ব‌উয়ের ভালোবাসা ২

-ওগো উঠো।(বউ)
-উমমমমম।(অামি)
-ফজরের অাজান হয়ে গেছে ঘুম থেকে উঠে মসজিদে যাও নামাজ পড়তে।
-অার একটু পড়ে যাই.?
-না এক্ষুনি উঠে মসজিদে যাও।
-ধ্যাত যাও তো বিরক্ত করো না।
-অামি বিরক্ত করি তাই না.?
-বিরক্ত করো না তো কি করো.? একটু ঘুমাচ্ছি সেটাও ঠিক মতো দিচ্ছো না।
-দাড়াও তোমার ঘুম বার করছি।দিন দিন তুমি অলস হয়ে যাচ্ছো।তুমি ঘুমাও অামি পানি নিয়ে অাসি।

এই খাইছে রে,এখন যদি ঘুম থেকে উঠে মসজিদে না যাই তাহলে কপালে শনি-রবি সব অাছে।বউ পানি অানতে গেছে বাথরুমে অার অামি শুয়া থেকে উঠে পাঞ্জাবী টুপি অার মেসওয়াকটা হাতে নিয়ে দিলাম দৌড়।বউ পানি নিয়ে এসে দেখবে অামি বিছানায় নাই তখন বউ ছ্যাকা খাবে হাহাহা।

দাড়ান পরিচয় পর্বটা শেষ করে নেই।অামার নাম মোঃ ফেরদৌস রানা অার যার সাথে কথা বললাম উনি অামার বউ মিতু ।

মসজিদ অামাদের বাসা থেকে মাত্র ৫ মিনিটের রাস্তা।রাস্তা অন্ধকার সাথে ফোনটাও অানতে ভুলে গেছি অন্ধকারের জন্য কিছুই দেখা যাচ্ছে না।
অন্ধ মানুষের মতো কোন মতে মসজিদের পুকুরে গেলাম অজু করার জন্য।মসজিদের পুকুর পাড়ে একটা বসার জায়গা ছিল সেখানে বসে দাঁত মেসওয়াক করতে ছিলাম কিন্তু বেয়াদব শয়তান কোথা থেকে উড়ে এসে অামাকে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে গেল।ঘুম ভাঙ্গে মুয়াজ্জিনের ইকামতের অাওয়াজ শোনে।ইকামতের অাওয়াজ শোনে কোন মতে অজু করে দিলাম দৌড় জামাতে শামিল হওয়ার জন্য।

নামাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে নামলো ঝুম বৃষ্টি।এখন বাসায় যাই কিভাবে.? ১০ মিনিট অপেক্ষা করার পর দেখি বৃষ্টি হালকা কমছে তাই চলে গেলাম বাসায়।বাসায় গিয়ে দেখি মিতু কোরঅান শরীফ পড়তেছে।অামার কাক ভেজা শরীর দেখে মিতু কোরঅান শরীফটা বন্ধ করে অামার দিকে রাগী লুক নিয়ে তাকিয়ে অাছে।
অামি জিজ্ঞেস করলাম কি হলো এভাবে তাকিয়ে অাছো কেন.?
-তোমাকে কে বলছে ভিজে ভিজে বাসায় অাসতে.?(মিতু)
-বৃষ্টি কমে না তো কি করবো.?(অামি)
-অার একটু অপেক্ষা করতে।এখন অসুস্থ হয়ে গেলে তোমার সেবা কে করবে শুনি.?
-কেন অামার বউ করবে।
-জ্বি অাপনার সেবা করতে অামার বয়েই গেছে।অাজ যদি জ্বর উঠে তাহলে তোমাকে পানিতে চুবামু।এদিকে অাসো তোয়ালা দিয়ে মাথাটা মুছে দেই।
-হে হে হে হেইচ্ছো।
-ঐ একদম চুপ.? অার একটা হাচি দিলে খবর অাছে বলে দিলাম।দুইদিন পর পর অসুস্থ হবা অার যত কষ্ট সব অামার।
-বউ মাথাটা ব্যথা করতেছে একটু মাথায় পানি অার চুলগুলো টেনে নিবা.?
-যাও অারো বৃষ্টিতে ভিজো গিয়ে অামি পারবো না.?
-অাচ্ছা ঠিক অাছে।

একটু মন খারাপ করে বিছানায় এসে শুয়ে পড়লাম।চোখ বন্ধ করে রাখছি মাথা ব্যথা কিছুতেই কমতেছে।একটু পর কপালে কারো হাতের স্পর্শ পেলাম তাকিয়ে দেখি মিতু।
-সে কি তোমার কপাল তো জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে.?(মিতু)
-তাতে তোমার কি.? অামি তো তোমার কেউ না।(অামি)
-ঐ চুপ,ন্যাকামি শুরু করছো।চুপ করে শুয়া থাকো অামি পানি নিয়ে অাসি।
কিছুক্ষন পর মিতু পানি নিয়ে এসে মাথায় পানি ঢালতে লাগলো।
অামি মিতুর দিকে তাকিয়ে দেখি ওর চোখে পানি..
-কি হইছে বউ কাঁদছো কেন.?(অামি)
-তুমি অসুস্থ হইছো তাই খুশিতে কাঁদতেছি।অাচ্ছা তুমি এতো খেয়ালহীন কেন.?বৃষ্টি শেষ হওয়ার পর বাসায় অাসলে কি হতো না.?
তুমি কেন বুঝো না তোমাকে ঘিরেই অামার পৃথিবীটা।কেন শুধু শুধু অামাকে কষ্ট দেও.?
-অাচ্ছা sorry বউ অার এমন হবে না।
-সত্যি তো.?
-হমম সত্যি সত্যি সত্যি।
-অাচ্ছা তুমি শুয়ে থাকো অামি তোমার জন্য খাবার নিয়ে অাসি।
কথাটা বলেই মিতু খাবার অানতে চলে গেলো।কিছুক্ষন পর খাবার নিয়ে এসে অামাকে শুয়া থেকে উঠিয়ে মিতু নিজ হাতে অামাকে খাওয়ায়ে দিচ্ছে।
অাহ্ কি শান্তি বউয়ের হাতে খাচ্ছি।

অসুস্থ হওয়ার পর যদি বউয়ের হাতে খাবার খাওয়া যায় তাহলে অসুস্থ হওয়াই ভালো হাহাহা।

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত