জাদুর শহর

জাদুর শহর

ভিতরে কলিংবেল বেজেই চলছে। কারো কোন সাড়াশব্দ নেই। গেট খোলবার নামগন্ধ নেই। ফোনেও চার্জ শেষ। বিকেল থেকেই সুইচ অফ। তাই কল দেওয়া সম্ভব না। এমন্তবস্তায় গেটের বাইরে অপেক্ষা করা ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই মশিউরের।

এমনিতে গত দুইদিন জ্বর থাকায় আসতে পারেনি। তারউপর আজ যদি পড়াতে না পারে তাহলে তার টিউশনিটাই থাকবে না। তাই যতোই দেরী হোক না কেনো মশিউর আজ তার স্টুডেন্ড সজলকে পড়িয়ে ফিরতে চায়।

কিন্তু সন্ধে গড়িয়ে রাত গভীর হয়। ভিতর থেকেও সাড়া নেই। বাইরে থেকেও কারো ফিরবার নাম নেই। কোন আশার আলো দেখতে না পেয়ে বিষণ্ণ মনে মশিউর ফিরতে শুরু করে।

আসার পথে পাশের ফ্লাটের এক ভাড়াটিয়ার সাথে দেখা। তার মাধ্যমে মশিউর জানতে পারে সজলের বাবার বদলী হওয়ার কথা। তারা আর এখানে থাকে না। গতকালেই তারা অন্যত্র চলে গিয়েছে। তবে নতুন ঠিকানা কোথায় এ ব্যাপারে কিছু জানতে পারেননি তিনি।

মশিউর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত একটি কলেজে পড়াশোনা করছে। এবারে সে অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। পড়াশোনায় মেধাবী হওয়ার সুবাদে কলেজে তাকে সবাই এক নামে চিনে।

বন্ধুদের সহযোগিতায় মাষ ছয়েক আগে এই টিউশনিটা শুরু করে মশিউর। এতোদিন এটাই ছিলো তার একমাত্র সম্বল। এই টিউশনির স্বল্প কিছু টাকায় কোনরকমে মাস চলে যেতো। কিন্তু এখন সেটাও আর নেই। হাতে আর কোন টিউশনিও নেই। এমন দূরহ পরিস্থিতিতে কি করবে না করবে ভেবে কোন দিশা খুজে পায়না মশিউর।

কর্মব্যস্ত ঢাকার সবাই নিজেকে নিয়ে মগ্ন। নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে ব্যস্ত। কেউ কারো জন্য বসে নেই। কারো অন্যের দিকে চেয়ে দেখবার সময় নেই। অথচ সেখানে আজ মশিউরের দুবেলা খাবার জোগানোর সাধ্য নেই। এমনও অনেক রাত কেটেছে যে রাতে শুধু কিছু শুকনো মুড়ি খেয়েই ক্ষুধা মেটাতে হয়েছে তাকে।

নিম্নবিত্ত পরিবারে বেড়ে উঠা মশিউরের বাড়ি নীলফামারীর সৈয়দপুরে। বাবা পেশায় একজন কৃষক। অন্যের জমিতে চাষাবাদ করেন। তবে এখন বয়স হয়েছে। গায়ে তেমন জোর নেই। কাজ করার সাধ্য নেই। রুটিরোজগার একেবারে নেই বললেই চলে। দুবেলা দুমুঠো খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হয়। তারউপর চেষ্টা করেন মশিউরকে টাকা পাঠাতে। তবে তা অনিয়মিত, পরিমাণে খুবই নগণ্য।

মশিউরদের এতো দুরবস্থা ছিলো না। একসময় তাদেরও সুদিন ছিলো। সুখেই কাটতো দিন। নিজস্ব জমিজমা ছিলো। কিন্তু এখন সেসব শুধু ফেলে আসা স্মৃতি। বছরখানিক আগে তার মা না ফেরার দেশে পাড়ি জমায়। ক্যান্সারে আক্রান্ত জাহানারা বেগমকে বাঁচাতে কোন কমতি ছিলো না। জমিজমা বিক্রি করে হলেও স্ত্রীর চিকিৎসার যাবতীয় খরচ যুগিয়েছিলেন মশিউরের বাবা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, মশিউরের মাকে শেষপর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

মশিউরের মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে অট্টালিকার এই শহর ছেরে নিজের গ্রামে ফিরে যেতে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কাজ করতে। নিজের ছোট ভাই ও বাবার মুখে দুবেলা দুমুঠো খাবার তুলে দিতে। আবারো তাদের সুখের দিনগুলো ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু মশিউরকে ঘিরে যে তার বাবার অনেক স্বপ্ন। ছেলে পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হবে। বড় কোন অফিসার হয়ে তার সামনে দাঁড়াবে। এই আশা নিয়েই বেচে আছেন আব্দুর রহমান। তাই মশিউর চাইলেও ফিরে যেতে পারে না। বাবার স্বপ্নকে ভেঙ্গে চুরমার করতে পারেনা।

মশিউর মনে মনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বাবার স্বপ্ন পূরনে চেষ্টা তার সর্বোচ্চ। ডিপার্টমেন্টের পরীক্ষাগুলোতে সে বরাবরই প্রথমস্থানের অধিকারী। তাই তাকে ঘিরে উচ্চাকাঙ্ক্ষী সবাই। মশিউর ক্লাস শেষে সরাসরি হলে চলে আসে। সারাদিন পড়াশোনা নিয়েই ব্যস্ত থাকে। পাশাপাশি টিউশনি খুঁজতে থাকে। এর বাইরে তার অন্য কিছু নিয়ে ভাবার সময় নেই।

কিন্তু ইদানীং কলেজের হল গুলোর পরিবেশ কেমনজানি হয়ে গেছে। সবসময় বিশৃঙ্খলা লেগেই থাকে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও মারামারি। এসব মশিউরের ভালো লাগে না। সে সবসময় এসব থেকে দূরে থাকতে চায়। সে একজন সাধারণ ছাত্র। আর তাই অন্যসব সাধারণ ছাত্রের মতো নির্বিগ্নে থাকতে চায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক বা পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি থেকে সবসময় নিজেকে দূরে রাখে।

হঠাৎ একদিন হলের এক বড়ভাই তাদের রুমে আসে। জলদি জলদি সবাইকে রেডি হতে বলে। ক্যাম্পাসে মিছিল হবে। উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। মশিউর মুখের উপর কিছু বলতে পারেনা। নিরুপায় মশিউর বাধ্য হয়ে রুমমেটদের সাথে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক সংগঠনের কোন কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

এরপরে প্রায়দিনই বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মিছিলের জন্যে ডাকা হয়। মশিউর ছলেবলে বিভিন্ন কৌশলে সেসব থেকে নিজেকে আড়াল রাখে। কিন্তু একদিন একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের এক ছাত্রনেতার রোষানলে পড়তে হয় তাকে। অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও বিভিন্ন হুমকি ধুমকি দেওয়া হয়।

একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা যেমন থাকে। তেমনি নিজের খেয়াল খুশি মতো চলার অধিকার থাকে। মশিউর নিজের মতো থাকতে চায়। বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগুতে চায়। কিন্তু কেনো তাকে বারবার টার্গেট করা হয়? আর কেনোই বা বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনে ভেড়ানোর চেষ্টা করা হয়? এসব প্রশ্ন মশিউরের মনের মনিকোঠায় ঘুরপাক খায়। কিন্তু এর সুনির্দিষ্ট কোন উত্তর তার জানা নেই।

গভীর রাত। চারদিকে অন্ধকার। সবাই ঘুমে মগ্ন। কিন্তু মশিউরের চোখে ঘুম নেই। স্বপ্নের রাজ্যে হানা দেওয়ার ইচ্ছে নেই। মশিউরের চোখমুখ জুরে শুধু আতঙ্কের ছাপ। কোন এক অজানা আতঙ্ক মশিউরকে কুড়ে কুড়ে নিংশ্বেষ করে দিচ্ছে।

আজ তার বাবা ও ভাইয়ের কথা খুব মনে পড়ছে। তাদেরকে খুব দেখার ইচ্ছে করছে। মশিউর ভাবনায় তার বাবা ও ভাইয়ের সাথে মিশে থাকা স্মৃতি গুলো ভেসে বেড়ায়। আচ্ছা মশিউরের কিছু হলে তাদের অবস্থা কি হবে? তারা কি নিজেকে সামলাতে  পারবে? এসব ভাবতে ভাবতে মশিউর ঘুমিয়ে পড়ে।

রাত ঘনিয়ে ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। ব্যস্ত নগরীর মানুষগুলো কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু মশিউরের ঘুম থেকে উঠার নাম নেই। কলেজে যাওয়ার প্রস্তুতি নেই।

হঠাৎ ফোন বেজে উঠে। একটা অপরিচিত নাম্বার। মশিউর কল রিসিভ করে। ফোনের ওপাশ থেকে একজন বলে উঠে, ‘মশিউর আমি তোর জয়নাল চাচা। তোর বাবা খুব অসুস্থ। তুই জলদি বাড়ি চলে আয়। তোর বাবার অবস্থা খুব একটা ভালো না।’

মশিউর তড়িঘড়ি করে রওনা দেয়। বাসযোগে বাড়ি ফিরে আসে। সৈয়দপুরের একটি হাসপাতালে তার বাবাকে ভর্তি করানো হয়েছে। ভিতরে ডাক্তারের গভীর পর্যবেক্ষনে আব্দুর রহমান। বাইরে মশিউর ও তার ভাই দাঁড়িয়ে আছে।

একটু পরে ডাক্তার ভিতর থেকে বেরুলেন। ‘ভয়ের কিছু নেই। উনি এখন সুস্থ আছেন। উনাকে কিছুদিন বিশ্রামে থাকতে হবে। ভারী কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।’ ডাক্তারের কথা গুলো শুনে আশ্বস্ত মশিউর জোরের সাথে একটা দ্বীর্ঘশ্বাস ফেলে। চোখের কোণে জমানো পানি মুছে ভিতরে গিয়ে মশিউর তার বাবার সমনে দাঁড়ায়।

মাসখানিক পরে আব্দুর রহমান অনেকটাই সুস্থ। ধীরেধীরে শরীরে বল ফিরে পেয়েছেন। আগের মতো কর্মক্ষমের উপযোগী হয়েছেন। মশিউর এখনো বাড়িতে। বিভিন্ন ক্ষেতখামারে কাজ করে। বাবার ঔষধপত্র ও দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করে চলছে।

কলেজে পরীক্ষার রুটিন হয়েছে। কয়েকদিন পর ফাইনাল পরীক্ষা। কিন্তু মশিউরের পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছে নেই। অসুস্থ বাবাকে ফেলে ঢাকা যাওয়ার চিন্তা নেই। তাই পরীক্ষা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মশিউর। কিন্তু এতে স্বয়ং বাধ সাজে আব্দুর রহমান।

বাবার কথা মশিউর কখনওই ফেলতে পারেনা। তাই পরেরদিন সকালেই মশিউর ঢাকা যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। মশিউরের ছোট ভাইয়ের অনেকদিনের ইচ্ছে ঢাকা শহরে যাওয়ার। সেখানে চারদিক ঘুরে দেখবার। তাই মশিউর যাওয়ার সময় তার ভাইকেও সাথে করে নেয়।

সপ্তম শ্রেনীতে পড়ুয়া রাশেদের কাছে ঢাকা একটা জাদুর শহর। সেখানকার মানুষেরা নাকি জাদু জানে। সে লোকমুখে শুনেছে ঢাকায় নাকি টাকা উড়ে। তাই ঢাকায় গিয়ে সে ব্যাগভর্তি টাকা আনতে চায়। বাবার সব কষ্ট লাঘব করতে চায়।

সন্ধে নাগাদ মশিউররা ঢাকায় পৌছায়। কলেজের হলে যায়। কিন্তু একি রুমে তার সব জিনিশপত্র এলোমেলো কেনো? বইপত্র গুলো ছড়িয়ে ছিটানো কেনো? তার সিটে অন্য কেউ কেনো? একটু পরেই মশিউরের কাছে সবকিছু পরিস্কার হয়। কোন এক বড় ভাইয়ের ইশারায় মশিউরের সিট দখল করা হয়েছে। মশিউরকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একটা জিনিশ মশিউর কিছুতেই বুঝেনা। তাকে সিট দিলো কলেজ কতৃপক্ষ। আর বের করে দিলো বড় ভাই। এ কেমন নীতি? এর জবাব মশিউর কার কাছে পাবে সেটা তার জানা নেই।

সেদিনের রাতটা মশিউর তার ভাইকে নিয়ে একটি মসজিদে কাটিয়ে দেয়। পরেরদিন সকালে মশিউর তার এক ফ্রেন্ডের ম্যাচে উঠে। দুপুরে তার ভাইকে নিয়ে সে ঘুরতে বেরোয়। ঢাকার বিভিন্ন স্থান ঘুরিয়ে দেখায় ভাইকে।

ইট পাথরের আকাশচুম্বী দালান আর সারি সারি গাড়ি দেখে আশ্চর্য সপ্তম শ্রেনীতে পড়ুয়া রাশেদ। এতো গাড়ি আর এতো বাড়ি সে আগে কখনো দেখেনি। সে এদিকওদিক শুধু বিল্ডিং গুনতে থাকে। আর বড় ভাইয়ের কাছে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ধারনা নিতে থাকে।

ঢাকার বাস গুলো কেমন যেনো আটোসাটো। দেখলেই মনে হয় চলাচলের অনুপযোগী। ভিতরেও বেশ ঘিচিমিচি। এই বাস গুলোই নাকি ঢাকাবাসীর আস্থার প্রতিদান। যা হতবাক করে রাশেদকে। বাসে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বাসে বেশ কয়েকটা সিট ফাকা হয়েছে। পাশাপাশি দুটো সিট। রাশেদ বসেছে জানালার পাশে। সে জানালা দিয়ে ঢাকা শহর দেখছে। আর স্বপ্নে দেখা জাদুর শহরের সাথে মিল খুঁজে বেরুচ্ছে।

বাস প্রায় তাদের গন্তব্যের কাছাকাছি চলে এসেছে। এখুনি নামতে হবে। প্রথমে মশিউর বাস থেকে নামে। তারপর রাশেদ নামতে ধরে। কিন্তু হঠাৎ থমকে যায় সবকিছু। ঘটে একটা বড় অঘটন। বেপরোয়া গতির একটা মোটর সাইকেল এসে সরাসরি ধাক্কা দেয় রাশেদকে। রাশেদ আছড়ে পড়ে মাটিতে। অঝোরে রক্ত ঝরতে থাকে।

সংকটাপন্ন অবস্থায় রাশেদকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজে। ভর্তি করানো হয় আইসিউতে। জরুরী ভিত্তিতে ব্লাড দরকার। রক্তের গ্রুপ ও নেগেটিভ। যা সচারোচর পাওয়া যায়না। মশিউর এই হাসপাতাল ওই ক্লিনিক ছুটতে থাকে। ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করতে থাকে। অবশেষে একটা ক্লিনিকে ও নেগেটিভ ব্লাড পাওয়া যায়।

মশিউর ব্লাড নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কিন্তু পথিমধ্যে খুব জ্যাম। সামনে নাকি খুব দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলছে। তাই এই জ্যাম ছাড়ার সম্ভাবনা সন্ধার আগে নেই। যে করেই হোক বিকেলের মধ্যে ব্লাড পৌছাতে হবে। স্নেহের ছোট ভাইকে বাঁচাতে হবে।

মশিউর বাস থেকে নামে। ব্লাডের ব্যাগ নিয়ে হাটতে শুরু করে। এদিকওদিক খেয়াল নেই। শুধু সামনের দিকে হেটে চলছে সে। হঠাৎ পিছন থেকে কে বা কারা এসে সজোরে ধাক্কা মাড়ে। মশিউর মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। হাতে থাকা ব্লাডের ব্যাগ ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তার ভাইয়ের জন্য আনা ব্লাড মাটিতে গড়িয়ে পড়ে।

মশিউর হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। শোকে পাথর মশিউর রাস্তার মধ্যে গড়াগড়ি দিতে থাকে।আশপাশের লোকজন শুধু হা করে দেখতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশ হাজির হয়। সারা শরীরে রক্ত লেগে থাকায় নাশকতার অভিযোগে পুলিশ মশিউরকে গ্রেফতার করে। সঙ্গে সঙ্গে আদালতে চালান করে দেওয়া হয়।

ওদিকে রক্তস্বল্পতায় রাশেদের জীবন মৃত্যুর অন্তিম পর্যায়ে পৌছায়। হাসপাতাল কতৃপক্ষ বারেবারে মশিউরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চালায়। কিন্তু মোবাইলের সুইচ অফ। তাই যোগাযোগ আর হয়ে উঠে না। ধীরেধীরে রাশেদ চোখ বুঝতে শুরু করে। অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফটানো বন্দ করে। এরই এক পর্যায়ে ১৩ বছরের রাশেদ পাড়ি জমায় না ফেরার দেশে। যেখানে রাশেদের মা তার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।

রাশেদের মৃত্যুর ছয়মাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনো শোকের ছায়া কাটেনি। নিংস্ব আব্দুর রহমান সব হারিয়ে এখন শোকে পাথর। তিনি জাদুর এই শহরে বড় ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে। ছোট ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন জাদুর শহরের সাথে পরিচয় হতে। কিন্তু নিষ্ঠুর বাস্তবতা তার ছোট ছেলেকে কেড়ে নিয়েছে। আর বড় ছেলেকে নাশকতার মামলায় অন্যতম আসামী করেছে।

বৃদ্ধ আব্দুর রহমান তিনিও আজ এই জাদুর শহরের পথে রওনা দিয়েছেন। উদ্দেশ্য বড় ছেলেকে জেল থেকে বেড় করবেন। জাদুর এই শহরের কালো জাদু তার ছেলেদের প্রতি সহায় হয়নি। সন্তানহারা আব্দুর রহমানের প্রতি কি সহায় হবে?

তরুণ লেখক ও সাংবাদিক

গল্পের বিষয়:
দু:খদায়ক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত