বাস্তবতা অনেক কঠিন

বাস্তবতা অনেক কঠিন

ফায়ার সার্ভিসের মোড়ে অনেকক্ষন ধরে দারিয়ে আছে নিবিড়।তিশার আসার কথা দশটাই কিন্তু এখন দশটা পেড়িয়ে

সাড়ে দশটা বাজছে তবুও তিশার আসার কোন নাম নেই।নিবিড় অনেকবার ফোন দিয়েছে কিন্তু তিশা ফোনটা রিসিভ করছেনা।

প্রায় পনের বার ফোন দেওয়ার পর ফোনটা রিসিভ করল তিশা

নিবিড়:কি ব্যাপার ফোন ধরছোনা কেন।
তিশা:ফোনের কাছে ছিলাম না।
নিবিড়:তুমি এখন কোথায়।
তিশা:আমি বাসাতেই আছি।
নিবিড়:তুমি এখনো বাসা থেকেই বের হওনি।আমি সেই দশটা থেকে দাড়িয়ে আছি।
তিশা:আমি ঠিক সময়েই বাসা থেকে বের হচ্ছিলাম হঠাৎ আম্মু অসুস্থ হয়ে গেল।

তাই আম্মুকে ঔষধ খাইয়ে ঘুম পাড়াতে যেয়ে একটু লেট হয়ে গেল।তুমি আর দশ মিনিট দাড়াও আমি আসছি।
নিবিড়:আচ্ছা সাবধানে এসো।
তিশা:হুম আসছি।
এই বলে ফোন কেটে দিল তিশা।নিবিড় আর তিশার সম্পর্ক হচ্ছে তারা একে অপরকে ভালবাসে।

তাদের পরিচয়টা হয়েছিল ২বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে। প্রথম প্রথম তাদের মাঝে অল্প কিছুক্ষণ

চ্যাট হত কিন্তু সময় বাড়ার সাথে সাথে তাদের চ্যাটের পরিমান ও বাড়তে থাকে যার ফলে তারা একে

অপরের সম্পর্কে জানতে পারে।তখন নিবিড় পড়ত রাজশাহী কলেজে অনার্স ১ম বর্ষে আর তিশা সিটি

কলেজে ইন্টার 2d ইয়ারে। তাদের বাসাও ছিল রাজশাহীতে।যদিও নিবিড় আর তিশার কলেজ কাছাকাছি ছিল

কিন্তু তাদের প্রতিদিন দেখা হত না কারন তিশার যে দিন ক্লাস থাকত সেদিন নিবিড়ের থাকতনা আবার নিবিড়ের

যেদিন ক্লাস থাকত সেদিন তিশার থাকতনা।প্রতিদিন দেখা না হলেও তাদের প্রতিদিন কথা হত।

এতে করে তাদের মাঝে খুব সুন্দর একটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে।তারা প্রায় দিনের বেশিরভাগ সময়

এবং অনেক রাত পর্যন্ত ফেসবুকে চ্যাট করত।বলতে গেলে তাদের অধিকাংশ সময়ই কাটত ফেসবুকে চ্যাটের মধ্য দিয়ে।

এর কারনে আসতে আসতে তাদের বন্ধুত্বের সম্পর্কটা অনেক গাড় হয়ে যায় এবং তারা একে অপরের ফোন নাম্বার আদান প্রদান করে।

কিন্তু তিশার প্রবলেম থাকার কারনে তারা ফোনে কম কথা বলত বেশির ভাগ সময় তারা চ্যাট করত।

তিশার কন্ঠটা অনেক সুন্দর ছিল যা নিবিড়ের কাছে খুব ভাল লাগত।মাঝে মাঝে তারা দেখা করত

তবে বেশির ভাগ সময় তারা এক জায়গাতেই দেখা করত আর সেটা হল বি.জি.বি তে। দেখতে দেখতে তাদের বন্ধুত্বের প্রায় ১ বছর পার হয়ে গেল।

তারা বুঝতেই পারেনি এই ১টা বছর কিভাবে পার হয়ে গেল।নিবিড় এই এক বছরে অল্প অল্প করে অনেক বেশি ভালবেসে ফেলেছিল তিশাকে।

কিন্তু বন্ধুত্ব হারানোর ভয়ে বলতে পারছিলনা। তারপর কোন এক গভীর রাতে তারা দুজন ফোনে কথা বলছিল।

তখন নিবিড় ভাবল আজ যেভাবেই হোক তিশাকে আমার মনের কথা বলব।তখন নিবিড় তার মনে অনেক সাহস সঞ্চয় করে,

এবং সব ভয়কে জয় করে তার ভালবাসার কথা তিশাকে জানায়।তিশা প্রথমে একটু অবাক হয়ে যায়

সে ভাবতে পারেনি নিবিড় তাকে ভালবাসার কথা বলবে কারন নিবিড় ছিল খুবই চাপা স্বভাবের ছেলে।

তিশার অবাকের ঘোর যখন কাটল তখন সে খুশিতে রাজি হয়ে যায়।কেননা তিশাও মনে মনে নিবিড়কে ভালবাসত।

সেই রাত থেকেই তাদের ভালবাসার পথ চলা শুরু হয়েছিল।আর তিশাও এই ১বছরে ইন্টার পাশ করে মহিলা কলেজে অনার্সে ভর্তি হয়েছে।

তারপর থেকে কেটে গেছে অনেকটা সময়।এখন তাদের ভালবাসার বয়স প্রায় ৭ মাস পেড়িয়ে গেছে।

খুব ভালই দিন কাটতেছিল তাদের কিন্তু বিপত্তি ঘটল হঠাৎ তিশার আম্মু অসুস্থ হয়ে যাওয়ার কারনে।চিকিৎসা করে জানা গেল উনার ক্যান্সার হয়েছে।

এই কথা শোনার পরে তিশা অনেকটা ভেঙ্গে পড়ে।আগের সেই হাসি খুশি থাকা মেয়েটা হাসতে ভুলে গেছে।

যে ছিল অনেকটাই চঞ্চল সে এখন একেবারেই নিরব হয়ে গেছে। সে তার মাকে অনেক ভালবাসত তার মায়ের

এই অসুখটা তিশা কিছুতেই মেনে নিতে পারেনা।এখন তিশা সবসময় তার মায়ের কাছেই থাকে

আর নিরবে চোখের জল ফেলে।তিশার সাথে নিবিড়ের আর আগের মত দেখা হয়না কথা হয়না।

যতটুকু সময় কথা হয় নিবিড় তিশাকে সান্তনা দেয়ার চেষ্টা করে কেননা এটা ছারা যে নিবিড়ের আর কিছুই করার নেই।

নিবিড় এখন সবসময় নামায পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করে যাতে আল্লাহ আম্মুকে সুস্থতা দান করে।

তিশা আর নিবিড় তারা একে অপরের মা বাবাকে আব্বু আম্মু বলে সম্মধন করে।নিবিড় তিশাকে প্রচন্ড ভালবাসে

সে তিশাকে কোন ভাবেই হারাতে চায়না।কিন্তু এখন তিশার সাথে নিবিড়ের কথা হয় না বললেই চলে।

নিবিড় কিছুদিন ধরে একটা জিনিস লক্ষ করে দেখছে যে তিশাকে ফোন দিলে তিশা ফোন রিসিভ করেনা

আর করলেও ভাল করে কথা বলেনা অনেক বাজে ব্যবহার করে।তিশা কেন এমন করে নিবিড় কিছুতেই বুঝতে পারেনা।

গতকাল রাতে তিশা নিজে নিবিড়কে ফোন দিয়ে আজকে দেখা করতে বলেছে।সেজন্য নিবিড় আজকে তিশার সাথে দেখা করতে এসেছে।

প্রায় ২০মিনিট পর তিশা আসল।তো তারা সেখান থেকে তাদের চিরচেনা জায়গা বি.জি.বি তে গেল

যেখানে তারা প্রায়ই দেখা করত।তারা দুইজন পাশাপাশি বসল নিবিড় প্রথমে কথা বলা শুরু করল।
নিবিড়:আম্মুর এখন কি অবস্থা।
তিশা:ব্যাথাটা দিন দিন বেড়েই চলেছে কমছেনা।
নিবিড়:তুমি টেনশন করনা বাবু আম্মু সুস্থ হয়ে যাবে।
তিশা:হুম দোয়া কর।
এই কথা বলার পরে হঠাৎ তিশার মুখটা মলিন হয়ে গেল এবং সে আবার নিরব হয়ে গেল।

নিবিড় বুঝতে পারল তার আম্মুর জন্য কষ্ট হচ্ছে।তিশা এমনিতে অনেক শক্ত মেয়ে সহজে কান্না করেনা।

কিন্তু মায়ের এমন অবস্থা দেখে কোন মেয়েই ঠিক থাকতে পারবেনা তিশাও হয়ত তাদের মধ্যে একজন।

তারপর তিশা একটু শক্ত হয়ে মুখটা কঠোর করে বলল
তিশা:নিবিড় তোমাকে একটা কথা বলার জন্য এখানে ডেকেছি।
নিবিড়:হুম বল।
তিশা:জানিনা তুমি কথাটা কিভাবে নিবা কিন্তু এটা ছাড়া যে আমার আর কোন উপায় নেয়।
নিবিড়:কি এমন কথা বলত শুনি (কিছুটা ভয় পেয়ে)
তিশা: নিবিড় আমাদের সম্পর্কটা এখানেই শেষ করতে হবে (অন্নদিকে তাকিয়ে বলল)
নিবিড়:কি বলছ এসব তুমি।(অবাক হয়ে)
তিশা:আমি ঠিকি বলছি।
নিবিড়:কিন্তু কেন তুমি এসব কথা বলছ।
তিশা:কারন তোমার আমার মিলন সম্ভব না।
নিবিড়:কেন সম্বভ না।(আরও বেশি অবাক হয়ে)
তিশা:তোমার আমার সম্পর্ক আমার ফ্যামিলি কখনো মেনে নিবে না।
নিবিড়:একবার তাদের কে বলে তো দেখ।
তিশা:তুমি আমার ফ্যামিলির মানুষদের চিননা আমি চিনি।তারা এটা কখনো মেনে নিবে না।

আর কি বলব তাদের তুমিতো কিছুই করনা তুমিতো বেকার এজন্য তারা এই সম্পর্কটা কখনো মেনে নিবে না।
নিবিড়:আচ্ছা আমাকে কিছুদিন সময় দাও যাতে আমি একটা কর্মের ব্যবস্থা করতে পারি।
তিশা:সেই সময়টাই যে আর হাতে নেই।
নিবিড়:তাদের সাথে অন্তত একটা বার কথা বলার সুযোগ দাও।।
তিশা:কথা বলে কিছু হবেনা আর আমি চায়না আমার কারনে বাসাতে নতুন করে অশান্তি সৃষ্টি হোক।
নিবিড়:প্লিজ আমাকে একটা বার সুযোগ দাও।(অনুরোধ করে)
তিশা:তুমি বোঝার চেষ্টা করছনা কেন তুমিতো যান আম্মু কতটা অসুস্থ আর আমি এইসব কথা বলে আম্মুকে আরও অসুস্থ করতে চায়না।
নিবিড়:তুমি একবার আম্মুর সাথে আমাকে কথা বলতে দাও আম্মু রাজি না হলে আমি আর কিছুই বলবনা।(হাত ধরে)
তিশা:তুমি আমাকে মাফ কর আমি এই সব কথা বলে আমার মায়ের মৃত্যুর কারন হয়ে বেচে থাকতে পারবনা।

এখন আম্মু আমাকে যেটা বলবে সেটাই করতে হবে কেননা আমি নিরুপায়।
নিবিড়:সেটা বুঝলাম।কিন্তু তুমি আম্মুকে আমাদের ব্যাপারটা একবার বলে তো দেখ।
তিশা:তুমিকি বুঝতে পারছনা এই কথা বললে আম্মুর কি অবস্থা হবে।
নিবিড়:তাহলে আমি কি করব বল।(কাদো কাদো হয়ে)
তিশা:এখন আর কিছুই করার নেই।আম্মুর অবস্থা খুব একটা ভাল না তাই আম্মু চাই তার

কিছু হয়ে যাওয়ার আগে তার পছন্দ করা ছেলের সাথে আমার বিয়ে দিতে।

এজন্য আমি ভেবে রেখেছি আম্মু যার সাথে আমার বিয়ে দিতে চাই আমি তাকেই হাসিমুখে বিয়ে করে নেব।
নিবিড়:তুমি আমাকে ছাড়া থাকতে পারবা?(চোখে পানি টলমল করছে)
তিশা:থাকতে না পারলেও বাস্তবতা মেনে নিয়ে থাকতে হবে।
নিবিড়:কিন্তু আমি তোমাকে ছাড়া কিভাবে থাকব।আমি যে তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবনা।(কেদে দিয়ে)
তিশা:তুমিও থাকতে শিখে যাবা আমি জানি তুমি আমাকে অনেক ভালবাস।

আর এটাও জানি তোমার মত আমাকে আর কেউ ভালবাসতে পারবেনা।

কিন্তু আমার যে কিছুই করার নেই।(কথা গুলো বলার সময় তার অনেক কান্না পাচ্ছিল তবুও কান্না

চেপে রেখেছিল কারন নিবিড়ের সামনে কাদলে নিবিড় নিজেকে ঠিক রাখতে পারবেনা)
নিবিড়:তোমাকে ছাড়া আমি বাচবনা মরে যাব।(কেদেই চলেছে)
তিশা:কেউ কখনো কারো জন্য মরে না তুমিও মরবেনা বেচে থাকবে।

তবে তুমি চাইলে আমরা বাকিটা জীবন খুব ভাল বন্ধু হয়ে থাকতে পারি

আমি তোমাকে একেবারে হারাতে চায়না অন্তত বন্ধু হয়ে পাশে থেকো প্লিজ।
নিবিড় আর কিছু বললনা চুপ করে থাকল। তারপর দুইজন কিছুক্ষন নিরবতা পালন করল।

তিশা যে বুকে কতটা কষ্ট নিয়ে এই কথা গুলো বলেছে সেটা নিবিড়ের অজানা না।

নিবিড় ও জানে তিশা তাকে অনেক ভালবাসে কিন্তু বাস্তবতার কারনে আজ তিশাকে এই কথা গুলো বলতে হল।

আসলে তিশার কাছে এই সম্পর্কটা অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে।তিশার আম্মুর যখন এই অসুখটা ধরা পড়ে তখনি তিশা বুঝতে

পেরেছিল সে আর নিবিড় এক হতে পারবে না।এই জন্য তিশা নিবিড়ের ফোন ধরতনা তার সাথে দেখা করত না

আর ফোন ধরলেও অনেক খারাপ ব্যবহার করত।কারন তিশা জানত তাদের এই সম্পর্কটা আর পূর্ন্যতা পাবেনা।

তাই অযথা মায়া বাড়িয়ে কোন লাভ নেই।তিশা অনেক আগেই এই কথা গুলো নিবিড়কে বলতে চেয়েছিল

কিন্তু নিবিড় তিশাকে পাগলের মত ভালবাসত।আর এই কথা গুলো বললে নিবিড় সহ্য করতে পারতনা এজন্য তিশা

ভয়ে বলতে পারেনি।কিন্তু তিশা একটা জিনিস ভেবে দেখল প্রতিদিন একটু একটু কষ্ট দেওয়ার চাইতে একদিন

বেশি কষ্ট দিয়ে তাকে এই সম্পর্কটা শেষ করতে হবে।আর তাইতো আজকে বুকে পাথার রেখে তিশা নিবিড়কে এই কথা গুলো বলল।

তাদের দুইজনের নিববতা ভেঙ্গে নিবিড় বলে উঠল
নিবিড়: কখনো ভেবেছিলাম না বাস্তবতার কারনে আমাদেরকে এভাবে আলাদা হয়ে যেতে হবে।

হয়ত আল্লাহ চাইনি আমরা কখনো এক ডোরে আবদ্ধ হই।অনেক মানুষেরই তো অনেক স্বপ্ন আশা

পূরন হয়না আমরাও না হয় তাদের দলেরই হলাম।তোমাকে বলার অনেক কিছুই রয়ে গেল সেগুলো আর বলা হলনা।

শুধু তোমায় এতটুকু বলতে চাই সবসময় আম্মুর পাশে থেক আম্মু যা বলে তাই শোন আর আম্মু যার সাথে বিয়ে দিতে চায় তাকে বিয়ে করে নিও।

(কথা গুলো বলার সময় কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছিল)
নিবিড়ের মুখ থেকে কথা গুলো শুনে তিশা নিজেকে আর সামলাতে পারছেনা। বার বার তার মনে হচ্ছে নিবিড়ের বুকে

ঝাপিয়ে পড়ে হাউমাউ করে কেদে দেয়। কিন্তু এতে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে তখন নিবিড়কে সামলানো মুশকিল হয়ে যাবে।

তখন তিশা নিজেকে কন্ট্রোল করে কথা ঘুরানোর জন্য বলল
তিশা:নিবিড় এখন উঠতে হবে আম্মুকে ঔষুধ খাওয়ানোর সময় হয়ে গেছে।(অন্ন দিকে তাকিয়ে)
নিবিড়:আরেকটু বসলে হয়না।আর তো কখনো এভাবে বসা হবেনা।(আকুতি ভরা কন্ঠে)
না তিশা আর সহ্য করতে পারছেনা।মনে হচ্ছে নিবিড়ের আকুতির কাছে হার মেনে যাবে।

কিন্তু তিশা তার মনকে বুঝাচ্ছে আমাকে এভাবে হার মানলে চলবেনা আমাকে অনেক শক্ত হতে হবে অনেক শক্ত।তখন তিশা বলল
তিশা:না নিবিড় এমনি অনেক দেরি হয়ে গেছে আমি আর দেরি করতে চাচ্ছি না।(কঠোর হয়ে)
নিবিড়:আচ্ছা ঠিক আছে চল।
এই বলে তারা দুইজন যে যার বাসায় চলে গেল। তিশা রুমে এসে দরজা লাগিয়ে দিয়ে কান্না শুরু করে দিল

আর সে বলতে লাগল বাস্তবতা কেন এমন হয় সে তো এমনটা চেয়েছিলনা তাহলে কেন এমনটা তার সাথে হল।

সে না পারছে বেচে থাকতে না পারছে মরে যেতে।তিশার নিবিড়ের কথা খুব মনে পড়ছে কতই না সুখে ছিল তারা।

একসাথে কত স্বপ্ন দেখেছিল কিন্তু স্বপ্ন গুলো স্বপ্নই থেকে গেল।তিশার বার বার মনে হচ্ছে পাগলটা তাকে ছাড়া থাকবে

কি করে তাকে ছাড়া যে কিছুই বুঝেনা পাগলটা।তিশার সব কিছু ছেড়ে নিবিড়ের কাছে চলে যেতে ইচ্ছে করছে।

কিন্তু অসুস্থ মা টার মুখের দিকে তাকিয়ে সে কিছুই করতে পারছে না। এখন নিরবে সবকিছু সহ্য করা ছাড়া যে তার আর কিছুই করার নেই।

তবে তিশা শেষ বারের মত মনে মনে বলল আমায় ক্ষমা করে দিও নিবিড় আমি তোমার ভালবাসার মূল্য দিতে পারলাম না।

আর এই দিকে নিবিড় কান্না করতে করতে প্রায় পাগল হয়ে গেছে।সে তিশার থেকে আলাদা হয়ে যাবে এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা।

সে তিশাদের বাসা চিনত তাই সে ভাবল তিশাদের বাসায় যেয়ে তার ফ্যামিলির সাথে কথা বলবে।

সে তিশাদের বাসায় যাবে বলে রুম থেকে থেকে বের হল কিছুদূর যাওয়ার পর তার মনে হল সে এটা কি করতে

যাচ্ছে নিজের সার্থ্যের জন্য একটা মাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিবে?না না সে এটা কিছুতেই করতে পারবেনা কারন

সে তিশার মাকে নিজের মায়ের মত ভাবে।তাই মায়ের কথা চিন্তা করে নিবিড় চুপ হয়ে গেল।দুচোখ দিয়ে অঝর ধারায়

পানি পড়ছে নিবিড়ের।সে জানেনা কতদিন তাকে এভাবে কাদতে হবে।দেখা যাবে কাদতে কাদতে একসময় তার চোখের

জল শেষ হয়ে যাবে তখন চাইলেও আর চোখ দিয়ে পানি বের হবেনা।নিবিড় হয়ত কোন একদিন স্বাভাবিক হয়ে যাবে কিন্তু

তার মনটা পাথরে পরিনত হবে যার ফলে তার ভিতরে আবেগ অনুভূতি কিছুই কাজ করবেনা।আর তিশা হয়ত তার মায়ের

পছন্দ করা ছেলেকে বিয়ে করে নিবে।নিবিড়কে ভুলে থাকতে তার অনেক কষ্ট হবে তবুও সব কষ্ট সহ্য করে স্বামি সংসার

নিয়ে সুখে থাকার চেষ্টা করবে শুধু তার মায়ের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য।তবে তিশা নিজেও জানেনা সে কখনো সুখী হতে

পারবে কিনা হয়ত সকলের সামনে সুখী থাকার অভিনয়টা ঠিকি চালিয়ে যাবে কিন্তু তার ভিতরের এই কষ্টের কথা কেউ কখনো

জানতে পারবেনা। বাস্তবতার কাছে হার মেনে গেল একটি ভালবাসার।দুইজন কিভাবে আলাদা হয়ে ঠিক থাকবে কেউ জানেনা।

তারপর ও তাদের দুজনকে ঠিক থাকতে হবে আসলে বাস্তবতা এমনি।মানুষ যখন বাস্তবতার সম্মূর্খিন হয় তখন অনেক কিছুই

মেনে নিতে হয়।তবে তিশার আর নিবিড়ের সম্পর্কটা একেবারে শেষ হয়নি।হয়ত তাদের আগের মত প্রতিদিন বা ঘন্টার পর ঘন্টা

কথা হয়না।কিন্তু মাঝে মাঝে ৫/৭ মিনিটের জন্য কথা হয় সে কথা গুলো কেমন আছ,আম্মু কেমন আছে,কি করছ,খাইছো কিনা

এতটুকুতেই সিমাবদ্ধ থাকে।কোন একদিন দেখা যাবে এই সামান্য কথা গুলোও আর তাদের মাঝে হবেনা।আর শেষ হয়ে যাবে

একেবারেই তাদের সম্পর্কটা।কিন্তু দেখা যাবে তারা দুইজন দুইজনের মনে যেই জায়গাতে আছে সেখানেই থেকে যাবে আজীবন।

গল্পের বিষয়:
দু:খদায়ক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত