টম এন্ড জেরি ভালোবাসা

টম এন্ড জেরি ভালোবাসা

সারাদিনের অফিসের কাজের পরে বিছানায় পড়ার সাথে সাথে রাজ্যের সব ঘুমগুলো চলে আসে চোখের পাতায় অনেক ইচ্ছে থাকা শর্তেও বেশিক্ষণ আর জাগিয়ে রাখতে পারলাম না নিজেকে হারিয়ে গেলাম ঘুমের রাজ্যে,,,,কতক্ষণ ঘুমিয়েছি তা জানি না কিন্তু একটা কর্কশ কন্ঠ কানে ভেসে আসতেছে,,,ইচ্ছে না থাকা শর্তেও কন্ঠটা শোনার চেস্টা করি একটু,,,,কেউ একজন খুবই জঘন্য কন্ঠে চেঁচিয়ে যাচ্ছে না শুনেও পারছি না,,,,আবার ঘুম থেজে উঠতেও ইচ্ছে করছে না,,,,এতক্ষণ তো শুধু মুখে বলতেছিল এখন দেখি জোরে জোরে ধাক্কাও দিচ্ছে অনিচ্ছা শর্তেও চোখ না খুলেই উত্তর দিলাম কারণ আমি জানি এই কর্কশ কন্ঠের বদমেজাজি মেয়েটা কে,,,,

–কি হয়েছি শান্তিতে কি একটু ঘুমাতেও দিবে না নাকি,,,(আমি)

–এত শান্তির প্রয়োজন কি কখন থেকে ডাকছি কথা কানে যায় না,,,,(সে)

–না যায় না বুঝো না তুমি যাও এখান থেকে আমাকে আরামে ঘুমাতে দাও,,,(আমি)

–তাই না আরামে ঘুমাতে দিবো,,, আহহহহহহহহহহহহহহ,,,(এটা বলেই মেয়েটা আমার কানের সামনে জোরে চিৎকার দিয়ে উঠলো)

ঘুম টুম ফেলে আমি লাফ দিয়ে উঠেছি,,,,মাথা সহ পুরো দুনিয়া মনে হয় ঘুরতেছে আমার,,, ,আর এদিকে আম্মাও কি হয়েছে কি হয়েছে বলে দৌড়ে আমার রুমে চলে আসছে এসেই শুরু করেছে,,,,

–কি হয়েছে বউমা এভাবে চিৎকার করছো কোনো,,,(আম্মা)

–আপনার ছেলে মেরেছে মা আমাকে দেখেন,,,,(কান্নার ভাব ধরে সে)

ও খোদা এই মেয়ে বলে কি,,,আমি আবার কখন মারলাম এই মেয়েকে,,,এমনিতেই ওর চিৎকারে আমার মাথা ঝিমঝিম করছে তার উপরে এমন ডাহা মিথ্যে কথা শুনে দুনিয়া ঘুরতে শুরু করেছে কারণ আম্মা এখন কি করে সেটা নাহয় আপনারাই দেখুন,,,,

–কি,,,আইমান বউমা যা বলছে তা কি সত্যি তোর এত বড় সাহস তুই আমার বউমার গায়ে হাত তুলিস,,,(প্রচন্ড রাগে)

–আম্মা আমার কথাটা তো শোনো এমন কিছুই হয়নি আমি তোমার বউমাকে কিছুই করিনি সবই ওর অভিনয়,,, (নিষ্পাপ ছেলেটাকে এভাবে ধরা খাওয়ালো বজ্জাতটা)

–না মা ও এখন মিথ্যে বলছে আমাকে মেরে,,,দেখেন ও অফিস থেকে এসেই এভাবে শুয়ে আছে তাই আমি ওকে ফ্রেস হয়ে খেতে আসার জন্য বলেছি শুধুমাত্র তাই ও আমাকে মেরেছে,,,,(আরো একটু কান্নার বেগ বাড়িয়ে)

–আইমান তোর সাহস অনেক বেড়ে গিয়েছে তাই না,,ও তো ভালোর জন্যই তোকে ডেকেছে আর তুই কিনা ওর গায়ে হাত তুলেছিস,,,, আজকে আসুক তোর বাবা দেখ তোর কি করাই,,, আজকে তোর খাওয়া বন্ধ,,,।।

এই বলে আম্মা তার আদরের বউমাকে নিয়ে আদর করতে করতে চলে গেল টিভি দেখতে,,,আর সে পিছনে ফিরে একটা চোখ টিপ মেরে হেসে চলে গেল,,,,এই হচ্ছে আমার কপাল বিনা অপরাধে হয়েছি আমি অপরাধী,,,, এই জন্যই বলে বিয়ে করেছো তো মরেছো,,,আর বিশেষ করে তো বেস্ট ফ্রেন্ডকে তো কখনই বিয়ে করতে নেই,,, কারণ বাসায় আসা যাওয়ার ফলে এদের পক্ষপাতিত্ব থাকে অনেক বেশি ,,,, কোন ভূতে যে আমাকে ধরেছিল আমি এই হারামিটাকে ভালোবেসে ছিলাম,,,,ভালোবেসে ছিলাম ঠিক ছিল বিয়ে যে কেন করতে গেলাম,,,।।।

যাক অনেক কিছুই তো শুনলেন পরিচয়টাও জেনে নিন,,, আমি আইমান ছোটখাটো ভালো বেতনের একটা জব করি,,,,পরিবার বলতে মা-বাবা আমি আর এই হারামি বউ অনু,,, হারামি বলছি এই জন্য একসময় ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলো,,,আমাদের সারাদিন যেত মারামারি ঝগড়া ঘোরাফিরা আড্ডা খাওয়া দাওয়া এই সব দিয়ে,,,,কিন্তু বিয়ের পরেও ওর আগের স্বভাব পরিবর্তন হয়নি বিন্দু পরিমাণ,,,,এখনো আমাদের সম্পর্কটা বন্ধুর মতই হয়ে যায় মাঝেমধ্যে,,,আর আজ যা দেখলেন এটা নতুন কিছু না এটা প্রায় সময়ই হয়ে থাকে,,,,আব্বা-আম্মা দুজনই বেশি আদর করে তো ওকে তাই ও এই সুযোগটা একটু বেশি নিয়ে এমন করে আমার উপর দিয়ে ঝড় যাওয়ার ব্যবস্থা করে,,,ঝগড়া আমাদের ভালোবাসার একটা মিষ্টি অংশ,,,,সপ্তাহে অন্তত একদিন এমন ঝগড়া করতে হবেই,,,,কিন্তু আজ ওকে একটু ভালো ভাবেই শিক্ষা দিবো ভাবছি,,, অনেকদিন ছাড় পেয়েছে আজ আর না,,, ,।।।।

ঘুমটা ভেঙে যাওয়ায় আর ঘুমও আসছে না তার উপরে সারাদিনের এত কাজের ফলে ক্লান্তির যে আরামের ঘুম এসেছিল তা ভাঙায় মেজাজটা একটু বেশি খারাপ হয়ে আছে ,,তাই ফ্রেস হয়ে এসে টিভি দেখছি,,,, কিছুক্ষণের মধ্যেই মহারাণী এসে হাজির কিন্তু আজ কোনো ছাড় নেই,,,ওকে দেখে মুখটা ঘুরিয়ে নিলাম,,,,

–কি কেমন দিলাম আর আমার সাথে এমন করবি,, আর এসে ঘুমাবি,,,,(হিহি করে হাসি শুরু করেছে অনু)

ওর হাসিটা আগে সুন্দর লাগলেও এখন খুবই বিশ্রী লাগছে রাগের কারণে,,,আর এদিকে জবাব না পেয়ে আবার শুরু করছে,,,

–কিরে কথা বলছিস না কেন,,,ভয় পেয়েছিস,,, (আবার হাসি)

অনু এমনিতে সবার সামনে তুমি করেই বলে,,, কিন্তু একা থাকলে তুই করেই বলি আমরা একে অপরকে আগের মতই এটাই ছিল আমাদের প্রেমের শর্ত,,,।।

আগুনে ঘি এর ছিটা পেলে যেমন হয়,,,, তেমনি মেজাজটা আরো গরম হয়ে গেল,, রাগে রিমোটটা ভেঙে বাইরে চলে আসলাম বাসার,,,,আর বলে আসলাম,,,,

–তুই খুশি তো না,,,থাক তোরা তোদের খুশি নিয়ে গেলাম,,,,এই বাসায় যেহেতু আমার কোনো মূল্যই নেই এই বাসায় থাকার কোনো মানেও নেই,,,মানুষ কোন মুডে অফিস থেকে আসলো তা বুঝা তো দূরের কথা উল্টো তোদের জ্বালাতন সহ্য করতে হয়,,সারাদিন কাজ করে আসি মজা না,,(বলে চলে আসলাম বাসা থেকে)

আমার এমন কাজে অনু কেন আম্মাও মনে হয় অনেক অবাক হবে,,, কারণ এর আগে এমন আমি করিনি কখনো,,,,কিন্তু বারবার এভাবে চলতেও দেওয়া যায় না,,,,তাই সবাইকে একটা শিক্ষা দেওয়া আর কি,,এখন বুঝবে মজা তাছাড়া কাল ছুটির দিন রাতটা কোনো বন্ধুর বাসায় থেকে কাল বাসায় যাবো ভাবছি ততক্ষণে হয়তো সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে, ,,মোবাইল ও মানিব্যাগটাও ভুলে বাসায় ফেলে আসছি এখন কাউকে কল ও তো দিতে পারবো না,,, তাছাড়া মোবাইল ফোন বের হয়ে আমাদের নাম্বার মনে রাখার সিস্টেমটাকে নষ্ট করে দিয়েছে,,,, তাই কাউকে অন্য কারো নাম্বার থেকে কল ও দিতে পারবো না,,,,ব্যাপার না আগে ক্লাবের পাশের টংয়ের দিকে তো যাই,,,,ক্লাবের সামনে যেতেই দেখি ছোটভাইগুলো সব ক্যারাম খেলছে,,,আমাকে দেখে তো সবাই মহা খুশি,,,,কারণ একসময় ওদের সাথে অনেক খেলতাম কিন্তু বিয়ে হওয়ার পর থেকে তেমন সময় পাই না আর খেলাও হয়ে ওঠে না,,, তাই আজ আমাকে ওরাও ছাড়বে না আর আমিও সময় পেয়ে খেলায় যোগ দিলাম ওদের সাথে,,,, খেলতে খেলতে রাত ১:৩০টার মত কখন বেজে গিয়েছি বুঝতেই পারিনি,,,,সবগুলোকে বাসায় পাঠিয়ে আমি তো একা পড়ে গেলাম কোথায় যাবো না যাবো ভেবেই পাচ্ছি না,,,,তাই ঠিক করলাম বাসায় যেয়েই দেখি কি হয়,,,।।।

দূর থেকেই বুঝা যাচ্ছে দরজার বাইরে কে যেন দাঁড়িয়ে আছে,,,,যদিও চেহারা দেখা বা বুঝা যাচ্ছে না,,, চোর নাতো এই ভেবে একটু দ্রুত এগিয়ে গিয়ে মেইন গেট খুলে বললাম,,,,

–কেরে,,, কে ওখানে,,,(আমি)

বলার পরেই বুঝলাম দৌড়ে আমার কাছেই আসছে আমি তো ভয়েই শেষ আল্লাহই জানে কি না কি হয়,,,,আমার বুকের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়লো বস্তুটা মনে হচ্ছে চালের বস্তা পড়ল একটা,,, তার ভর সহ্য করতে না পেরে তাকে ধরেই নিচে পড়ে গেলাম,,,আর তার বুলি ফুটতে শুরু করছে এদিকে,,,

–কোথায় ছিলি তুই এতক্ষণ,,,, সামান্য একটা ব্যাপার নিয়ে এমন করলি,,, আমাকে সরি বলার সময়টাও দিলি না,,,,এভাবে বের হয়েছিস এতক্ষণ ধরে বাসায় আসিস না জানিস বুঝিস একটু যে আমার কেমন লাগছিল,,,, কেন করলি এমন,,,, (বলেই ফুঁপিয়ে কান্না শুরু করলো অনু)

–একটু দম নিয়ে কথা বল,,, কত কথা বলিস একদমে,,,,আর আগে আমাকে উঠতে দে,,,(আমি)

–না তুই আগে বল আমাকে মাফ করেছিস তারপরে,,,(অনু)

–আগে আমাকে দম নিতে দে উঠে,,, কি খাস রে তুই ইদানিং এমন চালের বস্তার মত হচ্ছিস কেন,,,?,,,(আমি)

-কি আমি চালের বস্তা,,,(এই বলেই বুকে মারা শুরু করলো অনু)

-আচ্ছা হইছে এখন থাম থাম,,,,।
অনেক কষ্টে মারা আর কান্না থামালাম অনুর,,,,কেঁদে কেঁদে চোখ ফুঁলিয়ে ফেলেছে মেয়েটা এমন অবস্থায় দেখলে কারো কি আর কোনো রাগ থাকতে পারে বলেন,,,পারে না তেমনি আমার রাগও হাওয়া হয়ে গেল,,,।।।

ওকে নিয়ে বাসায় ঢুকে বললাম,,,

–কিরে আম্মা কই আজ,,,(আমি)

–মা -বাবা ঘুমাচ্ছে,,,(অনু)

–কি বলিস আমি তো ভাবলাম আম্মা মনে হয় ঝাড়ু নিয়ে বসে আছে,,,(আমি)

–বসেই থাকতো যদি বলতাম তুই কি কি করে গিয়েছিস,,, (অনু একটু অভিমান করে)

–বলতাম মানে বলিসনি,,, (অবাক হয়ে)

–না বলিনি,,,তুই তো তখন শুধু তোর কথাগুলোই বললি তুই সারাদিন কাজ করিস এটা ওটা কতো কি,,,একবার ও কি ভাবিস আমার কথা,,, আমি সারাদিন কিছুই করি না নাকি,,,,সারাদিন পরে তোকে একটু পাই কতো কথা বলার থাকে আমারও তো ইচ্ছে করে তোর কাঁধে মাথা রেখে গল্প করতে ঘুরতে জোৎস্না দেখতে খুনসুটি ঝগড়া করতে আগের মত,,,,কিন্তু তুই এখন আর আগের মত এসব করিস আমার কেমন লাগে তা কি একবার ভাবিস,,তার উপরে আজকে যা করলি,,,(বলেই অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নিল অনু)

আসলেই তো অনু ঠিকই বলেছে ওর নিজেরও তো কিছু ইচ্ছা আছে,,,তা তো ভাবি না আমি কখনো,,,ভুলটা আসলেই আমার,,,তাই মুখটা ঘুরিয়ে বললাম,,,

–সরি রে আর এমন হবে না,,, এই যে তোর কানে ধরে বলছি,,,(আমি)

–আমার কান কেন ধরবি তোর কান ধরে বল,,,(হাসি দিয়ে)

হাসি তো ফাসি,,,হাসছে মানে ওর রাগ অভিমান গলে গিয়েছে,,,

–কিছু খেয়েছিস,,,(আমি)

–তোকে ছাড়া খেয়েছি কখনো,,,(অনু)

–চল খাবো,,,কিন্তু আমাকে খাইয়ে দিতে হবে,,,(আমি)

–এটা নতুন কি প্রায়ই তো এমন করিস,,,কিন্তু আজকে হাতে কামড় দিতে পারবি না কিন্তু বলে দিলাম,,,(একটু রাগি লুক নিয়ে)

–সেটা ভেবে দেখবো,,,(হাসি দিয়ে)

–তবে রে শয়তান,,,(অনুর কিল ঘুষি)

বলে আবার শুরু আমাদের #টম_এন্ড_জেরীর_মিষ্টি_ভালোবাসার_গল্প,,,,যেটা কখনো শেষ হওয়ার নয়,,,।।।💕💕

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত