ফিরে আয় না ভাইয়া

ফিরে আয় না ভাইয়া

– ভাইইইইইইয়য়য়য়য়া।
– আপুওওওওওওওও
– ভাইয়া।
– হুম, বল আপু।
– ওই তোরে না বলছি আমারে আপু বলবি না।
– কেন?
– আমি তোর ছোট তাই।
– ওমা তাতে কি হইছে? ছোট হইছিস তাতে কি হইছে?? শাসন তো বড়দের মতোই করিস।
– ধ্যাত।
– পাগলী কোথাকার,, ছোট বোনকে আপু বলা যাবে না এটা কোন জায়গায় লেখা আছে রে?
– উমমমম ( ভাবছি) কি জানি রে ভাইয়া জানি না তো।
– তাইলে বললি কেন?
– ধ্যাত। ( ভাইয়ার গলা জড়িয়ে ধরলাম)
– আপু তোর মতলব কিন্তু ভালো না।

– কেন?
– কাছে আসছিস,, নিশ্চয় টাকার দরকার?
– কি বললি হারামজাদা?? টাকার দরকার ছাড়া কি আমি তোর কাছে আসতে পারি না???
– হুম,,, আদরটা আজকে পাবি না।
– আম্মুওওওও।
– এই চুপ চুপ। দাড়া দিচ্ছি। এতো বড় হইছিস এখনো বাচ্চা স্বভাব গেল না।
– কই কত বড় হইছে,, আমি তো এখনো বাচ্চা মেয়ে তাই না, ভাইয়ার আদরের জন্য পেছন পেছন ঘুরঘুর করি।
– ইন্টারে পড়িস এখনো বাচ্চা??
– এই শোন,, ভাইয়ার কাছে বোন তো ছোটই থাকে তাই না??
– তাই তো।

– এবার কপালে আদরটা দিয়ে দে, আমি কলেজ যাব।
– উমমমমা,, অনেক বড় দেখে দিলাম।
– এটায় হবে না,,
– তাইলে আর কি?
– দেখছিস না কলেজ যাচ্ছি।
– তোকে নিয়ে কি যে করি,, এই নে পাঁচশো টাকা দিলাম, এই সপ্তাহে আবার চাইলে ধোলাই খাবি।
– এটা তো এখনই শেষ করে দিব।
– তবে রে আজকে, পাগলী দাড়া।
– হিহিহি,, ভাইয়া আসি।
– দেখেশুনে যাস।
– আচ্ছা।

এরপর আমি কলেজের দিকে রওনা হলাম। আমি পলি। আর ওটা আমার বড় ভাইয়া। নাম মোশারফ। আমি এবার ইন্টার ফাস্ট ইয়ার আর ভাইয়া অনার্স ফাইনাল ইয়ার। আমার কাছে টাকা থাকে না,, দিব কে??

আমি তো আর ভাইয়ার মতো টিউশনি করাই না। বাবার কাছে চাইলেও সবসময় পাওয়া যায় না। কিন্তু ভাইয়া দু তিনটা টিউশনি করায়। তাই ভাইয়ার কাছে সবসময় কিছু না কিছু থাকে তাই চাইলেই পাওয়া যায়।
ভাইয়া নিজের ১০ ভাগের ৮ ভাগই আমারে দিয়ে দেয়। শুধু নিজের খরচ টা রেখে।

ভাইয়া আমাকে অনেক ভালবাসে। আমি যেন ভাইয়ার কলিজার টুকরা। তাই নিজের সব দিয়ে আমাকে খুশি রাখে। আমিও ভাইয়াকে অনেক ভালবাসি। ভাইয়াকে ছাড়া আমার একদম চলে না। তাই সবকিছুতে শুধু ভাইয়াকে ডাকি।

আমার যদি সবচেয়ে কাছের কোনো বন্ধু হয়ে থাকে সেটা হলো আমার ভাইয়া। ভাইয়া সবসময় আমার পাশে থাকে, আর সবসময় সবকিছু শেয়ার করা যায়।
এসব ভাবতে ভাবতে কলেজে চলে আসলাম। যাই, এবার ক্লাস করি।

আজকে অনেক গুলো ক্লাস হলো, তিনটার সময় ছুটি দিল, উফফফ,, আবার পরীক্ষার সাজেশন দিল তাই এতো দেরী হলো, অসয্য লাগে এসব। কলেজ থেকে বেরিয়েf গেটের সামনে এসে দেখি ভাইয়া বাইক নিয়ে দাড়িয়ে আছে,
– কি রে পলি এত দেরী আজ?
– আজকে পরীক্ষার সাজেশন দিল তো তাই দেরী হইছে।
– ওহ্, চল এবার।
– কিন্তু ভাইয়া তুই কোথায় গেছিলি?
– ইয়ে মানে না, কোথাও না।
– ভাইইইইইয়া???
– কিইইই, ভয় পাইছি।
– সত্যি করে বল কই গেছিলি।
– ইয়ে মানে, কলেজ থেকে বাড়ি না গিয়ে ঘুরতে গেছিলাম।
– সাথে কে ছিলো?
– কেউ না।
– প্রেম করছিস কবে থেকে?
– ( এইরে পাগলীটা নিশ্চিত ধরে ফেলছে আমি শেফালীকে নিয়ে ঘুরতে গেছিলাম) প্রেম??? হেইডা আবার কি জিনিস রে আপু?
– বাড়ি চল আজ দেখাচ্ছি।
– আচ্ছা চল।

তারপর ভাইয়ার সাথে বাইকে চড়ে বাসায় আসলাম। আমি নিশ্চিত কোনো ভেজাল আছে। ভাইয়া কি সত্যিই প্রেম করছে??? আগে তো কোথাও ঘুরতে গেলে আমাকে সবসময় সাথে নিয়ে যেত। আজকে একাই গেল। যেটা ভাবছি মনে হয় সেটাই। ভাবী টা কে খুজে বের করতে হইবো।

বাসায় এসে ফ্রেস হলাম। প্রচন্ড ক্ষিধে লাগছে। উফফফ, ভাইয়াটা আবার কই গেল, দেখছি না তো,, শয়তানটা আবার ঘরে গিয়ে বসে আছে।
ভাতের প্লেট নিয়ে ভাইয়ার কাছে গেলাম।
– ভাইয়া শুয়ে আছিস কেন?
– এমনি, ভালো লাগছে না।
– খেয়েছিস?
– না।
– এই নে খা।
– আগে তুই খা।
– আমি খাওয়ার পর খাবি?

– হুম।
– আচ্ছা তুলে খাইয়ে দে।
– পারুম না।
– আম্মুওওওওও।
– চুপ চুপ (মুখ চেপে ধরছে) ওই ফাজিল সবসময় আম্মু আম্মু করস ক্যান?
– খাইয়ে দে।
– তুই খেতে পারিস না?
– আবার বললে কিন্তু কান্না করে দিব।
– না, এমন করে না লক্ষী বোন আমার। তুই কাঁদলে যে আমারও কান্না পায়।
– ওকে কাঁদবো না, খাইয়ে দে।
– আইচ্ছা। এইনে হা কর।

– হা,
– পাগলী একটা। তোর বাচ্চা স্বভাবটা যাবে না তাই না।
– আমি সারাজীবন বাচ্চাই থাকবো। হিহিহি।
– যখন বিয়ে হয়ে যাবে তখন কার সাথে পাগলামী করবি?
– আম্মুওওওও, উহুঁ উহুঁ (কান্না করে দিছি)
– হা হা হা, ওই পাগলী কাঁদছিস কেন?
– আমি বিয়ে করব না ( ভাইয়ার কাদে মাথা রাখলাম)
– এটা কি কখনো হয়, সবার জন্য বিয়ে বাধ্যগত আর ধর্ম পরায়ন। বিয়ে করতেই হবে।
– আমি করব না। দরকার হয় সারাজীবন এভাবেই থাকবো।
– চুপ দিব একটা ‘ হা কর।
– আরেক বার বিয়ের কথা বললে নাক ভেঙে দিব।
– আচ্ছা দিস।

– কিন্তু ভাইয়া ওটা কে?
– কোনটা?
– তুই যাকে নিয়ে ঘুরতে গেছিলি, সত্যি করে বলবি।
– আচ্ছা সত্যি বলছি,, ওটা আমার এক মেয়ে ফ্রেন্ড নাম শেফালী। ওকে নিয়ে একটু মার্কেটে গেছিলাম বই কিনতে।
– ওটা তো গফ, ফ্রেন্ড না।
– না রে বোন আমি সত্যি বলছি। যদি গফ হতো তাহলে কি ওর কথা তোকে বলতাম এখনি?
– ভালোবাসিস ওকে।
– না মানে !!!
– ভাইয়া তুই ভিতুর ডিম। ওকে বলেছিস?
– না।
– কেন?
– আমি তো ভিতুর ডিম।

– ভাইয়া তুই শেফালীর কথা এতো তাড়াতাড়ি বললি কেন আমাকে।
– আরে পাগলী আমি সবথেকে বেশী তোকে ভালবাসি,, তোকে খুশি রাখার জন্য আমি সবকিছু করতে পারি। তুই আমার কাছে অনেক আশা নিয়ে আমি কাকে নিয়ে গেছিলাম এটা জানতে চাইছিস, যদি না বলতাম তাহলে তুই মন খারাপ করতি তখন আমি কি ভালো থাকতাম??
– ( ভাইয়াকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলাম)
– এই থাম থাম, মুখের ভাত পড়লো তো,, ভ্যা ভ্যা করে কাঁদছিস কেন?
– কুওা শয়তান, এতো ভালোবাসিস কেন হ্যাঁ?
– এ মা, তুই আমার ছোট্ট পিচ্চি একমাত্র আদরের বোন তোকে ভালবাসবো না তো কাকে ভালবাসবো!!
– ( উহুঁ উহুঁ)
– আম্মু দেখো তোমার পিচ্চি মেয়েটা কাঁদছে।

আম্মু এসে আমাকে আর ভাইয়াকে দেখে একটু হেসে চলে গেল।
– পলি তোর খাওয়া হইছে?
– হুম।
– দাড়া আমি খেয়ে আসি তারপর ঘুরতে যাব তোকে নিয়ে। আজকে সাফারি পার্কে যাব।
– সত্যি।
– হুম।
– হুরররে। ভাইয়া তোকে একটা উমমমমা
– যা পাগলী ভাগ।

ভাইয়ার কাছ থেকে চলে আসলাম। আমার ভাগ্য টা খুবই ভালো, এমন একটা ভাই পাইছি। যে ভাই আমাকে এত্তো ভালবাসে। সবসময় ভাইয়ার আদরেই থাকবো কি মজা !!! আমাদের বাড়ি গাজীপুরে বলে পার্কে যেতে সময় লাগে না। এখান থেকে পার্ক খুব কাছেই। সাফারি পার্ক তারপর চন্দ্রার নন্দন কানন,, হেব্বি মজা, খুব সুন্দর এগুলো। সারা বিকেল ভাইয়ার সাথে পার্ক ঘুরলাম। অনেক মজা করলাম। কতকিছু খেয়েছি, কিনেছি উফফফ, মুহূর্তটাই অন্য রকম। এভাবেই চলছে আমাদের ভাইবোনের পবিত্র ভালবাসায় ভরা সম্পর্ক। আমি সৃষ্টি কর্তার কাছে আর কিছু চাই না। যে এতো সুন্দর পরিবার পাইছে,,, এমন একটা ভাইয়ার ভালবাসা পাইছে সে আর কি চাইতে পারে? আর কি চাওয়ার বাকি থাকে? আর কিচ্ছু চাই না আমার।

আমার কলেজের সব বান্ধবীরা বলে আমার ভাগ্য নাকি খুব ভালো। ভাইয়ার এতো আদর ভালবাসা পাই বলে। কেউ কেউ বলে সাথী তোর ভাইয়াটা আমাকে দিয়ে দে,,, আমার ভাইয়া করে আমার কাছে রাখবো। উফফফ তখন মনে হয় আমার কলিজায় আগুন ধরে যায়। তখন অনেক মাইর দেই,, হারামজাদী গুলোরে। আমার আদরে ভাগ বসাইতে চায় শখ কত!!! একেবারে হাড্ডি ভেঙে ফালামু, হ্যাঁ।

আমার পরীক্ষা শেষ হয়ে গেল। একদম ভাইয়ার মাথায় চড়ে বসছি হিহিহি। এমন ভাইয়া আর কয়জনের কপালে জুটে তাই আদর ভালবাসা যা নেওয়ার এখনি ইচ্ছে মতো নিব,, হিহিহি। কয়েক মাস পর,,, আমি ঘরে বসে গল্পের বই পরছি,,, ভাইয়া কলেজে গেছে,, হটাৎ কোথা থেকে যেন ঘেমে অস্থির হয়ে বাসায় আসছে,,,
– ভাইয়া এই ভাইয়া কি হইছে তোর??
– ব্যাগ টা গুছিয়ে দে, ঢাকা যাব।
– কিইইই ( কান্না সুরে) ওইই কি হইছে? কেন যাবি ঢাকা?
– আপুরে আমার বন্ধুর মা খুব অসুস্থ,, মনে হয় বাচবো না আর সেখানে ওনাকে দেখতে যাব। অসুস্থ হওয়ার পর ওনাকে ঢাকা নেওয়া হয়।

– না,, তোকে যেতে দিব না। তুই আমার কাছে থাক।
– কি বলছিস আপু,, আমার বন্ধু কি ভাববে?
– ওই ভাইয়া তুই কেন বুঝতে পারছিস না, অনেক দূরের গাড়ি যানজটের রাস্তা,, যদি কিছু হয়??
– আরে কিচ্ছু হবে না। একবার ওর কথাটা চিন্তা কর। ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড সবসময় আমার পাশে ছিলো আর আমি যদি আজ না যাই তাহলে কেমন দেখায়.!!!
– আচ্ছা যা, দুদিনের বেশী কিন্তু থাকবি না,, তাহলে কিন্তু দেখিস কি করি?
– হুহ, পাগলী প্রমিজ করলাম,, দুদিনের ভেতর চলে আসবো।
– দাড়া আমি ব্যাগ গুছিয়ে দিচ্ছি।

এই বলে কাদতেঁ কাদতেঁ গেলাম ব্যাগ গুছাতে। ভাইয়াটা কেন বুঝে না, ওকে নিয়ে আমার কত ভয় হয়। গাড়ির রাস্তা, আবার ওখানে গিয়ে কই থাকবো কি করব? আর আমিই বা থাকবো কি করে,, ভাইয়াকে ছাড়া তো আমার চলেই না,, ওইতো আমার একমাত্র সঙ্গী।

তারপর ব্যাগ গুছিয়ে দিয়ে ভাইয়ার হাতে দিলাম,, তখনই ভাইয়া রওনা হলো। যাওয়ার সময় কি করবো বুঝতে পারছি না,, ভাইয়াকে জড়িয়ে ধরে অনেক কাঁদলাম। কিন্তু শুধু আজ কেন আমার এমন লাগছে?? কেন ভাইয়াকে ছাড়তে এতো কষ্ট হচ্ছে। ভাইয়া তো ভালভাবে ফিরে আসবো আবার??? ভাইয়ার চোখের কোণে চিকচিক করা পানি টুকুও আমার নজর এড়ালো না।

অতঃপর ভাইয়া চলে গেল। মোহাম্মদ সাঈফ মোশারফ গাড়িতে বসে আছি। আজকে কেন যেন পাগলীটাকে ছেড়ে আসতে একদম মন চাইছে না। এই দুদিনের জন্য আসলাম তবুও কেন যেন শুধু বোনটার কথা মনে পরছে। বোনটার জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে। কেন এমন হচ্ছে??? দুদিন তো মাত্র অল্প সময়। তাহলে বাড়ির সবাই আর বোনটার জন্য এতো কষ্ট হচ্ছে কেন??

শেষ রাতে ঢাকায় আসলাম। ঢাকায় এসেই বন্ধুর দেওয়া ঠিকানা মতো চলে গেলাম। গিয়ে দেখি যা হওয়ার হয়ে গেছে। ওর মা চলে গেছে না ফেরার দেশে। সবাইকে একদিন যেতে হবে,, আগে আর পরে। সেদিন ওই হাসপাতালেই কাটলো। রাতে বন্ধু যেখানে থাকতো আমি সেই বাসায় চললাম। মেন রোডের পাশ দিয়ে হেটে আসছি। পাগলী বোনটার কথা খুব মনে পরছে,, আর ও যে পাগলামী করতো ওগুলো।

কপালে চুমু না দিলে আম্মুকে ডাকা,, ভাত তুলে খাইয়ে না দিলে কান্না করা। টাকার ধান্দায় কাছে আসে। বিভিন্ন পাগলী ধরনের আবদার। আরও কত কি। এগুলো আনমনে ভাবতে ভাবতে কখন যে রাতের বেলা রাস্তার মাঝে চলে এসেছি, খেয়ালই নেই। হটাৎ এক ধমকা ঝটকায় হুশ এলো,, আর ধাক্কা টা আমার সাথেই লাগে। আমার নিথর দেহটা ছিটকে গিয়ে পাশের দোকানের সামনে গিয়ে পড়লো। অনেক লোক ভীড় করলো সাথে সাথে। একটা মানুষ ভর্তি বাসের সাথে ধাক্কা খেয়ে এমন হইছে।

এখন কি হবে রে আপু??? আমি তোর প্রমিজ টা রাখতে পারলাম না রে আপু। ক্ষমা করে দিস। তুই সেদিন তোকে ছেড়ে আসতে না করছিলি শুধু বন্ধুতের অনুপ্রেরণায় আসলাম। এখানে এসে যে সারাজীবনের জন্য তোকে ছেড়ে এসে পড়বো ভাবি নি। আপু রে কেন শুনলাম না সেদিন তোর কথা। আমি যে আবার তোর কাছে ফিরতে চাই আপু। আবার তোকে আদর করব। অনেক ভালবাসবো। ভাত তুলে খাইয়ে দিব। কপালে চুমু দিব।

ইয়ে আল্লাহ এমন কেন হলো??? আমি যে আবার আমার আপুর কাছে যেতে চাই। আমাকে যেতে দাও আমার আপুর কাছে। ও যে একটা বাচ্চা মেয়ে। ভাইয়ার আদর ছাড়া একদম থাকতে পারব না। ও যদি একবার শুনে ওর ভাইয়া নামের বন্ধুটা পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে গেছে তখন ও কি করবে। ওকে আদর করার মতো যে আর কেউ থাকবো না। আমাকে প্লিজ ফিরিয়ে দাও আমার আপুর কাছে। আমার ছোট্ট বোনটা যে আমাকে ছেড়ে থাকতে পারবো না, খুব কাঁদবো ও।

আমাকে আমার বোনের কাছে ফিরিয়ে দাও। আমি আজ মরে গেছি ৭ দিন হলো। হয়তো আমার লাশটা কেউ বাড়ি নিয়ে গেছে। আমার বন্ধু বা অন্য কেউ। অনেক যত্ন করে দাফন করা হয়েছে। অনেকেই আমার দেহটা দেখতে আসছে। মা বাবা অনেক কাঁদছে। আর আমি পাগলীটার কাছে বলে এসেছি ২ দিনের ভেতর ফিরবো কিন্তু ১ সপ্তাহ হয়ে গেল আমি এখনো ফিরলাম না। পাগলী বোনটা বোধ অনেক রেগে আছে,, আমি কেন এখনো ফিরলাম না। এতদিন চলে গেল কেন এখনো ওর কাছে ফিরলাম না। কেন আর আপু বলে ডাকলাম না।

পাগলীটা বোধ হয় আমার পথের দিকে তাকিয়ে আছে আর আমার অপেক্ষা করছে। হয়তো বলছে “প্লিজ ফিরে আয় ভাইয়া। আমাকে ছেড়ে কেন গেলি। থাকতে পারবি এই পাগলী বোনটাকে ছাড়া। আমাকে আদর করে দিয়ে যা ভাইয়া। ওই ভাইয়া চুমু দিবি না আমার কপালে?? আমি যে তোর একটা চুমুর জন্য তোর পথ চেয়ে বসে আছি রে ভাইয়া। আয় না তাড়াতাড়ি এসে বোনটাকে একটা চুমু দে। ওই ভাইয়া কেন গেলি রে আমাকে ছেড়ে,, আমাকে এখন কে ভাত তুলে খাইয়ে দিব?? কে পাগলী বলে ডাকবো?? কে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিব। কার সাথে পাগলামী করবো রে ভাইয়া।

আয় না এই পিচ্চি বোনের কাছে ফিরে। তুই খুব পচা রে ভাইয়া। আমাকে আদর করতে হয় বলে আমার উপর বিরক্ত হয়ে আমার কাছ থেকে দূরে চলে গেলি তাই না। তুই খুব স্বার্থপর। এই বলে বোনটা বোধ হয় অনেক কাঁদবো, অনেক বকবো। কিন্তু বোন রে রাগ করিস না প্লিজ। তোর কাছে আর ফিরে আসতে পারলাম না…

গল্পের বিষয়:
দু:খদায়ক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত