অবহেলা অতঃপর ভালোবাসা

অবহেলা অতঃপর ভালোবাসা

মাথায় চুকচুকে তেল..চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা..আর পায়ে কমদামি সেন্ডেল পরা ছেলেটি ধ্রুব…
আজ তার কলেজের প্রথম দিন..তার পরিবার সম্পর্কে কিছুই বলবো না…
black BMW দিয়ে..সারা শরীরে বড়লোকের স্টিকার লাগিয়ে আসা মেয়েটি আনহা…তারও আজ কলেজের প্রথম দিন…
দুইজন মানুষ দুই মেরুর কারন আনহার বন্ধুবান্ধবের অভাব নেই..আর ধ্রুবর হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া আর কেউ নেই..

ধ্রুব আর তার বন্ধু রিয়াদ কলেজ এ ঢুকছে…রিয়াদ অনেক স্টাইলিস্ট হলেও ধ্রুব অনেক ঠান্ডা আর ভদ্র..যাকে আপনাদের শহুরে ভাষায় বলে গাইয়া..

যেখানে সারা ক্লাস জুড়ে আনহার রূপের কথোপকথোন সেখানে ধ্রুব নামক ছেলেটি নিশ্চুপ বইয়ের পাতা উল্টে যায়…

কিছুক্ষন পর ক্লাসে স্যার এর আগমন..
-Hello Everybody..How are you?(sir)

-we are fine sir(সবাই একসাথে বলে উঠলো)

-আমি তোমাদের Physics teacher আর আমিই তোমাদের ক্লাস টিচার..আর আমরা আজ কোনো ক্লাস করবোনা..সবার পরিচয় জানবো ঠিকআছে?(স্যার)

-জ্বী স্যার(সবাই একসাথে)

-তাহলে এবার পরিচয় পর্ব শুরু করা যাক.?(স্যার)

-জ্বীর স্যার..(সবাই একসাথে)

সবার পরিচয় পর্ব শেষ হওয়ার পর এবার ধ্রুবর পালা।

-এই ছেলে তোমার একি অবস্থা..তুমি এই কলেছে কীভাবে চান্স পেলে..গাইয়া কোথাকার?(স্যার)

সবাই এই কথা শুনে হেসেঁ দিলো..আর ধ্রুবর মনটা অনেক খারাপ হয়ে গেলেও সেটা কাওকে বুজতে না দিয়ে হাসি মুখে বললো..

-স্যার আমার নাম ধ্রুব।(ধ্রুব)

সবাই ওর নাম শুনে অবাক কারন এমন গাইয়া ছেলের নাম এতো রোমান্টিক এবং জোস হতে পারে?

-আচ্ছা বসো..এখন দেখি কে কে A+ পাইছো..দাড়াঁও তো?(স্যার)

ধ্রুব কে দাড়াঁতে দেখে স্যার বললো..
-এই ছেলে তুমিও কী A+ পাইছো?(স্যার)

-জ্বী স্যার(ধ্রুব)

-আচ্ছা এবার যারা Golden A+ পাইছো তারা দাড়াঁও..(স্যার)

এবার শুধু দুইজন দাড়াইছে..ধ্রুব আর আনহা..তা দেখে রিতীমতো সবাই অবাক…

-একি তুমি দাড়াঁলে যে?(স্যার)

-জ্বী স্যার আমিও পাইছি..(ধ্রুব)

স্যার ধ্রুবর কাধেঁ হাত দিয়ে বললো..
-সাবাস!!! বেটা এমনি থাকো সবসময়(স্যার)

স্যার এর এতো আহ্লাদি ভাব দেখে আবার গাইয়াটার প্রতি…আনহার রাগে শরীর জ্বলতেছে..😡😡

আজকের মতো ক্লাস শেষ…আর তাই ধ্রুব মাঠে বই নিয়ে পড়তেছে…সেই মূহুর্তে..আনহা ওখানে গেলো..

=>ঐ গাইয়া তোর মতো গাইয়া এই কলেজে চান্স পায় তা আমি এখনো বুজতে পারিনি..তবে ভুলেও আমার সাথে টক্কর দিতে আসবি নাহ..(আনহা)😒😒😒

ধ্রুব বুজতে পারলো না যে কেন ওকে এতো কথা শুনতে হলো..

পরেরদিন কলেজে যাওয়ার পর..

ধ্রুব ক্লাস থেকে বের হতে যাচ্ছে আর আনহা ঢুকছে..এরি মধ্যে কে জানি হঠাৎ করে ধ্রুবকে ধাক্কা মারে আর যার ফলে ধ্রুব গিয়ে আনহার উপর পরে…

ঠাসসসসস!!
ঠাসসসসস!!
=>ঐ ছোটলোকের বাচ্চা..তোর সাহস তো কম না তুই আমাকে টাচ করিস?😡😡

ধ্রুব গালে হাত দিয়ে মাথা নিচু করে দাড়িঁয়ে আছে..আর তার চোখ দিয়ে পানি ঝরছে..আর আনহার রাগ এখনো কমেনি..😭😭😭😭

আস্তে আস্তে ধ্রুব স্যার এর অনেক প্রিয় হয়ে উঠে..আর আনহার দু চোখের বিষ হয়ে উঠে..

ধ্রুব খুব ভালো গিটার বাজাতে পারতো..সেটা কেউ জানেনা…

আর সে একটা রেডিও স্টেশনে আর জে ছিলো সেটাও কেউ জানেনা..তার শো এর নাম ছিলো…শূন্যতায় ভালোবাসা..সেই শো এর রেগুলার শ্রোতা ছিলো আনহা

কলেজ এ পরীক্ষা শুরু হইছে…সবাই ভালোভাবে পরীক্ষা দিলো…

আজ রেজাল্ট দিবে..তাই সবাই রেজাল্ট আনতে গেলো…সবাই অবাক কারন ধ্রুব প্রথম হয়েছে আর আনহা দ্বিতীয়..

আর তা দেখে আনহার রাগ আরো দিগুণ বেড়ে গেছে…সে ধ্রুবকে কঠিন শাস্তি দিবে বলে ঠিক করে…😡😡😡😡😡

এর কিছুদিন পর..
=>ঐ আমাকে মাফ করে দাও প্লিজ(আনহা)

=>জ্বী ওকে মাফ করে দিলাম..(ধ্রুব)

=>তাহলে ফ্রেন্ড?(আনহা)

=>কেন?(ধ্রুব)

=>বন্ধু হতে বলছি তাই বন্ধু হবা..নয়তো ভাববো আমাকে মাফ করোনি(আনহা)

=>ওকে..বন্ধু(ধ্রুব)

=>তাহলে তোমার মোবাইল নাম্বারটা দাও(আনহা)

=>কেন মোবাইল নাম্বার কেন আবার?(ধ্রুব)

=>বন্ধুর কাছে বন্ধুর মোবাইল নাম্বার থাকবেনা এটা হয় নাকি?(আনহা)

ধ্রুব তার মোবাইল নাম্বার দিয়ে দিলো…

এরপর থেকেই সবখানেই দুজনকে একসাথে পাওয়া যায়…

ধ্রুব এর এখন আনহা কে ছাড়া কিছুই ভালোলাগেনা..তার প্রতিটা কাজের সঙ্গী হিসেবে আনহাকে তার চাই ই চাই..

ধ্রুব আনহাকে প্রপোজ করলো কিন্তু আনহা..অপমান করলো..সবার সামনে..

ধ্রুব বার বার ছুটে গেলো আনহার কাছে..না আনহা মানেনি..

ধ্রুব কে এখন আর আনহা কোনো পাত্তা দেয়না..ধ্রুবকে বার বার অপমান করে..😖😖😖

ধ্রুব কাদছেঁ অনেক্ষন ধরে কাদছেঁ কারন আজ আনহা তাকে অপমান করেছে অনেক..তার সামনে যেতে না করেছে…ধ্রুবর চোখ দুটো যেন বাধাঁ মানছে না…😭😭😭

রাতে ধ্রুব রেডিও স্টেশনে বসে আছে..তার শো টা এখন শুরু করবে সে..আর আনহাও অধীর আগ্রহে বসে আছে তার শো টা শুনবে..
কিছুক্ষনপর ধ্রুবর অনুষ্টান শুরু হলো..আনহাও শুনতে লাগলো।

-Hi frnds আমি RJ Dhrubo প্রতিদিনের মতো আজো এসে গেছি তোমাদের মাঝে নতুন এক ভালোবাসার গল্প নিয়ে..কিন্তু আজকের গল্পটা কোনো মিথ্যা নয় কারো লাইফে ঘটে যাওয়া সত্যিকার একটা গল্প..

-বলা শুরু করার আগে বলে নেই..অবশ্যই আপনারা জানাতে ভুলবেন না যে গল্পটা কেমন হয়েছে।(ধ্রুব)

(আমার আগের পার্ট টাই ঐ গল্পটা)
ছেলেটা মেয়েটাকে অনেক ভালোবাসতো কিন্তু ছেলেটার দোষ ছিলো ছেলেটা গাইয়া আনস্মার্ট..তবে কি জানেন ছেলেটা মেয়েটাকে ভালোবাসে বড্ড বেশিই ভালোবাসে…তাই সে কারো জীবনে অবহেলার পাত্র হয়ে থাকতে চায়নি…

ধ্রুবর চোখের কোনে পানি চলে এসেছে..এমনকি যতোগুলো শ্রোতা ছিলো তাদের চোখও ভীজে উঠেছে আর আনহা সে তো ফুফিঁয়ে ফুফিঁয়ে কাদঁছে..😭😭😭

ধ্রুবর গলার স্বর ভারী হয়ে আসছে..একটু থেমে আবার বলতে শুরু করলো।।।

হ্যাঁ ছেলেটা চলে যাচ্ছে অনেক দূরে মেয়েটাকে ছেড়ে কারন মেয়েটা যে সেটাই চেয়েছিলো…ভালো থাকুক ভালোবাসা।

কান্না জড়িত কন্ঠে ধ্রুব বলছে..ছেলেটা সত্যিই বড্ড ভালোবাসতো মেয়েটাকে।

ধ্রুব কমেন্ট বক্সের দিকে তাকিয়ে আছে…আর পড়ছে..

নীলাবতীর চুপকথা লিখেছেন ভাইয়া ছেলেটা কি সত্যিই চলে যাবে।

নিয়মের অন্তহীনা লিখেছেন ভাইয়া ছেলেটা কি আর মেয়েটার কাছে আসবেনা।

নীল আহসান লিখেছেন ছেলেরা এমনি হাজারো কষ্ট সজ্জ কষ্ট করে হলেও তার ভালোবাসার মানুষটা কে সুখে রাখতে চায়।

মোনালিসা মুন লিখেছেন ভাইয়া ছেলেটা কে?

এমন আরো অনেক কমেন্ট আছে..সবগুলা ধ্রুব পড়ে নি কারন সে তো আনহার কমেন্ট টার জন্য অপেক্ষা করছিলো…😭😭
আনহাও কমেন্ট করেছিলো কিন্তু ততক্ষনে অনেক দেড়িঁ হয়ে গেছিলো..কারন ধ্রুব তখন ফ্লাইট এর জন্য দাড়িঁয়ে আছে বিমান বন্দরে…

পরের আরজে এসে বলতে লাগলো…

আপনারা শুনতে চান তো যে ছেলেটা কে ছিলো…

একটা কল আসলো।।
-আমি RJ Hamim বলছি..বলুন..কী বলবেন?

-ভাইয়া ধ্রুব ভাইয়া কোথায় এখনো তো ওর শো শেষ হয়নি..😡😡😡😡😡
একের পর এক কল আসতে লাগলো..হামিম কি বলবে বুজতে পারলো না..তাই সে বলতে লাগলো।।
প্লিজ ভাইয়া এবং আপুরা কেউ কল দিবেন না আমি সবকিছুই আপনাদের বলতেছি.,

ভাইয়া এবং আপুরা ছেলেটা আর কেউ নাহ..আপনাদের আমাদের সবার প্রিয় ধ্রুব..

তবে সে আর এখন নেই সে চলে গেছে অনেক দূরে…আমাদের সবাইকে ছেড়ে বহু দূরে…😭😭😭

সে শেষ কথাটি কি বলেছিলো জানেন.??
সে আনহাকে ভালোবাসে আর ভালোবেসে যাবে..😘😘

সে কোনো ছোট ঘরের সন্তান না..সে বিশাল সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান…সে শুধু ঘৃনা করতো বড়লোকীপনা টাকে..তাই সে সবসময় সাধারন ভাবে থাকতেই পছন্দ করতো…😍😍

এরি মাঝে একটা কল আসলো..হামিম সেটা ধরে বললো।.
-Hlw আমি RJ Hamim বলছি।।।

কল এর অপর পাশে একটা মেয়ে কাদঁছে…পাঠক রা হয়তো বুঝে গেছেন মেয়েটা কে..হ্যাঁ ঐটাই আনহা।😭😭😭
-আরে আপু আপনি কাদঁছেন কেন?আপনি আপনার নামটা বলে কি জানতে চান বলুন?(হামিম)

-আমার নাম আনহা।

নামটা শুনে শুধু হামিম নাহ..সারা রেডিও স্টেশন এ পিন পিন নিরবতা বিরাজ করছে..এমনকি যারা শুনছিলো তাদেরও বুক ধরফরানি শুরু হয়ে গেছে..

-সত্যি বলছেন তো?(হামিম)

-জ্বী ভাইয়া আমিই সেই আনহা..(কাদঁতে কাদঁতে বললো)

-তাহলে কাদঁছেন কেন ও চলে যাওয়াতে তো আপনার খুশি হওয়ার কথা।(হামিম)

-না ভাইয়া এমন করে বলবেন না..ওকেও যে আমি ভালোবাসি অনেক বেশি ভালোবাসি।।(আনহা)❤❤❤

-তাহলে এভাবে ওকে কষ্ট দিলেন কেন?(হামিম)

-ও যে আমার কাছে ছিলো তখন তাই বুজতে পারিনি যে ও আমার কী ছিলো..কিন্তু আজ ও চলে যাওয়ার পর থেকে আমার পৃথীবিটা অন্ধকার হয়ে গেছে..ওকে ভালোবেসে ফেলছি অনেক বেশি ভালোবেসে ফেলছি..জানেন ভাইয়া ওর প্রতিটা কথা প্রতিটা পাগলামি সবকিছুই আমায় ভীষন ভাবে ভাবায়..ওর প্রতিটা কথা আজ আমার বুকে বিধেঁ আছে..সত্যি বলছি ভাইয়া ওর ভালোবাসাটা আমি তখন বুজতে পারিনি তবে আজ বুজতে পারছি অনেক বেশি ভাবে বুজতে পারছি..(সবগুলা কথাই আনহা কাদঁতে কাদঁতে বললো)

হঠাৎ আনহা ঢুকরে ঢুকরে কেদেঁ উঠলো।।।😭😭😭

এবার সারা রেডিও স্টেশন কেদেঁ দিলো..প্রতিটা শ্রোতার চোখ বেয়ে অশ্রু পরতে লাগলো।।
ধ্রুব এয়ারপোর্টে বসে বসে আনহার কথা ভাবছে..আর তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পরছে…😭😭😭

আনহা দৌড়ে ঐ রেডিও স্টেশনে গেলো কিন্তু ঐখানে গিয়ে সে ধ্রুব কে পেলোনা…তাই সে আবার তরিঘড়ি করে এয়ারপোর্টের দিকে গেলো…

না এটা অন্যগল্পের মতো নাহ…সমাপ্তি টা যে এখানেই হতে পারেনা।

না সে ধ্রুবকে পেলোনা ধ্রুব চলেগেলো দেশ ছেড়ে আর আনহা চিৎকার করে কাদঁছে..হয়তো এই কান্না আজ আর ধ্রুব পর্যন্ত পৌছাবে নাহ…আটাকাতে পারবেনা আর ধ্রুবকে..😭😭😭

আর এদিকে ধ্রুব মনে মনে ভাবছে..আনহা হয়তো খুশিই হয়েছে তার চলে যাওয়াতে।

আনহা এখন একদম একা..সে কারো সাথে কথা বলেনা..খায়না ঠিকমতো..ঘর থেকে সে বের ও হয়না…

আনহার চোখ মুখটা অনেক শুকিয়ে গেছে..

একদিন তার এক কাজিন তাকে জোড় করে বাহিরে ঘুরতে নিয়ে যায়…সেদিন হামিম তাকে পায়..
-আরে আনহা আপু যে..কেমন আছেন..শরীরের এই অবস্থা কেন?(হামিম)

-ভাইয়া ধ্রুব কোথায়?(আনহা এটুকু বলে অসহায়ের মতো হামিম এর দিকে তাকিয়ে আছে)

হামিম যেন অবাক..এ কোন আনহাকে দেখছে সে?😞😞😞

আনহার কাজিন বিষয়টা পেরে বুজতে হামিম কে নিয়ে একটা কফিশপ এ ঢুকে আর আনহা কে বাসায় পাঠিয়ে দেয়…

-ভাইয়া প্লিজ যদি ধ্রুব ভাইয়া এর নাম্বারটা আর তার বাসার এড্রেসটা দেন তাহলে খুব ভালো হতো।(লিমা আনহার কাজিন)

-আপু ওর এড্রেস দিয়ে কী করবেন?(হামিম)
-ভাইয়া আপনি তো জানেন না যেদিন ধ্রুব ভাইয়া চলে যায়..সেদিনের পর থেকে আমি আনহার মুখে হাসি দেখি নাই..দেখলেনই তো ওর অবস্থা(লিমা)

-হুম(হামিম)
-মেয়েটার ঘরে শুধু ধ্রুব এরই ছবি..সারাদিন কিছু খায়না শুধু এই ছবি গুলোর সাথে কথা বলে…অনেক কষ্ট লাগে ওরে দেখলে..প্লিজ ভাইয়া ধ্রুব ভাইয়ার নাম্বারটা দিন।(লিমা)
-আচ্ছা আপু..আমি দিতেছি..আমি জানতাম না যে আনহা ধ্রুবকে কখনো এতোটাও ভালোবাসতে পারবে?(হামিম)
অবশেষে ধ্রুব এর নাম্বারটা দিলো..কিন্তু আনহাকে দিতে না করলো।

-এই নাম্বার আনহাকে দিও না(হামিম)
-কেন?(লিমা)
-তুমি আনহাকে নিয়ে কাল বিকেলে ধ্রুবদের বাড়ীতে আসবা বুজলা..পরেরটা আসলেই বুজতে পারবা..(হামিম)
-ওকে(লিমা)

হামিম গিয়ে ধ্রুবর বাবা মা কে কথা গুলো বলার পর তারাও অবাক..তবে খুশি ছিলো এটা ভেবে যে ছেলেটা তার ভালোবাসার মানুষটাকে পাবে..

পরের দিন আনহা আসলে…
-কী গো আমার ছেলেটার পছন্দ আছে বলতে হবে?(মা)
-বলতে হবেনা কার ছেলে?(বাবা)
এসব কথা শুনে আনহা বলে উঠলো..
-কী বলছেন এসব কে আপনাদের ছেলে?(আনহা)
-ধ্রুব(মা)

নামটা শুনেই আনহার চোখ জুড়ে পানির বন্যা শুরু হলো।

-এমা পাগলি মেয়ে কাদঁছো কেন?(মা)

আনহা মা কে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলো..
-আন্টি সরি আমাকে মাফ করে দেন আমি ধ্রুবকে অনেক কষ্ট দিছি..আমি ওকে ছাড়া থাকতে পারবোনা।(আনহা)
-এমা আমার ছেলে তো তোমারই..আর মা কে আন্টি ডাকো কেন?মা বলে ডাকবা এখন থেকে?(মা)

কথাটা শুনে যেন আনহার দেহে প্রান ফিরে এলো..আবার লজ্জাও পেল
-আর আমাকেও বাবা বলে ডাকবা..(বাবা)
এখন তো আনহা অসম্ভব লজ্জা পেলো..
-ওগো দেখছো আমাদের বৌমা লজ্জায় লাল হয়ে গেছে..(মা)
-তাই তো দেখছি।।(বাবা)
-মা ধ্রুব কোথায়..?(আনহা)
-পাগলটা কাল সকালে বাংলাদেশে আসবে..(মা)

কথাটা শুনে আনহার খুশি আটকায় কে…দৌড়ে গিয়ে জাপটে ধরলো মাকে..
-মা thank u thank u &thank u so so much(আনহা).

-এবার থাম চেহারার কী অবস্থা করছিস যা ফ্রেস হয়ে আয়(মা)

-কিন্তু এখানে তো আমার কোনো ড্রেস নাই..(আনহা)

-ধ্রুবর রুম এ গিয়ে ওর আলমারিটা খুলে দেখ তো তোর ড্রেস এর প্রবলেম হবে কিনা?(মা)

আনহা গিয়ে আলমারিটা খুলে দেখে ওর মাপের অনেক জামা কাপর..এবার আরো ভালো করে ধ্রুবর ঘরটা দেখে বুজতে পারলো যে ধ্রুব তাকে কতো ভালোবাসতো..

আনহা এখানে বসেই কেদেঁ দিলো..

সকালে ধ্রুব বাংলাদেশে পৌছেই আনহার কথা মনে করে কাদঁতে লাগলো..তবে বাবা মা এর সামনে কান্নাটা লুকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করলো..

বাসায় চলে আসলো..ফ্রেশ হয়ে ছাদে গেলো ধ্রুব..ছাদে উঠে সে দেখতে পেলো ছাদের উপরে এক কোনে একটা মেয়ে নীল একটা শাড়ী পরে দাড়িয়ে আছে..ধ্রুব শুধু পেছনেরটা দেখতে পেলো…*

ধ্রুব ভাবছে…মেয়েটা কে…??

হঠাৎ মেয়েটা তার দিকে ফিরতেই..ধ্রুব শকড্ কারন এ যে তার স্বপ্নের রাজকন্যা আনহা..

ধ্রুব হাত দুটি বাড়ীয়ে দিলো..কারন সে সব জানে তার মা তাকে সব বলেছে..

ধ্রুব হাত বাড়ানো দেখে আনহা দৌড়ে এসে ঝাপটে ধরলো ধ্রুবকে..আনহা হয়তো ভেবেছিলো ধ্রুব তাকে ঘৃনা করবে..কিন্তু সত্য তো এটাই সত্যিকার ভালোবাসাতে ঘৃনা বলতে কিছু নেই..

গল্পের বিষয়:
দু:খদায়ক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত