কেন চলে গেলে

কেন চলে গেলে

–ঐ ঐ তুই আমার কাছে আসবিনা। (তাহয়িয়া)
—-তর কাছে যাবো না কেন রে।(হৃদয়)
—এমনি তুই আমার চোখের সামনে থেকে দূর হয়ে যা। (তাহয়িয়া)
—-চলে যাবো তোর চোখের সামনে থেকে। (হৃদয়)
—-হুম, তুই আমার চোখের সামনে থেকে চলে যা। (তাহয়িয়া)
— মন থেকে বলছিস তো চলে যেতে। (হৃদয়)
—–হুম যা ওই মেয়েগুলোর কাছে যাদের

সাথে কিছুক্ষন আগে তর ৩২ টা দাত বের করে হেসে হেসে কথা বলছিলি তাদের কাছেই যা।….(তাহয়িয়া) হৃদয় এতক্ষণে বুঝতে পারল যে তাহিয়া কেন তার সাথে এমন করছে আসলে কিছুক্ষণ আগে হৃদয় কলেজ ক্যাম্পাসে তার কিছু বন্ধুদের সাথে বসে কথা বলছিল। আর এটা তাহিয়া দেখে ফেলেছিল তাই তাহিয়া এর সাথে এমন করছে। আসলে ছেলে বন্ধু হলে এমন করত না আসলে বন্ধুগুলো ছিল মেয়ে।

—ও-ও ও তাদের কাছে যাবো। (হৃদয়)
—-যা আমার কাছে আর কখনো আসবি না। (তাহয়িয়া)
— ওকে তাহলে তাদের কাছে যাই। (হৃদয়) একথা বলে হৃদয় হাটতে লাগল ঠিক এমন সময় তাহয়িয়া দৌড়ে এসে হৃদয় এর শার্টের কর্লার টেনে ধরলো।

—এই কোথায় যাচ্ছিস। (তাহয়িয়া)
— তুই না বললি তাদের কাছে যেতে।(হৃদয়)
— আমি বললাম আর তুই চলে যাচ্ছিস তাদের কাছে। (তাহয়িয়া)
—যাচ্ছিই তো কারন আমি তো আর তোর কোন কথা ফেলতে পারিনা। (হৃদয়)
—চোপ শয়তান ছেলে আর কখনো যদি দেখি ঐ মেয়েদের সাথে হেসে কথা বলতে তাহলে বুঝবি।(তাহয়িয়া)
—যদি কথা বলি তাহলে কি করবি। (হৃদয়)
—খুন করে ফেলব তোকে।(তাহয়িয়া)
—- ওরে আল্লাহ ভয় পাইলাম কিন্তু।(হৃদয়)
—-ভয় না কি পরে বুঝবি।(তাহয়িয়া)
— ম্যাডাম এখনতো শার্টের কর্লার টা ছাড়েন।(হৃদয়)
—ওকে ছাড়লাম তোর আর একটা শাস্তি আছে।
— বল কি শাস্তি তুই যা শাস্তি দিবি তা মাথা পেতে নেব। (হৃদয়)
—-তুই এখন আমাকে আমার বাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসবি। (তাহয়িয়া)
— ওকে চলেন ম্যাডাম।হৃদয়)

এই বলে হৃদয় তাহয়িয়া কে এগিয়ে দিতে চলে গেল। তাহয়িয়াআর হৃদয়ের বাসা একই এলাকাতে। হৃদয়ের বাসা থেকে তাদের বাসা দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। সেই ছোটবেলা থেকেই অনেক ভালো বন্ধুত্ব তাদের মধ্যে।শুধ বন্ধুত্ব ই নয় তারা দুজন দুজনকে অনেক ভালোবাসে,কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ কাউকে বলতে পারেনি। হৃদয় জানে তাহয়িয়া তাকে অনেক ভালবাসে।আর তাহয়িয়া ও জানে হৃদয় তাকে অনেক ভালোবাসে। কিন্তু কেউ কাউকে বলতে পারে না। তারা দুজন দুজন কে না দেখলে এক মুহূর্ত থাকতে পারেনা। তাহয়িয়া মেয়েটা খুব অভিমানী। আবার অনেক রাগিও। হৃদয় মাঝে মাঝেই ইচ্ছে করে তাহিয়া কে অনেক রাগিয়ে দেই। আবার নিজেই অনেক কষ্ট করে তাহয়িয়ার রাগ ভাঙায়। আজ রাতে হৃদয় তাহয়িয়া ফেসবুকে চ্যাট করছে।

—কিরে কি করিস।(হৃদয়)
— তোর কথাই ভাবছি।(তাহহিয়া)
— ওমা তাই নাকি তুই আমার কথা ও ভাবিস। (হৃদয়)
— ভাবি ই তো।তুই কি করিস? (তাহয়িয়া)
—এই তো ছাদে বসে বসে সিগারেট খাচ্ছি।(হৃদয়)
—- কি বললি তুই সিগারেট খাচ্ছিস।(তাহয়িয়া)
–হ্যাঁ খাচ্ছি।(হৃদয়)
—তুই জানিস না সিগারেট খেলে ক্যান্সার হয় যদি কিছু হয়ে যায়। (তাহয়িয়া)
—কি আর হবে। আর আমার কিছু হলে তোর কি রে? (হৃদয়)
—-ও তাইতো আমার কি? (তাহয়িয়া)

এই কথা বলে তাহয়িয়া ফেসবুক থেকে চলে গেল।হৃদয় বুঝতে পারছে তাহয়িয়া হয়তো রাগ করেছে। আসলে মেয়েটা অনেক রাগী একটুতেই রেগে যায়। প্রায় কিছুক্ষন পর তাহয়িয়া আবার ফেসবুক এ আসলো। এসেই হৃদয় কে একটা পিক পাঠালো। পিক দেখেই হৃদয় অবাক হয়ে গেলো। হৃদয় তাড়াতাড়ি ফেসবুক থেকে বেরিয়ে গেল আর তাহয়িয়া কে তাড়াতাড়ি ফোন দিল।

—ওই ওই তুই হাত কেটেছিস কেন? (হৃদয়)
— আমি হাত কেটেছি তাতে তোর কি?(তাহিয়া)
—–এই পাগলি আমি একটু মজা করে বলছি তাই তুই হাত কাটবি।(হৃদয়) ঠিক এমন সময় তাহয়িয়া কেঁদে কেঁদে বলতে লাগল।

—আর কখনো যদি এসব বলিস আমি নিজেকে শেষ করে দিবো।(তাহয়িয়া)
— এই পাগল হয়েছিস নাকি যা আর কোনদিন এসব বলবো না (হৃদয়)
—-তুই কথা দে আর কখনো সিগারেট খাবি না।(তাহয়িয়া)
—-যদি কথা না দেই তাহলে কি করবি। (হৃদয়)
—–কি করবো শুনবি।(তাহয়িয়া)
—– না থাক আর বলার দরকার নাই।(হৃদয়)
— তাহলে কথা দে আর কখনো সিগারেট খাবি না। (তাহয়িয়ক)
— ওকে যা কথা দিলাম আর কখনো সিগারেট খাবো না। (হৃদয়)
—এই তো লক্ষ্মি ছেলের মত কথা এই যে আবার ঘুমিয়ে পর অনেক রাত হয়েছে। (তাহয়িয়া)
—ওকে তুই ও ঘুমিয়ে পড় পাগলী। (হৃদয়)
—- ওকে পাগল আর, হ্যাঁ কাল কলেজে তাড়াতাড়ি আসবি।(তাহয়িয়া)
—-ওক পাগলী।(হৃদয়)

এই বলে হৃদয় ফোন কেটে দিলো। হৃদয় শুয়ে ভাবতে লাগলো।আসলে তাহয়িয়া তাকে অনেক ভালোবাসে। মেয়েটা একটু পাগলি টাইপের সবসময় আমার খেয়াল রাখে।তাহয়িয়া মুখ ফুটে কিছু বলতে পারছেনা।তাই হৃদয় মনে মনে ভাবছে কাল তাকে প্রপোজ করে দিবো। সেই ছেলেবেলা থেকে বন্ধুত্ব আর এখন একে অপরের সাথে প্রেম ব্যাপারটা ভাবতেই কেমন লাগছে হৃদয় এর।এসব ভাবতে ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লো হৃদয়। আজ সকালে হৃদয় কলেজে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে। মনে মনে অনেক খুশিকারণ আজ তাহয়িয়া কে প্রপোজ করবে। তার মনের জমানো কথা গুলো বলবে। হৃদয় তার গোলাপ গাছ থেকে একটা ফুল ছিড়লো। হৃদয় কলেজ এ এসেই দেখতে পেলো তাহয়িয়া ক্যাম্পাসে বসে আছে।হৃদয় তাহয়িয়ার কাছে গেলো।

—কি রে তকে না তাড়াতাড়ি আসতে বলেছিলাম।(তাহয়িয়া)
—তাড়াতাড়ি ই আসলাম।(হৃদয়)
—- তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে? (তাহয়িয়া)
—-তর সাথেও আমার কিছু কথা আছে। (হৃদয়)
—কি কথা বল? (তাহয়িয়া)
— না আগে তুই বল। (হৃদয়)
— ওকে হৃদয় তকে অনেক দিন ধরে একটা কথা বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু বলতে পারছিলাম না এখন আমি থাকতে পারছি না কথা টা না বলে।(তাহয়িয়া)
— আরে কাহিনী বাদ দিয়ে কি বলতে চাস বলে ফেল। (হৃদয়) ঠিক এমন সময় তাহয়িয়া তার ব্যাগ থেকে একটি গোলাপ বের করে বসলো আর ফিল্ম ই স্টাইল এ বললো।

— হৃদয় আমি তোকে ভালোবাসি। (তাহয়িয়া) কথাটা শুনে হৃদয় পুরা অবাক। কারণ হৃদয় ও আজ তাকে প্রপোজ করার উদ্দেশ্য বাসা থেকে এসেছে। কিন্তু তাহয়িয়া নিজেই তাকে প্রপোজ করে দিল। হৃদয় মনে মনে ভাবছে কাল রাতে কি দুজনের চিন্তা ভাবনা এক ছিল। মেঘ না চাইতে বৃষ্টি। হৃদয় এর মাথায় এবার শয়তানি বুদ্ধি আসলো।হৃদয় মনে মনে ভাবছে এবার একটু ভাব নেয় তাহয়িয়ার সাথে।

—তুই আমায় ভালবাসিস তো আমি কি করবো। (হৃদয়)
—- তুই কি করবি মানে,তুই কি আমায় ভালবাসিস না?। (তাহয়িয়া)
—না দেখ এসব প্রেম টেম আমি পছন্দ করিনা। (হৃদয়)
— ওকে, আমি খুব দুঃখিত। আমি ভেবেছিলাম তুই ও হয়তো আমায় ভালবাসিস।ভালবাসতে হবে না আমায়।(তাহয়িয়া) এগুলো বলে তাহয়িয়া চলে যেতে লাগলো কাঁদতে কাঁদতে। ঠিক এমন সময় হৃদয় পিছন থেকে তাহয়িয়ার হাত টেনে ধরলো।

—- আরে পাগলি কোথায় যাচ্ছিস। (হৃদয়) এই বলে হৃদয় তার ব্যাগ থেকে তার গোলাপটা বের করলো।
— আরে পাগলি আমি আজ বাসা থেকে নিয়ত করে এসছি যে তকে আজ প্রপোজ করবো।

কিন্তু মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি তুই নিজেই প্রপোজ করে দিলি আমায়।আমিও তোকে ভালবাসি অনেক ভালবাসি তোকে। একটু তোর সাথে ভাব নিচ্ছিলাম। আমি তোকে ভালবাসি অনেক ভালবাসি। (হৃদয়) তাহয়িয়া হৃদয় এর কথা শুনে তার চোখের পানি ছেড়ে, দিল আর বলতে লাগল শয়তান ছেলে বাদর, কুত্তা, এভাবে কেউ ভাব নেই। তাহয়িয়া হৃদয় কে এসে জড়িয়ে ধরলো। –তোকে ছাড়া আমি বাঁচব না হৃদয়তুই আমাকে কখনো ছেড়ে যাবি নাতো।(তাহয়িয়া)

— এই পাগল হয়েছিস নাকি তকে ছেড়ে যাবো কোথায়। (হৃদয়)
— অন্য কাউকে পেয়ে যদি আমায় ভুলে যাস তাহলে আমি মরে যাবো(কেঁদে কেঁদে)। (তাহয়িয়া)
— এই পাগলি কাঁদছিস কেন তোকে ছেড়ে কোথাও যাব না আমি। এখন ছাড় আমায়, এভাবে জড়িয়ে ধরে আছিস মানুষ কি ভাববে।(হৃদয়)
— যা ভাবার ভাবুক তাতে আমার কি আমি সারা জীবন তোকে এভাবে জড়িয়ে ধরো থাকতে চাই।(তাহয়িয়া
— ওকে থাকিস এখন অত্যন্ত ছাড়।(হৃদয়)
—ওকে যা ছাড়লাম।(তাহয়িয়া)
—-আজ আর ক্লাস করবো না তোকে নিয়ে ঘুরতে যাবো।(হৃদয়)
— সত্যি বলছিস।(তাহয়িয়া)
—-হুম চল।(হৃদয়)

এই বলে হৃদয় তাহয়িয়া কে নিয়ে ঘুরতে চলে গেলো। শুরু হলো বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। তাদের ভালোবাসার দিনগুলো ভালোই কাটছিল। মাঝে মাঝেই হৃদয় নানা ভাবে তাহয়িয়া কে রাগিয়ে দেয় আবার নিজেই রাগ ভাঙায়। তাহয়িয়া হৃদয় এর খুব খেয়াল রাখে। হৃদয় এর একটু কিছু হলেই তাহয়িয়া পাগলের মতো হয়ে যায়। হৃদয়কে ছাড়া তাহয়িয়া কিছুই বুঝে না। হৃদয় ও নিজেকে অনেক ভাগ্যবান ভাবে তাহয়িয়ার মতো মেয়ে কে পেয়ে দেখতে দেখতে প্রায় এক বছর হয়ে গেছে। এর মধ্যে দুষ্টু মিষ্টি প্রেম কিছু অভিমান কিছু রাগ কিছু মিষ্টি ঝগড়ার আর অফুরন্ত ভালোবাসার মধ্যে, তাদের এই ১ বছর কিভাবে যে চলে গেছে তারা বুঝতে পারেননি। তাদের দুজন দুজন কে নিয়ে কত স্বপ্ন কত আশা। আসলে হৃদয় তাহয়িয়া কে রাগাতে অনেক পছন্দ করে।তাহয়িয়া যখন রেগে তখন হৃদয় আবার তার রাগ ভাঙায়।আজ রাতে তাহয়িয়া আর হৃদয় ফেসবুকে চ্যাট করছে।

—কি রে পাগল খেয়েছিস। (তাহয়িয়া)
—হুম তুই খেয়েছিস।(হৃদয়)
—-হুম খেয়েছি।এই তর শরীর ঠিক আছে।আর তুই কিন্তু দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছিস।ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করিস না।দাড়া আর কয়েক টা দিন আগে তর ঘরের বউ হয়ে তর বাসায় যায় তার পর তর ব্যবস্থা করবো।(তাহয়িয়া)
—কি করবি রে।(হৃদয়)
—–তুই তো অনেক অগুছালো তাই তকে গুছিয়ে দিবো।(তাহয়িয়া) হৃদয় মনে মনে ভাবলো এবার পাগলী টাকে একটু রাগিয়ে দেই।
—-এই জানিস তুই অনেক পুরোনো হয়ে গেছিস তকে এখন আর আগের মতো ভালো লাগেনা আমার।(হৃদয়)
—ঐ কি বললি, তকে কাল কলেজে বুঝাবো। (তাহয়িয়া)

এই বলে তাহয়িয়া ফেসবুক থেকে চলে গেলো। হৃদয় ফোন দিলো কিন্তু তাহয়িয়া ফোন বন্ধ করে রেখেছে।হৃদয় ভাবলো কাল কলেজে পাগলি টা আমার বারো টা বাজাবে। আজ হৃদয় কলেজে এসেছে।এসে দেখতে পেলো তাহয়িয়া এখনো আসিনি কলেজ এ।তাই হৃদয় কলেজের গেট এর সামনে বসে আছে।এমন সময় হৃদয় এর অনেক আগের ফ্রেন্ড বৃষ্টি আসলো।

—-কি রে কেমন আছিস। (বৃষ্টি)
—ভালো,তুই কেমন আছিস।(হৃদয়)
—-হুম ভালোই আছি।আজকাল তো আর আমাদের সাথে কথায় বলিস না।তো তোর তাহয়িয়া আসে নাই এখনো কলেজে?(বৃষ্টি)
—আরে না।কাল রাতে তাহয়িয়া কে অনেক রাগিয়ে দিয়েছিলাম।সে মনে হয় আমার উপর অনেক রেগে আছে।(হৃদয়)
—তর এই বদ অভ্যাস টা এখনো গেলো না শুধু শুধু তাকে রাগিয়ে দেস কেন।(বৃষ্টি)
—আরে তাহয়িয়া কে রাগাতে অনেক ভালো লাগে আমার।(হৃদয়) এমন সময় বৃষ্টি দেখতে পেলো তাহয়িয়া রিক্সা দিতে আসছে।

—ঐ দেখ তাহয়িয়া আসছে।(বৃষ্টি)
—-এই দুস্ত তাহয়িয়া কে আরেক টু রাগিয়ে দেই।(হৃদয়)
—কিভাবে রাগাবি আবার।(বৃষ্টি)
—আমি তর কাধে হাত রেখে একটু হেসে হেসে কথা বলি। আর এটা দেখে তাহয়িয়া কিভাবে রেগে যাবে দেখবি।….(হৃদয়)
—এই না দরকার নেই।(বৃষ্টি)
—আরে দেখ একটু রাগিয়ে দেই পাগলী টাকে। (হৃদয়)

এই বলে হৃদয় বৃষ্টির কাধে হাত রেখে হেসে হেসে কথা বলার অভিনয় করতে লাগলো। তাহয়িয়া রিক্সা থেকে নেমে কলেজে ঢোকার সময় দেখতে পেলো গেটের সামনে বসে হৃদয় বৃষ্টির সাথে কাধে হাত রেখে কথা বলছে।এটা দেখে তাহয়িয়ার মাথায় যেন রক্ত উঠে গেলো।সে আর কলেজে ঢোকলো না।হৃদয় দেখতে পেলো তাহয়িয়া চলে যাচ্ছে কাদতে কাদতে।

হৃদয় তাহয়িয়া কে পেছন থেকে ডাকতে লাগলো।কিন্তু তাহয়িয়া তার কথা শুনছেই না।তাহয়িয়া রাস্তার এপাস থেকে ওপাসে যাচ্ছি কাদতে কাদতে।ঠিক এমন সময় একটা ট্রাক এসে তাহয়িয়ার গায়ে ধাক্কা দিলো।হৃদয় দেখতে পেলো তাহয়িয়ার রক্তাক্ত দেহ টা রাস্তায় পড়ে আছে।হৃদয় এর পা থেকে যেন মাটি সরে গেলো।হৃদয় এক চিৎকার দিয়ে দৌড়ে তাহয়িয়ার কাছে যেতে লাগলো।ঠিক এমন সময় আরেক টা গাড়ি এসে হৃদয় এর গায়ে ধাক্কা মারলো। আজ প্রায় ২ দিন পর তাহয়িয়া আর দুনিয়াতে নেই।হৃদয় এর উপর অভিমান করে চলে গেছে না ফেরার দেশে। তাহয়িয়া আর চাইলেও ফিরে আসতে পারবেনা না সেই দেশ থেকে। হৃদয় হাসপাতালের বেড এ শুয়ে আছে।হৃদয় এর তেমন কিছু হয়নি।হৃদয় তাহয়িয়ার ছবি টা বুকে নিয়ে কাদছে আর বলছে।

—সামান্য অভিমান করেই চলে গেলি আমাকে ছেড়ে।
—এখন আমি আর কাকে রাগাবো।
—-কার রাগ ভাঙাবো আমি।
—কে আমার খেয়াল রাখবে তর মতো করে।
—তুই না বলেছিলি আমার বুকে মাথা রেখে সারাজিবন থাকবি।তাহলে কেন চলে গেলি।
—তকে ছাড়া থাকতে আমার কত কষ্ট হয় তুই কি জানিস না।
–আমার এই বুক টা খালি করে কেন চলে গেলি।
—তুই ই যখন নেই তাহলে এই জীবন রেখে কি করবো আমি।
–প্লিজ তুই ফিরে আয় তকে আর কখনো রাগাবো না আমি। এসব বলতে হৃদয় ঘুমিয়ে পড়লো।হৃদয় ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে দেখতে পেলো,তাহয়িয়া তার মাথার কাছে বসে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর বলছে।

—খুব কষ্ট হয় আমায় ছাড়া তাই না।তুই জানিস তকে ছাড়া আমার কত কষ্ট হয়।
—একটা দিন ও তর সাথে কথা না বলে থাকিনি আর এখন থাকতে হবে।
—কখনো ভাবিনি তর থেকে এতো দূরে চলে আসবো।
—তর বুকে মাথা রেখে আর আমার ঘুমানো হলো না।
—তুই চিন্তা করিস না সব সময় ছায়ার মতো তর সাথে থাকবো।তুই হয়তো আমায় দেখতে পাবিনা।
—জানিস হৃদয় খুব মিস করবো তর সাথে কাটানো দিন গুলো কে।
–তুই তর জীবন টাকে নষ্ট করিস না।তর কষ্ট দেখে কি আমি থাকতে শান্তিতে থাকতে পারবো।
–বিধাতা হয়তো আমাদের মিলন চাইনি,তাই হয়তো তর কাছ থেকে আমাকে আলাদা করে দিলো।
—আর হে অন্য কাউ কে নিয়ে তুই নতুন সংসার শুরু করিস। তার মাঝেই তুই আমাকে খুজে নিস।

ভালো থাকিস  তুই কারন তর সুখেই আমি আমার সুখ খুজে পাই। এই সব বলে তাহয়িয়া চলে যাচ্ছে।হৃদয় চিৎকার করে ডাকছে কিন্তু তাহয়িয়া চলে গেলো।হৃদয় চিৎকার দিয়ে ঘুম থেকে উঠে পড়লো।আর বলতে লাগলো।

—কেন চলে গেলি তুই দূর হতে বহুদুরে। তাহয়িয়া হয়তো আর কখনো ফিরে আসবেনা কিন্তু স্মৃতি হয়ে সারাজিবন হৃদয় এর মনে বেচে থাকবে।

গল্পের বিষয়:
দু:খদায়ক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত