সেই চোখ দুটো

সেই চোখ দুটো

যাই হোক নাম্বারটি সেভ করে রেখে দিলাম।তার পরের দিন দুপুরে ওই নাম্বারে একটি মেসেজ করলাম।মোসেজটি ছিল(আপনার নাম সুমনা না।তোলারাম কলেজে পরেন)।এই মেসেজটি করে ঘুমিয়ে ছিলাম।হঠাত আম্মু ঘুম থেকে ডাক দিয়ে বলল দেখ কে কল দিছে।আমি ঘুমের চোখে ভালো করে নাম্বারটি দেখি নাই।রিসিভ করে হ্যালো বলতেই দেখি ওইপাশ থেকে মেয়ের কন্ঠ।মেয়ের কন্ঠ দেখে নাম্বারটি ভালো করে দখলাম।দেখি সুমনা কল দিছে।আম্মু সামনে দারিয়ে ছিল তাই কথা না বলে কেটে দিলাম।কেটে দিয়ে মোবাইলটি অফ করে ঘুমিয়ে পড়লাম।আম্মুকে বললাম কথা বুঝা যায় না।।তারপর ঘুমিয়ে পড়লাম।বিকেল দিকে রাস্তায় গিয়ে কল দিলাম।সুমনা বলল কিসের জন্য কল দিছিলাম।আমি বললাম দেখা করে সব বলব।আমি ওকে বলছিলাম কবে কলেজে যাবা।সুমনা বলল এখন সিউর জানি না কবে যাব।কিন্তু গেলে বলব নে।তারপর আরো অনেক কথা বলে কেটে দিলাম।সেই দিন সন্ধ্যার দিকে মোবাইলটা বাসায় রেখে রাস্তায় বের হলাম।তারপর বাসায় যাবার পর আম্মু বলল তোর মোবাইলে মেয়ে কল দিছে কেন।তারপর নাম্বারটি দেখার পর আমি পুরো সকড।আম্মুকে বললাম কি বলছে।আম্মু বলল এই মেয়ে বলে তোর সাথে পড়ে।এই সব বলে আম্মু অনেক বকলো।বলল আর যেন কোন মেয়ে কল না দেয়।রাস্তায় বের হয়ে সুমনাকে কল দিলাম।তারপর ও বলল আপনাকে যার জন্য কল দিছিলাম।আমি পরশো দিন কলেজে যাব। সুমনার কথাটি শুনে আমি অনেক খুশি।কারণ পরশু দিন ই মনের কথাটা বলব।যাই হোক কলেজে গেলাম।মুল ভবন এর ২য় তলায় আমি আর আমার ২ বন্ধু বসে রইছি।কিছুখন পর সুমনার নাম্বার থেকে কল আসল।
~হ্যালো(সুমনা)
~আপনি কোথায়(আমি)
~আমি কলা ভবন এ।এখন তো বৃষ্টি নামছে, বৃষ্টি কমলে আসেন
~ওকে
কলটি কেটে দিলাম।কিছুখন পর বৃষ্টি কমলো।তবুও হালকা বৃষ্টি ছিল।আমি সুমনা কে কল দিয়ে বললাম শহীদ মিনারের সামনে আসতে।কিছুখন পর দেখলাম হালকা বৃষ্টির মধ্যে শহীদ মিনারের সামনে এসে ধারিয়ে রইছে।আমি মুল ভবন এর বারান্দা থেকে ধারিয়ে দেখলাম।প্রায় ৫ মিনিট ধারিয়ে থাকার পর সুমনা কল দিল
~আপনি কোথায়
~আমি মুল ভবনের ২য় তলায় আছি।ওই জায়গায় আসেন।
তারপর দেখলাম ও আসতাছে।ও কল দিয়ে বলল নিচে নামতে।নিচে নেমে দেখি বারান্দার মধ্যে অনেক পানি জমে আছে।আর সুমনা গেটের সামনে ধারিয়ে রইছে।সুমনা আমাকে বলল আপনি।আমি বললাম হমম।তারপর ও আমাকে ওর সামনে যেতে বলল।আমি বললাম পানি কীভাবে আসব।তারপর দেখি ও ই পায়ের মৌজা বিজিয়ে পানি দিয়ে আসল।তারপর ১ম তলায় গেলাম।সুমনা আমাকে বলল
~কিসের জন্য আসতে বলছেন।
~এমনি।আপনেকে দেখার জন্য।
তবু বার বার বলছে কিসের জন্য আসতে বলছি।তারপর আমি একটু রাগ দেখিয়ে বললাম কিছুর জন্য না।আপনি এখন আসতে পারেন।আর আপনের নাম্বারটি আপনার ওই বান্ধবির কাছ থেকে নিছিলাম।আপনার নাম্বার ডিলিট করে ফেলব নে।আর ডির্স্টাব করব না আপনি এখন আসতে পারেন।তারপর সুমনা চলে গেল।আমিও বাসার দিকে রওনা দিলাম।ওই সময় আমার ওই ২ বন্ধু অনেক বকল।মনের কথা বলতে পারিনি দেখে এবং খারাপ ব্যবহার করছি দেখে।তারপর অনেক দুর যাওয়ার পর সুমনার নাম্বার এ কল দিয়ে বললাম আমি আপনারর সাথে দেখা করতে চাইছি।আমি আপনাকে love করি।তারপর সুমনা বলল ওই সময় বললে ই পারতেন।আমি এখন কলেজের একটু সামনে যে মসজিদ টি আছে ওই জায়গায় পড়তে আসছি।ওই জায়গায় আসেন।

আমি ওই জায়গায় গিয়ে ওকে কল দিলাম ও আসল।তারপর আমি বললাম
~উওর টা
~দেখেন আমি আমি এখন আপনের সাথে প্রেম করব।পরে যদি বিয়ে করতে না পারি।আর আমার আম্মু আমাকে আগে ই বলে দিছে তুমি যতো প্রেম করতে পারো করো কিন্তু বিয়ে আমার পছন্দ মতোন করতে হবে।
তারপর আমার এক বন্ধু বলল
~সানি আপনার আম্মুর কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিবে।
আরও অনেক ভাবে সুমনা কে বুঝালো।কিন্তু কোন কাজ হলো না।
তারপর যে যার যার বাসায় চলে গেলাম।বিকেল দিকে শান্তা আমাকে কল দিল।কল ধরতে ই আমার সাথে রাগা রাগি।আমি বললাম কি হইছে শান্তা বলল যার কাছ থেকে নাম্বার নিছি সেই মেয়ে বলে ওর সাথে অনেক রাগারাগি করছে।ওই মেয়ের সাথে বলে সুমনা রাগারাগি করছে।কিন্তু শান্তার সাথে রাগা রাগি করছিল দেখে অনেক খারাপ লাগছিল।তাই সুমনার নাম্বারটি ডিলিট করে দিলাম।কারণ শান্তা সাথে আমার ১১ বছরের friendship তাই ওকে বকার কারনে খারাপ লাগছির।যাই হোক ওকে আস্তে আস্তে ভুলতে থাকলাম।তারপর ইয়ার চেন্জ এক্সাম আসল।আবার সুমনার পিছের বেন্ঞে বসলাম।এবার আবার ক্রাস খেলাম সেই চোখ দুটোর।প্রতি এক্সাম ওকে দেখেই কেটে যেত।এক্সাম শেষ হয়ে গেল।কিন্তু ওকে মন থেকে মুছতে ই পারছি না।

সারাখন শুধু সুমনা সুমনা।সেকেন্ড ইয়ারে উঠার পর ভাবতাম প্রি-টেস্ট এক্সাম এর সময় যেভাবে ই হোক ওকে রাজি করাবো ই।এক্সাম আসল এক রুমে ই এক্সাম দিলাম।প্রতিদিন এক্সাম শেষে ওকে বলার জন্য দারিয়ে থাকতাম।একদিন ও বলতে পারলাম না।আবার ওকে ভুলতে চাই তাও পারছি না।তারপর আবার টেস্ট এক্সাম এর আসায় বসে থাকলাম।এক্সাম আসল এবার আমি ওর সামনের বেন্ঞে বসলাম।প্রতিদিন বাসা থেকে প্রাকটিস করে যেতাম কিন্তু বলতে পারতাম না।লাস্ট এক্সাম এর সময় প্রায় ১ ঘন্টা ধারিয়ে ছিলাম বলতে পারলাম না।এর মধ্যে অন্য জনের সাথে রিলেশন করছিলাম সুমনাকে ভুলার জন্য।কিন্তু ভুলতে পারি নি।সবাাই বলে একটি গেলে ১০ টি আসে।কিন্তু তারা এটি বুঝে না েয মন থেকে একবার কাউকে লাভ করলে বা মনের মধ্যে একবার কাউকে জায়গা দিতে পারলে,শত জন আসলে ও সেই জায়গার শূণ্যতা কেউ পরিপূর্ণ করতে পারে না।সেই জায়গাটি আর কাউকে দেওয়া যায় না।তেমন করে আর অন্য কাউকে লাভ ও করা যায় না।এখন সুমনা ছাড়া আর কিছু ভাবতে ও পারি না।ওর জন্য অন্য মেয়েদের দিকে তাকাতেও মন চায় না এখন।আর প্রেম তো অনেক দুরে ই।তাই আবার ভাবছি কলেজে গিয়ে যদি ওর কোন ফ্রেন্ড পাই তাদের কাছ থেকে নাম্বার নিব যেই ভাবে ই হোক।সুমনা তো শুধু এক্সাম দেয়।কলেজে আসে না।তাই ওদের বান্ধবি দের কাছ থেকে ই নাম্বার নিতে হবে।যদি ওর কোন বান্ধবি না পাই।তাহলে পরবর্তী মিসন H.S.C এক্সাম।যদি H.S.C এক্সাম এর সময় ও বলতে না পারি।সাহসে না কুলায়।তাহলে আসা আছে দেবদাস হয়ে ই কাটিয়ে দিব।

♪♪প্রথম পার্ট, আমার টাইমলাইনে আছে।পরে নিবেন।♪♪

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত