ভালবাসার আবির্ভাব

ভালবাসার আবির্ভাব

রেহান ও শিলা একে অপরকে খুব ভালবাসে দীর্ঘ ৪ বছর যাবত তাদের রিলেশন। একদিন রেহান ও শিলা একটা পার্কে বসে গল্প করছে….
শিলা:- আচ্ছা একটা কথা বলব প্লিজ রাগ করবা না,
রেহান:- হ্যাঁ বলো
শিলা:- আচ্ছা, ধরো, কখনো কোনো একটা কারণে আমি তোমার থেকে চলে গেলাম বা রিলেশন রাখলাম না, তখন তুমি কি এখনকার মত এমনই থাকবে নাকি ,, অন্য কিছু কিছু ছেলেদের মত ছ্যাঁকা খেয়ে, বিরহের জ্বালায়, মাদকাসক্তিতে জড়িয়ে পড়বে??
রেহান:- না কখনই না,, এসব গ্রহণ করব না, কারণ তুমি এমটা কখনই করবে না সেটা আমি জানি, তবু যখন বললে তাহলে শুনো, তুমি চলে গেলে যাবে বাট তুমি আমাকে যেসব শিক্ষা দিয়েছো সেটা তো আমার হৃদয় থেকে নিয়ে যেতে পারবা না, কত অগুছালো জীবনটাই না ছিল আমার, সারাদিন ঘুরে বেরানো বন্ধুদের সাথে আড্ডা ইত্যাদি, নিজের যত্নও ঠিকভাবে করতাম না, তুমি আমাকে শিখিয়েছো আগে নিজেকে ভালবাসতে, কেননা যে নিজেকে ভালবাসে না নিজেকে ভালবাসতে জানে না সে কি করে অন্যকে ভালবাসবে?? যে নিজেকে ভালবাসে প্রকৃতপক্ষে সেই পারে অন্যকেও গভীর ভাবে ভালবাসতে।
শিলা:-হুমম, তুমি সত্যিই খুব ভালো, আসলে আমি যেটা বলি তুমি সেটা শুনো এজন্য খুব ভালো লাগে তোমায়।
রেহানঃ- তোমার সাথে আমি একমত না, কারণ তুমি যা বলো আমার ভালোর জন্যই বলো, তাই তোমার প্রতিটা কথাই শুনি।
শিলাঃ-(মুচকি হেসে)) তাই??
রেহানঃ- হ্যাঁ, আর একটা কথা, আমি ইচ্ছা করেই অগুছালো হয়ে থাকতাম!!
শিলা:-তাই??? কিন্তু কেনো??
রেহানঃ- আমি স্বপ্ন দেখতাম, আমার জীবনে কেউ আসবে এবং সে তার নিজের পছন্দ মত করে আমাকে সাজিয়ে-গুছিয়ে নিবে।
শিলাঃ- বাহ, বেশ ভালো স্বপ্ন, কিন্তু তেমন কেউ কি এসেছে?😃
রেহানঃ- হ্যাঁ, এই তো সে আমার পাশে বসে আছে।
শিলাঃ- কিন্তু সে তো আর বেশীখন বসে থাকবে না😃
রেহানঃ- হ্যাঁ, বুঝছি সন্ধ্যা হয়ে এসেছে, এই তুমি আজ কি সিদ্ধান্তের কথা বলতে চেয়েছিলে???
শিলাঃ- বলব??
রেহানঃ- হ্যাঁ, অবশ্যই বলবা আজ ঘুরতে আসার আসল কারণই এটা।
শিলাঃ- তাহলে, শুনো তোমার সাথে এ রিলেশনে থাকতে পারব না, পারলে আমাকে ক্ষমা করিও। কোনো কথা শুনতে চাই না, এটাই শেষ কথা!!
রেহান:-(মুখটা কালো করে😟) কি বলছো এসব??? দেখো এমন ফাজলামি করবা না।
শিলাঃ- ফাজলামি কেনো করব?? শুনো আমি ঠিকই বলছি, কারণ বাসা থেকে আমার বিয়ে ঠিক করতে চলেছে, ছেলেটা জব করে, এছারা, দেখতে, শুনতে, সবদিক দিয়েই ভালো তাই আমার, আব্বু-আম্মু আর দেড়ি করতে চাই না, যে ছেলের সাথে বিয়ে দিতে চাই তাকে তুমি ভালো করে চিনো।
রেহানঃ-(কাঁদো কাঁদো কন্ঠে) কে সে??😟
শিলাঃ- এত ভয় পাচ্ছো কেনো😃, এই যে শুনো যে ছেলের সাথে বিয়ে দিতে চাই সে এই মুহূর্তে আমার পাশে বসে আছে!!😍
রেহানঃ- কথাটা শুনে বোকার মত তাকিয়ে থাকল শিলার দিকে!!
শিলাঃ- এই, হ্যাঁলো কি দেখো এমনে??
রেহান:- আমাকে ভয় দেখালে কেনো।
শিলাঃ- খুব বেশি ভয় পেয়েছো?😃
রেহানঃ- হ্যাঁ, কিন্তু কেমনে কি?
শিলাঃ-এখন তুমি জব করো তাই এই লুকোচুরি প্রেম আর ভাল লাগে না তাই নতুন সম্পর্কে যেতে চাই, এছারা বাড়ি থেকে বিয়ের কথা প্রায় বলে, বাড়িতে আমি তোমার কথা বলেছি, আমার মা-বাবা, তোমার মা-বাবাকে আমাদের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আমার বাড়ি আসতে বলেছে…..
–কি শুনালে, ঈদের চেয়ে বেশী খুঁশী হলাম।😃
–ওমা তাই নাকি??
–হ্যাঁ
–এই, সন্ধ্যা হয়ে এসেছে চলো আজ উঠি
–হ্যাঁ চলো
——————-
দুই পরিবার এক জায়গা বসে বিয়েটা পাকাপোক্ত করল,, বিয়েটা ৩ মাস পড়ে হবে।
————————————
বিয়ে ঠিক হবার পর একদিন তারা পার্কের সেই পুকুরের পাশের বেঞ্চটাই বসে গল্প করছে এর মধ্য রেহান বলল আচ্ছা আমাকে তুমি বিয়ের পরেও এভাবেই ভালবাসবে??
শিলাঃ- না মাথা খারাপ,😃 এখন তোমাকে এত ভালবাসি কারণ কম ভালবাসে যদি ছেরে চলে যাও সে ভয়ে বাট বিয়ের পর তো হারানোর ভয় থাকবে না, এই যে শুনে রাখো বিয়ের পর তোমাকে ভালো টালো বাসতে পারবো না।😃
রেহান:- অবাক হয়ে শিলার দিকে তাকিয়ে রইল। আর (মনে মনে বলছে, বিয়ে ঠিক হতেই এমন দজ্জালের মত কথা? না জানি বিয়ের পর কি করবে😃)
শিলাঃ- আমি তোমাকে ভালবাসতে পারবো না, তবে হে তুমি যখন দেরী করে বাড়ী ফিরবে আমি রাত জেগে তোমার জন্য বসে থাকতে পারব। যখন বৃষ্টিতে ভিজে আমাকে sorry বলবে আমি বকা দিতে দিতে তোমার মাথা মুছিয়ে দিতে পারব। তুমি যখন জ্বরের ঘোরে বেহুঁশ হয়ে থাকবে আমি তোমার হাত ধরে বসে থাকতে পারব। তুমি যখন কাজের চাপে বাসায় দেরিতে ফিরবে ততখন আমি খাবার টেবিল এ তোমার জন্য অপেক্ষা করতে পারব।😍
রেহানঃ-পাগলী এবার থামো, এই যে এভাবে বললে, কোনো ছেলের পক্ষে সম্ভব না আরো ২ মাস বিয়ের জন্য অপেক্ষা করে থাকা!!! মনটা চাইতেছে এখনি বিয়ে করে নেই।
শিলাঃ-পাগল হয়ে গেলে নাকি??
রেহানঃ-হুমম, তুমি সত্যিই বিধাতার দেয়া উপহার আমার জন্য।
শিলাঃ- সত্যিই? আচ্ছা তাহলে এই উপহারটিকে সারাজীবনের জন্য চাও তো?
রেহানঃ- হ্যাঁ, সারাজীবনের জন্যই চাই।

……………………………………..সমাপ্তি……………………………………

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত