তাজা লাল গোলাপ

তাজা লাল গোলাপ

—এই যে মিস্টার ! কেমন আছেন ? এই নিন , আপনার জন্য তাজা লাল গোলাপ ।
—প্লিজ, তুমি এখন যাও । মা ডাক্তারের সাথে দেখা করতে গেছে। তোমাকে দেখলে অনেক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবে ।
—দেখুক না ! তাতে কি ? তোমার বউ হয়ে গেলে দেখবে না বুঝি !
—আরে এটা তো অনেক পরের কথা । আমি এখনো তোমার কথা মাকে বলিনি । প্লিজ , আমাকে আর বিপদে ফেলো না।
—আমি তোমার জন্য এতো সুন্দর ফুল আনলাম আর তুমি কি না আমাকে তাড়িয়ে দিচ্ছ ! ঠিকআছে……আর কোনোদিন আমার সাথে ফুচকা
খাওয়ার কথা বলে দেইখো । শিক্ষা দিয়ে দিব ।
—তুমি শুধু শুধুই রাগ করছো ।
—কেন করব না বল ? কতবার করে বললাম আর মোটরসাইকেল চালিয়ো না । শুনলে না তো ! যদি শুনতে , তাহলে কি আর এই হাসপাতালের বেডে
পরে থাকতে হতো ? প্রিয়জনের কথা না শুনলে এমনই হয়।
—বাদ দাও তো এসব কথা । কালই আমার রিলিজ হয়ে যাবে । অপেক্ষা করো। তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে ।
কিছুদিন পর……….
কলেজ ক্যাম্পাসে নিয়াজকে দেখে আদ্রিতা বলল…..
—এই নিয়াজ , তুমি না বলেছিলে আমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে ? আজ কিন্তু আমার বার্থডে । আজকে সেটা দিতেই হবে । নিয়াজ বলতে লাগলো
” সারপ্রাইজটা হল……থাক আর বলবো না । দেখি কতদিন সহ্য করতে পারো । ”
—আমি আর পারছি না । প্লিজ বলো না ।
—ঠিক আছে । প্রথমে বলে নিই।
মাকে আমি তোমার কথা বলেছিলাম । মা তোমার ছবি দেখে তোমার একটা উপাধিও দিয়ে দিয়েছেন ।
—আমি জানি তোমার মা কি বলেছেন। তিনি বলেছেন
, “দুই নাম্বার ছাগলের তিন নাম্বার ছাও ” আমার যা চেহারা !
একেবারে কালো পেত্নি !
—কি যে বলোনা তুমি ! শাড়িতে কিন্তু তোমাকে ভারী সুন্দর লাগে । যাইহোক , আমি একটি স্কলারশিপ পেয়েছি । আগামী মাসেই M.B.A করতে আমেরিকা যাচ্ছি ।
—ভাল । খুব ভাল । সবাই আমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে । বাবা তো চিরদিনের জন্যই চলে গেলেন । আপুটারও বিয়ে হয়ে গেলো । তুমিই বা থাকবা কেনো ? চলে যাও ।
—এই যে তুমি আবার রাগ করছো । দেখো , আমি যা করছি সবই তো তোমার আর আমার ভবিষ্যতের জন্যই করছি ।
—আমি তো ” ছেড়া পাতা ” আমাকে কেউ রাখতে চায় না । আচ্ছা , ঐ দেশে গিয়ে আমার কথা মনে রাখবা তো ? ওখানের মেয়ে গুলো কিন্তু ভারী সুন্দর !
—এখন ঈর্ষা হচ্ছে ! তাই না ? আমি তোমাকে প্রতিদিন ফোন করব।
—প্রমিস করো ।
—এই যে , তোমার হাতের তিলটা ছুয়ে প্রমিস করলাম। মাত্রই তো কটা বছর । দেখতে দেখতে কেটে যাবে ।




নিয়াজ আমেরিকা চলে যাওয়ার পর ৩ বছর কেটে গেল । একদিন নিয়াজের বন্ধু আকাশের সাথে আাদ্রিতার দেখা হল । আকাশ বলল , এ কি , আদ্রিতা যে ! কেমন আছ ?
—জ্বী ভাইয়া ভাল ।
—তা ঐ নিয়াজটার কি খবর ? ও তো আজকাল ফোনও করে না । মাঝে মাঝে ফেসবুকে চ্যাট হতো । এখন তাকে তো অনলাইনেও পাওয়া যায় না ।
—আমাকে তো গত ৬ মাস কোন ফোন করে নি ! সেদিন রাতেই নিয়াজ আকাশকে ফোন করল । নিয়াজ আকাশকে একটা প্লানের কথা জানালো । আকাশ
বললো……দেখ দোস্ত তুই যে প্লান করছিস তাতে মেয়েটা মানসিকভাবে অনেক ভেঙ্গে পরবে । নিয়াজ বলল,,,, আহা ! দেখ , আমি পরশু দেশে আসছি ।
এসেই ওকে ফোন করবো । তারপর সোজা গিয়ে উঠবো ওর বাসায় । আদ্রিতাকে একটা স্পেশাল সারপ্রাইজ দেব । তুই শুধু আমাকে একটু সাপোর্ট দিবি ।
নিয়াজ দেশে ফিরেছে । এসেই আদ্রিতাকে ফোন করল । আদ্রিতা ফোন রিসিব করেই বললো…….
— হ্যালো নিয়াজ । আগে বল তুমি কেমন আছ ? কতদিন তোমাকে দেখিনা । তুমি দেশে ফিরবে কবে ?
— নিয়াজ বলল…আশা করি আমাকে আর দেখতে হবে না । আচ্ছা তুমি নিজেকে কি ভাবো ? তোমার মত দুশ্চরিত্র মেয়ে আমি কখনো দেখিনি ।
—আমি কিছুই বুঝতেছি না । প্লিজ , আমাকে ভুল বুঝো না ।
—আমি তোমার প্রতি খুব দুর্বল হয়ে পরেছিলাম । আর তুমি সেই সুযোগটা নিয়েছ। ছিঃ ছিঃ। তোমার মত মেয়ের সাথে আমি সম্পর্ক রাখবো না । বলেই ফোনটা কেটে দিল নিয়াজ ।
পাশে দাড়ানো আকাশ,,, সে বললো,,,
—দোস্ত আমার মনে হয় তুই একটু বেশিই বলে ফেলেছিস ।
—আরে ধুর… শোন আকাশ ও অনেক শক্ত মনের মেয়ে । শুধু একটু মজা করলাম । এখন দেরি না করে চল তাড়াতাড়ি। আদ্রিতাদের বাসায় পৌছে নিয়াজ হতভম্ব হয়ে
গেলো। কি এক কারনে আদ্রিতাকে হসপিটালে ভর্তি করানো হয়েছে । ও সেখানে ছুটে গেল । কিন্তু ততক্ষনে অনেক দেরি হয়ে গেছে । আদ্রিতার ভাই
কান্নাভরা চোখে ওর হাতে একটা চিঠি দিল । তাতে আদ্রিতার হাতের শেষ লেখা………
“আমি তো কোনো দোষ করিনি ! তাহলে কেনো আমায় এত বড় শাস্তি দিলে ? সবার মত তুমিও এই ‘ ছেড়া পাতাকে ‘ ছুড়ে ফেলে দিলে ! কেনো ?


আদ্রিতার নিথর দেহটা তখনো হাসপাতালের বেডে পরে আছে । চারপাশে স্বজনদের আহাজারি । বিষক্রিয়ায় আদ্রিতার সুন্দর মুখটা নীল হয়ে গেছে ।
মুখের এককোনে যেনো একটু অস্পষ্ট হাসি । নিয়াজ মনে মনে বললো…..এই কি সেই মেয়ে ,,, যার জন্য আমি সারাটা জীবন অপেক্ষা করেছি !
আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো…..জানিস আকাশ ,,, ও ওই দিন কি বলেছিল….. আমাদের সন্তান ছাড়া নাকি ও কারও জন্য এই বেডে শোবে না । কিন্তু ও তো
কথা রাখলো না। আমাকে ফাকি দিয়ে চলে গেল । আকাশ বলল……..ও তো নিজে থেকে যায়নি নিয়াজ ! তুই ,, হ্যা তুই ওকে খুন করেছিস । তুই ওকে সারপ্রাইজ
দিবি কি ,,,,, ওই তোকে সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজ দিয়ে চলে গেল ! এই মজাটা না করলে কি চলতো না ? নিয়াজ আদ্রিতার নিষ্পাপ মুখের দিকে চেয়ে রইলো । হঠাৎ তার মনে হল আদ্রিতা যেনো বলে উঠলো………
………” এই যে মিস্টার ! এই নিন আপনার জন্য তাজা গোলাপ । “

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত