অনুভূতির সংমিশ্রণ !!

অনুভূতির সংমিশ্রণ

রেষ্টুরেন্ট ভর্তি মানুষের সামনে ইমরেত ভাইয়া আমাকে ধুমাইয়া একটা থাপ্পর মেরে দিয়েছে..আমি গালে হাত দিয়ে চোখ নিচু করে দাড়িয়ে আছি,আরেক হাত দিয়ে চোখের জল মুছছি..

পুরো নাম আদ্রিশ চোধুরী ইমরেত..দেখতে মাশাল্লাহ তাদের বংশের সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ সাথে লম্বার দিক দিয়েও..বয়স ২৮ উনার..অলওয়েজ গম্ভীরমুখের আর ফর্মার লুখে থাকা উনার অভ্যাস..কথা এতোবেশি কম বলে যে সব কথার উনার হ্যা বা না এর মধ্যে শেষ..উনার কথার হেরফের যদি হয় উনার বাড়িতে তাহলে ত ওইদিন যুদ্ধ লেগে যায়..দেশের সফল ব্যবসায়ী+ডাক্তার হওয়ার সুবাদে তিনি বিভিন্ন বিজনেসম্যানদের কাছ থেকে তার মেয়ের জামাই হওয়ার অনেক প্রস্তাব ও পেয়েছে কিন্তু উনি মনে হয় সালমানের খানের পথ অনুসরণ করতে চান অর্থাৎ আজীবন সিঙ্গেল থাকার পণ করে বসে আছেন।।

আমি ফারাহ আক্তার নিধি..বয়স ১৯ এইবার অনার্স প্রথম বর্ষের স্টুডেন্ট.. আমার বাবা মায়ের সাথে গ্রামে ছিলাম..কিন্তু গ্রামে যে মেয়েরা থাকে তাদের খুব দ্রুত বিয়ে দিয়ে দেয়..ওখানকার এক জমিদারের ছেলে রকি আমাকে একদিন স্কুল যাওয়ার পথে দেখেছিলো,সেই থেকে প্রচুর ডিস্টার্ব করতো..যেখানে সেখানে মারামারি করতো কেও আমার সাথে কথা বলতে আসলে,ওর ভয়ে কেও আমার সাথে মিশতো না..একদিন রকির বাবা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে,নাকচ করে দিতে পারছে না এই প্রস্তাব করলে আমার বাবা মায়ের গ্রামে থাকা মুশকিল হয়ে যাবে তবুও বাবা না করে দিতেই জমিদার সাহেব কিছু না বলে চলে যান কিন্তু তার ছেলে রকি এসে অনেক ঝামেলা করে,নানান হুমকি দিয়ে যায়..বাবা মা উপায়ন্তর না আমাকে তার খালাতো বোনের ছেলের কাছে অর্থাৎ এই যমরাজ লোকটার কাছে ক্লাস টেনে পাঠিয়ে দেন।
পরিচয় ত হলো..এইবার চলুন এতো সৃজনশীল থাপ্পড় খাওয়ার রিজনটাও জেনে আসি??
ফ্ল্যাশব্যাক,

ফ্রেন্ডদের সাথে কলেজ শেষে আড্ডা দিতে রেষ্টুরেন্টে এসেছি..আমরা মোট ১০ জন ছিলাম তার মধ্যে আমাদের ছেলে ফ্রেন্ড ছিলো ৪টা আর আমি সহ মেয়ে ছিলাম ৬টা..সবাই খুব মজা করতে করতে রেষ্টুরেন্টে আসছি,খাবারের টেবিলে বসে খাবার অর্ডার দিয়ে বসে আছি।।

আমি রেষ্টুরেন্টে আসলেই চাওমিন খাবোই খাবো..চাওমিন খাইয়ার জন্য আমি টাকা খরচ করি না,হেটে বাড়িতে চলে আসি..আমি চাওমিন অর্ডার দিয়ে,বাকিরা তাদের অর্ডার দিয়ে বিভিন্ন গল্পগুজব করতে ব্যস্ত ছিলো..

আমি বরাবরের মতো চঞ্চল স্বভাবের মেয়ে..প্রচুর কথা বলতে ভালোবাসি তবে কেও যদি ক্লোজ হয়ে যায় তবে নাহলে আমি অপরিচিত দের কাছ থেকে সবসময় দূরে থাকি।।

রেষ্টুরেন্টটা ফাইভ স্টার হওয়ার সুবাদে নামীদামী বিজনেসম্যানরা এখানে মিটিং এ আসেন..বড়লোক বাপের পোলারা ছুচকি মাইয়া পটাইয়া কেও ডেটেও আসে…কিন্তু ভাই প্রেমে পরতে পারলাম না কেন এখনো এই নিয়া আফসোস করি,তার মানে এই না যে আমার ব্যাচেলর লাইফ খুব দুঃখের..আমি আমার ব্যাচেলর লাইফ নিয়ে খুব খুশি কিন্তু আশেপাশের পুতুপুতু কোন প্রেম দেখলে মনে হতো “আজ যদি কোন বফ থাকতো”কিন্তু পরক্ষনেই ভেবে ফেলি যাক আল্লাহ বাচাইছে এমন আপদ কোন জীবনে নাই।।

ওয়েটার চাওমিন নিয়ে আসা দেখে আমি খুশিতে গদগদ হয়ে গেছি কারন চাওমিন দেখলে আমার মাথা ঠিক থাকে না তবে সবসময় না যখন ক্রেভিংস জাগে আর কি..আজ ক্রেভিংস জাগছে যে চাওমিন খাবোই খাবো।।

ওয়েটার এদিকে আসতে দেখে আমি হাত বাড়িয়ে চাওমিন নিতে যাবো ওমনে এক পিচ্চি বাচ্চা কই থেকে দৌড়িয়ে এসে আমার পায়ের সাথে ধাক্কা খেয়ে নিজে ত পরছে পরছে আমারে নিয়ে পরেছে সাথে আমার চাওমিন ফালাই দিয়েছে।।

“আমার চাওমিন” নিচে বসে নিধি বললো

উপরে তাকিয়ে দেখলো স্যুট পরা এক লোকের মাথায় চাওমিন পরে গেছে..লোকটি যখন ঘুরে তাকালো,নিধির কলিজা গলার কাছে চলে আসছে..কারন,চাওমিনটা আর কারোর মাথায় না যমরাজের মাথায় থুক্কু ইমরেতের মাথায় পরেছে..

নিধিকে তার ফ্রেন্ড শামীম তুলে উঠালো..নিধি উঠে দাড়িয়ে পরলেও চলার শক্তি নাই..ইমরেতের চোখে দিয়া মনে হচ্ছে আগুন বের হচ্ছে..সামনে এসে নিধিকে এক থাপ্পড় দিলো..ব্যস পুরা রেষ্টুরেন্টের মানুষ ফ্রিতে সিনেমা দেখে নিলো।।

বর্তমান,

এইটা হলো আমার থাপ্পড় খাওয়ার কাহিনী..বাপ মায়ের একমাত্র সন্তান হওয়ার সুবাদে কখন জীবনে মার খাওয়ার সুযোগ হয় নি..কিন্তু যেদিন থেকে ওদের বাড়িতে এসেছি কখনো সোজা মুখে এই কুমড়াপটাশ আমার সাথে কথা বলে নি..অলওয়েজ রেগে রেগে কথা বলে মনে হয় ওর কোন পাকাধানে মই দিয়েছি আমি।

একে ত থাপ্পড় খাওয়ার জন্য গালটা ভীষণ জ্বলছে কান্না আসছে খুব,কেদেও যাচ্ছি চোখ ও মুছছি আবার চাওমিন আমার পরে গিয়েছে দেখে আরো ভ্যা ভ্যা করে কাঁদতে লেগেছি।

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত