অসংজ্ঞায়িত প্রেম

অসংজ্ঞায়িত প্রেম

মেহেদী বরিশাল বিএম কলেজে বাংলা বিভাগে অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্র। সদ্য ভর্তি হওয়া তাই বেশ নতুন লাগছে ক্যাম্পাসটা।মেহেদীর বাসা বরিশাল উপজেলায়। অনেকবার এসেছে এই ক্যাম্পাসে।কিন্তু এখন যেনো সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অনুভুতি কাজ করে।কারন সে এখন উক্ত ক্যাম্পাসের অংশ। ক্লাস শুরু হতেই নিয়মিত ক্যাম্পাসে যাওয়া আসা করে মেহেদী।

ক্যাম্পাসের সিংহভাগই নতুন মুখ।সময়ের সাথে সাথে অনেকই পরিচিত হলো।ভালো একটি বন্ধুমহলও তৈরী হলো।ভালো খারাপ সব কিছু শেয়ার করার মতো বন্ধুও ছিলো মেহেদীর। সেই গনিষ্ঠ বান্ধবীর নাম ছিলো রচনা।রচনাও মেহেদীর মতো বাংলা বিভাগের ছাত্রী।এক কথায় ওরা ক্লাসমিট + একজন আরেকজনের খুবই ভালো বন্ধু।
দুজনই বরিশাল উপজেলায় স্থানীয় ছিলো।সুতরাং বন্ধুত্বটাও ভালো ছিলো।

১ম বর্ষের মাঝামাঝি মেহেদী একটি মেয়েকে দেখে খুবই ভালো লাগে।মেয়েটি ১ম বর্ষেরই কিন্তু অন্য বিভাগের।কিছুদিন মেয়েটিকে ফলো করে মেহেদী।মেয়েটিও বুঝতে পারে ব্যাপারটা।মেয়েটির নাম ছিলো শায়লা।মেয়েটি দেখতে খুবই সুন্দর ছিলো এবং মুখে তিল ছিলো।যা মেহেদীকে আর বেশি আকৃষ্ট করেছিলো। মেয়েটি খুবই নম্র এবং ভদ্র ছিলো।ক্যাম্পাসে কোনো ছেলে বন্ধুর সাথে আজ অবধি দেখা যায় নি।খুবই শান্ত স্বভাবের। ঘটনাক্রমে একদিন মেহেদী শায়লাকে প্রপোজ করে ফেলে।শায়লা কিছুটা অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়ে যায়।মেহেদী ব্যাপারটা বুঝতে পেরে বলে যে সমস্যা নেই কাল মতামত জানালে হবে।তুমি এখন যাও। শায়লা চলে যায়।মেহেদী শায়লার চলে যাওয়া দেখতে থাকে।

পরেরদিন শায়লা মেহেদীকে সরাসরি বলেই দেয় যে সেও মেহেদীকে ভালোবাসে। শুরু হয়ে গেলো মেহেদী শায়লার প্রেমের সম্পর্ক।কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার এসব কিছুই মেহেদী রচনা বা তার কোনো বন্ধুকে জানায় নি। কেনো জানায় নি সেটা আজও রহস্য। বেশ চলছিলো তাদের সম্পর্ক। শায়লা মেয়েটি ক্যাম্পাসে সেলোয়ার কামিজ পড়ে আসতো। কিন্তু মেহেদী চাইতো সে বোরকা পড়ে আসুক।অনেকদিন বলার পরও শায়লা কথা শুনে না। সে সেই সেলোয়ার কামিজই পড়ে আসে।

মেয়েটির পরিবার তাদের সম্পর্কের কথা জেনে গিয়েছিলো। মেহেদীর পরিবার এবং সবকিছু দেখে শায়লার পরিবার সম্পর্ক মেনে নিয়েছিলো। মেহেদীও মোটামোটি শায়লার পরিবার এবং আত্মীয়দের সাথে পরিচিত হয়ে গিয়েছিল।
মেহেদী শায়লাকে নিয়ে প্রায়ই ঘুরতে বের হতো। পুরো বরিশাল শায়লাকে চিনিয়েছে মেহেদী। বৃষ্টির দিনে শায়লাকে পৌছে দিয়ে নিজেন ফোন আর মানিব্যাগ পলিথিনে ডুকিয়ে কাক ভেজা হয়ে ফেরতে বাসায়।কেনো যে ছাতা নিতো না সেটাই অজানা।হয়তো বৃষ্টি ওর ভালো লাগে। শায়লা যেকোনো জায়গায় ঘুরতে গেলে আগে মেহেদীকে জিজ্ঞাস করে যায়।মেহেদী সম্মতি ছাড়া যায়না কোথাও। তো হঠাৎ একদিন সে মেহেদীকে ফোন করে বললো যে সে চিটিগাং ঘুরতে যাবে রিলেটিভদের সাথে। মেহেদী কখনো এসব বিষয়ে বাধা দেয়নি।কিন্তু সেইদিন মেহেদী যেতে নিষেধ করলো। শায়লা অনেক বুঝালো কিন্তু মেহেদী সিদ্বান্তে অনড়।

দুদিন পর শায়লা মেসেজ দিলো সে চিটিগাং যাচ্ছে।মেসেজ দেখে মেহেদী একটু কষ্ট পায়।মনে মনে ভাবে সব সময়ই যেতে দিলাম আর আজ একবার না করায় দামই পেলাম না। যাই হোক সে রিপ্লাই দিলো সাবধানে যেও।পৌঁছেই কল দিও অপেক্ষায় থাকবো। শায়লা আর তার রিলেটিভরা বাসে করে যাচ্ছিলো। অর্ধেক পথ যেতেই সে বাস এক্সিডেন্ট করে। যার ফলে শায়লা খুবই গুরুতর আহত হয়।সাথে সাথে থাকে চিটাগাং মেডিকেলে নেওয়া হয়। অবস্থা খারাপ থাকায় সাথে সাথে সেখান থেকে ঐদিনই শায়লাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

এসব বিষয়ে মেহেদী কিছুই জানে না।মেহেদী রাতে ফোন দেয় দেখে শায়লার ফোন অফ। তখন শায়লার মামাতো বোন নীলাকে ফোন দেয়। নীলা ইচ্ছা করে মিথ্যা বলে যে সব ঠিক আছে।শায়লার ফোন হারিয়েগেছে।সে এখন রুমে নেই ফিরলে কল দিতে বলবো। মেহেদী ভাবলো ঘুরতে গেছে বার বার ফোন না করাই ভালো।সেজন্য দিনে একবার ফোন দিতো নীলার কাছে আর নীলা মিথ্যা বলতো। ঐ দিকে শায়লা ঢাকায় হাসপাতালে ৭দিনের দিন মারা যায়। তারপরও মেহেদীকে জানানো হয়নি। ১০দিনের দিন মেহেদী জানতে পারে যে ওর শায়লার সাথে কি ঘটেছে আর সে এই পৃথিবীতে নেই। এক প্রকার পাগল হয়ে যায় সে।কি করবে বুঝতে পারতেছিলো না।

ঐদিকে চিটাগাং যাওয়ার আগেরদিন শায়লা বোরকা পড়ে ক্যাম্পাসে আসতে রাজি হয়েছিলো।দুজনে মিলে কাপড় কিনে দর্জির কাছে দিয়ে এসেছিলো। মাত্র কদিন আগের ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো মেহেদীকে শেষ করে দিচ্ছিলো।
অনেকদিন রুম থেকে বের হয়নি মেহেদী। রুমে বসেই কাদতো শুধু। ক্যাম্পাসের শায়লার দূর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লো। মেহেদীর ক্লোজ বন্ধুরাও জানলো কিন্তু সেই মেয়ে যে মেহেদীর সব ছিলো সেটা জানতোই না কেউ যা আজও গোপন।  কদিন পর মেহেদী দর্জিকে গিয়ে বোরকা সেলাইয়ের টাকা দিয়ে আসে। কিন্তু বোরকা আনে নি। সময়ের সাথে মেহেদী এখন অনেক পরিবর্তন হয়েছে।কিন্তু ঐ একটা জায়গায় সে আজও দূর্বল। যখনই মনে পড়ে সেই সময়ের কথা নিরবে কাঁদে সে।

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
দু:খদায়ক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত