না পাওয়া ভালোবাসা

না পাওয়া ভালোবাসা

দোলনঃ হ্যালো জাবের..!

জাবেরঃ শুনতেছি বল…!

দোলনঃ কোথায় তুই…?

জাবেরঃ বাসর রুমে বউর সাথে গল্প করছি..!

দোলনঃ কি (কিছুটা রাগি সুরে) ভার্সিটিতে আসিস নাই কেন…?

জাবেরঃ আমি ভার্সিটিতে যাই না সকালে..! দুপুর গেলো বিকেল গেলো এখন রাত ১১.৪৫ এখন তুই আমার খোজ নিলি…?

দোলনঃ ফোনে ব্যালেন্স ছিলো না সে জন্য ফোন করতে পারি নাই…! কেন তুই তো একবারও ফোন দিলি না…! নিজে দেয় না আবার অন্যকে বলে…!

জাবেরঃ কোটিপতি বাবার মেয়ে যদি বলে তার ফোনে ব্যালেন্স নেই তাইলে আমার মতো মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলের ফোনে কি ভাবে থাকবে….???

দোলনঃ এ তুই না একটু বেশি কথা বলিস…! রাতে খাইছস…??

জাবেরঃ হুম…! আচ্ছা ফোনটা রাখ আমার একটু কাজ করতে হবে…! বলেই ফোনটা কেটে দিলো জাবের তার কোন কাজ নেই ঘুমাবে সে জাবের ঘুম পাগল মানুষ…! জাবের গ্রামের মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান ঢাকা এসে পড়াশোনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানের ওপর অনার্স করে…! দোলন বড়লোক বাবার একমাত্র মেয়ে…! ভার্সিটিতে পরিচয় হয় দুজনের তারপর বন্ধুত্ব দোলন জাবেরকে অসিম ভালবাসে কিন্তু বলে না…! দোলন চায় জাবের বলবে…!

দোলনঃ আজকে ক্লাস করবি জাবের…?

জাবেরঃ কেন আজ কি তোর দাদার মৃত্যু দিবস নাকি যে ক্লাস করবো না…!

দোলনঃ চুপ কর (ধমকের সুরে) তুই বেশি কথা বলা বন্ধ কর না হয় ভবিষ্যৎ অন্ধকার…!

জাবেরঃ (চুপ)

দোলনঃ আজকে আমার ভালো লাগে না, তাই ভাবলাম ক্লাস না করে আজকে ঘুরবো…! চলনা দুজনে আজকে সারাদিন ঘুরবো…!

জাবেরঃ তাইলে সে জন্য এতো তাড়াতাড়ি তলব করলি…!

দোলনঃ হেসে দিয়ে হুম চল…! জাবের একটা গান শুরু করলো ৳৳৳ বন্ধু যখন বউ লইয়া আমার বাড়িড় সামনে দিয়া রঙ্গ কইরা হাইট্টা যায় ফাইট্টা যায় বুকটা ফাইট্টা যায়…৳৳৳
দোলন হটাৎ দাড়িয়ে গেলো রেগে তাকিয়ে আছে জাবেরের দিকে…! দোলনের দাড়িয়ে থাকা দেখে জাবের গানটা বন্ধ করে দিলো…! মুচকি একটা হাসি দিলো…!

দোলনঃ এইটা কি গান গাইলি..? এটা কোন গানের মধ্যে পরে…! এই গানের চল আছে কোন লোক শুনে এই গান..?

জাবেরঃ হাগল নি কোন…! এর চাইতে সুন্দর কোন গান হয়, এটি বেশি শোনে কারা জানস..! এটা বেশি শুনে যারা পড়াশোনা শেষ করে চাকরিও পায় না বউও পায় না…! অথচ তার পাশের বন্ধুরা বিয়ে করেতার বাড়ির সামনে দিয়ে বউ নিয়ে যায়….! হিহিহিহি

দোলনঃ তোরতো কোনটাই এখন প্রয়োজন নেই…! তো তুই কেন গাইলি…?

জাবেরঃএইতো আর ৪বছর তারপর তো শেষ তখন তো জানি আমার চাকরিও হবে না ঠিক সময়ে বউও পাবো না,আমি…! তো আর মোটা অংকের ঘুস দিতে পারবো না…! বর্তমানে তো ঘুস ছাড়া চাকরি হয় না…!

দোলনঃ আগে তো পড়াশোনা শেষ কর…! তারপর এই চিন্তা…! চল আমরা ওই জায়গাতে বসি…! জাবের সারাসময় দোলনের সাথে দুস্টামি করেই থাকে..!

জাবেরঃ দোলন…!

দোলনঃ হুম…!

জাবেরঃ চল আমারা পালিয়ে বিয়ে করি…!

দোলনঃ দেশে কি ছেলের অভাব পরছে যে তোকে বিয়ে করতে যাবো…!

জাবেরঃ এএএ আমার মতো ছেলে পাওয়া তোর ভাগ্যের.ব্যাপার…! তুই জানিস আমাদের বাসার পাশের কত মেয়ের বাবা মা তাদের মেয়ের সাথে আমার বিয়ে দিতে পাগল…! কিন্তু আমি করি না…!(কিছুটা বুক ফুলিয়ে)

দোলনঃ করে ফেল তাড়াতাড়ি না হয় পরে মেয়ে নাও পেতে পারিস… হিহিহি হিহিহিহি….!

জাবেরঃ না তোকে করবো…! এবং আমি ৮০০ সন্তানের বাবা হবো আর তুই মা হবি বলেই হেসে আবার বলে আমারা বিশ্ব রেকর্ড করবো চারদিকে আমাদের নাম ছড়িয়ে যাবে…!

দোলনঃ মনের অজান্তেই হেসে দিয়ে বললো তোর মতো বানরকে আমি বিয়ে করবো মাথা নস্ট…!

জাবেরঃ আমাকে বাংলা ছবির নায়ক শাকিব খান একবার বলছিলো যে তোমার চেহারা তো অনেক সুন্দর তুমি নায়ক হতে পারবা…! আমি বলছি,, না আমি নায়ক হবো না তাহলে বাংলার হিরোরা ফকির হয়ে যাবে…!

দোলনঃ হাহাহাাহাহাহাহা, হাহাহাহাাহাহোহো হোহোহোহোহোহোহোহোহো এই চেহারায় আয়নায় কখনো নিজেকে দেখেছিস…? তোকে তো ভিলেন হিসেবেও নিবে না…!

জাবেরঃ দ্যাত! তোর সাথে কথাই বলবো না…!

দোলনঃ হাহাহাহাহাহাহা জাবের প্রচুর ক্ষুদা লাগছেরে কিছু নিয়ে আয়…!

জাবেরঃ টাকা নাই তোকে খাওয়ানোর কোন ইচ্ছা নাই…!

দোলনঃ কোন দিন তোর টাকা ছিলো…! আর কোনদিটায় আমাকে তুই খাওয়ালি…? হুম আজ পর্যন্ত জাবের দোলনকে দশটাকার বাদাম ছাড়া কিছুই খাওয়ানি….! যাই হোক না কেন প্রতিদিন দোলনই বিলটা দেয়…! তারপরেও তার মাঝে কোন বিরক্তির ছাপ নেই কোন হিংসার ছাপ নেই…! হয়তো এটাই ভালবাসার রুপ…!

দোলনঃ এই নে টাকা ভালো দেখে বার্গার ছুমুছা আর স্পিড নিয়ে আয়…! অতপর জাবের নিয়ে আসলো…! দোলন খাচ্ছে কিন্তু জাবের মুখ ফুলিয়ে বসে আছে…! দোলন সেটা কিছুসময় পর সেটা খেয়াল করলো…!

দোলনঃ কি ব্যাপার নায়ক সাহেব আপনি খাচ্ছেন না কেন…?

জাবেরঃ খাবো না…!

দোলনঃ কেনো রাগ করছেন..! নাকি খাইয়ে দিতে হবে..? বলেই দোলন তার হাতের ছমুছাটা জাবেরের মুখের ভিতর দিয়ে দিলো…!

জাবেরঃ আচ্ছা দোলন তুইকি আমাকে সত্যি ভালবাসিস..?

দোলনঃ কেনো…? হটাৎ এই প্রশ্ন কেনো…!

জাবেরঃ না এমনি জানতে ইচ্ছে হলো…!

দোলনঃ না…!(মিথ্যা)

জাবেরঃ আমারো তাই মনে হইছিলো…! আচ্ছা আমি যদি কখনো দূরে কোথাও চলে যাই তুই কি কষ্ট পাবি…? যেখান থেকে আসার আর কোন সুযোগ নেই….!

দেলনঃ তুই চলে গেলে আমি কষ্ট পাবো কেন…? (ফান করে)

জাবেরঃ হুম সেটাই তো…! জানিস আমি একদিন চলে যাবো…! বহুদূর আর আসবো না তুই শত চেষ্টা করেও আনতে পারবি না আমাকে এবং সেই দিনটা বেশি দূরে নারে…! (আকাশের দিকে তাকিয়ে)

দোলনঃ তোকে কোথাও যেতে হবে না সারাজীবন আমার কাছে রেখে দিবো…! এখন চল বাসায় যাবো ১.০০ বাজে…! তারপর দুজন চলে আসে…! বিকালে দোলনের কেন জানি বারবার জাবেরকে ফোন দিতে ইচ্ছে করে একটু কথা বলবে তার সাথে…! জাবেরকে কেন জানি বলতে ইচ্ছে করছে তোকে অনেক ভালবাসি জাবের…! দোলন ফোন দিলো কিন্তু জাবের ফোন তুলছে না…! প্রায় ২০ মিনিট পর রিসিভ হলো…!

দোলনঃ ওই কুত্তা হারামি বান্দর শয়তান ফোন রিসিভ করস না কেন…??

ওপাশঃ সরি আমি জাবের না তার বন্ধু তানজিল..! দুপুরে হটাৎ জাবেরের কি যানো হইছে..! দুপুরে কোথা থেকে যেনো এসে হটাৎ বিছানায় পরে যায় আর প্রচুর রক্ত ভুমি হয়…! আমরা এখন হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি…!

দোলনঃ কি…? আপনি কি বলছেন এসব…?

ওপাশঃ হুমম ঠিকই বলছি..!

আপনি হাসপাতালে চলে আসেন…! বলেই ফোনটা কেটে দিলো) দোলনের চোখ দিয়ে পানি পরছে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলো…! একটা সিএনজি নিয়ে চলে গেলো হাসপাতালে…! বারবার চোখের পানি মুছে জাবেরের কিছু হয়ে গেলে আমি বাচবো না…! কি নিয়ে বাচবো,, কাকে নিয়ে বাচবো কি করেরে বাচবো…! কিন্তু এতক্ষনে জাবের নেই চলে গেছে না ফেরার দেশে…! জাবেরের এই রোগটা সেই ছোট বেলা থেকেই, কোন সমাধান দিতেপারে না ডাক্তার…! এবং আজও বাচিয়ে রাখতে পারলো না জাবেরকে…! তার বন্ধুরা তার বেডের পাশে দাড়িয়ে আছে, কারো মুখে কোন কথা নেই…! সবার চোখ দিয়ে পানি পরছে…!দোলন দৌড়ে এলো রুমে…!

দোলনঃ জাবের কোথায়…??

বন্ধুঃ চুপ….!!!!

দোলনঃ কি ব্যাপার চুপ করে আছেন কেন, জাবের কোথায়….?? (চিতকার করে) একজন হাত দিয়ে ইশারা দিয়ে দেখিয়ে দিলো…! দোলন দেখলো সাদা কাপড় দিয়ে ডাকা একটা লাশ…! দোলনের বুঝতে বাকি রইলো না কি হইছে…! সাদা কাপড়টা উঠিয়ে চিৎকার করে কেদে দিলো, কি হইছে তোর জাবের এইতো আমি দেখ আমি এসেছি, তোর কিচ্ছু হবে না…! তুই উঠ জাবের আমার সাথে ঝগড়া করবি না…! আমাকে রাগাবি না…? এই আমি দুপুরে যাওয়ার পথে তোর জন্য একটা শার্ট কিনছি…! তুই জানতে চেয়েছিলি না,, আমি তোকে ভালোবাসি কিনা….??? আমি তোকে প্রচুর ভালবাসিরে জাবের…! তোকে নিয়ে কত স্বপ্ন দেখিরে আর তুই রাগ করে আছিস….! জাবের রাগ করিস না উঠে আয় জাবের…! আমরা গল্প করবো…!

তুই ৮০০ সন্তানের বাবা হবি না…? আমি রাজিরে রে তোর বউ হতে…! আমি তোকে আর রাগাবো না…! জাবেরকে ধরে চিৎকার দিয়ে বলে যাচ্ছে দোলন…! জোরে জোরে নারছে জাবেরকে…! জাবেরের বন্ধুদের চোখে বৃষ্টির মতো পানি যাচ্ছে…! দোলনের এই অবস্থা দেখে নার্স এসে দোলনকে টেনে আনতে চেষ্টা করলো…! কিন্তু জাবেরকে ছাড়ছে না দোলন…! শুধু চিৎকার করে করে বলে কিরে জাবের তুই এতো বেইমান হয়ে গেলি,আমার কথা তুই শুনছিস না….! দোলনের চিৎকারে মানুষের ভির জমে গেলো…! দোলন হাসছে শুধু হাসছে…! চারদিক অন্ধকার নেমে আসছে..! ৩ দিন পর দোলনকে এখন শিকল দিয়ে বেধে রাখতে হয় রুমের ভিতর…! শুধু হাসে আর বলে,,, জাবের আমি তোর বউ হবো রে….!!!

(সমাপ্ত)

গল্পের বিষয়:
দু:খদায়ক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত