পাগলীটা ৩

পাগলীটা ৩

অফিস থেকে বাসায় এসেই লক্ষ্য করলাম রূপা বারান্দার চেয়ারটায় হেলান দিয়ে মন মরা হয়ে বসে আছে। তার চোখের জলগুলো টলমল করছে।

আমি অবাক হলাম,,, অফিসে যাওয়ার সময় দেখলাম রূপা ব্যাগ গুছাচ্ছে আর এখন সে বসে আছে,
তবে কি যায় নি?

ঘরে ঢুকে, আমার অফিস ব্যাগটা সোফায় রাখলাম আর দেখলাম রূপার ব্যাগটা এলোমেলো ভাবে বিছনার উপর পড়ে আছে।
রান্না ঘর থেকে তরকারি রান্না করার গন্ধ আসছে।
আমি কিছু বোঝতে পারলাম না।
আমি ওয়াশ রুমে গেলাম, এসে দেখি রূপা রান্না করছে। তাই ওকে জিঙ্গেস করলাম??

— কি ব্যাপার তুমি যাওনি?

সে কোন উত্তর দিল না,,
কিভাবেই বা দেবে আমি তো তার সাথে অনেক বড় একটা ভুল করে ফেলেছি। এই কারনেই সে এত রাগ করেছে।

সকালে রূপা সাথে আমার অনেক ঝগড়া হয়েছে এক পর্যায় কথা কাটা-কাটি হওয়া সময় আমি তাকে থাপ্পর মেরেছি। রূপার উপর আমি কোন দিন হাত তুলিনি, আজই প্রথম। যে মেয়েটা আমার সুখের কথা ভেবে মা-বাব আর ভাইকে ত্যাগ করে আমাকে বিয়ে করছে আমি তার উপরই হাত তুললাম।
এখন আমার নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছে। আমি কি করে এই কাজটা করলাম। একদম ঠিক হয়নি।

আমি আর রূপা একই ভার্সিটিতে পড়তাম আমি তার জন্য পাগল ছিলাম। তার পেছনে পেছনে ঘোরতাম, সে আমাকে পাত্তা দিত না কিন্তু একদিন সেও আমাকে ভালবাসতে শুরু করে।

হুমায়ূন স্যারের একটা উক্তি আছে ,,
” মেয়েরা প্রথমে যাদের পাত্তা দেয় না ,,
শেষে তাদের প্রেমেই পড়ে “”

— এটাই হয়েছে !

কিন্তু তার মা-বাবা ভাই কেউ রাজি ছিল না।
তাবুও সে আমাকে বিয়ে করে।
.
আজকের কাজটার জন্য এখন খুব খারাপ লাগছে,,,
ভাবতেই কেমন লাগছে তবুও সে আমাকে ছেড়ে যায়নি।
আজকে সে শাড়ি পড়েছে, এটা কাল রাতে বলছিলাম পড়তে ,,,,
আমি বললাম তোমার কপালে একটা টিপ থাকলে ভালো হতো আর খোপা বাঁধাটা ছেড়ে দিল দারুন লাগবে।

রূপা কিছু বললো না। সে রুমে যায় আর যখন ফিরে আসে তখন দেখলাম তার কপালে কালো টিপ আর খোঁপাটাও ছেড়ে দিয়েছে। দেখে তো আমি অবাক হতে লাগলাম। আমি কি এসব সত্যি দেখছি? পাগলীটা অভিমান করার পর ও আমার কথা শুনছে !!
.
আমি টেবিলে খেতে বসলাম। রূপা আমাকে মাছের ঝোল দিয়ে বলল
:- এবার নাও শুরু কর। আমি একটু ত্যাড়া হয়ে তার দিকে তাকালাম, আর ভাবলাম এখন যদি খাইয়ে দিতে বলি তাহলে…..

—আচ্ছা, তুমি আমাকে খাইয়ে দাও।

সে ভাত মাখছে আর বলছে একবার সরি বললে কি হতো ?
নাও, হ্যাঁ কর..
— সরি , লাভ ইউ পাগলী আমার, আর এমন কখনো হবে না প্রমিস করছি ।
— হয়ছে ন্যাকামো আর করতে হবে না !!
–প্লিজ সরি !
— হুম , নাও হা করো ?
– না খাবো না ! আগে বলো রাগ করে থাকবানা আর ?
— হুম
— হুম কি ! ও বুঝছি মাপ করো নি আমায় , করবাই বা কেন আমাকে ভালোবাসলে তো করতে ভালোই বাসো না !
— এই যে মিস্টার রানা সাহেব , অনেক ঢং করছেন এখন একটু খেয়ে নেন ।
— আগে বলবা মাপ করছো , না হলে খাবো না ।
— করছি তো পিচ্চি বর আমার ।

— সতি্য! দাড়াও আগে একটা চুমু খেয়ে নেই!

— ফাইজলামি করবা না। আমার রাগ কিন্তু কমেনি। যদি রাগ ভাঙ্গাতে চাও তাহলে আমাকে ঘুরতে নিয়র যেতে হবে।
— ঠিক আছে পাগলী বউ আমার এখন কাছে আসো খাওয়ার আগে মিষ্টি মুখ করব।
— সব সময় দুষ্টুমি তাই না ,সরো‌ !!
— না সরবো না মিষ্টি খাবো !

রূপা  লজ্জায় এক দৌড়ে রুমে চলে গেল।
আস্ত পাগলী একটা। আমার পাগলীটা !!

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত