ভুল

ভুল

সাইফকে পতিতালয় দেখে চমকে যায় নীরা। এটা কি চোখের ভুল। না এটা হতে পারে না। “এ তো সেই চিরচেনা মুখ। ওর পড়নে আমার দেওয়া নীল শার্টটা। কিন্তু ও এখানে কেন। আমিতো ওকে কোনো দিক দিয়ে অপূর্ণ রাখিনি। ওতো আমাকে নিয়ে কোনো অভিযোগও করেনি কখনো। সাইফতো বলে, ও নাকি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। আর আজ এই লোকটাই আমাকে ঠকাচ্ছে। ” এ কথাগুলো ভাবছে,আর পতিতালয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সাইফের থেকে কিছুটা দূরে দাড়িয়ে অাছে নীরা। রাত হওয়ার কারণে সাইফ নীরাকে দেখতে পায়নি। সাইফ একটু সামনে এগিয়ে যাওয়ার পর,একজন মহিলা এসে বলল,

— আজ দেরী হল কেন?
— জ্যাম একটু বেশি ছিল। তাই আসতে দেরী হয়ে গেছে।
— নিলুফাতো অস্থির হয়ে গেছে,আজ তুমি আসতে দেরী করাতে। তোমার ফোনটাও বন্ধ। সেই কখন থেকেই কান্না করছে। ও ভাবছে তোমার বউ বুঝি জেনে গেছে।
— ফোনে চার্জ নেই। আর আমার বউ নীরা কখনোই জানবে না।
— না জানলেই ভালো। ভিতরে চলো এখন।

কথাগুলো বলতে বলতে ভিতরে চলে গেল সাইফ আর মহিলাটি। আর নীরা নিশ্চুপ হয়ে দাড়িয়ে আছে। বাসায় ফিরে একা একা বসে কাঁদতেছে,আর ভাবছে, ” এ জন্যই ও প্রতি রাতে দেরী করে বাসায় ফিরে।আর যখন আমি জিজ্ঞাসা করি,ও বলে কাজের চাপ বেশি,রাস্তায় অনেক জ্যাম। ওতো ইদানিং আসাকে সময়ই দেয় না। আর দিবেই কেন,কতো নিলুফা ওর পথ চেয়ে বসে থাকে। আসলে সব ছেলেরাই এক। আমি ভাবছি সাইফ বাজে ছেলেদের মতো না, সবার থেকে ভিন্ন। না, ও আরো নিকৃষ্ট। যে নিজের বউ থাকা সত্ত্বেও পতিতাদের কাছে যায়। সে তো সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানব।

সাইফের সাথে আমার পরিচয় হয় ভার্সিটি লাইফে। আমি বিশিষ্ট শিল্পপতি আশরাফ চৌধুরির একমাত্র কন্যা। দেখতেও সুন্দরী। অনেক ছেলেই বিয়ের প্রস্তাব দিত। কিন্তু আমি সবাইকেই রিজেক্ট করতাম। কারণ আমি দেখেছি আমার বান্ধবীদের প্রেমে কতো ছেলে হাবুডুবু খেয়ে মরে যাচ্ছে। আর আমার বান্ধবীরা তাদের প্রেমে ধরা দেওয়ার পর,তার তাদের ইচ্ছা পূরণ করে চলে যেত। আমার এক বান্ধবীতো সুইসাইডও করে। এতো ছেলেদের ভীড়ে আমার মন সবসময় সাইফের জন্য ব্যাকুল থাকতো। সাইফকে আমিই প্রথম ভালবাসার প্রস্তাব দেই। সে প্রথমে রিজেক্ট করলেও আমার পাগলামির কাছে হার মানে। বাবা আমাদের এ সম্পর্ক মেনে নেয়নি। তাই আমি তাদের ছেড়ে সাইফের কাছে চলে আসি। কারণ আমি জানতাম সাইফ কখনো আমাকে ঠকাবে না। আর সে সাইফ আজ…

ভাবতে ভাবতেই কলিংবেল বেঁজে ওঠল।দরজা খুলতে ইচ্ছা করছে না। অনিচ্ছা সত্ত্বেও গিয়ে দরজা খুলল। সাইফকে দেখেই কেমন যেন ঘৃনা হচ্ছে নীরার। নীরা দেখল সাইফের শার্ট ভেজা। শার্টের কোথাও কোথাও লিপস্টিকের দাগ। কোনো কথা না বলেই এসে টেবিলে খাবার দিল। সাইফ নীরাকে বলল,

— শরীর খারাপ নাকি?
— না
— তুমি খাবে না.?
— না,খেয়েছি আমি।

সাইফ একা একাই খাবার খেয়ে নিল। তারপর নীরাকে বলে ঘুমাতে চলে গেল। “ও কি করে ভাবল আমি ওকে ছাড়া খাবার খাব। কখনো কি খেয়েছি আমি। কতো পরিবর্তন। সত্যিই আমাকে আর প্রয়োজন নেই। এসব ভাবতে ভাবতেই খাবার টেবিলে ঘুমিয়ে পড়ল। মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল। নীরা শুনতে পেল সাইফ কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছে। ও ধীরে ধীরে রুমের দিকে এগিয়ে গেল। দরজার কাছে গিয়ে শুনতে পেল,সাইফ বলছে,, “আমার আজকে তোমাকে ছেড়ে আসতে ইচ্ছা হয়নি। তোমার শরীর ভালো না। কিন্তু কি করব,বাসায় নীরা একা। ও আবার কি ভাববে? তাই চলে আসছি আমার খুব চিন্তা হচ্ছে। নিজের খেয়াল রেখ। আমারও ঘুম আসছে না।

ওদের কথাগুলো আর শুনতে ইচ্ছা হল না। মাথাটা কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে। ও গিয়ে আবার টেবিলে মাথা গুজেঁ রইল। এতক্ষণে সাইফের খেঁয়াল হল,নীরা রুমে নেই।ও লাইট জ্বালিয়ে দেখল,নীরা খাবার টেবিলেই ঘুমিয়ে আছে। ও নীরাকে কোলে করে বিছানায় নিয়ে শোয়ায়ে দিল। নীরার ইচ্ছা হচ্ছিল ওকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে। কিন্তু কিছুই বলল না।

পরদিন নীরার ঘুম ভাঙল অনেক দেরীতে। ঘুম থেকে উঠে দেখে সাইফ বাসায় নেই। সারা ঘর খুঁজে না পেয়ে মন খারাপ করে বসে রইল। হঠাৎ ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখল এগারোটা বাজে। ওহ তাহলে সাইফ অফিসে চলে গেছে। ও না খেয়েই চলে গেল। ভাবতেই খুব খারাপ লাগছিল নীরার। কলিংবেলের শব্দে ঘোর কাটল নীরার। দারোয়ান কিছু খাবার দিয়ে বলল,

— স্যার কইছে আপনারে খাবার কিনে দিতে। আর আপনার ফোনে নাকি কল দেয়,আপনি রিসিভ করেন না। আপনার শরীর খারাপ কি না স্যার জানতে কইছে।
— না, কিছু হয়নি। ঘুম থেকে দেরীতে জাগছি।

রুমে গিয়ে দেখে ৩০+ কল। নীরা ভাবল সাইফকে কল দিবে। কিন্তু পরক্ষণেই গতকালের কথা মনে পড়তেই,ওর প্রতি খুব ঘৃনা হল। সারাদিন ঘুমিয়েই কাটিয়েছে নীরা। বিকালে ঘুম ভাঙ্গল নীরার কলিংবেলের শব্দে। দরজা খুলে দেখে সাইফ দাড়িয়ে। নীরাকে সাইফ বলল,

— কি ব্যাপার!! কতোগুলো কল দিয়েছি দেখছ? একবারও রেসপন্স করলানা। শরীর খারাপ নাকি? বলে হাতটা নীরার কপালে রাখতেই হাতটা সরিয়ে দিল নীরা। ও সাইফকে বলল,
— আজ এতো তাড়াতাড়ি ফিরলে কেন?
— এমনিতেই, তুমি কল রিসিভ করছ না, ভাবলাম কি হল!!

রাতে নীরা ঘুমিয়ে আছে। সাইফের ঘুম আসছে না।বাহিরে চাঁদের মিষ্টি আলো, হালকা বাতাস। এমন সুন্দর একটা পরিবেশ নীরাকে ছাড়া উপভোগ করতে ভালো লাগছে না সাইফের। কিন্তু জাগাতেও ইচ্ছে করছে না। এমনিতেই অসুস্থ নীরা,ওর অনাগত সন্তানের মা।

সাইফ ভাবতে লাগল, কি পেয়েছে মেয়েটা আমার কাছে এসে। বড়লোক বাবার সন্তান। পরিবারকে ছেড়ে আমার হাত ধরে চলে এসেছে। যদিও এখন অনেকটা মেনে নিয়েছে ওর পরিবার। ও গর্ব করে বলেছিল ওর বাবাকে,সাইফ কখনো আমাকে ছেড়ে যাবে না। আসলেই কি ওর বিশ্বাসের মূল্য দিতে পারব,পারব কি সারাজীবন ওর হাত ধরে থাকতে?? ভাবতে ভাবতে নীরার কাছে চলে গেল। নীরাকে ঘুম থেকে ডেকে উঠাল,যদিও নীরা ঘুমের ভান করেই শুয়ে ছিল। নীরা বিরক্তি ভাব নিয়ে বলল,

— এতো রাতে কি হয়েছে?
— একটু বারান্দায় আসো।

অনেকক্ষণ বারান্দায় বসে রইল সাইফ আর নীরা। নীরা তাকিয়ে আছে বাহিরের দিকে,আর ভাবছে, চাঁদটা কতো সুন্দর, যদি আমার জীবনটাও এমন সুন্দর হতো!! সাইফ নীরার কাঁধে মাথা রেখে বলল,

— দেখ চাঁদটা কতো সুন্দর। কিন্তু আমার চাঁদ আরো সুন্দর। — হ্যা, তোমার চাঁদ হয়তো আরো সুন্দর। তা এতো রাতে ডেকে আনলে কেন?
— দেখ কি সুন্দর চাঁদের আলো,ঠান্ডা হাওয়া, গন্ধরাজ ফুলের সুভাস। মাতাল হয়ে যাওয়ার মতো একটা পরিবেশ। তাই তোমাকে ডেকে আনলাম। যদি আর কখনো এভাবে তোমার সাথে সময় কাটাতে না পারি।
— কেন, আমার জীবন থেকে চলে যাবে নাকি।
— যেতেও পারি। চলো অনেক রাত হয়েছে, ঘুমাবো।

সাইফ এসে ঘুমিয়ে পড়লেও, নীরা জেগেই রইল। সত্যিই কি ও আমাকে ছেড়ে চলে যাবে। না এটা হতে পারে না। হয়তো আমি এখন আর পরিপাটি থাকতে পারি না আগের মতো। কাল থেকে আমি সেজেগুজে থাকব। পার্লারে যাব। এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ল নীরা।

সকালে সাইফ চলে যাওয়ার পর নীরাও বেরিয়ে পড়ল। পার্লার থেকে খুব সুন্দর করে সাজল। তারপর চলে গেল সাইফের অফিসে। কিন্তু গিয়ে দেখে সাইফ অফিসে নেই। তার কলিগদের কাছ থেকে জানতে পারল,গতকালও সাইফ অফিসে যায়নি। নীরা সাইফকে কল দিল,

— কোথায় তুমি?
— অফিসে।

আর কিছু না বলেই কল কেটে দিল। বাসায় এসে খুব কাঁদল নীরা। যাকে এতো বিশ্বাস করছে,যার জন্য পরিবারের সবাইকে ছেড়ে চলে এসেছে। সে আজ এভাবে ঠকাচ্ছে। আসলে সব ছেলেরাই এক। অনেক রাতে সাইফ বাসায় ফিরল। সাইফকে খুব বিষন্ন দেখাচ্ছিল। ও নীরাকে বলল,

– নীরা আমার কিছু টাকার প্রয়োজন। দিতে পারবা?
— কেন?
— কিছু কিছু জিনিস না জানলেও হবে। প্লিজ কিছু টাকা তোমার বাবার কাছ থেকে এনে দাও। আমি পরে পরিশোধ করে দিব।
— চুপ করো। ছোটলোক কোথাকার। তোমাকে বিয়ে করাটাই আমার ভুল হয়েছে। বাবা ঠিকই বলেছে। তুমি আমাকে টাকার জন্য বিয়ে করেছ।

তুমি ভাবছ আমি কিছুই জানি না। প্রতিদিন পতিতালয়ে যাও। গত দুইদিন অফিসেও যাওনি। আমাকে এখন আর প্রয়োজন নেই। এখন আমার থেকে টাকা নিয়ে,মেয়েদের নিয়ে ফুর্তি করবে। চরিত্রহীন কোথাকার। ইচ্ছা করছে,পেটের অনাগত সন্তানকে মেরে ফেলি। চরিত্রহীন বাবার সন্তানেও সেরকমই হবে। সাইফের ইচ্ছা করছিল,নীরাকে একটা থাপ্পর মারতে। কিন্তু কিছুই করল না। শুধু নীরাকে বলল,টাকা দিবা না ঠিক আছে। তবে কারো সম্পর্কে না জেনে বাজে মন্তব্য করা ঠিক না। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না। কারন অনেক ভালবাসি তোমাকে।

নীরা রাগে ফুসছে আর বলছে, তোমার ওই নোংরা মুখে ভালবাসার কথা বলবে না। আমি কালই তোমাকে ছেড়ে চলে যাব। ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিবে। নতুন কাউকে নিয়ে ভালো থেকো। বলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল নীরা। আজ একমাস হয়ে গেল নীরা সাইফকে ছেড়ে চলে এসেছে। প্রতিমুহূর্ত নীরা অপেক্ষা করছে সাইফের জন্য। ও ভাবতো,সাইফ ওকে নিতে আসবে। কিন্তু ও আসেনি। নীরার মা এসে একটা কাগজ দিয়ে বলল,নীরার নামে নাকি কাগজ এসেছে। সাইফ পাঠিয়েছে। নীরা কাগজটা দেখেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল। সত্যিই ও ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছে। নতুন কাউকে নিয়ে ও সংসার করবে। কি করে পারল ও। একবারও ওর অনাগত সন্তানের কথা ভাবল না। কাঁপা কাঁপা হাতে কাগজটা খুলে দেখে,তার পরিচিত হাতের লেখা চিঠি।

প্রিয় মায়াবতী,
তোমাকে কতোটা ভালবাসি তা প্রকাশ করা যাবে না। এখনো তোমাকে ঠিক আগের মতোই ভালবাসি।

আমার বাবা ছিল নেশাখোর। আমার জন্মের পর বাবা নেশার টাকার জন্য আমার মাকে পতিতালয় বিক্রি করে দেয়। সেখানেই বেড়ে উঠি আমি। আমার মা চেয়েছিল ওখান থেকে চল আসতে। দেয়নি ওরা। আমার মা শিক্ষিত ছিল। তাই উনি আমাকে ভিন্ন জায়গায় রেখে পড়ালেখা চালিয়ে যান। মাকে কথা দিয়েছিলাম,ভালো চাকরি করে, ওদেরকে টাকা দিয়ে মাকে ওই নরক থেকে বের করে আনব। কিন্তু চাকরি করতে না করতেই তোমাকে বিয়ে করি। কারণ তা না হলে তুমি অন্য কারো হয়ে যেতে। এর মধ্য মা অনেক অসুস্থ হয়ে যায়। তখন আমার একটা কিডনি বিক্রি করে মায়ের চিকিৎসা করাই। মা এখন আরো অসুস্থ হয়ে গেছে। মা সেদিন কেঁদে কেঁদে বলল,জীবনের শেষ সময়টা আমার সাথে থাকতে চায়। তাই তোমার কাছে টাকা চেয়েছি। তুমি দাওনি। অফিসে ঠিকমতো কাজ করিনি বলে চাকরিটাও চলে গেছে। তাই বাকি কিডনিটা বিক্রি করে মাকে ওই নরক থেকে মুক্ত করেছি। তবে মায়ের আশা হয়তো পূর্ণ হবে না। আমাকে হয়তো এ দুনিয়ার মায়া কাটিয়ে চলে যেতে হবে।

তোমাকে আমি বিষয়টা বলিনি,কারণ আমি ভাবছি তুমি এটা জানতে পারলে আসাকে ছেড়ে চলে যাবে। কিন্তু কি লাভ হল। সেই তুমি তো চলেই গেলে। ইচ্ছা হলে শেষবারের মতো আমাকে দেখতে এসো। আর আমার সন্তানের খেয়াল রেখ।

ইতি
তোমার ভালবাসা

চিঠিটা পড়ে পাগলের মতো ছুটতে ছুটতে বাসায় চলে গেল। গিয়ে দেখে বাসায় সাইফ নেই। এক লোক বলল,সাইফকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। নীরা চলে গেল সেখানে। গিয়ে দেখে মৃতপ্রায় সাইফ শুয়ে আছে। দৌড়ে গিয়ে হাত ধরল সাইফের। চিৎকার করে বলতে লাগল, সাইফ আমার ভুল হয়ে গেছে। আমার ভুলের মাশুল তুমি কেন দিবে। আমার ভুলের প্রায়শ্চিত্ত আমাকেই করতে দাও। খুব ভুল করে ফেলেছি। না বুঝে তোমার সাথে অন্যায় করেছি। তুমি আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবে না।

সাইফ নীরার হাত ধরে বলল, কথা দিয়েছিলাম তোমায় মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত তোমার হাত ধরে রাখব। আমি আমার কথা রেখেছি। ওই যে দেখ আমার অভাগীনী মা। পারলে আমার মাকে দেখে রেখ। আমার সন্তানকে আগলে রেখ। নিজের খেয়াল রেখ। মৃত্যুর সময়,তুমি আছ,মা আছে। কতো সুখী আমি। কিছুক্ষণের মধ্যই সাইফ চলে গেল অজানার দেশে।

গল্পের বিষয়:
দু:খদায়ক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত