এক পথ শিশুর কান্না

এক পথ শিশুর কান্না

রেললাইন দিয়ে হাঁটছিলাম সন্ধ্যায় একা একা পকেটে তেমন টাকা ছিল না। আজ সকালে ঘর থেকে বের হয়েছি খালি মুখে এখন ও কোন খাবার আমার পেটে গেল না। একটা চাকুরীর জন্য কত জায়গায় ঘুরেছি তার শেষ হবে না। হঠৎ পিছন থেকে আমার পেন্টে ধরে আছে ছোট একটি মেয়ে নাম তার বলছি না। ঘটনাটি সত্য কিন্তু সবার সামনে প্রকাশ করতে যাচ্ছি না। মেয়েটিকে দেখে আমার প্রথম মনে হয়েছিল ভিক্ষুক হবে। এত ছোট মেয়ে দেখে আবার মনে হচ্ছে না ভিক্ষুক করে। আমি মেয়েটিকে বললাম কিরে কি হয়েছে তোর। মেয়েটি আমার কথার কোন জবাব দিল না।

– কিরে কথা বলছিস না কেন? অনেক বার বলেছি কিন্তু কোন কথা বলছে না।সে কথা বলতে পারে না। আমাকে ইশারা দিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করছে।

– কিরে কি বলছিস আমি কিছু বুঝতে পারছি না।

আমার পেন্টে ধরে সে তার বস্তিতে নিয়ে গেল রেললাইনের পাশে ছিল। তাই মেয়েটির সাথে গেলাম। ছোট একটা বস্তিতে টিনের মোড়ানের তৈরি দেয়ালটা নুঁয়ে পড়ে আছে। ঘরের ভিতরে একজন মহিলা শুয়ে আছেন দেখলাম।

মেয়েটি দেখিয়ে দিল তার মায়ের শরীরে খুব জ্বর হয়েছে। আমি বুঝতে পারলাম। আমি মহিলাকে প্রশ্ন করলাম আপনার স্বামী কোথায়? তিনি আমার কথার জবাব দিলেন না। মহিলার চোঁখ দিয়ে এক ফোঁটা পানি দেখা গেছে। তিনি গম্ভীরভাবে আছেন তার পরে বলেন তার স্বামী কিছু দিন আগে মারা গেছেন। পরিবারে আমার আর কেউ আপন নেই। বুঝতে পারলাম অভাবের সংসার চলছে তাদের। আমি পকেট থেকে কিছু টাকা তাদের দিলাম কিন্তু অবাক করার বিষয় হল তিনি আমার টাকা আমার হাতে দিয়ে দিলেন। তিনি কান্না করে বলতে লাগলেন বাবা তুমি আমার ছেলের মতন তোমার কাছে আমার একটা অনুরুধ আছে তুমি কি পারবে পূরন করতে।

– আন্টি চেষ্টা করবো আপনি বলেন!
– বাবা তুমি আমার এই ছোট মেয়েকে কি একটু স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিবে।
– আন্টি ঠিক আছে আমি করিয়ে দিব।
– আচ্ছা আন্টি আপনার মেয়ে কি কথা বলতে পারে না।
– পারে বাবা সবার সাথে কথা বলে না।
– ঠিক আছে আন্টি আপনি কিছু টাকা রাখেন আমি আবার এসে আপনার মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিব।

তার পরে আমি বাড়িতে আসলাম রাতে বার বার কেন যেন সেই মেয়েটির কথা বার বার মনে হচ্ছে। তাই সকালের দিকে আমি আবার সেই বস্তিতে গেলাম গিয়ে দিকে মেয়েটি খেলা করছে। আমাকে দেখে দোঁড়ে এসে জড়িয়ে ধরেছে। ভাইয়া ভাইয়া আপনি এসেছেন।

– কিরে আজ দেখি তুই কথা বলতে পারছিস।
– হ্যাঁ ভাইয়া আমি কথা বলতে পারি।
– তোর মা এখন কেমন আছেন?
– ভাল আছেন” আসেন ঘরের ভিতরে।
– আসালামু আলাইকুম আন্টি কেমন আছেন আপনি?
– বাবা আল্লাহর রহমতে আমি ভাল আছি। কাল আমার মেয়ের জন্য তোমার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি বাবা।

আমার মেয়েটি বুঝে না বাবা। ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের স্কুলে যেতে দেখলে সে ও বায়না ধরে যাওার জন্য। আমি লেখা পড়া তেমন জানি না বাবা। সারা দিন কাজ করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরি।

– ঠিক আছে আন্টি কোন সমস্যা নেই ভাল হয়েছে। আন্টি আমার একটা অনুরুধ রাখবেন কি? আপনার মেয়ে কে আমি প্রতিদিন এসে লেখা পড়া শিখিয়ে দিব।
– আমি অনেক খুশি হয়েছি বাবা তোমার কথা শুনে।

এর পর থেকে আমার সাথে মেয়েটির বন্ধুত্ব পূর্ন সম্পর্ক হয়। প্রতি দিন বাসায় গিয়ে পড়াতাম মেয়েটি লেখা পড়ায় অনেক চালু ছিল। দেখতে দেখতে ৫ টি বছর চলে গেল তাদের পরিবারের সাথে আমার অনেক সম্পর্ক গড়ে উঠে।
আজ আমার সেই পথ শিশুটি জিপিয়ে ৫ পেয়ে পাশ করেছে। বেশ কিছু দিন পরে আমরা বদলি হয়ে সিলেটে আসি।

অনেক দিন যোগাযোগ বন্ধ ছিল। তার পরে বেশ কিছু দিন চলেগেল এখন আর সেই বস্তিতে মেয়টিকে খুজেঁ পাই না কোথায় যে চলে গেছে তার কোন খুঁজ খবর জানি না। আমার জীবন থেকে হারিয়ে গিয়েছে সেই পথ শিশুটি আজ ও তার কথা মনে হলে চোঁখ দিয়ে পানি আসে। এখন রাস্তায় হাজার ও পথ শিশু দেখি তাদের মধ্যে আমার সেই ছোট পথ শিশুটি কে খুঁজে পাই।

গল্পের বিষয়:
দু:খদায়ক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত