অবহেলায় ভালোবাসা

অবহেলায় ভালোবাসা

ধ্রুব আর চৈতীর বিয়ে হয়েছে..আজ প্রায় ৩ মাস…
এখনো চৈতী ধ্রুব কে মেনে নিতে পারেনি…কারন টা আপনাদের পরে জানাবো।

ধ্রুব চৈতীকে অনেক ভালোবাসে..তবে চৈতীর কাছে সেই ভালোবাসার কোনো মূল্য নেই..চৈতী ঘৃনা করে ধ্রুবকে..প্রচন্ড ঘৃনা করে।।।

তবে চৈতী কখনো ধ্রুবর বাবা মাকে কষ্ট দেয়নি..

রাতটা যতো গভীর হচ্ছে ধ্রুব ততো নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে…ধ্রুব ভাবছে…এখানে মানে এই বাসাতে আর থাকা যাবেনা।।।কারন এখানে থাকলে বাবা-মা এর সামনে মিথ্যা ভালোথাকার অভিনয় করে যেতে হবে।

ধ্রুব চিন্তা করলো তাকে এই বাসা থেকে দূরে কোথাও যেতে হবে।।।সেই চিন্তা অনুযায়ী নতুন ফ্লাট কিনলো..বাবা মাকে বললো তার অফিসে এখন কাজের অনেক চাপ তাই এতো দূর থেকে অফিসে যাওয়া সম্ভব না…

বাবা-মা ও মেনে নিলো..তবে চৈতীকেও তার সাথে নিতে হবে।।।

ধ্রুব এই চৈতীর জন্যই দূরে যেতে চেয়েছিলো কিন্তু বাবা-মা সেটা হতে দিলোনা।

চৈতীর ও কথাটা শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেলো..কারন সে কখনোই এমন একটা অসজ্জ মানুষের সাথে থাকতে চায়না..
তবে চৈতী কোনো ভাবেই বাবা-মার কথা ফেলতে পারবেনা।
পরের দিন তারা তাদের ফ্লাটে উঠলো..

মানুষ দুইটার মাঝে যেন এখন আরো দূরত্ব বেড়ে গেছে..কারন আগে আর যাই হতো মানুষ দুইটা এক বিছানায় থাকতো..আর এখন এক বিছানায় দূরের কথা..এক রুমে পর্যন্ত থাকেনা।

ধ্রুব বারবার নানা ভাবে বুজাতে চায় যে সে চৈতীকে কতোটা ভালোবাসে..
ধ্রুব আজ চৈতীর জন্য একটা নীল শাড়ী এনেছে…হয়তো এটা দেখে চৈতী খুশি হবে এটা ভেবে।😍😍
ধ্রুব শাড়ীটা নিয়ে চৈতীর কাছে গেলো..

=>চৈতী?(ধ্রুব)

=>বেশি ভনিতা না করে বল কী বলবি?(চৈতী)

কথাটা যেন ধ্রুবর বুকে তীরের মতো এসে বিধঁলো..তবুও সে হাসি মুখে বললো।

=>তোমার জন্য এই শাড়ীটা এনেছিলাম দেখতো কেমন হয়েছে?(ধ্রুব)

=>ওয়েট ওয়েট তুই ভাবলি কী করে তোর মতো খারাপ আর বেহায়া এর কাছ থেকে আমি শাড়ী নিবো..তোর মতো মানুষকে আমি ঘৃনা করি,,(চৈতী)

কথাটা শুনে ধ্রুব কিছু বলতে পারলো না মাথাটা নিচু করে শাড়ীটা নিয়ে চলে আসলো..কারন ওর চোখ যে আর বাধাঁ মানছে না..চোখ ফেঁটে কান্না আসছে ধ্রুবর..

ধ্রুব তার রুমে এসে কান্না করছে প্রচন্ড কান্না করছে..ওকে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না যে কেউ এভাবেও কাদঁতে পারে।

ধ্রুবর নিঃস্বঙ্গতা ফুরায় না..

একদিন কী ভুলে যেন হঠাৎ করে চৈতীর হাতে ধ্রুবর হাত ছুয়ে যায়..ঠিক তখনি

ঠাসসসসসসস!!!😡😡😡
=>তোর সাহস কী করে হয় আমাকে ছোয়ার..তোকে যে ঘৃনা করি তুই বুজিস নাহ..তোকে আমার দেখতে ইচ্ছে হয়না..তবে কেন বারবার সামনে আসিস?(চৈতী)😡😡😡

ধ্রুবর বুকে যেন একেকটা কথা একেকটা খন্ড খন্ড টুকরা করছে…তার চোখ বেয়ে পানি পরছে..কিন্তু এই পানি দেখার মতো সময় বা ইচ্ছা কোনোটাই চৈতীর নেই..

ধ্রুব নিশ্চুপ একাকিত্বটাকে বরন করছে..হারিয়ে যাচ্ছে কষ্টের অচীন প্রদেশে..😖😖😖

ধ্রুবর মুখে ইদানিং হাসির থেকে কান্নাটাই বেশি দেখা যায়..তবে চৈতীর সেদিকে খেয়াল নেই।।।

ধ্রুবর কষ্ট লাগে প্রচন্ড কষ্ট লাগে..😭😭

ধ্রুব ছেলেটা কখনো সিগারেটের গন্ধ সজ্জ করতে পারতো নাহ..কিন্তু আজকাল সে ধ্রুবকেই দেখা যাচ্ছে প্যাকেটের পর প্যাকেট সিগারেট শেষ করে দিচ্ছে এক নিমিষেই…

চৈতী অবাক হয় এটা দেখে..যে ছেলেটা সিগারেট খায়নি কখনো সে আজ সেই সিগারেট ছাড়া চলে না…আবার চৈতী এটাও ভাবে হয়তো এটা কোনো নতুন অভিনয়।

ধ্রুবর ইদানিং মাথা ব্যাথা করে প্রচন্ড মাথা ব্যাথা করে..কান্না করতে গেলে তার পেটেঁও অনেক ব্যাথা করে…

ব্যাথা আর কষ্ট আর কান্নার নিশ্চুপ আওয়াজে ধ্রুব মেতে উঠে নিজের মতো…

একদিন ধ্রুব অফিসে মাথা ঘুরে পরে যায়..

সকল কলিগরা মিলে তাকে ক্লিনিক এ নিয়ে যায়..

ধ্রুব প্রচন্ড মানষিক যন্ত্রনায় ভুগছিলো এবং খাওয়া দাওয়ার ঘাটতির জন্য এমন অবস্থা বলে জানায় ডাক্তার।

ধ্রুবর এমন অবস্থা শুনেও চৈতি একটুও চিন্তিত হলো না…

ধ্রুব কে ডাক্তার রা চেয়েছিলো আরো কিছুদিন ক্লিনিক এ রাখতে কারন ওর শরীর প্রচন্ড দুর্বল..কিন্তু ধ্রুবর জেদের কাছে হার মেনে ডাক্তার রা তাকে ছুটি দিতে বাধ্য হয়..

ধ্রুব মোট তিন দিন ক্লিনিক এ ছিলো এই তিন দিনে চৈতি আসা তো দূরের কথা একটা কল পর্যন্ত করেনি…

ধ্রুব ভাবে হয়তো ধ্রুবর নাম্বারই নাই চৈতীর কাছে..
তাহলে কল করবে কীভাবে..

ধ্রুব ছুটি নিয়ে চলে আসে বাসায়..

ধ্রুব বাসায় আসার পর একবারও চৈতী জিজ্ঞাসা করেনি যে ধ্রুব কেমন আছে বা কী হয়েছিলো..

ধ্রুবর কাছে চৈতীর এরূপ ব্যবহার গুলো খুব খারাপ লাগে..ধ্রুব প্রচন্ড কষ্ট পায়..চৈতীর এমন ব্যবহারে।

ধ্রুব কিছু বলেনা..ধরতে গেলে বলতে পারেনা।

ধ্রুবর একটা ডাইরি ছিলো যার মাঝে ধ্রুব তার সব কথা লিখে রাখতো..লিখে রাখতো সে চৈতী কে কতটা ভালোবাসে…

ধ্রুব তার অসুস্থ শরীর নিয়ে রান্না করতে পারেনা..তাই সে বলেছিলো।

=>চৈতী তুমি তো তোমার জন্য রান্না করোই তাহলে প্লিজ আমার জন্যও একটু রান্না করে দিও কারন দেখতেই পারছো আমি কিছুই করতে পারছি না।(ধ্রুব)

সেখানে চৈতীর উত্তর ছিলো..

=>ঐ কুত্তা তুই পারলে মরে যা না খেয়ে তবুও তোর জন্য আমি কোনোদিন রান্না করবো না..আর তুই ভাবলি কী করে তোর এই ঢং দেখে গলে গিয়ে তোর জন্য রান্না করবো।।।।(চৈতী)

ধ্রুব কিছু বলতে পারেনি শুধু নিশ্চুপ ভাবে চৈতীর দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া…😖😖😖

ধ্রুব কোনোদিন ভাবতে পারেনি..যে তাকে কোনোদিন কেউ এমন ভাবেও এতো ঘৃনা করতে পারে..

চৈতী কী তাকে শুধুমাত্র চৈতীকে বিয়ে করেছে বলেই এতো ঘৃনা করে..না আর ভাবতে পারছে না ধ্রুব…তার মাথা ব্যাথাটা ক্রমশ বেড়েই যাচ্ছে..

ডাক্তার ধ্রুব কে বলেছিলো যেন বেশি টেনশন না করে কিন্তু ধ্রুবকে তো টেনশন ছাড়েই নাহ…

ধ্রুবর নিজেরই রান্না করতে হবে…তাই সে ছুরি দিয়ে তরকারী কাটঁছে..কিন্তু হঠাৎ তার মাথা ঘুরে যাওয়ার কারনে তার হাতে গিয়ে লাগে আর যার ফলস্বরূপ ধ্রুবর হাত কেটেঁ যায়..

ধ্রুবর হাত থেকে অনেক রক্ত বের হতে থাকে…

ধ্রুব দৌড়ে তার রুম এ যায়..ফাস্ট এইড বক্সটার জন্য..ধ্রুব দৌড় দেওয়ার কারনে তার হাত থেকে পরতে থাকা রক্ত সারা ঘরে পরে থাকে…

না ধ্রুব তার হাত এ ব্যান্ডিস করা তো দূরে থাক..সে তার রুম পর্যন্ত যেতে পারলো নাহ…তার আগেই ধ্রুব মাথা ঘুরে পরে গেলো সাথে জ্ঞানও হারালো…

৫ মিনিট পর চৈতী তার রুম থেকে বের হয়ে দেখে মেঝে তে রক্ত দিয়ে মাখামাখি..সে খানিকটা ভয় পেলো কারন ধ্রুবর কিছু হয়নি তো..

দৌড়ে ধ্রুবর রুমের দিকে যেতে লাগলো..ডাইনিং এর কাছে যেতেই চৈতী দেখতে পারলো একটা দেহ মেঝেতে পরে আছে..

চৈতী দেহটার কাছে যেতেই দেখতে পারলো দেহটা আর কারোনা ধ্রুবর আর তার হাত থেকে প্রচুর রক্ত বের হচ্ছে..

চৈতী আর কিছু ভাবতে পারলো না..

চৈতী তারাতারি এম্বুলেন্সকে কল করলো…আর দৌড়ে গিয়ে ধ্রুবর মাথাটা কোলে নিয়ে হাতে ওষুধ লাগাতে লাগলো..

আজ চৈতীর মনে প্রচন্ড ভয় হতে লাগলো…যদি ধ্রুবর কিছু হয়ে যায় সে নিজেকে কখনো ক্ষমা করতে পারবেনা..

চৈতী ধ্রুবকে ক্লিনিক এ নিয়ে আসলো…

ডাক্তার ধ্রুবকে দেখেই চৈতীকে বললো আপনি ওনার কে হন…

চৈতী কোনো কথা চিন্তা না করেই বলে দিলো আমি উনার বউ..

ডাক্তার বললো আচ্ছা ঠিক আছে আপনি বসুন আমরা দেখছি..

কিছুক্ষনপর ধ্রুবর বাবা মা আসলো..

ডাক্তার এসে বলতে লাগলো ওনার প্রচুর ব্লাডিং হয়েছে ওনার জন্য ব্লাডের প্রয়োজন..

চৈতী বললো ওনার সাথে আমার ব্লাড ম্যাচিং করে প্লিজ আমার সব রক্ত নিয়ে হলেও ওকে বাচাঁন…

ডাক্তার বললো আচ্ছা আসুন আমার সাথে…

চৈতী গিয়ে ধ্রুবকে রক্ত দিচ্ছে…

কিছুক্ষনপর অপারেশন শুরু হলো…

চৈতী প্রচন্ড চিন্তিত তার প্রচুর কান্না পাচ্ছে..😭😭
ধ্রুবর অপারেশন শুরু হলো…

চৈতীর প্রচুর চিন্তা হচ্ছে..তার প্রচুর কান্না করতে ইচ্ছা করছে..

প্রায় ১ঘন্টা ডাক্তার বের হলো..

ডাক্তার বের হতেই চৈতী দৌড়ে গেলো..
=>ডাক্তার ধ্রুবর কী খবর?(চৈতী)

=>উনি এখন সুস্থ আছেন তবে ২৪ ঘন্টার আগে আমরা কিছু বলতে পারবো নাহ..(ডাক্তার)
=>জ্বী ধন্যবাদ।(চৈতী)

=>it’s my pleasure(ডাক্তার)

=>আচ্ছা আমরা কী ওর সাথে দেখা করতে পারবো নাহ।(মা)

=>জ্বী অবশ্যই তবে প্লিজ ওকে কেউ মানসিক চাপ দিয়েন নাহ..এতে ওর অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।(ডাক্তার)

ডাক্তার চলে গেলো…

চৈতী বললো মা_বাবা আপনারা যান আপনাদের ছেলেকে দেখে আসুন আমি আপনাদের পরে যাবো।

ধ্রুবর মা_বাবা ভিতরে গেলো..কিছুক্ষনপর তারা বের হয়ে আসলো….

তারা বের হয়ে এসে চৈতী কে বললো.,যাও মা এবার তুমি গিয়ে তোমার স্বামীকে দেখে আসো…

চৈতী কিছু বলতে পারলো নাহ..সে আস্তে আস্তে দরজা দিয়ে ধ্রুবর ক্যাবিনের ভিতর ঢুকলো।

চৈতী অল্প অল্প করে ধ্রুবর পাশে গিয়ে বসলো…ধ্রুবর ঘুমন্ত চেহারাটা দেখে চৈতীর অনেক মায়া লাগলো।।।

চৈতীর চোখের কোনে জলের দেখা মিলছে..চৈতী ভাবছে তার জন্যই সবকিছু হয়েছে..সেই সবকিছুর জন্য দায়ী..

প্রায় এক ঘন্টা পর চৈতী বের হলো..

চৈতী কে দেখে ধ্রুবর মা বাবা বললো মা তুমি তো মনে হয় কিছুই খাওনি আর অনেক ধকল গেছে..যাও এখন বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসো..

আর ধ্রুবর জ্ঞান ফিরতে তো আরো অনেক দেঁড়ি…

চৈতী বাসায় চলে গেলো কারন বাসার অবস্থা অনেক খারাপ বাসাটা পরিষ্কার করতে হবে…

চৈতী বাসা পরিষ্কার করতে করতে প্রথমবারের জন্য ধ্রুবর ঘরে ঢুকে…

ধ্রুবর ঘরে ঢুকে চৈতী পরিষ্কার করার সময় দেখতে পেলো ধ্রুবর বিছানার উপর সেই নীল শাড়ীটা পরে আছে..

শাড়ীটা দেখেই চৈতীর চোখে পানি চলে আসলো..শারীর পাশে দেখতে পারলো একটা ডাইরি পরে আছে…

ডাইরিটা দেখে সে অবাক হলো..তবে ডাইরিটা পড়ার লোভ সামলাতে পারলো নাহ….

ডাইরিটা খুলে পড়তে লাগলো..

ডাইরিটার মাঝে ধ্রুব চৈতীকে কতোটা ভালোবাসে..কতোটা কষ্ট পেয়েছে সে..সব কিছু লেখা আছে…

ডাইরিটার অনেকগুলা পৃষ্টা দেখেই বুজা যায় যে ধ্রুব কান্না তে ভীজে গেছিলো..

ডাইরিটার পৃষ্টা গুলোর মাঝে থাকা লেখা গুলোও কেমন যেন ঘোলাটে হয়ে গেছে..

চৈতীর চোখ দিয়ে পানি ঝরছে..সে চিৎকার করে কাদঁছে..

সে ভাবছে সে কী করে ধ্রুবকে এতোটা কষ্ট দিতে পারলো..ধ্রুব তো তাকে অনেক ভালোবাসে…তবে সে কেনো এটা বুজতে পারেনি।

চৈতী মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলো..যাইহোক না কেন সে কিছুতেই আর কোনো কষ্ট দিতে পারবেনা ধ্রুবকে…ধ্রুবকে সে এখন থেকে অনেক ভালোবাসবে।

চৈতী আবার ক্লিনিক এ গেলো..

চৈতী ধ্রুবর মাথার কাছে ৫ ঘন্টা ধরে বসে আছে…কিছুক্ষন পর দেখা গেলো ধ্রুবর জ্ঞান ফিরেছে..

ধ্রুব তার পাশে চৈতী কে দেখে সজ্জ করতে পারলো নাহ কিন্তু তার মা বাবা কে পাশে দেখে সে কিছু বলতে পারলো নাহ..

ধ্রুব আরো তিনদিন ক্লিনিক এ ছিলো এই তিন দিন এ ধ্রুব একটু না অনেকটা অবাক হয়েছে..কারন এই তিন দিনে চৈতী তাকে অনেক সেবা যত্ন করেছে..

ধ্রুব আবার মনে করে তার বাবা মা সামনে দেখে বাবা মায়ের কাছে ভালো সাজার অভিনয় করছে..তাই এতো সেবা যত্ন।

তিন দিন পর ধ্রুব বাড়ীতে চলে আসে..সে চেয়েছিলো তার এপার্টমেন্ট এ চলে যেতে।কিন্তু ধ্রুবর বাবা মা যেতে দেয়নি।

ধ্রুব বাড়ীতে আসার পর থেকে লক্ষ্য করছে..যে চৈতী তাকে অনেক সেবা যত্ন করছে…ধ্রুব বুজতে পারছেনা হঠাৎ এমন সেবা যত্নের মানে কি..আর কি নতুন নাটক শুরু করছে চৈতী..?

ধ্রুব মনে মনে ভাবে চৈতী কখনো ধ্রুবকে ভালোবাসতে পারেনা…সে শুধু ধ্রুবকে ঘৃনা করে।

চৈতী শুধু এখন ধ্রুবর কাছাকাছি থাকতে চায়..সবসময় ধ্রুবর ছায়া হয়ে থাকতে চায় কারন সে যে ধ্রুবকে ভালোবেসে ফেলছে প্রচন্ড রকমে ভালোবেসে ফেলছে…

ধ্রুব এখনো উদাস থাকে..সে এখনো বুজতে পারেনা তার জীবনটা এমন কেন?এতো কষ্ট কেন তার জীবনে?সে আর ভাবতে পারেনা..তার ঘুম চলে আসে দুচোখ জুড়ে…

তবে সে ঘুমায় না কারন রাতের আধার তাকে কাছে টানে খুব করে কাছে টানে…

ধ্রুব মুক্তী চায় সকল ধরনের কষ্ট থেকে..সে মুক্তি চায়..এই ব্যাথাময় মোহ থেকে…

ধ্রুব মনে করে চৈতী তাকে ভালোবাসেনা..তাহলে সে কেনো চৈতীর জন্য তার জীবনটাকে এমন ভাবে বিষিয়ে তুলছে…সে কেনো হাজার অবহেলা অপমান সজ্জ করে চৈতীকে এতো ভালোবাসে….

সে ভাবে চৈতী কে আর বিরক্ত করবে নাহ..চৈতী থাকুক নাহ চৈতীর মতো…

আর ঐদিকে চৈতী ভাবে ধ্রুবকে তার মনের সব কথা খুলে বলতে হবে…সে কতোটা ভালোবাসে ধ্রুবকে..তার সাথে সাথে ধ্রুবর কাছে ক্ষমাও চাইবে…

গল্পটা এখানেই শেষ হতে পারতো তবে নাহ..নিয়তির খেলা বোঝা বড়ই কঠিন..তাদের জীবনে আগমন নতুন কোনো মানুষের..
ধ্রুব বসে আছে আর চৈতী চাচ্ছে ধ্রুবর কাছে তার সব ভুল স্বীকার করে নিতে…

কিন্তু না ঠিক তখনি ধ্রুবর মামাতো বোন এসে হাজির..আর ধ্রুবর মামাতো বোন চৈতীর আর ধ্রুবর বিষয়ে সবই জানে…

=>ঐ ধ্রুব তুই এখানে বসে আছিস আর আমি তোকে সারা বাড়ী খুজেঁ বেড়াচ্ছি..(নীলা ধ্রুবর মামাতো বোন)

=>আরে নীলা যে..(ধ্রুব বলেই চৈতীর সামনে নীলা কে জড়িয়ে ধরলো)

তা দেখে চৈতীর মাথায় রাগে আগুন জ্বলে উঠলো..সে তবুও কিছু বললো না।

ধ্রুব আর নীলা চলে গেলো নিচে আর চৈতী উপরে বসে থেকে ভাবছে শয়তানটাকে আজ রাতে বুজাবে ওর সামনে অন্য মেয়েকে জড়িয়ে ধরা?

রাত প্রায় ১২টা ছুই ছুই ধ্রুবর কোনো খবর নেই..চৈতীর চিন্তা হয় প্রচুর চিন্তা হয়…ধ্রুবর কিছু হয়নি তো আবার..

ধ্রুবকে কল দেয় চৈতী…১বার ২বার ৩বার কল রিসিব করেনা…

চৈতীর চিন্তা ক্রমশ বাড়তেই থাকে..ধ্রুব তো কোনোদিন বাড়ী ফিরতে এতো রাত করেনা।

প্রায় রাত ১টার দিকে ধ্রুব বাড়ীতে আসলো…চৈতী যেন তার জীবন ফিরে পেলো।

=>ঐ কুত্তা এতো দেড়িঁ হলো কেন আর দেড়িঁ হলো তো ভালো কথা একবার কলটা ধরলে কী হতো?(চৈতী)

=>ওহহ..সরি মোবাইলটা নীলার কাছে ছিলো..আর নীলাকে বাসায় দিয়ে আসতে গিয়ে দেড়িঁ হয়ে গেলো।(ধ্রুব)

কথাটা শুনে চৈতী কিছু বলতে পারলো না..একদম চুপ হয়ে গেলো..সে ভাবতে পারছেনা এটাই কী সেই ধ্রুব যাকে কীনা বারবার না করা সত্যেও চৈতীর পিছনে পরে থাকতো..

চৈতীর প্রচন্ড কান্না পাচ্ছে..সে আর কিছু না বলে শুয়ে পড়লো..

ধ্রুব বুজতে পারছে..যে চৈতী কান্না করছে..কিন্তু ধ্রুব এখন তাকে থামাবেনা..কারন ধ্রুব বুঝাতে চায় যে ভালোবাসার মানুষ কষ্ট দিলে কেমন লাগে..?

সকাল হলো চৈতী উঠে চলে গেলো রান্নাঘরে..কিছুক্ষনপর চৈতী রুমে চা হাতে ঢুকলো..

=>ধ্রুব তোমার চা..(চৈতী)

=>না এখন চা খাবোনা নীলা কল দিছে..ওর সাথে গিয়ে একসাথে ব্রেকফাস্ট করবো।(ধ্রুব)

চৈতীর চোখে জল চলে আসলো কিন্তু ধ্রুব তা একবারও দেখার প্রয়োজন মনে করলো নাহ..

চৈতীর চোখ যেন আর কোনো বাধাঁ মানেনা..অঝর ধারায় পানি পড়ছে…আর ধ্রুব নিজের ভীতরে কষ্ট টাকে চেপে রেখে অভিনয় করে যাচ্ছে নিরন্তর..কারন সেও যে ভালোবাসে অসম্ভব ভালোবাসে

ধ্রুবর অবহেলাগুলো আস্তে আস্তে বাড়তে লাগলো..আগে ধ্রুব চৈতীর সাথে কথা বললেও এখন বলেনা।

চৈতীর প্রচন্ড কষ্ট লাগে..চৈতী বুজতে পারে ধ্রুবর পরিবর্তনের কারন চৈতী নিজেই…

চৈতী সারাদিন কিছু খেলো কি খেলোনা তার কিছুই জানার প্রয়োজন মনে করেনা..

চৈতী ধ্রুবর জন্য রান্না করলেও ধ্রুব খায়না..ধ্রুব নিজে রান্না করে খায়..চৈতী ধ্রুবর সাথে এক ঘরে থাকতে চাইলেও ধ্রুব না করে…

চৈতী বুজতে পারে যে ধ্রুব আস্তে আস্তে করে দূরে চলে যাচ্ছে তার থেকে..তার আটকাতে হবে ধ্রুব কে..নিজের আচঁলে বাধঁতে হবে।সে কিছুতেই হারাতে চায়না ধ্রুবকে।

=>ধ্রুব কী রান্না করবো বলো আজ একসাথে খাবো..প্লিজ না করোনা।(চৈতী)

=>না সেটা সম্ভব নাহ..কারন নীলা বসে আছে আমার এখনি যেতে হবে..(ধ্রুব)

ধ্রুব উঠে ফ্রেশ হওয়ার জন্য চলে যায়..আর চৈতী ধ্রুবর মোবাইলটা হাতে নিয়ে কল লিস্ট টা চেক করে।

কল লিস্ট টা দেখে চৈতী অবাক হয়ে যায় কারন..প্রায় একমাসে একবারের জন্যও নীলার নাম্বার থেকে কোনো কল আসেনি আর ধ্রুবও প্রায় একমাস নাগাদ কোনো ফিম্যাল নাম্বারে কল দেয়নি..

চৈতী মোবাইলটা রেখে দেয়..চৈতী বুজতে পারতেছেনা যে তার সাথে কী চলছে..তাই সে কোনো কিছু না বলে ধ্রুবর ঘর থেকে বের হয়ে নিজের ঘরে যায়।

নিজের ঘরে এসে চৈতী নীলার নাম্বারে কল দেয়..
=>হ্যালো নীলা কই তুমি?(চৈতী)

=>কেন ভাবি আমি তো ঢাকার বাহিরে..আসতে আসতে আরো চারদিন লাগবে।(নীলা)

=>ওহ আচ্ছা(নীলা কিছু বলার আগেই চৈতী কল টা কেটেঁ দিলো)

চৈতী ভাবছে তাহলে ধ্রুব যাচ্ছে কোথায়?

চৈতী ধ্রুবর পিছু নিলো…ধ্রুব গিয়ে একটা পার্ক এ ঢুকলো।

চৈতীও তার পিছু পিছু ছুটলো সেই পার্কে..

চৈতী যা ভেবেছিলো ঠিক তাই..ধ্রুব কারো সাথে দেখা করতে আসেনি..ধ্রুব চৈতীর সাথে গেইম খেলছে…

চৈতী তার এক বান্ধবি রে কল দিলো যে এই পাশেই থাকে..

চৈতী তার বান্ধবি রে নিয়ে গিয়ে এমন ভাবে একটা জায়গা তে বসলো যাতে ধ্রুব ঘার নারতেই চৈতীকে দেখতে পায়…আর ঠিক সেটাই হলো।

ধ্রুব দেখতে পেলো চৈতীকে…

ধ্রুব অবাক চোখে তাকিয়ে আছে..সে ভাবতে পারেনি..যে চৈতী এখানে আসবে…

চৈতীও এমন ভাবে ধ্রুবর দিকে তাকালো যেন সেও ধ্রুবকে মাত্রই দেখলো..চৈতী উঠে এগিয়ে গেলো ধ্রুবর কাছে..

=>তোমার নীলা আসেনি?(চৈতী)

=>হ্যাঁ চচচলে আসবে এএখখনি..(তোতলাতে তোতলাতে ধ্রুব বললো)

চৈতী হাসছে..আর ধ্রুব অবাক চোখে তাকিয়ে আছে,.চৈতীর দিকে..সে ভাবছে চৈতীর হাসিটা এতো সুন্দর কেন?

=>কী স্যার আপনার অভিনয় করা কষ্ট পাওয়া আর দেওয়া হইলে চলেন খাবো অনেক খিদাঁ লাগছে..(চৈতী)

=>কীকককী বলছো এসব?(ধ্রুব)

=>আমি যা বলছি তা করো..এহহহ..আর কষ্ট পেতে হবে নাহ..আমি আর তোমাকে কষ্ট দিবোনা..এখন থেকে অনেক ভালোবাসবো..প্লীজ মাফ করে দাও..আর আমি জানি তুমি শুধু আমাকেই ভালোবাসো..এই নীলা টিলাকে নাহ..(চৈতী)

ধ্রুব বুজতে পারছেনা যে এটা কীধরনের ক্ষমা চাইলো..তবে সে ক্ষমা করে দিলো।

ধ্রুব আলতো করে চৈতীর হাতটা ধরলো..ব্যাস আর কিছু করতে বা বলতে হলোনা চৈতী চাপটে জড়িয়ে ধরলো ধ্রুবকে…আর কান্না করে করে বলতে লাগলো..
=>i love u Dhrubo.প্লীজ আমাকে ক্ষমা করে দাও আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি।

ধ্রুব কিছু বলতে পারলো নাহ..আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।

এটা ভালোবাসা,যেটা হাজারো ঝড়-ঝাপটার পরও অটুট থাকে সারাজীবন।

ভালো থাকুক এমন সব ভালোবাসা।😍😍😍

সমাপ্ত😍😍

গল্পের বিষয়:
দু:খদায়ক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত