ক্ষতিকর ভালবাসা

ক্ষতিকর ভালবাসা

আমার বয়স তখন কত ছিলো জানি না। আম্মুর কাছে কখনো এই বিষয়ের প্রশ্ন করলে, উত্তর পেতাম না। কিন্তু অনেকে বলতো আমি নাকি তখন কোলের শিশু। আর সেই সময়েই বাবা আমাদের ছেড়ে চলে যায়। কি অদ্ভুতভাবে পারলো এটা করতে?? শুনেছি বাবার সাথে মায়ের তেমন শান্তি বিরাজ করত না। ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকতো। আচ্ছা ঝগড়া তো ওরা করতো কিন্তু আমাকে কেন এর জন্য কষ্ট পেতে হবে? বাবা চলে যাওয়ার পর আম্মুকে বিয়ে করার জন্য মামা অনেক চাপ দিয়েছিলো। আম্মু আমার জন্য কাউকে বিয়ে করে না। তখন আমার বয়স সবেমাত্র আড়াই কি তিন ছিলো।

নেপোলিয়ন বলেছিলো “আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি একটি শিক্ষিত জাতি দিবো।” আমার আম্মু মোটামুটি শিক্ষিত ছিলো কিন্তু আমাকে শিক্ষিত করার সামর্থ্য ছিলো না। ঘরে বসিয়ে তো আর আমাকে শিক্ষিত করতে পারবে না। বয়স যখন পাঁচ হলো আমাকে আম্মু স্কুলে ভর্তি করলো। তখন হয়ত আমার আম্মুর মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো নেপোলিয়ন এর সেই উক্তিটা। সেজন্যই হয়ত ওনার কথাটার মান রাখার জন্য নিজে অন্যের বাড়িতে কাজ করে আমাকে পড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো। ইংরেজী বইয়ের “childhood memories”(শৈশবের স্মৃতি) রচনার মতো আমার স্কুলের প্রথম দিন শুরু হয়নি। কারণ আমার বাবা ছিলো না। বাবা যদি থাকতো তাহলে হয়ত রচনার মতো আমাকেও সকালে স্কুলে নিয়ে ভর্তি করে দিয়ে আসতেন। আমার খুব স্পষ্টত মনে আছে, আমি সেদিন আমার মামীর সাথে গিয়েছিলাম ভর্তি হতে। আমি রাস্তায় হাটার সময় যখন মামীকে বললাম…

-মামী আমি আইসক্রীম খাবো। তখন মামীর চোখে আগুন দেখেছিলাম। আমাকে সাথে সাথে মাথায় একটা থাপ্পড় দিয়ে বলল…

-মেরে আইসক্রিম খাওয়ামুনে।

আমি আর কিছু বলিনি সারা রাস্তায়। তখন বার বার মনে হচ্ছিলো কেন যে আম্মু আসলো না সাথে। আমি স্কুল থেকে ফিরে দেখি যে আম্মু ঘরে নেই। আমি আজ স্কুলে কি কি করেছি সেটা আম্মুকে বলতে হবে। কিন্তু আম্মু কই?? সারা ঘর খুঁজে প্রলাম না। বিকালে আম্মু যখন আসলো দেখলাম হাতে একটা ব্যাগ। আমি দৌড়ে আম্মুর কাছে গেলাম। আম্মুকে জিজ্ঞাসা করলাম…

-কি আনছো আমার জন্য? আম্মু আমার মাথার চুল গুলো নাড়া দিয়ে বলল..
-স্কুলের জন্য খাতা কলম আর তোর চকোলেট এনেছি। আজ কেমন কাটাইছো বাবা তুমি? আমি মাথা নিচু করে বললাম…
-তুমি আজ কেন গেলে না আমার সাথে??

আম্মু কথাটার কোনো উত্তর দেয়নি সেদিন।কেবল ব্যাগ থেকে চকোলেট বের করে দিলো। আমি সেগুলো নিয়েই বের হয়ে পরলাম আনন্দে। যখন ক্লাস সিক্সের মাঝামাঝি সময়টাতে আসলাম। তখন দেখলাম আমাদের বাড়িতে কিছু মেহমান। আমাকে পাশের বাড়ির এক চাচী এসে বলল…

-বাবা সাজিদ। চলো আজ ঘুরতে যাই।

আমি ওনার কথা শুনে খুব অবাক হয়ে ছিলাম। আমি ভাবছি গত দুদিন আগেও ওনাদের গাছের পেয়ারা খাওয়ায় উনি আমার নামে নালিশ করে গেছিলেন। আমার মনে তখন অনেক গুলো প্রশ্ন জাগ্রত হয়েছিলো। আমি চাচীর হাত থেকে ছুটে গিয়েছিলাম আম্মুর কাছ থেকে অনুমতি আনার জন্য। কারণ আম্মুকে না জানিয়ে আমি কোথাও যাইনি কখনো। আমি যখন ঘরে গেলাম দেখলাম মেহমানদের সামনে কে যেন লম্বা ঘোমটা দিয়ে বসে আছে। আমি নিচু হয়ে দেখলাম আম্মুই বসে আছে। মামা আমাকে সেখানে দেখে চাচীকে বলল যে এখান থেকে নিয়ে যেতে। আমি যেতে না চাওয়াতে মামী আসলো। আমার দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকালো। আমি আম্মুর কাছে গিয়ে বললাম…

-আম্মু আমি এতক্ষণ যাবৎ তোমাকে ডাকতেছি, শুনো না??

আম্মু কিছু বলল না। আমাকে জাপটে ধরে কান্না করতে লাগলো। আমি বুঝলাম না কেন কান্না করছে। মেহমান গুলোকে আম্মু চলে যেতে বলল।মেহমানরা চলে যাওয়ার পর দেখলাম টেবিলে অনেক রকমের খাবার। আমি আম্মুর থেকে গিয়ে চানাচুর খেলাম। কিন্তু মামী বার বার বকাবকি করতে লাগলো। বার বার কার বিয়ে নিয়ে যেন বলতেছিলো। আমি খাওয়া বন্ধ করে খেয়াল করে শুনলাম যে ওরা আমার আম্মুর বিয়ের কথা বলতেছিলো। মামী আম্মুকে অনেক কিছু বলা শুরু করলো আর মামা সেখান থেকে চলে গেলো। আমি রেগে হাতের চানাচুর গুলো মামীর চোখে ছুড়ে মেরেছিলাম। মামী আমাকে মারতে আসে আর তখন আম্মু মামীকে বাধা দেয়। তারপর আম্মুই আমার গালে একটা থাপ্পড় দেয়। সেদিন তারপর আমি সারাদিন একলা কম্বল গায়ে দিয়ে শুয়ে ছিলাম। রাতে আম্মু এসে কম্বলের ভিতর আমার গায়ে হাত দিয়ে দেখলো যে খুব নাকি জ্বর। আমার জন্য কান্নাকাটি করতে লাগলো। তারপর রাতেই আমাকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলো। তারপর আমাকে টানা সাত দিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছিলো।

আম্মু হঠাৎ করে বলল সব গোছাতে। আমি গোছানো শুরু করে দিলাম। তারপর আমরা চলে আসলাম শহরে। আম্মু কিসের যেন একটা চাকরী নিলো আর আমাকে স্কুলে ভর্তি করলো। সেখান থেকেই এসএসসি পাশ করলাম। আম্মু বিকাল পর্যন্ত চাকরী করতো আর আমি ছোট ছোট বাচ্চাদের পড়াতাম। কিছু হাত খরচ অন্তত পেতাম। কলেজ জীবনে লিখাপড়ার খরচ ভরণপোষণ কতোটা কষ্টের সেটা তখনি জেনেছিলাম। আম্মুর চাকরীর টাকায় এখন সংসারের খরচ কোনোমতে চালাতে পারতাম। তার সাথে কলেজের খরচ দেওয়াটা আম্মুর জন্য কষ্টকর ছিলো। নানা জায়গায় আমি “পড়াতে চাই” লিখে লিফলেট লাগিয়ে দিতাম। কিন্তু কেউ কখনো আমাকে কল দিতো না। চারিদিকে যখন এত অনার্স পড়ুয়া,শিক্ষিত বেকার ছেলেরা ছিলো সেখানে আমার যোগ্যতা খুবই নগণ্য। একদিন এক মহিলা কল দিয়ে বলল…

-আমার মেয়েকে পড়তে হবে।ক্লাস এইটের। তিন হাজার টাকা দিবো।

আমি খুব খুশি হয়েছিলাম সেদিন। তারপর থেকে পড়াতে শুরু করেছিলাম। আমি মোটামুটি ভাল ছাত্র ছিলাম। তাই মেয়েটাকে খুব ভাল ভাবেই পড়াতে পারতাম। ওর আমার পড়ানো দেখে আস্তে আস্তে দুশো, তিনশ, পাঁচশ টাকা পর্যন্ত বাড়ালো। মেয়েটার নাম ছিলো জেনিফা। জেনিফা যখন কলেজে ভর্তি হলো আমি তখন অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। আমার আম্মু তখন চাকরীটা ছেড়ে দিয়েছিলো। আমিই আরো কয়েকটা টিউশনি করাতে লাগলাম। বেশ ভাল ভাবে আমার পড়ালেখা আর ঘরের খরচ মিটাতে পারতাম।

জেনিফাকে যখন চড় দিলাম তখন ও আমার সামনে থেকে চলে গেলো।ও ধনী পরিবারের মেয়ে। ও নাকি আমার মত ছেলেকে ভালবাসে। সেজন্য রাগে চড় দিয়ে দিলাম। ওকে আর পড়াতে যাবো না ঠিক করলাম। কিন্তু এভাবে হঠাৎ টিউশনি পাবো কোথায়? রাতে যখন ফোন বেজে উঠলো আমি স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখলাম জেনিফার মার নাম্বার। আমি রিসিভ করতেই উনি বলল…

-তোমার মাকে নিয়ে আমাদের বাসায় আসো। আমি বেশ ভড়কে গেলাম। ওকে চড় মারায় ওর পরিবার কি ক্ষেপে গেলো? আমি ভয়ে ভয়ে বললাম..
-কিন্তু আন্টি কেন?
-জরুরী।আসো।

আমি সেদিন আম্মুকে নিয়ে গিয়ে যা শুনলাম নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারলাম না। জেনিফার বাবা মা আমার সাথে ওর বিয়ে দিতে চায়। আমি কথাটা শুনে নিচের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। আম্মু আমাকে বলল…

-তুই রাজী?? আমি বললাম…
-তোমার যা ইচ্ছা। আম্মু আমাকে বলল…
-আমার তো মেয়েকে পছন্দ হয়েছে।

আমি কেবল একটু হাসলাম। বিয়ের পর একটা ভাল চাকরী পেলাম। আর বুঝতেও পারলাম জেনিফা আমাকে কত ভালবাসে। মেয়েটা আমাকে ছাড়া একটা রাত কাটাতে পারে না। আমিও পারি না। কিন্তু আমার আম্মু জেনিফাকে কেন জানি সহ্য করতে পারছে না। ঐদিন মেয়েটা বলল…

-এই তুমি নাকি বিরিয়ানি খেতে পছন্দ করো??আম্মুকে দেখলাম রান্না করছে।
-হুম

ও যায় রান্না করতে। কিন্তু একটু পর আমি ঝগড়ার আওয়াজ শুনতে পাই। দৌড়ে গেলাম রান্না ঘরে। গিয়ে দেখি জেনিফা কাঁদছে। আমি আম্মুকে বললাম…

-কি হয়েছে?? আম্মু বলল…
-বৌমাকে আমি বললাম তুই আমার হাতের রান্না বেশি পছন্দ করিস। কিন্তু ও বলতেছে আমাকে চলে যেতে। আমি আম্মুকে কিছুটা ধমক দিয়েই বললাম…
-তোমার তো বয়স হয়েছে। এখন ও করুক। দরকার কি শুধুশুধু কষ্ট করার? আর ও তো তোমার খারাপ কিছু বলেনি। আম্মু চুপ করে মাথা নিচু করে চলে গেলো। আমি জেনিফাকে সান্ত্বনা দিতে লাগলাম।

-আম্মু এভাবে পারা যায় বলো?? আমি তোমাদের দুজনকে এত বুঝালাম যে ঝগড়াঝাঁটি করো না। অথচ তুমি আমার কথা শুনছো না। ও না হয় একটু রাগী টাইপের। তুমি তো বুঝো। কেন শুধু শুধু এরকম করছো?? এভাবে চলতে থাকলে আমি বাড়ি থেকে চলে যাবো।

-বাবা তুই তো দেখলি ও আমাকে কিভাবে অপমান করলো।
-হুম দেখেছি। কেউ কারো থেকে কম না।

এটুকু বলেই আমি চলে আসলাম আম্মুর সামনে থেকে। আম্মুকে এবার অন্য কোনো বাসায় শিফট করা দরকার কিন্তু তাহলে খরচের একগা ব্যাপারস্যাপার আছে। আমি বরং কোনো বৃদ্ধাশ্রমে কথা বলে দেখি। রাত বারোটা বাজছে। বার বার মনে হচ্ছে আমি ঠিক করেছি কি না। জেনিফা আমাকে বলেছে পার্টিতে যাবো কি না। কিন্তু ইচ্ছা করছিলো না। তাই ও নিজেই গেছে। হঠাৎ কলিংবেল বেজে উঠলো। বুঝলাম জেনিফা এসেছে। জেনিফা প্রতিদিন তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পরে। কিন্তু আজ একটু পর পর কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছে। আমার সামনে কথা বলছে না। লাফ দিয়ে ঘুম থেকে উঠলাম। এত বাজে একটা স্বপ্ন দেখলাম। জেনিফাও ঘুম থেকে উঠে পরলো। ও আমাকে বলছে…

-কি হয়েছে?? আমি ওর কথার উত্তর না দিয়ে দৌড়ে আম্মুর রুমে গেলাম। জোরে ডাকতে লাগলাম…
-আম্মু। আম্মু তুমি কই?? জেনিফা এসে আমার কপালে হাত দিয়ে বলল…
-কি হয়েছে?? খারাপ স্বপ্ন দেখেছো?? আমি ওর হাত সরিয়ে বললাম…
-আম্মু কই??
-কেন??

কাল সকালেই তো রেখে আসলে আম্মুকে বৃদ্ধাশ্রমে। প্রথম প্রথম একটু খারাপ লাগবে। চিন্তা করো না। উনি ভাল থাকবে সেখানে। চলো শুয়ে পরো। আমি ওর কথায় কোনো পাত্তা দিলাম না। আমি গাড়ির চাবি নিয়ে বের হয়ে গেলাম। রাত আনুমানিক তিনটা বাজে। বৃদ্ধাশ্রমের সামনে হর্ন বাজাতেই একটা গোফওয়ালা লোক আসলো। মনে হয় দারোয়ান। আমি বললাম…

-আমার মাকে নিতে এসেছি।
-এত রাতে যাওয়ার অনুমতি ডেওয় নিষেধ।
-আপনি ম্যানেজারকে কল দিন। তারপর লোকটা ম্যানেজারকে কল দিলো। ম্যানেজার এসে বলল…
-কি ব্যাপার সাজিদ সাহেব?
-আম্মুকে নিতে এসেছি।
-কালই তো দিয়ে গেলেন।
-আমি নিয়ে যাবো। আম্মুর রুমটা কোন দিকে??

ম্যানেজার রুমটা দেখিয়ে দিলো। আমি আস্তে আস্তে কাঁপা পায়ে হেটে গেলাম। দরজা খোলা। আমি ভিতরে গিয়ে দেখলাম কে যেন জানালার পাশে একটা চেয়ারে বসে আছে। আমি কাশি দিলাম হালকা। মহিলা ভড়কে বলল…

-কে এখানে?? এটা বলেই লাইট জ্বালালো।এটা আমার আম্মুই। আমি পায়ে ধরে কান্না শুরু করলাম আর বলতে লাগলাম….

-আমাকে মাফ করে দাও। যে মানুষটা আমাকে সারাজীবন আগলে রাখলো, ছোট থেকে বড় করলো এত কষ্ট করে তাকে আমি এরকম জায়গায় কিভাবে পাঠালাম?? আমাকে মাফ করে দাও আম্মু। পিছন থেকে কে যেন বলে উঠলো…

-এতক্ষণে তোমার বুঝার শক্তি আসলো?? পিছনে তাকিয়ে দেখি জেনিফা দাঁড়িয়ে। আম্মু চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু চোখ দিয়ে পানি পরছে। আমি জেনিফাকে বললাম…

-তোমার জন্য আমি আমার আম্মুকে কষ্ট দিয়েছি। তোমার জন্য। জেনিফা হেসে বলল…
-আমি তোমাকে আলাদা ভেবেছি সব সময়। কিন্তু আম্মু বলেছে যে তুমি আমার জন্য আম্মুকে ভুলে যাবে। বৌ পাগল হয়ে যাবে। আমি আম্মুকে বলেছি যে তুমি কখনো আম্মুর সাথে এরকম করতে পারবে না। তাই আমরা মাঝেমাঝে ইচ্ছা করে ঝগড়াঝাঁটি করতাম। ভাবতেই অবাক লাগছে প্লান মাফিক আমি তোমাকে বলার আগেই তুমি বলেছো আম্মুকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাবে। আমার লজ্জা হয় তোমার সাথে আমার বিয়ে হয়েছে। তোমাকে ভালবাসি আমি। কথাগুলো শুনে আমি মাথা নিচু করে থাকলাম। আম্মু আমার মাথায় হাত দিয়ে বলল…

-আমার ছেলেটা কিন্তু রাত না পেরোতেই এসেছে বৌমা।
-দেখেছো মা এখনো তোমার কথা বলছে। আর তুমি?? ছিঃ। আমি আম্মুকে বললাম…
-বাসায় চলো। আম্মু বলল…

-বৌমাকেও সরি বল। বৌমা আজ রাত বারোটা পর্যন্ত আমার সাথেই ছিলো। একটু পর পর কল দিয়ে আমাকে ঘুমোতেই দেয়নি আমি জেনিফার হাত ধরে বললাম…

-সরি। চলো।

দুজনকে দুহাতে ধরে আমি বের হলাম। বৃদ্ধাশ্রমের সব মানুষ গুলো বাইরে বের হয়ে তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে। ভোড় না হতেই সবার ঘুম ভেঙ্গে গেছে আমাদের চিল্লাচিল্লি তে। সবাই বলছে…

-তোমরা সুখী হও। তোমরা সুখী হও।

বিঃদ্রঃ আমাদের মতো ছেলেরাই মাকে বিয়ের আগে ভালবাসায় ভরিয়ে দেই। আবার আমার মতো ছেলেরাই বিয়ের পর মাকে ঘর থেকে বের করে দেই। আমার মতো ছেলেরাই মার ভালবাসা না বুঝে বৌয়ের ভালবাসায় অন্ধ হয়ে যাই। আমার মতো ছেলেরাই বাবা মার প্রতি ভালবাসার আসল রূপ দেখাতে বাবা মাকে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে আসি। আমার মতো ছেলেরাই অবশেষে ভালবাসার কুখ্যাত উদাহরণে রুপ ধারণ করি। সবশেষে বলতে চাই “আমি সত্যিই ভালবাসি তোমাকে আম্মু।”

গল্পের বিষয়:
দু:খদায়ক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত