তোমার হাতের মুঠোয় আমার পৃথিবী

তোমার হাতের মুঠোয় আমার পৃথিবী

-এই শানু শোনো
-কি হইছে?
-না কিছু না
-কিছু বলবা?
-না বলবো না
-ডাকলে যে?
-এমনেই ডাকলাম।আচ্ছা আমি আসি বাই
-আচ্ছা বাই
কয়েকদিন ধরে শানু খুব টেনশনে আছে।ইবু ছেলেটা কি ওকে কিছু বলতে চাইছে ।।ওর কান্ড-কারখানা একটুও ভালো ঢেকছে না শানুর।সেদিন রাত ১২টার দিকে ফোন
দিয়ে জিজ্ঞেস করছে, এই ইংলিশ এক্সাম কবে?মেজাজ পুরা গরম করে দিছে।এতো রাতে কেউ কাউকে নিশ্চয়ই এটা জিজ্ঞেস করতে ফোন করে না।গভীর রাত প্রেমিক-
প্রেমিকাদের জন্য বরাদ্দ।এই সময় আউফাউ ফোন করা উচিত না।ইবুকে নিয়ে চিন্তা দিনদিন বেড়েই চলছে। এরকম মিনমিনিয়ে থাকা ছেলেদের সে দেখতে পারে
না,এরা খুব ডেন্জারাস হয়।হঠাত কোন একদিন কাপা কাপা হাতে গোলাপ নিয়ে ভাঙা গলায় বলবে “আই লাভ ইয়ু”।আর এদের রিজেক্ট করে দিলেই হলো,নানান রকম
উদ্ভট পাগলামী শুরু করবে।তাই এদের থেকে সাবধান হয়ে থাকাই ভাল।
২।নাহ আজকেও শানুকে ভালবাসি কথাটা বলা হলো না।
আচ্ছা ও বাঘ না ভাল্লুক যে ওকে এতো ভয় করতে হবে?আরে বাবা ভালবাসার কথাই তো বলবো এতে তো রাগ করার কথা না।নাহ আর দেরী করা ঠিক হবে না।সুন্দরী মেয়েরা বেশিদিন সিঙ্গেল থাকেনা।যদি আর বেশি দেরি করি তবে কোন সময় কোন বজ্জাত এসে শানুকে নিয়ে উড়েও যেতে পারে। শানুকে উড়তে দেয়া যাবেনা,আটকে রাখতে হবে মনের খাঁচার ভিতরে।মনে মনে কথাগুলো ভেবে নিজেকেই ধিক্কার দিচ্ছে ইবু।।আজ সে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে,যে করে হোক শানু
ভালবাসি বলবেই।যে করে হোক শানুর হাতটা ধরবেই।
-এই ইইইইইইইবু শুনো তো।
-হা বলো।
-তোমার কাছে ম্যাথ নোট আছে?
-হুম আছে তো কেন লাগবে?
-হুম আজকেই লাগবে প্লিজ একটু দিবা?
-আচ্ছা এখন তো আমার কাছে নাই
তোমাকে বিকেলে দিয়ে আসবো
-তোমার নোট তুমি কষ্ট করে দিবে কেন -আমি নিজে
গিয়ে নিয়ে আসবো তাছাড়া আন্টির সাথে অনেকদিন
কথা হয়না একবারে কথা বলে আসবে।
-না আমার কষ্ট হবে না।তাছাড়া তুমি কেন কষ্ট করে
আসবা আমিই নাহয় দিয়ে আসবো
-বলছিনা আমি আসবো বেশি কথা বলো কেন? বেশি
বললে তোমার নোটই নিবো না।
-আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে তুমিই যেও।
শানু, ইইবুর আম্মুর সাথে কিছুক্ষন গল্প করে। ছোটবেলার বন্ধু ওর দু’জন তাই দুই ফ্যামিলির মধ্যে সম্পর্ক ভালো।গল্প শেষে ইবুর রুম ঢুকলো।যা দেখলো এতো
তার চোখ ছানাবড়া।একটা ছেলের রুমের ঠিক যে এরকম হয় অগোছালো হয় তা শানুর জানা ছিল না। বুকসেলফে বইগুলো এলোমেলো, বিছানায় টিশার্ট পড়ে আছে,
গিটার একটা খাটের উপর,রুমে সব বিদেশি ব্যান্ডের ছবি,পেনড্রাইভ,গেমের সিডি ইত্যাদি ইত্যাদি।যাইহোক বহু কষ্টে রুমের এপ্রান্ত-প্রান্ত খুঁজে ম্যাথ নোট পেলো।
যখনই বের হতে যাবে ঠিক তখনই টেবিলের উপর রাখা একটা কালো ডায়রীর দিকে চোঁখ পড়লো। অন্যের ব্যক্তিগত ডায়রী পড়ার অভ্যাস নেই ওর,তবে কেন জানি
ইবুর ডায়রীটা পড়তে খুব ইচ্ছে করছে। তাই ইবুর ডায়রীটা হাতে নিল, প্রথম কয়েক পৃষ্ঠা পড়ে সে বৈদ্যুতিক শটের মতই খেলো। এখানে এসব কি লিখেছে ইবু? পুরোটা
পড়ার জন্য ডায়রীটা নিয়েই চলে আসলো।
-কি ব্যাপার শানু হঠাত ডাকলে যে
-ডাকলাম তোমার সাথে কথা আছে
-কি কথা।
-এই নাও তোমার নোট
-ও থ্যাংকস।এক্সাম শেষ?
-না।
-তবে দিয়ে দিচ্ছো যে
-এমনেই দিয়ে দিলাম।
-আজ এতো সাজগোজ করছো কেন?কোন অনুষ্ঠান
আছে?
-হুম আছে তো।আচ্ছা তুমি সুমন ভাই কে চিনো?
-কোন সুমন?
-ঐ যে লম্বা করে হ্যান্ডসাম দেখতে
-ঐটার ভিতর হ্যান্ডসামের কি দেখছো?সারাদিন কি একটা কালো সানগ্লাস পড়ে ঘোরাঘুরি করে।আমার মনে হয় উনার চোঁখে প্রবলেম, দেখো গিয়ে একটা চোখ নাও থাকতে পারে। কানা হয়তো।
(বখাটে লুকিং)
-এই ওকে নিয়ে একটা খারাপ কথা বলবা না।ওকে আমার খুব ভালো লাগে।উফফ কি জোশ লাগে।
-কি,কি বলো এইসব?
-ঠিকই বলি।আচ্ছা এখান থেকে যাও তো সুমন এখুনিই এসে পড়বে।আজ ওর সাথে সারাদিন ঘুরবো তাই সাঁজগোঁজ করেছি
-সত্যি বলছো?
-তোমার সাথে মিথ্যে বলবো কেন?তুমি আমার কে হও?
-হুম তাও ঠিক আমি তোমার কে যে আমাকে এইসব উত্তর
দিবা।আচ্ছা আসি তাহলে।টাটা।
-বাই বাই
অবনিকে রেখে নোট টা নিয়ে চলে আসলে ইবু।।ওর ধারনা তবে সত্যিই হলো,এক ছেছড়া এসে শানু নিয়েই গেল।ধুর নিজের প্রতি প্রচন্ড ঘৃনা হচ্ছে।কেন
ভালবাসি আগে বললো না? দুঃখে ভারাক্রান্ত হয়ে পার্কের বেষ্ণে বসে আকাশ দেখছে সে।
-এই ছেলে এখানে কি করো
শানু ধাক্কায় বাস্তবে ফিরে আসলো ইবুর-আরে তুমি এখানে কি করো তোমার না সুমন ভাইয়ের সাথে ঘুরতে যাওয়ার কথা
-যাই নাই
-কেন?
-এমনিতেই।আচ্ছা আমি সুমন ভাইয়ের সাথে গেলে
তোমার কষ্ট হতো,তুমি কি দুঃখ পেতে?
-পেতাম
-তবে আটকাও নি কেন?
-কিভাবে আটকাবো?আমি কে তোমাকের আটকাবার?
-তুমি না আসলেই একটা গলটু
-এই তুমি গলটু নামটা তুমি কি করে জানলে?এটা তো শুধু
আমার মা ডাকে।মা তোমাকে বলছে তাই না?আজব সব
কথা বলে দেয়
-না আন্টি বলে নাই।আচ্ছা তোমার রুম থেকে কি কোন
ডায়রী মিসিং হইছে
-ডায়রী..হ্যা হইছে তো।তুমি জানো কিভাবে?
-আমি সব জানি
-হ্যাঁ?বুঝছি তুমি নোট নিতে আসছো তখন আমার
ডায়রীটাও সাথে নিয়ে গেছে তাই না?
-হুম হয়তো
-কি বললা?
-হয়তো নিছি
দুজনেই এখন চুপ,আমাকে ভালবাসো?
-ইয়ে মানে ডায়রীতে সব এমনেই লিখছি কিছু প্লিজ রাগ
করো না
-আমার সাথে সারাজীবন থাকতে পারবা?
-ইয়ে না মানে
-ইয়ে ইয়ে কি করছো মনের কোন কথা থাকলে বল
তাড়াতাড়ি।মনে রাখবা সুন্দরীরা সিঙ্গেল বেশিদিন
থাকেনা
-না মানে মারবে নাতো
(আমতা আমতা করে)
-আরে গাঁধারাম এখন যদি ভালবাসি না বলো তবে সত্যি
সত্যি কিন্তু মারবো
-ইয়ে মানে আই লাভ ইয়ু
-এরকম কেউ কাউকে প্রপোজ করে নাকি?হাটু গেড়ে ফুল
দিয়ে বলো তা নাহলে গুড বাই
-কি হাটু গেড়ে বসতে হবে?ফুলতো নাই
-আচ্ছা যাও শুধু হাটু গেড়ে বসে প্রপোজ করো তাহলেই
চলবে।
-এটা সত্যি করা লাগবে
-হ্যা লাগবেই
ইবু নিরুপায় হয়ে হাটু গেড়ে বসে বললো,আই লাভ ইয়ু
শানু
শানু মুচকি হেসে বললো,আই লাভ ইয়ু টু গলটু
-এই তোমার হাতটা একটু ধরি?
-না
-ধরি না
-আচ্ছা ধরো
-থ্যাংকস
-হিহি সারাজীবন এভাবে ধরে রাখতে পারবা তো?
-হ্যা পারবো, সারাজীবন ধরে রাখব, যদি ধরতে দাও?

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত