কষ্টময় জিবন

কষ্টময় জিবন

জীবন টাকে সবাই রাঙাতে চায়। কেউ পারে কেউ পারে না। তাই বলে কারো জিবন থমকে থাকে না!! সময়ের স্রোতের মত চলতে থাকে।
কিন্তু পার্থক্য একটাই সেটা হলো সময়ের স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না? আর মানুষের জীবন টা কারো কারো অপেক্ষায় করে থমকে যায়। সত্যি বলতে আমাদের এ সমাজে বা দেশে কেউ খারাপ হতে চায় না। কেউ নিজে থেকে নিকোটিনকে বেছে নেয় না?
আমাদের পরিবেশ বা পরিস্তি তাকে বাদ্দ্ করে নেশার জগৎ পা দিতে। তেমনি একটি ছেলে যে কখনো নিকোটিনের ধোয়া সইতে পারতো না। এক কথায় বলা যায় নেশার জগৎ থেকে অনেক দূরে। সারাক্ষণ শুধু পড়া শোনা আর মনে একতাই ভাবনা জিবনে ভাল কিছু করবে।
ছেলেটা নিজে নেশার জগৎ থাকে বিরত থাকে এবং অন্যকে বিরত থাকতে বলে। কিন্তু সেই ছেলেটাই এলাকাতে নাম করা নেশাখোর।
কি? এমন হলো ছেলেটার জিবনে যে নিকোটিনকে বেছে নিলো।পা দিলো অন্ধকার জগৎ এ।
কি? জানতে চাইবেন না কারন টা!!!!!!!!!!!…………….

তাহলে শুনুন ছেলেটার জিবনের গল্পটা… গল্পের ছেলেটার নাম আদর আর মেয়েটার নাম কল্পনা তাহলে শুরু করা যাক.

একটা গরিব পরিবার এতটাই গরিব যে দুবেলা দুমুঠো খেতেও পায় না?
অনেক কষ্টেসৃষ্টে দিন কাটে তাদের। তাদের পরিবারে মোট ৫ টি ছেলে।এভাবে কয়েক বছর পর তাদের পরিবারের বড় সন্তান বিয়ের উপযুক্ত হয়।তাই তারা মেয়ে দেখা শুরু করে। কয়েকদিনের মধ্যে বিয়ে পাকাপাকি হয়ে যায় এবং বিয়ে হয়ে যায়। বিবাহের কয়েক মাস পর তারা তাদের বাবা _মাকে ছেড়ে আলাদা হয়।এতে তাদের বাবা_ মা অনেক কষ্ট পায়। তবুও তারা মেনে নেয় কারন তারা জানে জোড় করে সবকিছু পাওয়া গেলেও শুখ বা মানুষের মন পাওয়া যায় না।

তারপর কাটে দিনের পর দিন মাসের পর মাদ। দেখতে দেখতে ২বছর কেটে গেল। তাদের একটা সন্তান জন্ম নেয়। খুব আনন্দে মেতে ওঠে পরিবারটি তার মা বাবার মনে আর কোনো কষ্ট নেই।এখন তারা দাদির সাথে খেলা ধুলা করে দিন কাটায় খুব আনন্দে আছে পরিবারটি।
কিন্তু হঠাৎ নেমে এলো দুঃখের ছায়া। ছোট্ট শিশুটির মা খুবি অসুস্থ। ডাক্তার বলেছেন মাত্র কয়েকদিন বাচবেন উনি। এমন অবস্তায় মা তার শিশু সন্তানকে কোলে নেয়। আর তার পরিবারকে বলে এটা আমার আপেল সোনা এর দিকে কেউ নজর দেবে না। আর বলে এর নাম হবে আদর।পরের দিন আদরের মা মারা যায়।এলাকার লোকেরা তাকে কবর দেন।।

আদর কিছুই বুঝলো না আর পাছ বয়েসে কিবা বুঝবেও???
এভাবে কয়েকদিন কাটে গেলো। আদরের বাবা আরেকটা বিয়ে করে। তারপর থেকে আদরের খোজ খবর নেয় না তার বাবা।
তাই আদরের দাদাই তাকে লালন পালন করেন। আদরের দাদা নিজে না খেয়ে আদরকে দুধ কিনে খাওয়ায়। আদরের দাদার পরিবারে আর ৭জন মানুষ আছে। এত গুলো মানুষকে খাওয়ানোর মত সামর্থ্য নেই আদরের দাদার।তবুও তারা কস্টে দিন কাটায় আদরের জন্য।
কিন্তু আদরের কপালে শুখ বেশি দিন সইলো না। ১বছর পর আদরের দাদা মারা যান।তাদের পরিবারে নেমে আসে বিশাল এক ঝড়।এতকিছুই পরেও আদরের বাবা তার কোনো খবর নেয় না।

আদরের চাচারা অল্প বয়েসে নানান কাজ শুরু করে যার ফলে তাদের পরিবারে আর কোনো কষ্ট থাকে না। এভাবে কেটে গেল অনেকটা সময়।আদর এখন শিশু শ্রেণিতে পড়ে।তার দিন কাটে খুব আনন্দে। আদর পড়া শোনাতে খুব ভাল শুধু পড়াশোনাতে নয় সব কিছতেই সে fast।আদরের পরিবারে আর কোনো কষ্ট নেই।তাদের সময় কাটে খুব আনন্দে। দেখতে দেখতেই ৩টি বছর কেটে গেল। আদর এখন ক্লাস three তে পড়ে।

আদর এলাকাতে সব থাকে ভাল ছেলে। সবাই তাকে খুব ভালবাসে। আদরের চাচার বিয়ে তাই সে অনেক খুশি বিয়েতে যাবে মজা করবে আনন্দ করবে ইত্যাদি।

তাদের বিয়ের কয়েক মাস পর তারা আলাদা হয় আর বলে নিজে কাজ করে অন্নের ছেলেকে কেন খাওয়াবো????
আদরের জিবনে আবারো কষ্ট নেমে এলো।আদরের পড়াশোনা ও খাবার কেউ দেয় না তার দাদি ছাড়া। তার দাদি অন্যের বাড়ি তে কাজ করে আদরের পড়াশোনা ও যাবতিও অভাব পুরুন করেন। আদর ভাবে আমার নিজের মা থাকলে হয়তো আজকে এই দিন টা দেকতে হতো না।
আদর এখন একাকিত্তের সাথে যুদ্ধ করে।আর নিজে প্রশ্ন করে আমার জিবন টা কেন?এমন ছন্নছাড়া দিশেহারা। এতকিছুই পড়েও আদর ভেঙে পরে নি। ভালভাবে পড়া,শোনা করে নিজেকে গড়ার জন্য। সমাজে তার দাদা দাদির মুখ উজ্জ্বল করবে এতাই তার লক্ষ্য। আদর এখন ক্লাস five এ পরে।সে কখনো মেয়েদের সাথে কথা বলত না। সে ছিল খুবি লাজুক।

হঠাৎ একদিন স্কুলে প্রবল বাতাস সবাই মাঠে এসেছে আদর ও এসেছে। মাঠে দুটি মেয়ে কাঁদছিল। আদর একটা মেয়ের কাছে যায়।যার নাম ছিল কল্পনা। কল্পনাকে দেখে আদরের অন্য রকম একটা অনুভুতি হয়।যা আগে কখনো হয় নি।স্কুল ছুটি হয়েছে সবাই বারিতে এসেছে আদর ও এসেছে। বাইরে মুষল ধারে বৃষ্টি পড়ছিল। আআদরের শুধু কল্পনার কথাই মনে পড়ছিল।আদরের মন বলছে ছুটে যাও কল্পনার কাছে দেখে এসো এক টি নজর।আদর তখন ওই বৃষ্টির মধ্যে ছুটে যায় কল্পনার কাছে।কিন্তু কল্পনার সাথে তার দেখা হলো না। সে নিরাশ হয়ে বারি ফেরে।

আগের মত আর পড়াশোনা তে মন বসে না। সারাক্ষন শুধু কল্পনা কে মনে পড়ে।পরের দিন আদর তাড়াতাড়ি স্কুলে যায় কল্পনাকে দেখার জন্য। আদর কল্পনার সাথে কোনো দিন কথা বলতো না। আদর স্কুল বা প্রাইভিটে কল্পনার দিকে তাকিয়ে থাকে। আদরের সামনে PSC পরিক্ষা তাই সে অনেক চিন্তায় পরে গেল।সে আর সারাদিন কল্পনাকে দেখতে পাবে না। PSC পরিক্ষা শেষ আদর আর কল্পনার দেখা হয় না।আদর অনেক ভেঙে পরেছিল। সে প্রতি রাত জেগে জেগে কল্পনাকে ভাবে। কল্পনাকে পাওয়ার জন্য রোজা রাখে,নামাজ,পরে। আল্লাহ তালার কাছ থাকে শুধু কল্পনাকে চায়।

অবশেষে ৪ মাস পর কল্পনায়র সাথে আদরের দেখা।
কল্পনাকে দেখে আদর অনেক খুশি। কিন্তু কল্পনা একটুও ঘুরে তাকায় না। আদর কল্পনা কে ভালাবাসি কথাটি বার বার বলতে গিয়ে ফিরে এসেছে। কারন আদর একটা গরিব ঘড়ের ছেলে তার থেকে বড় কথা তাকে দেকতে এতটাও সুন্দর নয়। আর কল্পনার সুন্দর চেহারা ও দালানকোঠা। এভাবে নানা কথা ভেবে কল্পনা কে বলতে পারে না ভালবাসি তোমাকে। দেখতে দেখত্র ৪বছর কেটে গেল। আদর তার best friend এর সাথে কল্পনার কোচিং ভরতি হয়।

কয়েকদিন ক্লাস করে আদর বুঝতে পারে কল্পনা তাকে একটুও missকরে না। আদর তার বন্ধুকে সবকিছু জানায় বন্ধু বলে সে আর তোর হবার নয়। ও অন্ন কাউকে ভালবাসে। একথা শোনার পর আদর কোনো কথা বলে না। আদর ভাবে আমি কি পেলাম।আমার কপাল্ল তাই কি এমন।কষ্ট আমার সঙি। তার পর থেকে আদর সব নেশা করে।সে এখন এলাকাতে সব থেকে খারাপ ছেলে।

গল্পের বিষয়:
দু:খদায়ক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত