ক্ষমা

ক্ষমা

-হ্যালো লুবনা আমার সাথে এক রাত টাইম স্পেন্ড করতে কত টাকা নিবে?

কল দিয়ে শুরুতেই যখন কেউ এমন নোংড়া কথা বলে ইচ্ছে হয় লোকটাকে কাছে পেলে মুখে থু থু মারতাম।কল কেটে সারাদিন এই কথা কানে বাজতে লাগলো।সারা শরীর রাগে গজগজ করতে থাকে।এত ইতর মানুষ থাকে দুনিয়ায়?এদের কি মা নেই?এরা কিভাবে এত নিচ হতে পারে।সারাদিন কেঁদেছি। কি করে ওই জঘন্য মানুষ আমার নাম জানলো?আবার কেউ আমার নামে কলঙ্ক রটাচ্ছেনা তো?বাসার সবাইকে বললে তারা হয় চিন্তা করবে নয় আমাকেই দোষ দিবে।ভাবতে ভাবতে বিকেলের দিকে আবার কল সেই নম্বর থেকে। রিসিভ করেই বললাম,নোংড়া কথা বলবেন না।নোংড়া কথা বললেই আপনার নামে মামলা দিব। লোকটি থতোমতো খেয়ে বললো, দেখুন নম্বর টা আমাকে একজন দিয়েছে।

আমি: কে দিয়েছে?দেখুন সত্যি বলবেন না হলে সমস্যা নাই আমার ভাই ই পুলিশ সেই বের করবে।

-দেখুন আপু নম্বর টা ইকবাল আমায় দিয়েছে।।

আমি:কে?ইকবাল!আপনি জানেন ইকবাল আমার কে হয়?আপনি নিশ্চই আমার সাথে তামাশা করছেন?

-না আপু।আমি জানি ইকবাল এর সাথে আপনার সম্পর্ক চলছে।কিন্তু ও আপনার সাথে প্রেমের অভিনয় করে সেটা আপনি জানেন না।ও আপনার উপর বিরক্ত তাই আমায় আপনার নম্বর দিয়েছিল আপনার সাথে প্রেম করার জন্য।

কথাটা শুনে মনে হল আমি আকাশ থেকে পরলাম।আমার চোখ দিয়ে পানি ঝরতে লাগলো। ভালোবাসার মানুষ এর প্রতি এক সময় অন্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।আমার সেই অন্ধত্ব কাটিয়ে দিয়েছে তার বিশ্বাসঘাতকা। ইকবাল কে কল দিয়ে বলার ইচ্ছে হল মানুষ তো নিজের পোষা কুকুর কেও কাউকে দিয়ে দিতে খারাপ লাগে।আমিতো ভালোবাসার মানুষ ছিলাম। কিন্তু কথা বলতেও ঘৃনা লাগে।শুধু একটি মেসেজ দিলাম,ইকবাল একদিন তুমি এভাবে বিক্রি হবে। কারো উপর আস্থা রেখে তুমিও ঠকবে।সেদিন বুঝবে ঠকে যাওয়ার ব্যথার কাছে ঠকে যাওয়া আনন্দ কিছুনা।একদম ই কিছুনা। এর পর তিন মাস কোন যোগাযোগ হয়নি। ফোন নম্বর ও চেইঞ্জ করে ফেলেছি।মাঝে মাঝে ভাবি সম্পর্কটা হুট করেই হয়েছিল আবার হুট করেই শেষ হয়ে গেল।

২বছর আগে রং নম্বরে কল এসেছিল একদিন।অন্য কাউকে কল দিতে গিয়েই নাকি আসে।পরে কথা বাড়তে বাড়তে জানলাম আমাকেই কল দিয়েছিল।আমার বাবার ছাত্র ছিল ইকবাল।কথা থেকে প্রেম ভালো বন্ধু হই।ওর কথায় আমি মুগ্ধ হয়ে যাই। দেখা করবো দুজনে তা নিয়ে কত প্লান ছিল কিন্তু তা আর হয়ে ওঠে নি।আর হয়তো দেখাও হবেনা।হয়তো আমার মতন অনেক মেয়েকে ও ঠকিয়েছে এভাবেই।

মাঝে মাঝে ভাবি আমি হয়তো কোন পাপ করেছিলাম যার শাস্তি হিসেবে ইকবাল আমার লাইফে এসেছিল। পরীক্ষা শেষ হবার পরে খুব একাকিত্ব অনুভব করতাম।যে দিন টা শুরু হত ইকবাল এর কন্ঠ শুনে সে দিন এখন আমেজহীন ভাবেই চলে যাচ্ছে। খুব অনুতাপ হয় কেন আমি জড়ালাম ওর সাথে।কেন আমি ঠকে গেলাম। বারান্দায় দাড়িয়ে আছি। আকাশের রঙ টা কেমন যেন বহুরূপী। আগে আকাশ দেখলে মনে হত আকাশ ও খুশিতে চক চক করছে আজকাল আকাশ দেখলেই আমার মনে এক রাশ বিষন্নতা ভর করে।হঠাৎ এক বাচ্চা ছেলে বারান্দার সামনে এসে দাড়িয়ে বললো আপু এই কাগজ টা আপনারে একজন এ দিছে।নেন।

আমি: কে?

ছেলেটা পিছনে তাকিয়ে বলে ওইখানেই তো ছিল।আমি যাই কাগজ টা হাতে নিয়ে খুলে দেখি ভিতরে পেন্সিল দিয়ে লিখা,লুবনা জীবনে এই প্রথম চিঠি লিখছি।তাই কলম দিয়ে লিখার সাহস পেলাম না।ভুল হলে চট করেই মুছে ফেলতে পারবো তাই পেন্সিল নিলাম।জীবনের ভুলগুলি যদি এভাবে মুছে ফেলার একবার সুযোগ পেতাম চিঠিটা হাতে নিয়ে এদিক ওদিক তাকাচ্ছি।ইকবাল কে কখনো সামনাসামনি দেখা হয়নি।একবার ছবিতে দেখেছিলাম।ইন্টারনেট ভিত্তিক রঙিন প্রেম ছিলনা আমাদের।ভালোবেসে ফেলিছিলাম না দেখেই।কন্ঠের ভাজে ভাজে ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছিলাম।নিশ্বাসের পরতে পরতে ভালোবাসার উষ্ণতা অনুভব করেছি।দেখার আকাঙ্ক্ষা ছিল তীব্র তবে না দেখার অনুভব বেদনাদায়ক ছিলনা।প্রতিদিন ভাবতাম দেখা হবার দিন কি করবো!সেই ঘোরেই কেটে যেত বেলা।

অনুভূতি কাজ করতো কবে দেখা হবে!ভেবেছিলাম দেখা হবে,চোখে চোখ রাখা হবে,হাতে হাত কিন্তু তা হল কই!চোখের আড়াল এ ছিল অনেক অবহেলা।অনেক প্রতারণা তা ধরতে একটু দেড়ি হয়েছিল বৈকি। ঝরঝর করে বৃষ্টি নামলো।বারান্দার সামনাটায় পানির স্রত।চিঠির কাগজ দিয়ে নৌকো বানিয়ে ভাসিয়ে দিলাম সাথে ভাসিয়ে দিলাম মনে জমে থাকা আবেগ।এ মনে শুধুই ক্ষোভ পুষে রেখেছি।আবেগ এর জায়গা নেই। সকালে ঘুম ভেঙে বারান্দায় গিয়ে দেখি রঙিন কাগজের নৌকো। অবাক হলাম কিছুটা।নৌকো হাতে নিয়ে দেখি কাগজের গায়ে কিছু লেখা।খুলে দেখি আবার ও সেই পেন্সিল দিয়ে লিখা।বুঝে গিয়েছি আবার ইকবাল চিঠি দিয়েছে।

লুবনা জীবনে প্রথম দেয়া চিঠিটাই ভাসিয়ে দিলে এভাবে? লেখাটা পড়েই কেন যেন বুকের ভিতর ধক করে উঠলো।তার মানে ও আমায় অনেকক্ষণ যাবত দেখছিল! ফোনটা হাতে নিয়ে ওকে কল দিলাম।অচেনা নম্বর দেখে হয়তো চিনে নি তবে আমি রিসিভ করে বললো কে বলছেন? চেনা ভয়েস শুনে বুকের ভিতর জমানো অভিমান গুলো গলে গেল।মেয়েরা উপরে যতটা শক্ত থাকতে চায় ভিতরের নমনীয়তা তাদের হারিয়ে দেয় বার বার

:চিনবেন না।যাকে বিক্রি করে দিয়েছেন সেই আমি

ইকবাল: লুবনা তুমি?তুমি কল দিয়েছো?সিরিয়াসলি তুমি?

আমি: কি শুরু করেছো?বার বার চিঠি দিচ্ছো যে?আচ্ছা আমার বাবার হাতে পরলে কি হবে?

ইকবাল: নম্বর চেইঞ্জ করার পর একটি বার কল দেয়ার দরকার মনে করোনি তাইনা?

আমি হেসে বললাম বাহ ভালোই তো নাটক করতে পারো।তা নারী পাচারকারীরা অবশ্য নাটক করতে পারবেই এটাই স্বাভাবিক।

ইকবাল: নারী পাচারকারী?

আমি: হুম যে মেয়েদের সাথে প্রেমের নাটক করে তাকে বন্ধুর কাছে বিক্রি করে দেয় সে তা নয় তো কি? ইকবাল চুপ হয়ে আছে।

দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বললাম শোন,আর আমায় বিরক্ত করবেনা।

ইকবাল: লুবনা আমি মানছি আমি ভুল করেছি।কিন্তু বিলিভ মি,আমি ভুল বুঝছি।তুমি থাকার সময় আমি তোমার অস্তিত্ব বুঝতে পারিনি।তুমি কল দিলেও বিরক্ত লাগতো।তোমায় এভয়েড করতাম।কিন্তু তুমি চলে যাবার পর আমি বুঝেছি।আমার তোমার শূন্যতা অনুভব হয়েছিল।আমি মানছি আমি অনেক খারাপ ছিলাম।অনেক প্রেম করেছি।ঠকিয়েছি তবে তোমার সাথে পারছিনা।কেন পারছিনা জানিনা।উত্তর নেই।

আমি: বিরক্ত করোনা।বললাম তো আমার আর তোমার প্রতি কোন ইমোশন কাজ করেনা।

ইকবাল: প্লিস ক্ষমা করে দেও।খারাপ বন্ধুদের সাথে মিশে নোংড়া কাজ করেছি বহু।তবে কথা দিচ্ছি আর না।তুমি চাইলে আমি এখন ই বিয়ে করবো তোমায় আমি হেসে দিলাম

ইকবাল: হাসছো?

আমি: তো?হাসির কথা বললে হাসবোনা? পারলে বলে দেখাও।

ইকবাল: আচ্ছা বলে ফোন রেখে দিল।

জানি ও আর কল দিবেনা।সবাই মুখে বড় বড় কথা বলে।কাজের সময় সবাই পালায়। বিকালের দিকে ঘুমিয়ে আছি।ছোট ভাই এসে হাসি দিয়ে বলে আর ঘুমাতে হবেনা।বাবা ডাকছে। ঘুম চোখে ভাইয়ের হাসি দেখেই বুঝেছি এ হাসি সাধারণ হাসি না।এ হাসি ও প্রায় হাসে।বাচ্চা বয়স থেকেই আমার ভুল গুলি বাবার চোখে ধরিয়ে দিয়ে আমাকে বাবার কাছে বকা শোনানোর সময় এ হাসি দেয় আমার ভাই। আমি ভ্রু বাঁকিয়ে বললাম কি বলেছিস আবার আমার নামে?বাবা যদি বকাই দেয় দেখিস কি করি আমি। ভাই হি হি করে হেসে বলে বাবা আজ বকা দিবেনা মারবে তোকে।প্রেম করো তাইনা?প্রেম দেখাবে আজ ওর এ কথা শুনে পেটের ভিতর মোচর দিল।বাবার রাগি চোখ বার বার ভেসে উঠতে লাগলো।

৩ ধীর পায়ে বাবার কাছে গেলাম।বাবা পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে।বাবার এ বসার ভঙ্গি দেখেই বুঝে ফেলেছি সে রেগে আছে।তার কাছে গিয়ে মাথা নত হয়ে আছি। বাবা আমাকে দেখেই বলে যা শুনছি তা কি ঠিক? আমি চুপ করে আছি।

বাবা: কি হল?কি বললাম?

আমি : কি বাবা?

বাবা: শুনলাম তুমি নাকি কোন ছেলের সাথে কথা বলো?সেই ছেলের বোন আজ আমায় বিয়ের প্রপোজাল দিল।কত বড় সাহস হয়েছে তোমার আমি ভাবতে পারছিনা বাবার রাগ দেখে ঠক ঠক করে কাঁপছি। বাবা রাগলে মাও সামনে আসেনা।ভাইটা হেসে হেসে বাবার পাশে এসে বসলো। আমার মনে হচ্ছে আমি মুরগী হয়ে বাঘের সামনে দাড়িয়ে আছি আর শিয়াল(আমার ভাই) তা দেখে মজা পাচ্ছে

বাবা: লুবনা মাথায় চুন কালি না দিয়ে মন দিয়ে পড়। একমাত্র মেয়ে আমাদের তুমি।বিয়ের সময় হলে আমারাই ভাববো আমি মাথা নিচু করে কাঁদছি।

ভাই পাশে থেকে বললো আর কাঁদতে হবেনা।

বাবা: যা রুমে গিয়ে মাকে বল চা দিতে আমায়

রুমে চলে আসলাম।দরজা বন্ধ করে কাঁদছি। ইকবাল এক নাগারে কল দিয়েই যাচ্ছে। ও এভাবে বাবাকে বলবে বুঝতে পারিনি।যাই হোক,কথা শুনলে আমি ই শুনেছি ওর কি এসে যায়! ১দিন পর কল রিসিভ করলাম।এর মাঝে জমে গিয়েছিল অনেক মেসেজ আর কল।আমার শান্তি ই লাগছিল।কারন এক সময় আমি ই কল দিয়ে পাগল করে ফেলতাম।

-এতবার কল দেয়ার কি আছে?

ইকবাল: লুবনা রিসিভ করনা কেন?

আমি: এত সকালে উঠলে যে?

ইকবাল: ঘুমাইনি সারা রাত

আমি:কেন মেয়েদের সাথে কথা বলেছিলে? ইকবাল চুপ করে আছে। দেখো কথা বলার মাঝে চুপ করে থাকা আমি পছন্দ করিনা।

ইকবাল: সারারাত কল দিলাম রিসিভ করলেনা।পরে ফোন ই অফ করে দিলে।ভাবলাম ওপেন করবেনা আর।ট্রাই করেছিলাম সারারাত। আমি ওর এমন অসহায়ত্ব কথায় কিঞ্চিত দূর্বল অনুভব করলেও ধরা দেইনি।

আমি: বাবার কাছে বোনকে পাঠিয়েছিলে?কি সাহস তোমাদের?আচ্ছা বেকার মানুষ বিয়ে করে কি খাওয়াবে?তা ভেবেছো?

ইকবাল: চাকরি পেয়ে যাব। আগে তুমি পাশে থাকো

আমি: আচ্ছা হঠাৎ করে আমার পিছনে পরলে কেন!বেপার টা বুঝলাম না।

ইকবাল: মানুষ কখন কার উপর দূর্বল হয়ে পরে তা বুঝা মুসকিল।

আমি: আচ্ছা আমি যা বলবো তাই করবে?

ইকবাল: বলে দেখো

আমি: তোমার ফেবু আইডির পাসওয়ার্ড টা দিবা?

ইকবাল: কি করবে?আর তুমি তো ফেবু ইউজ করোনা

আমি: না করি,তোমার টা চাইলাম।দিবে না তাইনা?

ইকবাল:এটা দিলেই কি প্রুভ হবে আমি ভালোবাসি তোমায়?

আমি বলে দিলাম হুম। ইকবাল পাসওয়ার্ড দিয়ে দিল। নিজের কাছে অবাক লেগেছে খুব।চাইতেই দিয়ে দিল! আমি সারাদিন ওর আইডিতে চিরুনি তল্লাশি চালালাম।প্রায় ২বছর আগের ১টা কনভার্সেশন এর আমার চোখ পরে যায়। মেয়েটার নাম লিজা।তার সাথে ওর বহুত মেসেজিং।সব পড়ে বুঝতে পারলাম এক কালে ওরা রিলেশনশিপ এ ছিল।একটা মেসেজ এ এসে আমার চোখ আটকে যায়। চোখ জুড়ে জলকনা জমে জমে।মেসেজ টা পড়ে বুঝেছিলাম ওরা খুব ঘনিষ্ঠ ছিল।শুধু তাই নয় ওদের মাঝে শারীরির সম্পর্ক হয়েছিল।এক পর্যায় ব্রেকাপ হয়ে যায়।

যে ছেলে এত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে ভুলে যায় সে কি করে আমায় ভুলে যাবেনা? বুঝেছি আমি সব ই আমায় ফাদে ফেলা।আমার মনেও ধীরে ধীরে জমালাম ওকে শাস্তি দিব।এমন শাস্তি যা ও কখনো ভুলবেনা। আমি কথা চালিয়ে গেলাম।ওকে বলিনি আমি মেসেজ পড়ে নিয়েছি।আমার উদ্দেশ্য ছিল ওর সাথে কথা বলে ওকে আরো দূর্বল বানিয়ে বিয়ে করে নিব অন্য কাউকে।তখন বুঝবে ছেড়ে গেলে কেমন লাগে।

একে একে ২বছর হয়ে গেল।ইকবাল এমন হয়েছে এখন আমার হাতের মুঠোয়।আমি কাঁদলেও ওর কষ্ট হয় এমন।মাঝে মাঝে জানতে ইচ্ছে হয় কেন এতো মেয়েকে ঠকিয়ে ও আমার উপর দূর্বল হয়ে গিয়েছিল?কিন্তু সব প্রশ্নের তো উত্তর হয়না। সকালে ঘুম ভাঙলো ইকবাল এর কল পেয়ে। কন্ঠে ভাঙা ভাঙা পেয়েই বুঝেছি ও কাঁদছে।

আমি: কাঁদছো কেন?

ইকবাল:লুবনা আমার চাকরি হয়েছে।আমি জানি তুমি আমার জীবনে আসলেই লক্ষি। আমি হেসে বললাম তো এখন বিয়ে করে ফেলো কাউকে।

ইকবাল: মানে?তোমাকেই করবো মনে রেখো।

আমি: হুম ভালো।

ইকবাল: এখন একবার দেখা করবে আমার সাথে?

আমি: না

ইকবাল: কেন?

আমি: একেবারে বিয়ের দিন ই দেখবে।

এর পর ইকবাল প্রায় ই বিয়ের চাপ দিত।বাসা থেকেও বিয়ের কথা ভাবছে।বাবা আমায় অনার্স ভর্তি করাবেনা তা সত্ত্বেও আমি তাকে না জানিয়ে অনার্স ভর্তি হয়েছি। মা এসে বললো লুবনা বিকালে কোথাও যাস না।

আমি: কেন?

মা: তোকে দেখতে আসবে।

কথাটা শুনে আমার আনন্দ পাবার কথা ছিল।ইকবাল কে শিক্ষা দেয়ার সময় এসে গিয়েছে তা ভেবে অতি আনন্দ পাওয়ার ও কথা ছিল কিন্তু হতে পারছিনা। এর আগে বহুবার ইকবাল কে মিথ্যে পাত্র দেখতে আসার কথা বলে অনেক কষ্ট দিয়েছি।এখন আর বলবোনা একেবারে বিয়ের আগে বলবো। বিকেল এর শেষ ভাগে আমায় দেখতে এলো।ছোট ভাই অপু পেয়ারা খেতে খেতে এসে বললো আপু।

আমি: হুম

অপু: জামাইবাবুরে বলিস আমারে একটা বাইক যেন দেয়।

আমি: কোন ক্লাসে আছিস?

অপু: কেন এইট এ।

আমি: পেয়ারা চিবিয়ে খাবার মতন দাত উঠেছে সবে।খেলনা গাড়ি ছাড়লি কয়েকদিন আগে তারমানে কি বাইক ও চালাবি নাকি

অপু: তুই জানিস আমাদের সাথে কত মেয়ের বিয়েও হয়ে গেছে।আর আমি বাইক চালাতে পারবোনা।বাইক না দিলে কিন্তু বিয়ে দিবনা।এই বলে সরল ভঙ্গিতে পেয়ারা চিবুচ্ছে। আমি ওর দিকে তাকিয়ে আছি।বিয়েটা হয়ে গেলে আর ওকে বকা দেয়া হবেনা।আর পড়ার টেবিল এ অগোছলে রাখা বই য়ের জন্য ঝগড়া করা হবেনা।ভাবতেই কান্না পাচ্ছে।

পাত্র পক্ষের কাছে যেতেই বুঝতে পেরেছি তাদের আমাকে পছন্দ হয়েছে।আমি বুঝে ওঠার আগেই আমায় চেইন পরিয়ে দিল।আমার ভিতর থেকে হু হু করে কান্না বের হয়ে আসছে।চাপাতে পারছিনা কোন ভাবেই। রুমে শুয়ে কাঁদছি। বিয়েটা চেয়েছিলাম কিন্তু কেন কান্না পাচ্ছে জানিনা। অপু দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে। ওকে দেখে বললাম কিরে বাইক এর জন্য আসছিস?

অপু: আমি কি এত অবুজ।তারা তো চেইন দিল।বাইক কি এখন দিবে।ওতো বিয়ের পর।

আমি: তুই যা এখান দিয়া।

অপু: বিয়ের আগে কাঁদতে হয় নাকি?পছন্দ না হলে বাবাকে বল।

আমি: যাবি এখান দিয়া?

অপু চলে গেল। ইকবাল এর মাঝে কল দিল।রিসিভ করে হ্যালো বলার সাথে সাথেই জিজ্ঞেস করলো তুমি কাঁদছো যে?

আমি: কই?

ইকবাল: হুম কাঁদছো?কি হয়েছে?বাবা কিছু বলেছে?

আমি: না।

ইকবাল: তো?সত্য বলো

আমি: বিয়ে ঠিক হয়েছে আমার।ছেলে ব্যাংকার।তারা চেইন পরিয়ে গেছে। ইকবাল চুপ হয়ে আছে।

আমি: রাখলাম ফোন।আর কল দিবেনা

ইকবাল কেঁদে দিয়ে বললো তুমি কি চাও আমি আবার খারাপ হয়ে যাই? জানি তাতে কিছুই আসবে যাবেনা।কিন্তু আমি আর ভালো হতে পারবোনা এই বলে কাঁদতে লাগলো

আমি: মেয়েদের মতন কেদনাতো

এই বলে ফোন কেটে দিলাম। কাথামুরি দিয়ে শুয়ে কাঁদছি। আমি জানিনা প্রতিশোধ নিতে নিতে কখন যে ওর প্রতি দূর্বল হয়ে গেলাম।আমি কেন পারছিনা ওকে ছেড়ে দেবার চিন্তা করতে।

ইকবাল বার বার কল দিয়ে পাগল করে ফেলছে।বার বার বলছে চলো পালিয়ে যাই। কিন্তু তা তো পসিবল না।যার সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে সে ইদানীং কল দিয়ে কথা বলতে চায়।কিন্তু তার সাথে কথা বলতে আমার নিজেকে দোষী লাগে নিজের কাছে।কথা বলিনা বললেও খুব খারাপ আচরণ করি।বিয়ের আগে এতো কথা বলা উচিৎ না এই বলে রেখে দেই।আমার কেবল ইকবালের সাথেই কথা বলতে ভালো লাগতো।আমি বুঝে গিয়েছিলাম ওকে আঘাত দেয়ার চিন্তা করে আমি কাছে এনেছিলাম।ভেবেছিলাম কাছে এনে অনেক দূরে ঠেলে দিব।কিন্তু আনতে আনতে এতই কাছে এনে ফেলেছি যেখান থেকে দূরে ঠেলে দেয়া সম্ভব নয়।

মাঝে মাঝে মনে হয় একবার যদি চাঁদ ছুতে পারতাল তাহলে আর ছুতে চাইতাম না।কিন্তু হয়তো ছোয়ার পর বার বার ছুয়ে দেখার লোভ জাগতো তাই ছুঁয়ে ফেলা এত সহজ না। বাবার ভয়েও বলতে পারছিনা এ বিয়ে করতে চাইনা।কাউকেই মনের কথা বলতে পারছিনা।নিজের মনকেও বললে মন বার বার মনে করিয়ে দেয় তুমি প্রতিশোধ নিবেনা। ইকবাল কে কল দিয়ে বললাম অনেকদিন ধরে তোমায় সত্য কথা বলতে চাচ্ছি বলা হয়ে উঠছেনা। ইকবাল ঘাবড়ে যাবার মতন অবস্থা করে বলছে কি হয়েছে?তুমি বিয়ে করে ফেলেছো তাইনা লুবনা?বাহ খুব ভালো।

আমি : কথা শেষ করতে দেও।তুমি জানোনা আমার এক পা একদম ই অচল।

ইকবাল: মানে?

আমি: একবার এক্সিডেন্ট করে ডান পা অচল হয়ে গেছে।তাই আমি দেখা করিনি তোমার সাথে।তুমি ভুলে যাও আমায়।অকারনে এক পঙ্গু মেয়ের বোঝা কি করে নিবে তুমি? ইকবাল উঠেই বললো জানি তুমি চাও ভুলে যাই যাতে তাকে বিয়ে করতে পারো।

আমি: বিলিভ হয়না আমি পঙ্গু?

ইকবাল: তুমি পঙ্গু অন্ধ যা ইচ্ছে তাই হও আমি ভালোবাসি আর বাসবো ও।বিয়ে আজ করতে রাজি হলে আজ ই হবো আমি মাঝে মাঝে ভাবি জানো আমার উচিৎ না এত দূর্বল হওয়া।মাঝে মাঝে নিজেকেই নিজের কাছে হাস্যকর লাগে।যে ইকবাল এত আবেগহীন ছিল সে কি করে এক মেয়ের কথার উপর এতো ঘায়েল হয়ে যেতে পারে।তুমি বলো কবে বিয়ে করতে চাও?

আমি: তোমার পরিবারের মানুষ কি রাজি হবে?

ইকবাল: তা আমার দায়িত্ব।

দিনে দিনে বাবা বিয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।কিভাবে আমি বিয়ে ভাঙার কথা বলি বুঝছিনা। ছোট ভাইকে সব বললাম।জানি ও উপকার করবেনা তাও বললাম।বুকের ভিতর আটকে রাখা যায়না। হঠাৎ মা বললো বাবা ডাকছে।এমন ডাক আসলেই শরীর শিতল হয়ে যায়।

আমি: বাবা ডাকছিলে?

বাবা: পাশে এসে বসো। আজ মাকেও দেখছি পাশে।তার মানে বাবা বকবেনা ভাই আমার পাশে এসে বসলো।

বাবা: শুনলাম এই ছেলেকে পছন্দ না। আমি চুপ হয়ে আছি

বাবা: তা আগে কেন বলনি?এতদিন হয়ে গেল।

ভাই উঠে বললো বাবা ও ভয়ে বলেনি।বিয়ের পর যদি পালিয়ে যায় তখন মান সম্মান থাকবে? আমি অপুর দিকে রাগি ভাবে তাকালাম ও চোখ টিপ দিয়ে আমায় আস্থা দিল আরে দেখ কি করি।

বাবা: তা ওই ছেলে কি করে?

আমি: কোন ছেলে?

বাবা: এখন চিননা।

অপু: আরে ইকবাল

আমি: কম্পানিতে জব করছে

বাবা: ব্যাংকার রেখে ওর কাছে দিব মেয়ে বিয়ে?

মা: আহা তুমি দুজন কে কমপেয়ার কেন করছো?লুবনার সুখে থাকার প্রশ্ন। বাবা চুপ করে আছে।চিন্তিত দেখাচ্ছে খুব। আমি ভয়ে ভয়ে বললাম বাবা তুমি যদি বারণ করো তাহলে থাক।

বাবা: হয়েছে আর পাক্নামি করতে হবেনা যাও রুমে যাও।

আমি উঠে যেতে নিলাম।বাবা আমায় ডাক দিয়ে বললো চেইন টা খুলে আমায় দিও কাল তাদের দিয়ে আসবো। আমি হাসি দিয়ে বললাম ওটা সেদিন ই মাকে দিয়েছি।মায়ের কাছ দিয়ে নিও। বাবা রাগী চোখে মায়ের দিকে তাকালো।মা মাথা নিচু করে আছে। সারারাত ইকবাল কে কিছু বলিনি।বাবা সকাল নাগাত এসে বললো তাকে বলবা বিয়ে করতে হলে একত্রেই করে রাখবে।পাকা কথা বলার দিন ই।পরে উঠিয়ে নেক কিন্তু আর আলাদা চেইন পরানোর বিষয় থাকবেনা। ইকবাল কে বলা মাত্র সে খুব খুশি এত খুশি আগে আমি ওকে হতে দেখিনি।ওর ফ্যামিলি আমাদের পরিবার এর মতন স্বচ্ছল ছিলনা তাই তারা আর অমত করেনি।আমার পায়ে প্রব্লেম জেনেও রাজি হয়েছে। শুক্রবার সবাই এসেছে।আমি সেজেগুজে বসে আছি।ভয় লাগছে আজ ইকবাল কে প্রথম সামনাসামনি দেখবো।কিভাবে তাকাবো ওর দিকে।ভয়ে ঘামছি।বান্ধবীরা বার বার বলছে এই সাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তো। এর মাঝেই মা বললো আমায় নিয়ে সামনে যেতে তারা অপেক্ষা করছে।

গিয়ে চুপ করে মাথা নিচু করে বসে আছি।মনের ভিতর জমা প্রতিশোধ এর আগুন নিভে কবে ভালোবাসার ঘ্রান হয়ে গিয়েছে টের ই পাইনি।এতো মানুষ এর চোখ আমার দিকে তার ভিতর বার বার এক জোড়া চোখ আমায় আকর্ষন করছে।এক পলক তাকাতেই ওর চোখ আমার চোখে পরলো।ও মুহূর্তেই নিচে তাকিয়ে হাসছে।এ হাসি কত মধুর তা আমার মন প্রান শিতল করে দিচ্ছে। বিয়ের কাজ সম্পন্ন হবার পর আমি আর ইকবাল মুখোমুখি বসে আছি। ও কথা বলছেনা। আমি বার বার কাশি দিচ্ছি।

ইকবাল: পানি খাবে? আমি মাথা নাড়িয়ে বললাম না।

ইকবাল: তুমি কিন্তু আসলেই অনেক সুন্দর।তোমার ভয়েস এর চেয়েও। আমি কিছু বলতে পারছিনা।

ইকবাল: আমায় আজ কেমন লাগছে?

আমি: জানিনা।

আমি ভিতরে যাব।এই বলে উঠতে নিলাম। ও আমার হাত ধরে বললো আরে পায়ে ব্যথা পাবে তো। দেখি দেখি কোন পায়ে ব্যথা এই বলে আমার পায়ের কাছে বসলো আমার খুব সংকোচ হচ্ছে।এর মাঝেই অপু চলে এলো রুমে এ অবস্থায় দেখেই ও বলে জামাইবাবু বিয়ে করতে না করতেই আপু পা টিপাচ্ছে?

আমি: এই পাজি।যা এখান থেকে

ইকবাল: না ভাইয়া ওর যে পায়ে প্রব্লেম তা দেখছি।

অপুকে ইশারা দেয়ার আগেই ও বললো প্রব্লেম?আমার জানা মতে তেমন প্রব্লেম নাই।একবার পেয়ারা গাছ দিয়ে পরে খানিক ব্যথা পাইছিল তাও অনেক আগে।আরে সেদিন ও ফুটবল খেলা দেখে ঘুমালো।ঘুমের মাঝে আমায় ফুটবল ভেবে কি জোরে লাথি দিল জানেন? ইকবাল হাসছে। আমি লজ্জায় লাল হচ্ছি। ভাই যাবার আগে কানে কানে বলে গেল শোন এবার আর বাইক এ হবেনা।দু চাক্কায় আমি নাই।চার চাক্কা লাগবে।বাস টাস না প্রাইভেট কার এইবার আমাদের ক্লাসের যে মেয়েদের বিয়ে হল তারা নাকি মাও হয়ে গেছে।আমি গাড়ি না চালালে এখনো আমার মান ইজ্জত থাকবেনা

আমি: যাবি এখান দিয়া?

ও চলে গেল।

ইকবাল: এত বড় মিথ্যে কেন বললে?

আমি:.ওমন তুমিও বলেছো অনেক।

ইকবাল: তো আমি তো লুলা মেয়েকে বিয়ে করেছি।হুইল চেয়ার ও কিনেছিলাম।ওটা কি করবো?এখন পিটিয়ে পা ভেঙে দেই।

আমি আতংক নিয়ে ইকবালের দিকে তাকালাম। ইকবাল হো হো করে হেসে আমার ছবি তুললো। আমার পাশে এসে ছবি দেখাচ্ছে আর বলছে দেখো কেমন লাগছিল তোমায়?ভয় পেলে কেমন লাগে দেখতে? আমি ছবি দেখছিনা।দেখছি ইকবাল কে। কত কাছে ও আমার।একটি ক্ষমা মানুষ কে কত বদলে দেয়।কত কাছে এনে দেয়।কি।অদ্ভুত সুন্দর ওর হাসি।আর দেখার কপাল আমার হয়েছে।এ হাসি অনন্তকাল দেখতে চাই।এ হাসিতে ভুলে যাওয়া যায় অতীত এর সব অভিমান আর অবহেলা।

পরিশিষ্ট ১: বিয়ের রাতে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে মেয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করেছিলে তাকে ভুললে কি করে?

ও বলেছিল প্রেম আমি অনেক মেয়ের সাথে করেছি।তার ভিতর বেশিরভাগ মেয়েই আমায় ছেড়েছে।ওই ১টা মেয়ের সাথে আমি খুব ক্লোজ হই।তবে তা ওর ইচ্ছাতেই।তার কয়েকদিন এর মাথায় ও আমায় ছেড়ে যায়। আমি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করিনি।তখন আমার মানুষিকতা ছিল থাকলে থাকবে গেলে যাও এমন।কিছুদিন পর জানি সে নতুন রিলেশনশিপ এ গিয়েছে এবং তার সাথে যোগাযোগ আমার আগেই।তার সাথেও তার ফিজিকাল হয়েছে।আমি তখন অনেক টা রাগে ক্ষোভে অনেক মেয়েদের সাথে ফোনে কথা বলতাম।রঙ নম্বরে কল দিয়ে কথা বলতে বলতে তোমায় পেয়ে যাই। ভেবেছিলাম তুমিও ওর মতন ই তাই বেশি অবহেলা করতাম।ওই মেয়ে পরে আবার ফিরে আসতে চেয়েছিল।আমি আনিনি। আমি তোমার মতন উদার নই লুবনা।সব কিছু ক্ষমা আমি করতে জানিনা হয়তো শিখিনি।

পরিশিষ্ট ২:বিয়ের তিন বছর পর বিছানার উপর ঘুমের ভান করে শুয়ে আছি।ইকবাল এসে বললো এই মশারী টানাবেনা? লুবনা কি হলো?

আমি: আজ তোমার টানানোর কথা।

ইকবাল: কাল আমি টানালাম

আমি: কই?আমি ভুলে গেছি।আজ নতুন থেকে আবার শুরু

ইকবাল: টানাবোই না যাও। দেখি রাতে মশার কামড় খেয়ে কে উঠে।

আমি: বুইঝো কিন্তু?কাল তাইলে রান্না করবা তুমি ইকবাল রাগে ফোসফোস করে মশারী টানাচ্ছে আর বলছে কখনো ক্ষমা করবোনা বেহেস্ত ও পাবানা আমার মন না পাইলে।

আমি: অতীতে যে ক্ষমা করেছি তা আগে শোধ হোক

ইকবাল সাথে সাথে আমার কাছে বসে মুখে হাত দিয়ে বললো প্লিস অতীত মনে করিয়োনা।আমি আসলেই ওই দিনগুলির জন্য অনুতপ্ত। নিজেকেই বাজে লাগে নিজের কাছে।ওগুলো ভাবলেও মরে যেতে মন চায়। আমি ওর বুকে মাথা রেখে বললাম কিছু ভুল না থাকলে আমরা ভালো হবার চেষ্টা করবো কিভাবে?আর বলবোনা কখনো বলবোনা।অতীত হলো পেন্সিলের কালির মতন আর বর্তমান হলো ইরেজার যা দিয়ে আমি সব মুছে দিয়েছি একদম সব।

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
দু:খদায়ক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত