ন করে শালীনতার চাদরে ঢেকে রাখত সাবিহা। তবুও ওর গোলাপের মত নির্মল মুখটা দেখলেই ব্যস্ত হয়ে উঠত আশেপাশের মানুষ। সেই মুখ এখন বিকৃত হয়ে আছে। দুধে আলতা চামড়া আতংকে আর যন্ত্রণাতে নীল হয়ে আছে।

নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে ও বিছানাতে। একটা দেহের সাথে যেমন ব্যবহার করা হয়, তাই করছে ফাহাদ। আঁচড়ে কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলেছে সাবিহার কোমল বুক আর পেট। ভাঙ্গা পায়ের যন্ত্রণা দাঁতে দাঁতে সহ্য করছে সাবিহা । জানে, শব্দ করলে আরও ব্যাথা দেবে ওকে ফাহাদ। নিস্তার দিল না ওকে ছেলেটা, প্রায় অচেতন শরীরটা দুই হাতে তুলে এনে ঘরের একমাত্র টেবিলটার ওপর ছুঁড়ে ফেলল ফাহাদ। ক্যালকুলেটর, বই-খাতা, কল্ম, স্ট্যাপলার সব ছিটকে গেল একেকদিকে। ধর্ষণ চালিয়ে গেল ফাহাদ। বেকায়দা ভাবে পড়ে আছে সাবিহা । ঘাড়ে খুব লাগছে ওর। ফাহাদ সরে না কেন? একবার সাবিহার পেটব্যাথা হয়েছিল শুনে কি অস্থির হয়েই না উঠেছিল সে! সব মেকি? এখন যে বড় ব্যাথা পাচ্ছে ও। ফাহাদ কি বোঝে না? আলতো করে মাথা নাড়ল সাবিহা । ফাহাদ কি করে বুঝবে?

ও তো ছেলে, একজন ছেলে কি করে বুঝবে এই কষ্ট? ধীরে ধীরে আঙুল নাড়িয়ে একটা কলম স্পর্শ করল সাবিহা। জানোয়ারটা এখন চরম শারীরিক সুখে গোঙ্গাচ্ছে। জানোয়ারটার চোখে গেঁথে দিতে হবে কলম। মুঠোতে ধরার চেষ্টা করল সাবিহা ওটাকে। হাতে জোর পাচ্ছে না কেন? শরীরের শেষ বিন্দুর শক্তি একত্র করে কলমটা তুলল সাবিহা । তারপর গেঁথে দেওয়ার চেষ্টা করল ফাহাদের চোখে। বাতাস কেটে এগিয়ে যাচ্ছে কলমের খোলা নিব, ফাহাদের দিকে ছুটে গেল সরাসরি।

বিদ্যুতবেগে নড়েছে ফাহাদ । মেয়েটাকে ধর্ষণ থেকে রেহাই না দিয়েই আটকে ধরল হাত। ‘কি হল এইটা?’ বিস্ময়ে গর্জে উঠল ফাহাদ, ‘লোটির মাইয়া, তোমার নাগরের কথা মনে পড়ছে, তাই না? শালী কুত্তি-’ রাগের চোটে কথাই শেষ করতে পারল না ফাহাদ, অন্য হাত দিয়ে কেড়ে নিয়েছে সাবিহার কলম। আরও জোরে চেপে ধরল সাবিহা কে।

তলপেটের নিচটা অসার হয়ে আসছে মেয়েটার। ঝাপসা দেখছে সিলিং। তার মধ্যেই মুখে প্রচণ্ড ব্যথার অনুভূতি নতুন করে জাগিয়ে তুলল যেন ওকে। পরের ব্যাথাটা এল আরও ভয়ংকরভাবে। চোখের সামনে থেকে রক্ত আর মাংসের ছিটকে যাওয়া দেখতে পেল সাবিহা। ফাহাদ গর্জন করছে এখনও, তীব্র ক্রোধ সে কণ্ঠে, ‘কোন চিন্তা করিস না, চোখে মারব না তোর। আয়নাতে দেখবি নিজেকে, চোখে মারলে তো মজাই শেষ!’ শক্ত করে ডান হাতে কলমটা ধরে একের পর এক আঘাতে সাবিহার সুন্দর মুখটায় অসংখ্য গর্ত করে ফেলেছে ফাহাদ।

সেই সাথে চালিয়ে যাচ্ছে দানবীয় সঙ্গম। সাবিহার চোখের পাতা লেগে আসছে একটার সাথে আরেকটা। আলো জ্বলছে ঘরে? না নেভানো? ঠাণ্ডা বাতাস তো একটু আগে ছিল না! ঠিক বুঝে ওঠে না ও, এই জগতে কি আর থাকা হল না তার? অন্ধকার হয়ে আসছে কেন চারপাশটা? অন্ধকার কোন জগতে টেনে নেবে ওকে কেউ? কেন ও এই জগতে থাকতে পারবে না? ফাহাদ নামক এক মানুষের চেহারার পশুর সন্দেহপ্রবণ মনের জন্য?

আলো একেবারেই নিভে যাওয়ার আগ মুহূর্তে প্রচণ্ড শব্দে দরজা ভেঙ্গে পড়ার শব্দ শুনল সাবিহা । হয়ত অনেকগুলো কল পাওয়ায় পুলিশ এসে গেছে লোকেশন ট্রাক করে।এসেই এই অবস্থা দেখে সরাসরি ফাহাদের পায়ে গুলি চালালো ওরা, ছিটকে পাশে পরে গেল ফাহাদ, কয়েকজন পুলিশ দৌড়ে এসে ফাহাদকে গ্রেপ্তার করল। ঘটনার আকস্মিকতায় কিছুই বলতে পারলো না সে। টেনে হিচড়ে নিয়ে যাওয়া হলো ওকে। পুলিশের লোকেরা হাসপাতালে ফোন করে।সাবিহার জন্য এম্বুলেন্স পাঠাতে বলে ফাহাদকে নিয়ে চলে যায় থানায়।গায়ের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে কোন রকম উঠে দাঁড়ায় সাবিহা।

পাশের রুমে যায় নিজের শরিরটাকে টেনে হিঁচড়ে , রক্তে ভেজা ওড়নাটা হস্তে নিয়ে বিছানার উপর ঘুমিয়ে থাকা তার ও ফাহাদের একমাত্র কন্যা অনিতার গলায় পেচিয়ে ধরে সাবিহা। এক বছরের অনিতা একটু শব্দ করার সময় ও পায় নি। মুঠোফোন টা হাতে নিয়া মুখস্ত নাম্বার টা টাইপ করে কল দেয় হাসান কে। ওপাশ থেকে ব্যস্ত কন্ঠ ভেসে আসলো, সব কি ঠিক আছে সাবিহা, ফাহাদ কিছু বলে নি তো?

হালকা চিৎকার ও কান্না মেশানো গলায় সাবিহা উত্তর দিলো, হাসান , বাঁচাও আমাকে,জানোয়ার টা আমাকে একদম শেষ করে দিয়েছে।এই মাত্র আমার আর ওর একমাত্র বন্ধন, অনিতাকে আমি নিজ হাতে শেষ করে ফেলেছি শুধু তোমারে ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে।আমাকে প্লিজ নিয়ে চলো বহুদূর, যেখানে তোমাকে আর আমাকে অন্য কেউ লাগাম পাবে না।

গল্পের বিষয়:
দু:খদায়ক
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত