অবহেলা

অবহেলা

এক ছেলে বাবা মায়ের পছন্দে বিয়ে করল। কিন্তু নিজের কাছে কিছুতেই স্ত্রীকে ভালো লাগে না। নিজে সে কথাটা কারো কাছে বলতেও পারে না। ছেলেটি মনে মনে ভাবতে লাগল অামি অামার স্ত্রীকে তালাক দেব না। কিন্তু এমন কাজ করব যেন সে নিজেই এই বাড়ি ছেড়ে চলে যায়।

ছেলেটি কোনো না কোনো অজুহাতে স্ত্রীকে মারত। বউ পিটানো যাকে বলে অারকি। খুব সাধারন অজুহাতেই প্রচন্ড মারত। যেমন একটি অজুহাত হলো, বাড়ির উঠানে কেন কুকুর অাসল। অাবার শুরু হলো পিটুনি। কিন্তু এত অত্যাচারের পরও স্ত্রী এ বাড়ি ছেড়ে যায় না।  অবশেষে ছেলেটি একদিন সিদ্ধান্ত নিল পিটিয়ে অাধামরা বানাবে, তাহলে সহ্য করতে না পেরে এমনিতেই চলে যাবে।  স্ত্রী যখন রান্না ঘর থেকে বের হয়ে পানি অানতে গেল, ছেলেটি তাড়াতাড়ি করে রান্নাঘরে ঢুকে তরকারিতে চার পাঁচ মুঠো লবন দিয়ে দিল।

এবার দুপুরে খেতে বসে ভাত মুখে দিয়েই বউকে পিটানো শুরু করল। এবারে মারের পরিমান এতই ছিল যে প্রতিবেশী অনেকেই চলে এল। ছেলেটিকে ধরল, এভাবে কেউ মানুষ মানুষকে মারে? ছেলেটি উত্তর দিল, অাপনারা দয়া করে তরকারির একটু ঝোল খেয়ে দেখেন। ঝোল খেয়ে দেখল সত্যিই অনেক লবন তরকারীতে। লোকজন চলে গেলে ছেলেটির হঠাৎ মনে পড়ল আমি তো ভাত মুখে দিয়েছি। তরকারিতো ভাতে নেইনি। শুধু ভাত তো অার লবনাক্ত না।  ঘরের কোণে জড়ো হয়ে থাকা স্ত্রীকে ছেলেটি বলল, “মারের লক্ষনে বুঝিস না তোকে যে অামি রাখব না? তুই নিজে থেকে চলে যাস না কেন?” গল্পটি বলার উদ্দেশ্য হলো অামরা মনুষ্য জাতি হয়েও মানুষ চিনতে ভুল করি। কারন তার স্বভাব, চরিত্র বা গুণাগুণ গায়ে লিখা থাকে না। আমরা যত চেষ্টাই করি না কেন প্রতিটা সম্পর্ক বাঁচিয়ে রাখতে। সম্পর্কের মানুষটি যদি না চায় শত চেষ্টায়ও সে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয় না।

যার চিত্র দেখা যায় বর্তমান যুগের প্রেম ভালোবাসায়। সকালে প্রেম হলে বিকালে সে প্রেমের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যেতে পারে। একেকজন তিনটা চারটা সম্পর্ক পর্যায়ক্রমে করে যায় গল্পের ছেলেটির মতো কর্ম করে, ” মারের লক্ষনে বুঝিসনা তোকে যে রাখব না?” অবশ্য সবাই মারে না, অজুহাত খুঁজে বের করে। “মানুষের তিনটে হাত,  ডান হাত, বাম হাত অার অজুহাত” যেমন মেয়েটি এসে বলবে কালকে দেখলাম এক মেয়ের সাথে হেসে হেসে কথা বলছিলা, সে মেয়েকে নিয়েই থাকো অামাকে অার দরকার নেই।  বা ছেলেটি এসে মেয়েটিকে বলবে গত রাতে তোমাকে ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনে বিজি পাইছি। কার সাথে বলো এত কথা? তাকে নিয়েই থাকো অামার সাথে অার কথা বলতে হবে না।

শুধু প্রেম ভালোবাসার ক্ষেত্রে না। যে কোন সম্পর্কের ক্ষেত্রে যদি মনে করেন, ” আপনাকে কেউ অবহেলা করছে, ভেবে নিবেন আপনার জায়গায় হয়তো অন্য কেউ প্রিয় হতে চলেছে। সম্পর্কের অাপনার স্থানটি বেদখল হতে চলেছে। তার মনে বাসা বাঁধবে অন্য কাউকে নিয়ে। সম্পর্কের সে মানুষটি কিন্তু অাবার ফিরে অাসার চেষ্টা করে। কখন জানেন? যার জন্য অাপনাকে অবহেলা করল সেও যদি তার কাছ থেকে একই রকম অবহেলা পায় তখন ঠিকই ফিরে অাসতে চাইবে অাপনার কাছে।

এক লোক বিয়ের পর অন্য মেয়ের প্রেমে পড়ল। একটা সময় লোকটি বউকে তালাক দিল। নতুন করে বিয়ে করল প্রেমে পড়া মেয়েটিকে। দেড় বছর পর সে মেয়েটি লোকটিকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যায়।  তারপর লোকটির মনে পড়ে প্রথম স্ত্রীর কথা। তখনই সে বুঝতে পারে প্রথম স্ত্রীর সাথে সে অন্যায় করেছে। কিন্তু হিল্লে বিয়ে ছাড়া ফিরিয়ে অানা সম্ভব না।

একটা সম্পর্ক তুচ্ছ কারনেই ভেঙ্গে দেয়া যায়। কিন্তু একটি সম্পর্ক তৈরী করা অনেক সময়ের ব্যাপার। অার টিকিয়ে রাখা তো অারো অগ্নি পরীক্ষার মতো।  ভালোবাসুন, ভালো রাখুন সম্পর্কের মানুষটিকে। অবহেলা সম্পর্ককে অনেক দূরে ঠেলে দেয়, সতর্ক থাকুন।

গল্পের বিষয়:
দু:খদায়ক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত