ছেলেটির নাম অপু তানভীর

ছেলেটির নাম অপু তানভীর

একটি শোক সংবাদ! একটি শোক সংবাদ! মরহুম খালেদ সাহেবের বড় ছেলে মোহাম্মদ অপু তানভীর আজ সকাল সাত ঘটিকায় ইন্তেকাল ফরমাইয়াছেন।ইন্নাল্লিল্লাহি ওয়াইন্না রাজিঊন।আজ বাদ জুমআ মরহুমের জানাযা অনুষ্ঠিত হইবে। জানাযায় শরীক হয়ে মরহুমের আত্নার মাগফিরাত কামনা করুন দু’চারটা পাখি বিরতিহীনভাবে ডেকেই চলছে কিচিরমিচির করে।মেঘের সাদা আভার মধ্যে সূর্যের আগমন হলেও তা একেবারেই প্রাণহীন।কিছুক্ষণ পর পর টেবিলটি কেঁপে উঠছে।অপু তানভীরের ঘুম ভাঙ্গার জন্যে এই কম্পনই যথেষ্ঠ। নিশি অপুর ক্লাসমেট।এই সাত সকালে তার কলই অপুর ছোট্ট টেবিলটিকে কাঁপিয়ে তুলেছে..কল ধরলো অপু।

-হ্যালো… হেলো, কই তুই??
-এইতো, বাসায় ঘুমাচ্ছি…
-কয়টা বাজে?
-জানিনা, কি বলবি বল..
-কলেজে আসবি না???
-হুমমম, আসছি তবে ক্লাস করবো না।

অপু তানভীর ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্র.. ছোট থেকেই এই কলেজেই পড়ছে।পড়ালেখায় ভালো, খারাপ দু’টো বিশেষণই তার পূর্বে রয়েছে। মোটামুটি স্টুডেন্ট বলা যায় না একারণেই যে ফার্স্ট, সেকেন্ড হওয়ার রেকর্ড যেমন রয়েছে ফেইল হওয়ার রেকর্ড ও রয়েছে তার দখলে কলেজ লাইফে সাধারণতঃ ছেলেরা যে মেয়েকেই দেখে লাভ এট ফার্স্ট সাইট হয়ে যায় অজান্তেই।এ মহামারী রোগ থেকেও মুক্ত অপু। ক্লাসের সুন্দর, মেধাবী ও ভদ্র মেয়ে নিশি..মনে হয় অপু ছাড়া এমন কোনো ছেলে নাই যে নিশিকে ফটানোর চেষ্টা করেনি।

ওই যে ফিরিয়ে দেওয়ার কমন ঔষধ “আমরা শুধুই বন্ধু” দিয়েই সে সবাইকে ফিরিয়ে দেয়। খুব সুন্দর ভাবেই দিন যায় অপুদের..তিন ভাই ও দু’বোন নিয়ে তাদের পরিবার। অভাব- অনটন এর ধরা ছোঁয়াও নেই তাদের পরিবারে.. ঘুরাঘুরি, আড্ডা দেওয়া অপুর কাজ। পরিবারের কাজে একেবারে থাকে না বললেই চলে..মাসে দু’দিন ও সে বাজার করে না..এগুলো নিয়ে কিছু দুষ্ট-মিষ্ট ঝগড়া হলেও অপুর বাবার কারণে তা কখনো টেকসই লাভ করে না..তার বাবাই একেলা সব সামাল দেয়।প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করে অপুর বাবা বুকের মধ্যে দু’চারদিন ধরে চিনচিন করে উঠে অপুর.. কেনো এমন হয় এর উত্তর অপু নিজেও জানে না রাত তখন আট কি নয়টা অপুর মোবাইটা বেজে উঠে..

-আপনি কি খালেদ সাহেবের ছেলে তানভীর??(ওপারের কন্ঠ)
-জ্বি, আমি অপু তানভীর। কিন্তু আপনাকে তো চিনলাম না..
-আমি তোমার আব্বুর বন্ধু তোমাকে একটু ঢাকা মেডিকেল আসতে হবে এখুনি তোমার আব্বু অসুস্থ আমরা আছি এখানে..তুমি আস বুকের ভিতরের কম্পনটা শতগুণ বেড়ে গেলো অপুর।বাসা থেকে সোজা মেডিকেল চলে আসলো..বাসায় তার আম্মুকে ও জানায় নি সে।কেনো জানি মন সায় দেয়নি তাতে। এসে কল দিতেই তার আব্বুর বন্ধুকে পেয়ে গেলো। হতাশা আর বিষন্ন ভরা তার মুখ।নিজেকে সামলে নিয়েই অপুকে বলে উঠলেন তিনি..

-অ্যাংকেল, জীবন মৃত্যু সব আল্লার হাতে..নিজেকে শক্ত করো..তুমি পরিবারের বড় সন্তান..খালেদ আর নেই…
তাঁর কথা বলা শেষ হলো না..অপুর চোখে পানি টলমল করছে.. কিছুই সে দেখতে পারছে না, সামনে ঘুরে পড়তেই মিজান সাহেব তাঁকে ধরে ফেললেন।তার মুখেও সান্তনার দেয়ার মতো ভাষা নেই..ঝাপসা চোখের এককোণে কিছু পানি টলমল করছে তারও।

দাফন কাফন শেষ হয়েছে আজ এক সপ্তাহ হলো..গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানেই সব সম্পন্ন হয়েছে..তার একমাত্র বড়বোন ঢাকা কলেজে অনার্স এ পড়ছে.. ছোটবোন এবার নিউটেন এর ছাত্রী।ছোট দু’ভাই একজন তৃতীয় শ্রেণি আর একজন এখনো মায়ের কোলে লুকোচুরি খেলে।গ্রামে থাকা অসম্ভব প্রায়।সবার এডমিশন রাজধানীতে।পারিবারিক ভাবে এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে নি কই থাকবে তা নিয়ে প্রতিটি আলেচনায় অপু ছিলো। পরিবারের মোটামুটিভাবে সবাই চলে চলে গেছে।সবশেষে অপুই বললো রাজধানীতেই থাকবে যত কষ্টই হোক। আজ সকালেই অপুরা শহরে চলে এসেছে ভঙ্গুর পরিকল্পনা নিয়ে।বাসা ভাড়া, খানা খরচ, স্কুল ও কলেজ ফি কে দিবে? কোত্থেকে আসবে তার কোনো হিসাব নেই। খানা খরচ হয়তো বা বড় আপুর টিউশন ফি তে চলে যাবে।কিন্ত বাসা ভাড়া ও অন্যান্য খরচ আসার কোনো পথ নেই।সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিলো এ দু’মাসের বাসা ভাড়া নিয়ে তার একটা সমাধান হয়েছে বাসা নেয়ার সময় যে দু’মাসের ভাড়া অ্যাডভান্স দিয়েছিলো তা এখন কেটে নেয়া হবে।

বাবার ডিপিএস ভেঙ্গে, গ্রামে হালকা কিছু জায়গা জমি ছিলো তা বিক্রি করে ৫ লাখের মতো টাকা পেয়েছে। ড্রাইভিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছে অপু। কিস্তি দিয়ে একটা টেম্পু কিনেছে সে। এখন সে ঢাকা শহরে টেম্পু চালায়। বাসায় কাঁচাবাজার এর খরচ আর বাসা ভাড়া দেয় অপু।বাজারের বাকি খরচটা আসে বোনের টিউশন ফি থেকে।ছোটবোনকে আগের প্রাইভেট স্কুলেই রেখেছে। খরচ একটু বেশি হলেও সামলে নিতে শিখে ফেলেছে অপু।
প্রায় চারমাস কলেজে যাওয়ার সুযোগও পায়নি অপু। একবার গিয়ে প্রিন্সিপাল এর সাথে দেখা করে এসেছিলো।তাই আর সমস্যা হয়নি।তার বন্ধুরা কল দিলেও এটা ওটা বলে উড়িয়ে দিতো অপু, জানতেই দিতো না তার অবস্থা। সে চাইতো না তার বন্ধুরা তাকে করুণার চোখে দেখুক। আজ কলেজে এসেছে অপু, ঠিক আগের সে অপুই। মনে হচ্ছে হাজার বছর পর এসেছে এই কলেজে ।মুখের মধ্যে অকৃত্রিম কালো চিন্তার রেখাটা ছাড়া কোনো পার্থক্যেই নেই।  ক্লাস শেষ করে বেরিয়ে যাচ্ছিলো। ঠিক সে সময়ে পিছন থেকে ডাক দিলো নিশি..

-অপু কই যাস?
– বিলেতে!!
-তোর কাছে তেড়া কথা ছাড়া ভালো কথা নাই?
-কিছু বললে বলে ফেল..ভনিতা দেখার সময় নাই।
-তাই। ওও থাকবে কেনো? ঘরে চারটা বৌ আছে।তিন চারে বারোটা সন্তান আ……
-বাই!! অপু জানে নিশি তাকে ভালোবাসে। অপুর ও ভালোলাগে তবে প্রেম-ভালোবাসার নাটকের উপর যথেষ্ঠ এলার্জি ছিলো অপুর।

অপু – নিশি কেউ কখনোই প্রকাশ করতো না এই ভালোলাগা। কিন্তু আজ এ কঠিন সময়ে অপু নিশি কে আরো এড়িয়ে চলে। এ মুহূর্তে প্রেমের জালে ঝড়িয়ে পড়তে চায় না অপু। ভালো লাগা মনের মাঝেই রেখে দেয় অপু। নিশির কল মেসেজ সবদেখেও রিপ্লাই দেয় না অপু না। কর্মব্যস্ততার ফাঁকে এখন সময় খুজে অপু পড়ার জন্য। টেষ্টে দু’বিষয়ে ফেইল। ফাইনাল দিতে দিবে না অপুর কলেজ।অপু আগে কলেজেও জানায়নি তাঁর বাবার কথা, পরিবারের কথা। আজ ওর জীবনের শেষ স্বপ্নটুকুও ভেঙ্গে যাচ্ছে।না পারছে বলতে পরিবারের কথা, না পারছে ফাইনাল পরীক্ষা না দিয়ে থাকতে। ওর বড়বোন জানতে পেরে কলেজে এসে ম্যানেজ করেছে সব।কথায় আছে দেয়ালের ও কান আছে। কথা বাতাসের ও আগে চলে।

নিশির কাছে আজ সব দিবালোকের মতো স্পষ্ট। অপুর উপেক্ষাকে সে এদ্দিন ভালোভাবে নেয় নি। ভেবেছিলো প্রেমে জড়িয়েছে অপু। অপুর প্রতি তার ভালোলাগা শতগুণে বেড়ে গিয়েছে।জানার পর থেকেই অপুর সাথে কথা বলার জন্য উদগ্রীব হয়ে রয়েছে নিশি।নিশি চায় এ বিপদে পাশে থাকতে অপুর।শুধু নিশি নয় তাঁর বন্ধুরাও চায়।কিন্তু অপু চায় না।অপু ভাবে ওরা করুণা করতে চায় তার প্রতি। যে অপু একসময় হোটেলে নাস্তা করে বিল না দিয়ে সবার আগে কেটে পড়তো ঠিক সেই অপু আজ অন্যকাউকেই বিল দেয়ার সুযোগ দেয় না।

টেম্পোর ইনকামে দিব্যিই কেটে যাচ্ছে অপুর পরিবার। ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে অপুর। এ- মাইনাস পেয়েছে অপু। এ রেজাল্টের পর পড়ালেখার ও ইতি টেনেছে অপু। যদিও জানতো এ রেজাল্ট তার জন্য খারাপ ছিলো না।
সবাই অনুরোধ করেছে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে কোনোরকম ।কিন্তু অপু অবিচল তার সিদ্ধান্তে। অপুর কোনোটেনশনই ছিলো না । রাতদিন খেটে দিন এনে দিন চালিয়ে দিতো অপু। টেনশানমুক্ত এ জীবন হঠাৎ টেনশনে ভরপুর হয়ে গেলো। তার মাথায় আসলো তার বড় বোনের বিয়ে দিতে হবে। অনার্স শেষ তার আপুর। চারদিক থেকে অপুর বোনের জন্য বিয়ের প্রস্তাব আসতো।অপুর মা চাইতো কোনভাবে বিয়ে দিয়ে দিতে।কিন্তু অপু এ ব্যাপারে বড্ড সচেতন। অপুর বোন কিছুই বলতো না এ বিষয়ে।

অপু সকাল ছ’টা থেকে রাত বারোটা পর্যন্ত রাস্তায় থাকতো। এখনো এক কিস্তি বাকি রয়ে গেছে টেম্পোর। এদিকে বোনের বিয়ের প্রস্তাব।পরিবার থেকে লাখ দু’লাখ টাকা সাহায্যে করলেও তা যথেষ্ঠ নয়। ঠিক এসময়ে অপুর বোনের বান্ধবী একটা প্রস্তাব নিয়ে এসেছে। ছেলে ঢাকা ভার্সিটিতে সি.এস.সি থেকে মাস্টার্স করেছে।একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করে। অপু খোঁজ খবর নিয়ে সবকিছু পজিটিভ পেলো। অপু মোটামুটি কথা চালিয়ে যাচ্ছে.. কিছুটা এড়িয়েও যাচ্ছে সময় বাড়াতে চায় টাকার জন্য।  দিন তারিখ ঠিক করার জন্য এসেছে ছেলেপক্ষ। সবকিছুর মধ্যে ছেলের বাবা কিছু কঠিন শর্ত বেধে দিলো হাজার দেড়েক বরযাত্রী খাওয়াতে হবে।

বিয়ের অনুষ্ঠান ঢাকায় করতে হবে। মোটামুটি ভালোকোনো ক্লাবে। তবে ছেলে পক্ষ গর্বের সাথেই বলেছিলো ওরা কোনো যৌতুক নিবে না।অপু এগুলো শুনার পর রিজেক্ট করে দিয়েছে কৌশলে অপুর বড় মামার মাধ্যমে।
ঠিক এর পরের দিন অপুর বোনের মোবাইলে আলোচনা শুনে বুঝতে পারলো ছেলেটার সাথে ওর বোনের রিলেশন আছে। অপুর মাথায় কাজ করছিলোনা কি করবে ও।ওর সামনে এখন দু’টো বিষয় অপুর বোনের রিলেশন ও ভালো একটি পরিবার।

অপু ছেলের সাথে আবার নিজে একান্তে দেখা করলো ছেলে বলছে ও ওর বাবার উপরে যেতে পারবে না।আবার ওর বাবার দেয়া এতো বড় শর্তের বিরোধীও। ছেলে অপুকে কিছু সাহায্যে ও করলো। নিজ থেকে গোপনে একলাখ টাকা দিয়ে দিলো। কোনো শর্তছাড়া এ টাকা আবেগেরবশে নিয়ে এখন বিপাকে পড়ে গেলো অপু। এখন ছেলের পরিবারকে কিভাবে ফিরাবে। সবকিছু মিলিয়ে অপু কার্টছিট করে হিসাব করলো সাতলাখ টাকা লাগবে বিয়েতে। ফ্যামিলি থেকে দু’লাখ, ছেলের থেকে একলাখ, অপু নিজে জোগাড় করলো এক লাখ, আরো তিনলাখ।টেম্পো দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গেলে ব্যাংক এতো টাকা লোন দিতে পারবে না বলেই দিয়েছে।
ছেলেপক্ষ আবার দিনতারিখে ঠিক করার জন্য বসবে, দু’দিন পর।

অপু এবার ডিসিশন নিয়েই নিলো কিডনি বিক্রি করে হলেও এ বিয়ে সে দিবে।ঢাকা মেডিকেল এ গিয়ে যোগাযোগ করে সে এক পরিবারের সাথে কথাও বলে ফেললো।ঐ পরিবারের একজনের কিডনি লাগবে খুব খানদানী পরিবার। অপু একেবার পাঁচলাখ টাকা দাবি করে বসলো নির্লজ্জ ভাবে।ও ভাবেইনি এতো টাকা কেউ দিবে! কিন্তু ওই পরিবার ও এতে রাজি। অপু দিনতারিখ সব ঠিক করে ফেললো।ফ্যামিলির সবাই তো হতবাক কারণ অপু ছেলে পক্ষের সব শর্ত মেনে নিয়েছে।

অপুর পরিবার টাকার কথা বলতেই অপু বললো সে একজনের সাথে চুক্তি করি চারলাখ টাকা নিয়েছে এ শর্তে যে ও বিদেশে গিয়ে সুদে আসলে শোধ করবে। ড্রাইভারির একটা ভিসা পেয়েছে ও।পরিবার থেকে নানা প্যাঁচ ও ধরলো সবাই বলে ভিসা করতে মিনিমাম পাঁচ ছ’মাস লাগে। অপু সবকিছু সাজিয়েই রেখে ছিলো।তাই ঝামেলা হয় নি। অপু বললো দু’দিন পর ওর ফ্লাইট ও চলে যাবে। ভিসার নকল কিছু কাগজ প্লেনের টিকিট এগুলো দেখিয়ে সে ম্যানেজ করে ফেললো।

এয়ারপোর্টে বিদায় এর একটা ছোটখাটো নাটক এর সমাপ্ত ও করে ফেললো।অপু আগেই বলে দিয়েছে অপু যাওয়ার তিনদিন পরে ওর বন্ধুর মাধ্যমে চারলাখ টাকা পাঠাবে। একলাখ টাকা নিজের খরচ বাবদ রেখেই দিয়েছিলো।
নিশির মাধ্যমে অপু তার পরিবারকে টাকা পাঠিয়েছে পাঁচদিন আগে। অপুর টেম্পো সে একজন বিশ্বস্ত গরীব ছেলেকে দিয়ে এসেছে যাতে করে অপু মারা গেলেও যেনো ওই ছেলে ওই টেম্পো চালিয়ে ইনকাম করতে পারে এবং দৈনিক কোম্পানিকে টেম্পো ভাড়া নেয়ার সময় যে টাকা দিতে হয় সে টাকা তাঁর পরিবারকে দিবে এ শর্তে। এগুলো সব চুক্তিকরে অপু এখন ডোনেট বিভাগের অপারেশন থিয়েটরের সামনে আর একঘন্টা পরে অপুর অপারেশন।

খানদানী পরিবারের সদস্যরা, নিশি এবং বিশ্বস্ত গরীব ছেলেটি বসে আছে। নিশির ঝাপসা চোখের এককোণে কিছু পানি লুকোচুরি খেলছে। বড্ড ভালোবাসতো নিশি অপুকে কিন্তু কখনো মনের কথাটি বলাই হয় নি।সে জানে না অপু জানে কিনা সে যে তাকে ভালেবাসে এটা?  অপুর সেদিকে খেয়াল নেই সে পলকহীন চোখে তাকিয়ে আছে মোবাইল স্ক্রিনের দিকে.. তার বোনকে দেখছে কনের সাজে? গায়ে হলুদের এক একটি করে সব ছবি দেখেই যাচ্ছে। অপারেশন থিয়েটরে ডাক্তাররা এদিকওদিক ছুটোছুটি করছে মেডিসিন স্পেশালিষ্ট সার্জারি বিশেষজ্ঞ রা প্রায় সবাই এ থিয়েটরে। সবকিছু ঠিকঠাক চলছিলো।একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে এ অবস্থা।তাই এতো ছুটোছুটি ডাক্তারদের।কোমায় গিয়েছে। অপারেশন এর সময় মনোবল শক্ত থাকতে হয়।  সে মনোবল ছিলোনা বলে হয়তো এ অবস্থা।

অপারেশন থিয়েটরেই একটি প্রাণহীন নিথর দেহ পড়ে রয়েছে। হ্যাঁ লাশটি অপুর, অপু তানভীরের।পাশেই ঝাপসা চোখে পলকহীনচোখে বাকহীন নিশি নামের একটি মেয়ে বসে আছে। দু’চোখে পানি টলমল করছে।খানদানী পরিবারটি হাসিমুখে থাকার কথা কিন্তু সবার মুখ বিষন্ন। আদিবা টেম্পোর নতুন মালিক বিশ্বস্ত ছেলেটিও চোখে টলমলে পানি নিয়ে নিশির হাতে একটি কাগজ ধরিয়ে দিয়ে বললো ভাইয়া দিছে আপনার জন্য।খুলে পড়তে শুরু করলো : স্যরি নিশি, আড়াই বছর ধরে তোকে অনেক কষ্ট দিয়েছি।এড়িয়ে চলেছি।ভুল বুঝিস নারে আমায় নিশি।এ ছাড়া উপায় ছিলো নারে আমার।বড্ড বেশি ভালোবাসিরে তোকে। তোর মেয়ে হলে মেয়েটির নাম রাখিস আদিবা।আমার দেয়া তোকে একমাত্র উপহার। ইতি- অপু তানভীর

গল্পের বিষয়:
দু:খদায়ক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত